ডাব্লুবিজেইই ২০২৬ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ;WBJEE 2026 official notification out :- রাজ্যে ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মাসি এবং আর্কিটেকচার নিয়ে পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক ছাত্রছাত্রীদের জন্য এসে গেল বছরের সবথেকে বড় খবর। অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রকাশ পেল ডাব্লুবিজেইই ২০২৬ বিজ্ঞপ্তি। পশ্চিমবঙ্গ জয়েন্ট এন্ট্রান্স এক্সামিনেশন বোর্ডের (WBJEEB) অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এই বহু প্রতীক্ষিত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। যে সকল পড়ুয়া আগামী শিক্ষাবর্ষে রাজ্যের প্রথম সারির সরকারি ও বেসরকারি কলেজগুলোতে ভর্তি হয়ে নিজেদের ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার স্বপ্ন পূরণ করতে চাইছেন, তাদের এখন থেকেই প্রস্তুতির পাশাপাশি এই আবেদন প্রক্রিয়ার দিকে কড়া নজর রাখতে হবে।
এক নজরে
ডাব্লুবিজেইই ২০২৬ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ: কবে থেকে শুরু হচ্ছে মেগা আবেদন প্রক্রিয়া?
রাজ্য জয়েন্ট বোর্ডের তরফ থেকে সদ্য প্রকাশিত এই ডাব্লুবিজেইই ২০২৬ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অনলাইনের মাধ্যমে ফর্ম ফিলাপ খুব শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে। প্রতি বছরের মতো এবারও পর্ষদের তরফ থেকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যেই রাজ্যের যোগ্য প্রার্থীদের নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে হবে। এই ইঞ্জিনিয়ারিং প্রবেশিকা পরীক্ষা রাজ্যের লক্ষ লক্ষ বিজ্ঞান বিভাগের পড়ুয়াদের কাছে স্বপ্নের মতো। তাই শেষ মুহূর্তের সার্ভার ডাউনের ঝুঁকি এড়াতে ফর্ম ফিলাপের পোর্টাল খোলার প্রথম দিকের দিনগুলোতেই আবেদন সেরে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ।
আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্তাবলি
যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসার আগে তার শর্তাবলি জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। রাজ্য জয়েন্ট পরীক্ষায় বসার জন্য যে বিষয়গুলো আবশ্যিক, তার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
- প্রার্থীকে অবশ্যই ভারতের নাগরিক হতে হবে এবং সরকারি কলেজগুলোতে সংরক্ষণের সুবিধা পেতে রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে (ডোমিসাইল সার্টিফিকেট প্রয়োজন)।
- উচ্চমাধ্যমিক বা সমতুল্য বোর্ড পরীক্ষায় পদার্থবিদ্যা (Physics) এবং গণিত (Mathematics) আবশ্যিক বিষয় হিসেবে থাকতে হবে।
- সাধারণ প্রার্থীদের জন্য দ্বাদশ শ্রেণীতে অন্তত ৪৫% নম্বর এবং সংরক্ষিত আসনের প্রার্থীদের (SC/ST/OBC) ক্ষেত্রে অন্তত ৪০% নম্বর থাকা বাধ্যতামূলক।
- আবেদনকারীর বয়সসীমা সাধারণত ১৭ বছর হতে হবে, তবে নির্দিষ্ট কিছু কোর্স যেমন মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে বয়সের বিশেষ নিয়ম থাকতে পারে।
পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও পশ্চিমবঙ্গ জয়েন্ট এন্ট্রান্সের সম্ভাব্য সময়সূচী
অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করার আগে প্রার্থীদের অবশ্যই সমস্ত তারিখগুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। সাধারণ মানুষের এবং পড়ুয়াদের সুবিধার্থে নিচে একটি সম্ভাব্য সময়সূচী দেওয়া হলো। এই রাজ্য জয়েন্ট পরীক্ষা সাধারণত অফলাইন মোডে বা ওএমআর (OMR) শিটের মাধ্যমেই নেওয়া হয়ে থাকে।
| ইভেন্ট বা কাজের নাম | সম্ভাব্য সময়কাল |
|---|---|
| অনলাইনে আবেদন শুরুর তারিখ | ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ, ২০২৫ / জানুয়ারির শুরু, ২০২৬ |
| আবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন | ফেব্রুয়ারির প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহ, ২০২৬ |
| ফর্মে ভুল সংশোধনের সময় (Correction Window) | ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় |
| অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোড শুরু | পরীক্ষার এক থেকে দেড় সপ্তাহ আগে |
| রাজ্য জয়েন্ট পরীক্ষার তারিখ | এপ্রিল মাসের শেষের দিক, ২০২৬ |
ডাব্লুবিজেইই ২০২৬ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আবেদন ফি এবং ফর্ম পূরণের বিস্তারিত পদ্ধতি
বোর্ডের নতুন ডাব্লুবিজেইই ২০২৬ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অনলাইনের মাধ্যমেই শুধুমাত্র সম্পূর্ণ আবেদন ফি জমা করা যাবে। সাধারণ বা জেনারেল ক্যাটাগরির পড়ুয়াদের জন্য একরকম আবেদন ফি এবং সংরক্ষিত বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের জন্য কিছুটা কম ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। আবেদন করার জন্য প্রার্থীদের রাজ্য জয়েন্ট বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রথমে নিজেদের চালু মোবাইল নম্বর ও ইমেইল আইডি দিয়ে প্রাথমিক রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এরপর ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা দিয়ে ফর্মটি পূরণ করতে হবে। এই ডাব্লুবিজেইই ২০২৬ বিজ্ঞপ্তি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে পড়া উচিত যাতে ডেটা এন্ট্রির সময় নামের বানান বা নম্বরে কোনো ভুল না হয়।
ফর্ম ফিলাপের সময় কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র হাতের কাছে স্ক্যান করে রাখবেন?
অনলাইনে আবেদন করার সময় কিছু নির্দিষ্ট ডকুমেন্টস পোর্টালে আপলোড করতে হয়। কোনো সাইবার ক্যাফেতে যাওয়ার আগে নিচের তালিকা মিলিয়ে নথিপত্রগুলো গুছিয়ে নিন:
- প্রার্থীর সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি এবং পরিষ্কার ডিজিটাল সই (Signature)।
- বয়সের প্রমাণপত্র হিসেবে দশম শ্রেণীর অ্যাডমিট কার্ড বা বার্থ সার্টিফিকেট।
- উচ্চমাধ্যমিকের মার্কশিট (যদি আগের বছরগুলোতে পাস করে থাকেন) বা রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট।
- আধার কার্ড বা অন্য কোনো বৈধ সচিত্র পরিচয়পত্র।
- অনলাইনে ফি পেমেন্ট করার জন্য ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড বা ইউপিআই (UPI) আইডি।
সিলেবাস, পরীক্ষার প্যাটার্ন এবং প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সঠিক কৌশল
প্রকাশিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, পরীক্ষাটি মূলত দুটি পেপারে বিভক্ত থাকে। পেপার ওয়ান হলো সম্পূর্ণ গণিত (Mathematics) এবং পেপার টু হলো পদার্থবিদ্যা ও রসায়ন (Physics & Chemistry)। মোট ২০০ নম্বরের এই পরীক্ষায় ক্যাটেগরি অনুযায়ী নেগেটিভ মার্কিংও থাকে। তাই আন্দাজে ঢিল মারার বদলে সঠিক প্রস্তুতি নেওয়াটা ভীষণ জরুরি। বিগত দশ বছরের জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সমাধান করলে এবং নিয়মিত মক টেস্ট দিলে ছাত্রছাত্রীরা অনেকটাই আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবেন। যারা রাজ্যের সেরা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় বা কল্যাণী গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের মতো প্রতিষ্ঠানে পড়ার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের এখন থেকেই পড়াশোনার রুটিন আরও মজবুত করা উচিত।
প্রায়শই জিজ্ঞাস্য প্রশ্নাবলী (FAQ)
১. এই নতুন ডাব্লুবিজেইই ২০২৬ বিজ্ঞপ্তি কোথা থেকে ডাউনলোড করা যাবে?
পশ্চিমবঙ্গ জয়েন্ট এন্ট্রান্স এক্সামিনেশন বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (wbjeeb.nic.in)-এ গিয়ে আপনারা এই ডাব্লুবিজেইই ২০২৬ বিজ্ঞপ্তি সরাসরি পিডিএফ আকারে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।
২. যারা এই বছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে, তারাও কি জয়েন্টের জন্য আবেদন করতে পারবে?
হ্যাঁ, যারা ২০২৬ সালে উচ্চমাধ্যমিক বা দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড পরীক্ষা দেবেন, তারাও ‘অ্যাপিয়ারিং’ (Appearing) ক্যান্ডিডেট হিসেবে এই প্রবেশিকা পরীক্ষার জন্য অনায়াসে আবেদন করতে পারবেন। ভর্তির সময় তাদের মার্কশিট দেখাতে হবে।
৩. রাজ্য জয়েন্টে ভালো র্যাঙ্ক করলে কোন কোন কোর্সে ভর্তি হওয়া যায়?
এই প্রবেশিকা পরীক্ষায় সফল হলে এবং ভালো র্যাঙ্ক করলে মূলত বি.টেক (B.Tech), বি.ই (B.E), বি.ফার্ম (B.Pharm) এবং আর্কিটেকচার (B.Arch) কোর্সে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ মেলে।
৪. আমি কি অফলাইনে ফর্ম ফিলাপ করে স্পিড পোস্টে জমা দিতে পারব?
না, সম্পূর্ণ আবেদন প্রক্রিয়াটি কেবল অনলাইনেই সম্পন্ন করতে হবে। অফলাইনে ফর্ম জমা নেওয়ার বা ডিমান্ড ড্রাফট কাটার কোনো ব্যবস্থা নেই।





