Soham Chakraborty fraud case : টালিগঞ্জের জনপ্রিয় অভিনেতা এবং রাজনীতিকের নামে এবার বড়সড় অঙ্কের আর্থিক তছরুপের মামলা সামনে এল। এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে এক কোটি পাঁচ লক্ষ টাকা নেওয়ার পরেও চুক্তিমতো কাজ না করা এবং সেই টাকা ফেরত না দেওয়ার কারণেই সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শহরের চারু মার্কেট থানায় এই মর্মে লিখিত এফআইআর জমা পড়েছে। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক এবং বিনোদন জগতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে নানা মহলে এখন এই একটি বিষয় নিয়েই সর্বত্র জোর চর্চা চলছে।
চারু মার্কেট থানায় সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ
জানা গিয়েছে যে, এক ব্যক্তি তার সংস্থার তরফ থেকে বিনোদন জগতে লগ্নির উদ্দেশ্যে অভিনেতার নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থায় বিশাল অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন। চুক্তির শর্ত ছিল যে একটি নতুন ছবি তৈরি হবে এবং তাতে মুখ্য ভূমিকায় এই অভিনেতা কাজ করবেন। এই প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও তিনি সেই ছবিতে অভিনয় করেননি এবং সিনেমাটিও দিনের আলো দেখেনি। এই পরিস্থিতিতে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই লগ্নিকারী। তিনি বাধ্য হয়ে প্রশাসনের কাছে গিয়ে সুবিচারের আর্জি জানিয়েছেন।
কীভাবে ঘটল এই আর্থিক জালিয়াতি?
পুলিশি সূত্রের খবর অনুযায়ী, চুক্তির ভিত্তিতে ওই ব্যবসায়ী দু’টি আলাদা দফায় অভিনেতার সংস্থাকে টাকা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। প্রথম দফায় আশি লক্ষ টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় পঁচিশ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়েছিল। কথা ছিল যে ২০২৩ সালের মার্চ মাসের মধ্যেই এই লগ্নির সমস্ত অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি সেই টাকা ফেরত দেননি, যার জেরে এই সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে। এখানে স্পষ্টতই চুক্তির খেলাপ করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে এবং আইনি চুক্তি অমান্য করার দায়ে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে।
টাকা ফেরত চাইতে গেলে হুমকির মুখে ব্যবসায়ী
লগ্নিকারী যখন নিজের দেওয়া এক কোটি পাঁচ লক্ষ টাকা ফেরত চাইতে যান, তখন তাকে চরম হেনস্থার শিকার হতে হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার বদলে অভিনেতা নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতা ও প্রভাব খাটিয়ে ওই ব্যবসায়ীকে রীতিমতো হুমকি দেন বলে দাবি করা হয়েছে। এই ধরনের আর্থিক জালিয়াতি এবং বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ সামনে আসার পর সাধারণ মানুষের মধ্যেও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাইছেন এবং এই সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এর দ্রুত নিষ্পত্তি দাবি করছেন।
বিগত দিনে বালুরঘাটের প্রযোজকের আর্থিক নয়ছয়
তবে এই প্রথমবার নয়, এর আগেও অভিনেতার নামে টাকা নিয়ে কাজ না করার অভিযোগ উঠেছিল। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই বালুরঘাটের এক প্রযোজক তরুণ দাস দাবি করেছিলেন যে, একটি সিনেমায় লিড রোলে কাজ করার জন্য পনেরো লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন এই অভিনেতা। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর তিনি শুটিং ফ্লোরে আসেননি। সেই টাকা ফেরতের টালবাহানা নিয়েও যথেষ্ট জলঘোলা হয়েছিল এবং সেই সময়ও প্রযোজককে ভয় দেখানোর কথা সামনে এসেছিল। আগের সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে এই সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ পরিস্থিতি আরও ঘোরালো করে তুলল।
অভিনেতার পূর্বের সাফাই ও বর্তমান নীরবতা
আগের পনেরো লক্ষ টাকার অভিযোগের ক্ষেত্রে অভিনেতা সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের পক্ষ সমর্থন করে বেশ কিছু যুক্তি দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন যে, প্রাথমিক আলোচনার পর তিনি কাজটি করার জন্য সম্মতি দিয়েছিলেন এবং সেই কারণে নিজের অন্যান্য ছবির শিডিউলও বাতিল করেছিলেন, তাই সেই চেক তিনি নিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানের এই এক কোটি টাকার আর্থিক জালিয়াতির মামলা এবং অভিনেতার বিরুদ্ধে এফআইআর নিয়ে তিনি এখনও পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে কোনও মুখ খোলেননি, যা জল্পনা আরও বাড়াচ্ছে।
পুলিশের ভূমিকা এবং জাল নথি ব্যবহারের অভিযোগ
চারু মার্কেট থানায় দায়ের হওয়া এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্তের কাজ শুরু করে দিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, লগ্নিকারীর সঙ্গে যে লিখিত চুক্তিপত্র তৈরি হয়েছিল, সেখানে অভিনেতার সংস্থার তরফ থেকে বেশ কিছু জাল নথি ব্যবহারের অভিযোগও থাকতে পারে। পুলিশ সব দিক খতিয়ে দেখছে এবং প্রয়োজন পড়লে খুব দ্রুতই এই সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিনেতাকে তলব করতে পারে। পুরো সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত তদন্তকারী আধিকারিকেরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন।
এই সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ কে দায়ের করেছেন?
কৌশিক কর্মকার নামের এক ব্যবসায়ী যিনি আড়িয়াদহের একটি সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করেন, তিনিই মূলত এই লিখিত এফআইআর দায়ের করেছেন। নিজের ব্যবসার পরিধি বাড়াতে এবং বিনোদন জগতে বিনিয়োগ করার লক্ষ্যেই তিনি ২০২২ সালে এই বিপুল অঙ্কের টাকা অভিনেতার সংস্থায় লগ্নি করেছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর মিলেছে।
ঠিক কত টাকার চুক্তির খেলাপ হয়েছে এই ঘটনায়?
অভিযোগকারীর দাবি অনুযায়ী, এখানে মোট এক কোটি পাঁচ লক্ষ টাকার টাকা তছরুপের মামলা দায়ের হয়েছে। লগ্নিকারী নিজের সংস্থার তরফ থেকে দু’টি আলাদা লেনদেনের মাধ্যমে আশি লক্ষ এবং পঁচিশ লক্ষ টাকা অভিনেতার সংস্থায় পাঠিয়েছিলেন, যা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফেরত দেওয়ার কথা ছিল কিন্তু তা দেওয়া হয়নি।
পুলিশ এই প্রতারণার মামলা নিয়ে কী ব্যবস্থা নিচ্ছে?
চারু মার্কেট থানার পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে এই বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তদন্তের স্বার্থে তারা ওই প্রযোজনা সংস্থার কাছে বিভিন্ন চুক্তিপত্রের নথি চেয়ে পাঠাতে পারে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে এবং এই সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এর আইনি ভিত্তি শক্ত হলে অভিনেতার বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।







