অন্নপূর্ণা যোজনার অনলাইন আবেদন ও ফর্ম পূরণ পদ্ধতি

​পশ্চিমবঙ্গে শুরু হতে চলেছে অন্নপূর্ণা যোজনার অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া। ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী যোগ্য নারীরা প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং আধার লিঙ্কড ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ দিয়ে ১২ পাতার ফর্মে আবেদন করতে পারবেন। পুরানো উপভোক্তাদের নতুন করে ফর্ম পূরণ করতে হবে না, তবে নতুনদের তথ্য সরকারি আধিকারিকদের দ্বারা কঠোরভাবে যাচাই করা হবে।

West Bengal Annapurna Yojana online application: ​পশ্চিমবঙ্গে নারীদের স্বাবলম্বী ও আর্থিকভাবে শক্তিশালী করতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি অত্যন্ত যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বহু প্রতীক্ষিত অন্নপূর্ণা যোজনার ডিজিটাল তথা অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে শুরু হতে চলেছে। রাজ্যের যোগ্য মায়েরা যাতে খুব সহজে ঘরে বসেই এই নতুন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করতে পারেন, তার জন্য পুরো ব্যবস্থাকে অনেক বেশি সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলা হয়েছে। এই নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে সুবিধাভোগী নারীরা প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক অনুদান সরাসরি নিজেদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পেয়ে যাবেন। সরকারের তরফ থেকে এই ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ১২ পাতার একটি বিশেষ ফর্ম পূরণের নিয়মাবলী এবং প্রয়োজনীয় নথির তালিকাও বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

​অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ফিলআপের ডিজিটাল পদ্ধতি

​রাজ্য সরকারের এই জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের সুবিধা পেতে গেলে আবেদনকারীদের একটি নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে যে, ১ জুন থেকে এই প্রকল্পের জন্য তৈরি বিশেষ পোর্টালে নতুন করে নাম নথিভুক্ত করার কাজ শুরু হচ্ছে। যে সমস্ত নারীরা আগে এই ধরনের কোনও আর্থিক সুবিধার আওতায় ছিলেন না, তাঁরা এই নতুন পোর্টালের মাধ্যমে সরাসরি নিজেদের আবেদন জমা দিতে পারবেন।

​ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফর্ম পূরণ করার সময় আবেদনকারীদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে যাতে কোনও তথ্য ভুল না হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই ১২ পাতার ফর্মে নারীদের ব্যক্তিগত তথ্য, যোগাযোগের ঠিকানা এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ খুব নিখুঁতভাবে দিতে হবে। ফর্মের প্রতিটি কলাম যাতে সঠিক তথ্য দিয়ে পূরণ করা হয়, তার জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ব্লক স্তর এবং পুরসভা স্তরে বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।

​প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত নিয়ম

​এই নতুন প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি অ্যাকাউন্টে পেতে গেলে কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আবেদনকারীর নিজস্ব আধার কার্ড, ভোটার কার্ড এবং সাম্প্রতিক তোলা রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি ফর্মের সাথে যুক্ত করতে হবে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আবেদনকারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি অবশ্যই সচল থাকতে হবে এবং সেটির সাথে আধার লিঙ্ক করা জরুরি।

​প্রশাসনিক নির্দেশিকায় পরিষ্কার বলা হয়েছে যে, ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার বা ডিবিটি ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি টাকা পাঠানো হবে। তাই যে সমস্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আধার সংযোগ করা নেই, সেই সমস্ত অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছাতে সমস্যা হতে পারে। নতুন করে যারা নাম নথিভুক্ত করছেন, তাঁদের অবশ্যই ফর্ম জমা দেওয়ার আগেই ব্যাংকে গিয়ে এই কাজ সম্পন্ন করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

​আবেদন করার যোগ্যতা এবং যাচাইকরণ প্রক্রিয়া

​রাজ্যের সমস্ত সাধারণ গৃহবধূ বা নারীরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না, এর জন্য নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতার মাপকাঠি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২৫ বছর থেকে ৬০ বছর বয়সী নারীরাই কেবলমাত্র এই প্রকল্পের জন্য নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। আবেদনকারীকে অবশ্যই ভারতীয় নাগরিক হতে হবে এবং তিনি যেন কোনও স্থায়ী সরকারি চাকরি বা পেনশনের সুবিধা না পান।

​অনলাইনে ফর্ম জমা দেওয়ার পরেই কিন্তু আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে যাবে না, এর পর একটি কড়া যাচাইকরণ প্রক্রিয়া চালানো হবে। সরকারি আধিকারিকেরা প্রতিটি আবেদনপত্র খুব ভালো করে খতিয়ে দেখবেন এবং প্রয়োজনে সশরীরে তথ্য যাচাই করা হবে। যদি কোনও আবেদনপত্রে ভুল তথ্য দেওয়া হয় বা কোনও নথি ভুয়ো প্রমাণিত হয়, তবে সেই আবেদনপত্র সরাসরি বাতিল বলে গণ্য করা হবে।

​আগের সুবিধাভোগীদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম

​অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগছে যে, যারা আগে থেকেই এই ধরনের নারী কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছিলেন, তাঁদের কি আবার নতুন করে এই ১২ পাতার ফর্ম পূরণ করতে হবে? এই বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করে জানানো হয়েছে যে, পুরানো উপভোক্তাদের নতুন করে কোনও ডিজিটাল আবেদন করার প্রয়োজন নেই।

​পুরানো ডেটাবেস থেকেই যোগ্য নারীদের নাম সরাসরি এই নতুন প্রকল্পের তালিকায় স্থানান্তরিত করার কাজ শুরু করে দিয়েছে প্রশাসন। তবে সেই পুরানো নামের তালিকাও ভালোভাবে স্ক্রিনিং বা যাচাই করা হচ্ছে যাতে কোনও অযোগ্য ব্যক্তি এই তালিকায় থেকে না যান। নতুন এই অনলাইন পোর্টালটি মূলত তৈরি করা হয়েছে সেই সমস্ত মা-বোনেদের জন্য, যারা এর আগে কোনও কারণে এই ধরনের সরকারি আর্থিক সহায়তার সুবিধা পাননি।

​এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য কী এবং কারা এর সুবিধা পাবেন?

​এই বিশেষ রাজ্য প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রামীণ ও শহরের অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া নারীদের হাতে প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ তুলে দেওয়া। ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী যে কোনও সাধারণ নারী, যিনি আয়কর দেন না বা কোনও সরকারি বেতন পান না, তিনি এই সুবিধার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

বিজ্ঞাপন

​অনলাইন ফর্ম পূরণের পর কীভাবে তথ্য যাচাই করা হবে?

​আবেদনকারী অনলাইনে ফর্ম এবং সমস্ত নথি আপলোড করার পর ব্লক ডেভলপমেন্ট অফিসার (বিডিও) বা পুরসভার নির্দিষ্ট দল সেই তথ্য খতিয়ে দেখবে। প্রয়োজনে সরকারি কর্মীরা আবেদনকারীর বাড়িতে গিয়েও তথ্য যাচাই করতে পারেন এবং সব ঠিক থাকলে তবেই অনুদান মঞ্জুর হবে।

​আধার কার্ডের সাথে ব্যাংক লিঙ্ক করা কি বাধ্যতামূলক?

​হ্যাঁ, এই প্রকল্পের টাকা যেহেতু সরাসরি ডিবিটি বা ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে পাঠানো হবে, তাই ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সাথে আধার কার্ডের লিঙ্ক থাকা বাধ্যতামূলক। আধার সংযোগ না থাকলে টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকতে সমস্যা হতে পারে।

Leave a Comment

Created with ❤