Vivekananda Jayanti 2026 নতুন বছর ২০২৬-এর জানুয়ারির শুরুতেই বাঙালির প্রাণের উৎসব ও ছুটির আমেজ ছড়িয়ে পড়বে। স্বামী বিবেকানন্দের জন্মজয়ন্তী মানেই কেবল ক্যালেন্ডারের একটি লাল তারিখ নয়, বরং তা যুবসমাজের নতুন করে জেগে ওঠার দিন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, এ বছর বিবেকানন্দ জয়ন্তী বা জাতীয় যুব দিবস পালিত হবে ১২ই জানুয়ারি, সোমবার। টানা রবিবারের ছুটির পর সোমবার ছুটি থাকায় অনেকেই একটি চমৎকার ‘লং উইকেন্ড’ উপভোগ করার সুযোগ পাবেন। সিমলা স্ট্রিট থেকে বেলুড় মঠ—সারা রাজ্য এদিন মেতে উঠবে স্বামীজির আদর্শ স্মরণে।
বিবেকানন্দ জয়ন্তী ২০২৬ কবে পড়েছে এবং দিনটি আমরা কীভাবে পালন করব?
স্বামী বিবেকানন্দের ১৬৪তম জন্মবার্ষিকী এ বছর মহাসমারোহে পালিত হবে আগামী ১২ই জানুয়ারি, সোমবার। এই বিশেষ দিনটিকে ভারত সরকার ‘জাতীয় যুব দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে কারণ স্বামীজির দর্শন তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে যাওয়ার অদম্য শক্তি জোগায়। এই দিনটিতে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে স্কুল, কলেজ এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, স্বামীজির মূর্তিতে মাল্যদান এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বিশেষ করে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে দিনটি শুরু হয় বিশেষ মঙ্গলারতি ও বৈদিক স্তোত্রপাঠের মাধ্যমে। ভক্তরা সিমলা স্ট্রিটে স্বামীজির পৈতৃক আবাসে গিয়ে তাঁর স্মৃতিচারণ করেন। যুবসমাজের কাছে এটি কেবল একটি ছুটির দিন নয়, বরং তাঁর “উত্তিষ্ঠত জাগ্রত” মন্ত্রে দীক্ষিত হওয়ার দিন। এই বছর সোমবারে ছুটি থাকায় বহু মানুষ সপরিবারে বেলুড় মঠ পরিদর্শনে যেতে পারেন।
২০২৬ সালে স্বামীজির জন্মবার্ষিকীর বিশেষ তাৎপর্য
বিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও স্বামী বিবেকানন্দের প্রাসঙ্গিকতা বিন্দুমাত্র কমেনি। বরং আজকের জটিল সময়ে তাঁর আত্মবিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক চেতনার বাণী আরও বেশি প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। ২০২৬ সালের এই ১২ই জানুয়ারি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, নিজেকে শক্তিশালী ভাবাই হলো উন্নতির প্রকৃত পথ। স্বামীজি শিখিয়েছিলেন পরোপকারই হলো শ্রেষ্ঠ ধর্ম এবং কাজকে ঈশ্বরের সেবা হিসেবে দেখা উচিত।
আধুনিক ভারতে ডিজিটাল বিপ্লবের মাঝেও স্বামীজির মানবিক দর্শন নতুন পথ দেখায়। জাতীয় যুব দিবসে বিভিন্ন সেমিনার ও আলোচনা সভার মাধ্যমে তাঁর জীবনী ও শিক্ষা বর্তমান প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হয়। যুবকদের নৈতিক চরিত্র গঠন এবং দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলাই হলো এই দিনটি পালনের মূল উদ্দেশ্য।
বিবেকানন্দ জয়ন্তী ২০২৬ পালনের প্রধান কিছু তথ্য
নিচে ছবির তথ্যের ভিত্তিতে এবং অনুষ্ঠান সূচি অনুযায়ী একটি তালিকা দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| Vivekananda Jayanti 2026 তারিখ | ১২ই জানুয়ারি, সোমবার |
| তিথি অনুযায়ী উদযাপন (বেলুড় মঠ) | ১০ই জানুয়ারি, শনিবার (বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে) |
| দিনটির বিশেষ নাম | জাতীয় যুব দিবস (National Youth Day) |
| প্রধান অনুষ্ঠান কেন্দ্র | বেলুড় মঠ ও সিমলা স্ট্রিট (স্বামীজির বাড়ি) |
| ছুটির ধরণ | পূর্ণাঙ্গ সরকারি ও এন.আই অ্যাক্ট ছুটি |
| বিশেষ সূচি | মঙ্গলারতি, ভজন, ধর্মসভা ও প্রসাদ বিতরণ |
বিবেকানন্দ জয়ন্তী সার্থক করতে ৫টি বিশেষ উপায়
- স্বামীজির লেখা বই বা তাঁর অমর বাণীগুলো অন্তত একবার পড়ার চেষ্টা করুন।
- আপনার এলাকার দুস্থ মানুষের সেবায় বা কোনো সামাজিক কাজে এদিন অংশ নিন।
- স্বামীজির আদর্শে অনুপ্রাণিত হতে সপরিবারে বেলুড় মঠ বা বিবেকানন্দ মিউজিয়ামে যান।
- স্কুল বা পাড়ার অনুষ্ঠানে ছোটদের কাছে তাঁর বীরত্বের কাহিনী তুলে ধরুন।
- ডিজিটাল সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর কোনো প্রেরণামূলক উক্তি শেয়ার করে ইতিবাচকতা ছড়িয়ে দিন।
স্বামী বিবেকানন্দের জন্মজয়ন্তী নিয়ে কিছু প্রশ্ন ও উত্তর
কেন ১২ই জানুয়ারি দিনটিকেই জাতীয় যুব দিবস বলা হয়?
১৯৮৪ সালে ভারত সরকার সিদ্ধান্ত নেয় যে স্বামী বিবেকানন্দের দর্শন ও জীবন তরুণ প্রজন্মের জন্য চিরস্থায়ী অনুপ্রেরণা, তাই তাঁর জন্মদিনটি ১৯৮৫ সাল থেকে ‘জাতীয় যুব দিবস’ হিসেবে পালিত হয়।
২০২৬ সালে স্বামীজির কততম জন্মদিন?
১৮৬৩ সালের ১২ই জানুয়ারি স্বামীজির জন্ম হয়, সেই হিসেবে ২০২৬ সালে তাঁর ১৬৪তম জন্মবার্ষিকী পালিত হবে।
বেলুড় মঠে কি এই দিন ভক্তদের জন্য প্রসাদ দেওয়া হয়?
হ্যাঁ, বেলুড় মঠে বিশেষ পূজা ও হোমের পর দুপুর ১২টা নাগাদ ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
উপসংহার: স্বামীজির অগ্নিমন্ত্রে আগামীর পথে
পরিশেষে বলা যায়, Vivekananda Jayanti 2026 আমাদের অলসতা ত্যাগ করে দেশের কাজে নামার এক নতুন সুযোগ। সোমবারের এই সরকারি ছুটি কেবল আরামের জন্য নয়, বরং স্বামীজির জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেকে নতুনভাবে গড়ার অঙ্গীকার করার জন্য। যে কোনো প্রতিকূলতাকে জয় করার সাহস আমরা যেন তাঁর আদর্শ থেকেই পাই। স্বামীজির আশীর্বাদ সবার ওপর বজায় থাকুক, এটাই আজকের দিনের প্রার্থনা।



