Annapurna Bhandar online application : রাজ্য সরকারের অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং বহু প্রতীক্ষিত নারী কল্যাণমূলক প্রকল্পের একটি নতুন পর্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে চলেছে। যে সমস্ত যোগ্য উপভোক্তারা এই মাসিক আর্থিক সহায়তার সুবিধা পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের জন্য অবশেষে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। এখন থেকে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এবং পুরো কাজটিকে আরও স্বচ্ছ করতে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই ফর্ম জমা নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে মহিলারা এখন বাড়িতে বসেই নিজেদের স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের সাহায্যে খুব সহজেই এই সরকারি অনুদানের জন্য নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন।
রাজ্য সরকারের উদ্যোগে মহিলাদের জন্য নতুন প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপের বিস্তারিত পদ্ধতি
সম্প্রতি নবান্নের তরফ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, রাজ্যের মহিলাদের আর্থিক দিক থেকে আরও বেশি স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্দেশ্যে নতুন এই প্রকল্পের রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে প্রশাসন এই ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত সহজ এবং সাধারণ মানুষের বোধগম্য করে তৈরি করেছে।
যাতে গ্রামের প্রান্তিক অঞ্চলের মহিলারাও কোনো রকম ঝক্কি ছাড়াই ইন্টারনেটের মাধ্যমে ফর্ম জমা করতে পারেন, তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, নির্দিষ্ট সরকারি পোর্টালে গিয়ে নিজেদের প্রাথমিক তথ্যগুলি সঠিকভাবে পূরণ করলেই আবেদন জমা হয়ে যাবে।
আগেকার দিনের মতো আর দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে কাগজের ফর্ম জমা দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। এই নতুন ব্যবস্থার ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের অমূল্য সময়ের সাশ্রয় হবে, তেমনই অন্যদিকে পুরো ব্যবস্থায় একটি অভাবনীয় স্বচ্ছতা বজায় থাকবে এবং দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে।
কারা এই নতুন আর্থিক সুবিধা পাওয়ার যোগ্য এবং অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার অনলাইন আবেদন করার নিয়মাবলী
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের পঁচিশ থেকে ষাট বছর বয়সী যে কোনো যোগ্য মহিলা এই বিশেষ প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। তবে শর্ত একটাই, আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের একজন স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং তিনি যেন কোনো প্রকার সরকারি চাকরি বা নিয়মিত সরকারি পেনশন না পান।
এই সমস্ত নিয়ম মেনে যারা এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হতে চান, তাদের জন্য সরাসরি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার অনলাইন আবেদন করার একটি নির্দিষ্ট পোর্টাল খুলে দেওয়া হয়েছে। আবেদন করার সময় মহিলাদের নিজেদের আধার কার্ড, ভোটার আই কার্ড এবং নিজস্ব নামের একটি বৈধ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য পোর্টালে সাবধানে আপলোড করতে হবে।
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটির সঙ্গে আধার কার্ডের লিঙ্ক থাকাটা কিন্তু এখানে অত্যন্ত বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কারণ সরকার সরাসরি উপভোক্তাদের নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার বা ডিবিটি-র মাধ্যমে এই মাসিক ভাতার টাকা পাঠাবে। তাই যাদের এখনও ব্যাঙ্কের সঙ্গে আধারের সংযুক্তিকরণ হয়নি, তাদের দ্রুত সেই কাজ সেরে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
দুয়ারে সরকার ক্যাম্প এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে ফর্ম জমা দেওয়ার পাশাপাশি সহায়ক ব্যবস্থা
অনেকেই মনে করতে পারেন যে যাদের কাছে স্মার্টফোন নেই বা যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে খুব একটা সড়গড় নন, তারা কীভাবে এই নতুন প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করবেন। রাজ্য সরকার এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছে এবং বিকল্প ব্যবস্থাও প্রস্তুত রেখেছে।
যারা নিজেরা মোবাইল থেকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার অনলাইন আবেদন সম্পন্ন করতে পারবেন না, তাদের জন্য প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পুরসভা এলাকায় বিশেষ সহায়তা কেন্দ্র বা ক্যাম্পের আয়োজন করা হবে। সেখানকার কর্মরত সরকারি আধিকারিকরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সাধারণ মহিলাদের এই ডিজিটাল ফর্ম ফিলাপের কাজে সাহায্য করবেন।
এছাড়াও পাড়ায় পাড়ায় অনুষ্ঠিত হওয়া সরকারি ক্যাম্পগুলোতে গিয়েও মহিলারা নিজেদের সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখিয়ে খুব সহজেই এই প্রকল্পের আওতায় আসতে পারবেন। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো রাজ্যের একজন যোগ্য মহিলাও যেন এই আর্থিক সুরক্ষা বলয়ের বাইরে থেকে না যান।
ফর্ম যাচাইকরণ এবং মাসিক আর্থিক অনুদান সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাওয়ার নিশ্চিত উপায়
আবেদনপত্র জমা দিলেই যে সঙ্গে সঙ্গে টাকা পাওয়া যাবে, এমনটা কিন্তু নয়। সরকার এই পুরো অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়াটিকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে একটি কড়া যাচাইকরণ বা ভেরিফিকেশন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
আবেদন জমা পড়ার পর ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক বা বিডিও অফিসের নির্দিষ্ট কর্মীরা প্রতিটি আবেদনপত্রের তথ্য খুব নিখুঁতভাবে খতিয়ে দেখবেন। যদি দেখা যায় যে কেউ ভুল তথ্য দিয়ে বা জাল নথি ব্যবহার করে এই সরকারি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন, তবে তার ফর্ম তৎক্ষণাৎ বাতিল বলে গণ্য করা হবে।
যাদের তথ্য একেবারে সঠিক বলে প্রমাণিত হবে, শুধুমাত্র তাদের নামই চূড়ান্ত উপভোক্তা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এরপর প্রতি মাসের নির্দিষ্ট একটি তারিখে রাজ্য সরকারের কোষাগার থেকে সরাসরি সেই সমস্ত মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই নির্ধারিত আর্থিক অনুদানের টাকা পৌঁছে যাবে।
পুরনো উপভোক্তাদের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশিকা এবং অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার অনলাইন আবেদন সংক্রান্ত সতর্কতা
যাঁরা আগে থেকেই রাজ্য সরকারের অন্যান্য নারী কল্যাণ প্রকল্পের আওতায় রয়েছেন এবং নিয়মিত মাসিক ভাতা পাচ্ছেন, তাঁদের মনে একটি স্বাভাবিক প্রশ্ন জাগতে পারে যে তাঁদেরও কি নতুন করে ফর্ম পূরণ করতে হবে? প্রশাসনের তরফ থেকে এই বিষয়টি একেবারে জলের মতো পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে।
পুরনো এবং আগে থেকে নথিভুক্ত উপভোক্তাদের নতুন করে কোনো রকম অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার অনলাইন আবেদন করার প্রয়োজন নেই। সরকারি ডেটাবেসে থাকা তথ্য অনুযায়ী তাদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবেই এই নতুন ও বর্ধিত অনুদান প্রকল্পের তালিকায় যুক্ত হয়ে যাবে এবং তারা আগের মতোই নিজেদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পেয়ে যাবেন।
তবে সাধারণ মানুষকে কিছু জালিয়াত চক্রের হাত থেকে সাবধান থাকার জন্য প্রশাসন কড়া বার্তা দিয়েছে। অনেকেই হয়তো টাকার বিনিময়ে ফর্ম পূরণ করে দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতে পারে। তাই সরকারের তরফ থেকে বারবার সতর্ক করা হচ্ছে যে এই সরকারি অনুদানের ফর্ম ফিলাপ করার জন্য কাউকে কোনো রকম টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
এই নতুন আর্থিক প্রকল্পের সুবিধা কারা পাবেন?
রাজ্যের পঁচিশ বছর থেকে ষাট বছর বয়সী আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মহিলারা এই মাসিক অনুদানের সুবিধা পাবেন। তবে তাদের অবশ্যই রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং কোনো সরকারি চাকরি করা চলবে না।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার অনলাইন আবেদন করার জন্য কী কী নথিপত্রের প্রয়োজন পড়বে?
আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সময় মূল নথিপত্র হিসেবে আধার কার্ড, ভোটার আই কার্ড, পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং আধার লিঙ্ক করা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের পাসবইয়ের প্রথম পাতার বিস্তারিত তথ্য সঠিকভাবে পোর্টালে আপলোড করতে হবে।
নিজের স্মার্টফোন না থাকলে কীভাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফর্ম জমা দেওয়া যাবে?
যাদের কাছে ইন্টারনেট বা স্মার্টফোন নেই, তারা স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস, পুরসভা বা সরকারি সহায়তা ক্যাম্পে গিয়ে আধিকারিকদের সাহায্য নিয়ে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নিজেদের নাম এই প্রকল্পের জন্য নথিভুক্ত করতে পারবেন।
একবার ফর্ম জমা দিলে কবে থেকে অ্যাকাউন্টে ভাতার টাকা আসা শুরু হবে?
সফলভাবে ফর্ম জমা হওয়ার পর সরকারি স্তরে সমস্ত তথ্য ভালোভাবে যাচাই করা হবে। যাচাইকরণ বা ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং তারপর থেকেই প্রতি মাসে নির্দিষ্ট সময়ে টাকা সরাসরি ব্যাঙ্কে চলে আসবে।




