Eid ul Fitr 2026 বসন্তের রঙের রেশ কাটতে না কাটতেই মার্চ মাসের শেষে আসছে খুশির ইদ। রমজান মাসের দীর্ঘ এক মাস কৃচ্ছ্রসাধন ও সংযমের পর খুশির বার্তা নিয়ে আসে এই দিনটি। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২১শে মার্চ, শনিবার ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজ্যে পূর্ণাঙ্গ সরকারি ছুটি থাকছে। শনিবার এই বড় উৎসবটি পড়ায় অনেকেই সপ্তাহের শেষে পরিবারের সাথে বিশেষ সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন। ভ্রাতৃত্ব এবং ত্যাগের এই উৎসব বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ।
ঈদুল ফিতর ২০২৬ কবে পড়েছে এবং কীভাবে পালন করব খুশির ইদ?
ইসলামি পঞ্জিকা অনুযায়ী শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে ঈদুল ফিতর পালিত হয়। ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ২১শে মার্চ, শনিবার এই পবিত্র দিনটি পালিত হবে। এদিন সকালে নতুন পোশাকে সজ্জিত হয়ে ছোট-বড় সবাই ইদগাহে বা মসজিদে ইদের নামাজ আদায় করতে যান। নামাজের পর একে অপরকে আলিঙ্গন করে ‘ইদ মুবারক’ জানানো এবং কুশল বিনিময় করার দৃশ্য বাংলার ঘরে ঘরে ধরা দেয়।
ইদ মানেই আনন্দ ভাগ করে নেওয়া। এদিন বাড়িতে বাড়িতে তৈরি হয় সুস্বাদু লাচ্ছা সেমাই, ফিরনি ও বিরিয়ানি। ২০২৬ সালে শনিবার ছুটি থাকায় সরকারি ও বেসরকারি কর্মীরা ইদের দিনটি পূর্ণ উদ্যমে উপভোগ করতে পারবেন। কেবল মুসলিম সম্প্রদায় নয়, ইদের আনন্দে মেতে ওঠেন সব ধর্মের মানুষই। বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে ইদের আমন্ত্রণে যাওয়া এবং মিষ্টিমুখ করা বাঙালির এক দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য।
ইদ উল ফিতরের সামাজিক তাৎপর্য ও ২০২৬ সালের আয়োজন
ঈদুল ফিতরের অন্যতম প্রধান অঙ্গ হলো ‘ফিতরা’ বা দান। সামর্থ্যবান মানুষরা এই দিনে দরিদ্রদের অর্থ বা খাদ্যশস্য দান করেন, যাতে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ উৎসবের আনন্দে শামিল হতে পারে। ২০২৬ সালের ২১শে মার্চ দিনটি আমাদের শিখিয়ে দেয় যে, ত্যাগের মাধ্যমেই প্রকৃত সুখ পাওয়া যায়। কলকাতার রেড রোড থেকে শুরু করে মফস্বলের ইদগাহ ময়দান—সর্বত্রই এদিন সম্প্রীতির মেলা বসে।
যেহেতু ২১শে মার্চ শনিবার পড়েছে, তাই অনেকেই আগের রাত অর্থাৎ ‘চাঁদ রাত’ থেকেই কেনাকাটা ও মেহেন্দিতে হাত রাঙানোর প্রস্তুতি নিতে পারবেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই নির্ধারিত ছুটি সাধারণ মানুষের কাছে এক খুশির খবর নিয়ে এসেছে। ইদ কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি ভেদাভেদ ভুলে নতুন করে সম্পর্ক গড়ে তোলার এক সামাজিক মিলনমেলা।
ঈদুল ফিতর ২০২৬-এর প্রধান তথ্য ও সূচি
নিচে একটি টেবিলের মাধ্যমে ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতরের বিশেষ দিকগুলো তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| Eid ul Fitr 2026 তারিখ | ২১শে মার্চ, শনিবার |
| ছুটির ধরণ | পূর্ণাঙ্গ সরকারি ও এন.আই অ্যাক্ট ছুটি |
| বিশেষ গুরুত্ব | রমজান মাসের সমাপ্তি ও খুশির ইদ |
| পরবর্তী ছুটি | ২৫শে মার্চ, বুধবার (রাম নবমী) |
| পালনের রীতি | ইদের নামাজ, দান (ফিতরা) ও প্রীতিভোজ |
খুশির ইদকে সার্থক করার ৫টি বিশেষ টিপস
- ইদের দিন সকালে নতুন পোশাক পরে পবিত্র মনে ইদগাহে গিয়ে নামাজ আদায় করুন।
- সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের সাহায্যার্থে সাধ্যমতো ফিতরা বা দান পৌঁছে দিন।
- বন্ধু ও আত্মীয়দের আমন্ত্রণ জানিয়ে বাড়িতে বিশেষ ইদ স্পেশাল পদের আয়োজন করুন।
- যেহেতু শনিবার ছুটি, তাই বাড়ির ছোটদের নিয়ে বিকেলে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করতে পারেন।
- ডিজিটাল সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ইদ মুবারক’ বার্তা পাঠিয়ে পরিচিতদের মধ্যে সম্প্রীতি ছড়িয়ে দিন।
ঈদুল ফিতর ২০২৬ নিয়ে সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর
২০২৬ সালে ঈদুল ফিতর কোন তারিখে পড়েছে?
সরকারি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ঈদুল ফিতর ২০২৬ সালের ২১শে মার্চ, শনিবার পালিত হবে।
ইদের দিন কি ব্যাঙ্কিং পরিষেবা চালু থাকবে?
না, ২১শে মার্চ একটি তালিকাভুক্ত সরকারি ছুটি (NI Act), তাই ওই দিন ব্যাঙ্কিং পরিষেবা এবং সরকারি অফিস বন্ধ থাকবে।
ইদ উল ফিতর এবং ইদ উল জোহা কি একই দিনে?
না, ঈদুল ফিতর পালিত হয় রমজান মাসের শেষে (২১শে মার্চ) এবং ঈদুল জোহা বা কোরবানি ইদ তার প্রায় দুই মাস পরে (২৭শে মে) পালিত হবে।
উপসংহার: সম্প্রীতির রঙে রঙিন হোক খুশির ইদ
পরিশেষে বলা যায়, Eid ul Fitr 2026 আমাদের সবার জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসুক। শনিবারের এই ছুটির মাধ্যমে ইদের আনন্দ আরও দ্বিগুণ হয়ে উঠবে। হিংসা ও ভেদাভেদ ভুলে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হওয়াই হোক এই ইদের মূল মন্ত্র। আপনাদের সবার ইদ খুব ভালো কাটুক।



