Savings Account Money Deposit New Rules রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) সম্প্রতি সেভিংস অ্যাকাউন্ট এবং সাধারণ ব্যাঙ্কিং পরিষেবা নিয়ে বড়সড় কিছু পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে সেভিংস অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দেওয়া এবং লেনদেনের ক্ষেত্রে ২০২৬ সাল থেকে বেশ কিছু নতুন নির্দেশিকা কার্যকর হতে চলেছে। এই নতুন নিয়মগুলি মূলত সাধারণ গ্রাহকদের ডিজিটাল ব্যাঙ্কিংয়ের সাথে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করতে এবং ব্যাঙ্কিং পরিষেবা আরও স্বচ্ছ করতে আনা হয়েছে। আপনি যদি একজন সাধারণ সঞ্চয়কারী হন, তবে আপনার জেনে রাখা জরুরি যে ব্যাঙ্কে টাকা জমানোর প্রচলিত অভ্যাসে এখন কিছু আইনি ও ডিজিটাল বদল আসছে। আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা Savings Account Money Deposit New Rules এবং ব্যাঙ্কিং পরিষেবার এই বড় পরিবর্তনগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
সেভিংস অ্যাকাউন্টে টাকা জমানোর নতুন নিয়ম: গ্রাহকদের জন্য খুশির খবর
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিএসবিডি (BSBD) বা বেসিক সেভিংস ব্যাঙ্ক ডিপোজিট অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস থেকে বড় পরিবর্তন আসছে। এখন থেকে এই ধরণের জিরো ব্যালেন্স অ্যাকাউন্টেও ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং এবং মোবাইল ব্যাঙ্কিং পরিষেবা একদম বিনামূল্যে পাওয়া যাবে। আগে অনেক ক্ষেত্রে এই সুবিধাগুলি কেবল রেগুলার সেভিংস অ্যাকাউন্টের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এখন থেকে সাধারণ মানুষ যারা অল্প টাকা সঞ্চয় করেন, তাঁরাও ডিজিটাল লেনদেনের পূর্ণ সুবিধা পাবেন।
এই নতুন নির্দেশিকার ফলে গ্রাহকরা এখন থেকে যে কোনও ব্যাঙ্কে গিয়ে নিজেদের সাধারণ সেভিংস অ্যাকাউন্টকে বিএসবিডি অ্যাকাউন্টে রূপান্তর করার আবেদন করতে পারবেন। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে মাত্র ৭ দিনের মধ্যে এই আবেদন কার্যকর করতে হবে। এটি মূলত সাধারণ মানুষের ওপর থেকে অতিরিক্ত চার্জের বোঝা কমাতে সাহায্য করবে। যারা মূলত ছোট অংকের টাকা সঞ্চয় করতে চান, তাঁদের জন্য Savings Account Money Deposit New Rules একটি অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ।
ডিজিটাল লেনদেন এবং উত্তোলনের নতুন সীমারেখা
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে যে মাসে কতবার টাকা তোলা বা জমা দেওয়া যাবে। নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, মাসে অন্তত ৪ বার টাকা তোলার সুবিধা বিনামূল্যে পাওয়া যাবে, যার মধ্যে এটিএম থেকে টাকা তোলাও অন্তর্ভুক্ত। তবে সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ইউপিআই (UPI), নেফট (NEFT) বা আইএমপিএস (IMPS)-এর মতো ডিজিটাল লেনদেনগুলো এখন আর ‘উত্তোলন’ বা উইথড্রয়াল হিসেবে গণ্য করা হবে না। অর্থাৎ, আপনি যতবার খুশি ডিজিটাল পেমেন্ট করতে পারবেন, তা আপনার মাসিক ফ্রি উইথড্রয়াল লিমিটে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
এই নিয়মের ফলে সাধারণ মানুষ আরও বেশি করে নগদহীন লেনদেনে উৎসাহিত হবেন। ব্যাঙ্কে লাইন দিয়ে টাকা জমা দেওয়ার চেয়ে এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে টাকা ট্রান্সফার করা অনেক বেশি সুবিধাজনক হয়ে উঠছে। আপনি যদি আপনার জমানো টাকা খরচ করার ক্ষেত্রে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করেন, তবে ব্যাঙ্কিং চার্জ নিয়ে আপনাকে আর দুশ্চিন্তা করতে হবে না।
আরবিআই-এর নতুন নির্দেশিকা: একনজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
নিচে একটি টেবিলের মাধ্যমে ২০২৬ সালের নতুন ব্যাঙ্কিং নিয়মের মূল দিকগুলো তুলে ধরা হলো:
| নিয়মের বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| অ্যাকাউন্টের ধরণ | BSBD বা জিরো ব্যালেন্স অ্যাকাউন্ট |
| ডিজিটাল পরিষেবা | মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং বিনামূল্যে পাওয়া যাবে |
| ডিজিটাল লেনদেন | UPI, NEFT লেনদেন উত্তোলনের সীমার বাইরে থাকবে |
| চেকবুক সুবিধা | বছরে অন্তত ২৫ পাতা বিনামূল্যে পাওয়া যাবে |
| টাকা উত্তোলনের সীমা | মাসে ৪ বার পর্যন্ত ফ্রি উইথড্রয়াল (ATM সহ) |
| ডেবিট কার্ড | এটিএম-কাম-ডেবিট কার্ড মিলবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে |
নিষ্ক্রিয় ও জিরো ব্যালেন্স অ্যাকাউন্ট নিয়ে কড়া বার্তা
আপনি কি আপনার সেভিংস অ্যাকাউন্টটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করছেন না? তবে সাবধান! ২০২৬ সালের শুরু থেকেই আরবিআই নিষ্ক্রিয় এবং ডরম্যান্ট (Dormant) অ্যাকাউন্টগুলোর ওপর নজরদারি বাড়াচ্ছে। যদি কোনো অ্যাকাউন্টে টানা দুই বছর বা তার বেশি সময় কোনো লেনদেন না হয়, তবে সেই অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। জিরো ব্যালেন্স অ্যাকাউন্টগুলোর ক্ষেত্রেও যদি দীর্ঘদিন কোনো কার্যক্রম না দেখা যায়, তবে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ সেগুলো পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেবে।
আপনার কষ্টার্জিত টাকা যাতে নিরাপদে থাকে এবং অ্যাকাউন্টটি চালু থাকে, তার জন্য বছরে অন্তত একবার হলেও লেনদেন করা জরুরি। এছাড়াও কেওয়াইসি (KYC) আপডেট রাখা এখন বাধ্যতামূলক। ব্যাঙ্কিং জালিয়াতি রুখতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এই কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সঞ্চিত অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে Savings Account Money Deposit New Rules মেনে চলা এখন প্রতিটি গ্রাহকের দায়িত্ব।
ব্যাঙ্কিং লেনদেনের ক্ষেত্রে ৫টি জরুরি করণীয়
- আপনার অ্যাকাউন্টের কেওয়াইসি তথ্য নিয়মিত আপডেট রাখুন।
- অন্তত ১২ মাসে একবার হলেও অ্যাকাউন্টে টাকা জমা বা তোলা (লেনদেন) করুন।
- ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে সর্বদা সিকিউরড নেটওয়ার্ক ব্যবহার করুন।
- অকেজো বা অপ্রয়োজনীয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করে দিন।
- নমিনেশন বা উত্তরাধিকারীর নাম অবশ্যই অ্যাকাউন্টে যুক্ত করুন।
সঞ্চয় ও সুদের হার নিয়ে নতুন পরিকল্পনা
সেভিংস অ্যাকাউন্টে টাকা রাখার একটি বড় কারণ হলো এর ওপর পাওয়া সুদ। যদিও রেগুলার সেভিংস অ্যাকাউন্টের সুদের হার ব্যাঙ্কের ওপর নির্ভর করে, কিন্তু নতুন নিয়মে স্বচ্ছতা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যাঙ্কগুলো এখন থেকে তাঁদের সুদের হারের পরিবর্তন এবং মিনিমাম ব্যালেন্স সংক্রান্ত চার্জ নিয়ে গ্রাহকদের নিয়মিত অ্যালার্ট বা নোটিফিকেশন পাঠাতে বাধ্য থাকবে। কোনো লুকানো চার্জ বা হিডেন কস্ট এখন আর ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় রাখা যাবে না।
আপনি যদি ফিক্সড ডিপোজিট বা এফডি (FD) করেন, তবে মনে রাখবেন ৭ দিনের কম সময়ের জন্য কোনো এফডি করা যাবে না। যদি আপনার এফডি মেচিউরিটির দিন কোনো সরকারি ছুটি পড়ে, তবে পরবর্তী কাজের দিন আপনি সুদসহ টাকা ফেরত পাবেন। এই ছোট ছোট নিয়মগুলো আপনার সঞ্চয়কে আরও সুরক্ষিত ও লাভজনক করে তুলবে।
ব্যাঙ্কিং নিয়ম নিয়ে সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর
একটি মানুষ কি একাধিক বিএসবিডি (BSBD) অ্যাকাউন্ট রাখতে পারেন?
না, আরবিআই-এর নিয়ম অনুযায়ী একজন ব্যক্তির সমস্ত ব্যাঙ্ক মিলিয়ে কেবল একটিই বিএসবিডি বা বেসিক সেভিংস অ্যাকাউন্ট থাকতে পারে। অ্যাকাউন্ট খোলার সময় গ্রাহককে এই মর্মে একটি ডিক্লারেশন বা ঘোষণা দিতে হয়।
সেভিংস অ্যাকাউন্টে জমানো টাকার ওপর কি ট্যাক্স দিতে হয়?
সেভিংস অ্যাকাউন্টের সুদের ওপর আয়করের বিশেষ নিয়ম রয়েছে। ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত সুদের ওপর সাধারণত কর ছাড় পাওয়া যায় (ধারা ৮০টিটিএ অনুযায়ী), তবে এর বেশি হলে তা করযোগ্য হতে পারে।




