অনির্বাণের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সরব সুপারস্টার! দেব ও অনির্বাণ ভট্টাচার্য ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপ দাবি

টলিউডে তুঙ্গে সংঘাত! অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্যের ওপর অঘোষিত নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে সোচ্চার হলেন সুপারস্টার দেব। দেব ও অনির্বাণ ভট্টাচার্য ইস্যুতে পরিস্থিতি সামাল দিতে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ অভিনেতা। ফেডারেশনের পাল্টা জবাবে এখন কোন দিকে মোড় নেবে টলিপাড়া? পড়ুন বিস্তারিত।

দেব ও অনির্বাণ ভট্টাচার্য : টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে গত কয়েকদিন ধরে চলা অস্থিরতা এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্যের ওপর অল ইন্ডিয়া ফেডারেশন অফ টেকনিশিয়ান্স অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার অঘোষিত নিষেধাজ্ঞার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এই কঠিন সময়ে সহকর্মীর পাশে দাঁড়িয়েছেন খোদ টলিউড সুপারস্টার তথা সাংসদ দেব। সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপ দাবি করে এই সমস্যার দ্রুত সমাধান চেয়েছেন তিনি।

দেব ও অনির্বাণ ভট্টাচার্য ইস্যুতে কেন উত্তাল টলিউড?

পশ্চিমবঙ্গ চলচ্চিত্র শিল্পে টেকনিশিয়ানদের সংগঠনের সাথে অভিনেতাদের সংঘাত কোনো নতুন বিষয় নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অনির্বাণ ভট্টাচার্যের কাজে যেভাবে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে, তা নিয়ে ক্ষুব্ধ ইন্ডাস্ট্রির বড় একটা অংশ। ফেডারেশনের নিয়ম অনুযায়ী কাজ না করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে দেব ও অনির্বাণ ভট্টাচার্য নিয়ে এই বিতর্ক শুধুমাত্র কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা এখন আইনি ও রাজনৈতিক মোড় নিতে শুরু করেছে।

মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে সুপারস্টার দেবের বিশেষ আবেদন

টলিউডের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে দেব সবসময়ই ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থে মুখ খুলেছেন। এবারের সংকটেও তিনি চুপ থাকেননি। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, কোনো শিল্পীর কাজের অধিকার কেড়ে নেওয়া উচিত নয়। দেব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আবেদন জানিয়েছেন যাতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেন এবং এই অচলাবস্থা কাটান। ঘাটালের সাংসদের মতে, দেব ও অনির্বাণ ভট্টাচার্য বা অন্য যেকোনো শিল্পী হোক না কেন, সবারই স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ থাকা জরুরি।

ফেডারেশনের পক্ষ থেকে স্বরূপ বিশ্বাসের পাল্টা প্রতিক্রিয়া

এদিকে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে স্বরূপ বিশ্বাস দেবের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে, নিয়ম সবার জন্যই সমান। ফেডারেশনের কিছু নিজস্ব বিধিমালা রয়েছে যা প্রতিটি শিল্পী ও কলাকুশলীকে মেনে চলতে হয়। তাঁর মতে, অনির্বাণ ভট্টাচার্যের বিষয়টি ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা নয়, বরং নিয়মের বেড়াজালে আটকে থাকা একটি পদ্ধতিগত সমস্যা। ফলে দেব ও অনির্বাণ ভট্টাচার্য সম্পর্কিত এই বিতর্ক সহজে মিটবে বলে মনে হচ্ছে না।

ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে টেকনিশিয়ান বনাম শিল্পী সংঘাতের কারণ

টলিউডে ইদানিং বারবার শ্যুটিং বন্ধ হওয়া বা টেকনিশিয়ানদের কর্মবিরতির ঘটনা ঘটছে। এর পেছনে মূলত রয়েছে পারিশ্রমিক ও কাজের শিফট সংক্রান্ত মতভেদ। যখনই কোনো বড় প্রোডাকশন বা প্রভাবশালী অভিনেতা এই নিয়মের বাইরে কিছু করার চেষ্টা করেন, তখনই ফেডারেশন প্রতিবাদ জানায়। বর্তমান এই সমস্যার কেন্দ্রেও সেই একই ছায়া দেখা যাচ্ছে।

টলিউডের ভবিষ্যৎ ও কর্মপরিবেশ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

যদি এই ধরণের নিষেধাজ্ঞা চলতে থাকে, তবে বাংলা সিনেমার ভবিষ্যৎ অন্ধকার বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। দেবের মতো একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব যখন সরাসরি অনির্বাণের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তখন আশা করা যাচ্ছে হয়তো কোনো মধ্যপন্থা বের হবে। তবে দেব ও অনির্বাণ ভট্টাচার্য সংক্রান্ত এই জলঘোলা কতদূর গড়ায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সিনেমা হলের বদলে যদি বারবার স্টুডিওর ভেতরেই যুদ্ধ চলে, তবে দর্শক বিমুখ হওয়ার আশঙ্কাও থেকে যায়।

দেব ও অনির্বাণ ভট্টাচার্য বিতর্কের মূল ঘটনাক্রম

নিচে একটি টেবিলের মাধ্যমে সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতির একটি সংক্ষিপ্ত রূপ দেওয়া হলো:

বিষয়বিবরণ
মূল সমস্যাঅনির্বাণ ভট্টাচার্যের ওপর কাজের নিষেধাজ্ঞা।
অভিযোগকারীঅল ইন্ডিয়া ফেডারেশন অফ টেকনিশিয়ান্স।
সমর্থনকারীটলিউড সুপারস্টার দেব।
দেবের দাবিমুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
ফেডারেশনের অবস্থাননিয়ম ভঙ্গের কারণে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি।

বর্তমান পরিস্থিতির কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক:

  • টলিউড টেকনিশিয়ানদের কঠোর নিয়মের বেড়াজাল।
  • অনির্বাণ ভট্টাচার্যের কাজে ফেডারেশনের বাধা প্রদান।
  • সহকর্মীর সমর্থনে দেবের সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রশাসনিক আর্জি।
  • স্বরূপ বিশ্বাসের নেতৃত্বে ফেডারেশনের অনড় অবস্থান।
  • পুরো ঘটনায় সিনেমা তৈরির কাজে ব্যাপক ব্যাঘাত।

সমাপ্তি এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট

ইন্ডাস্ট্রির এই সংকটময় মুহূর্তে দেব ও অনির্বাণ ভট্টাচার্য নাম দুটি এখন আলোচনার তুঙ্গে। টলিউডের সাধারণ কলাকুশলীরাও চাইছেন দ্রুত কাজ স্বাভাবিক হোক। দেবের এই আবেদনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাড়া দেন কি না, তার ওপর নির্ভর করছে আগামীর অনেক সমীকরণ। সৃজনশীল কাজের ক্ষেত্রে যেন কোনো ধরণের পেশিশক্তির প্রদর্শন না ঘটে, সেটাই এখন কাম্য। শেষ পর্যন্ত এই টালমাটাল পরিস্থিতি কাটিয়ে বাংলা চলচ্চিত্র শিল্প আবারও ছন্দে ফিরবে বলেই আশা সিনেমা প্রেমীদের।

Leave a Comment