WBSSC Group C and D Exam Date: রাজ্যের হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর জন্য এক বিশাল স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে স্কুল সার্ভিস কমিশন, যা দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে চলেছে। বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার ঠিক আগেই সম্ভবত সম্পন্ন হতে চলেছে রাজ্যের অন্যতম বড় এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি। বহু জল্পনা ও উৎকণ্ঠার পর অবশেষে প্রকাশ্যে এল সম্ভাব্য পরীক্ষার দিনক্ষণ, যা পরীক্ষার্থীদের মনে নতুন করে আশার আলো জাগিয়েছে।
অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: ভোটের আগেই কি হতে চলেছে রাজ্যের এই বিশাল নিয়োগ পরীক্ষা?
পশ্চিমবঙ্গের অগণিত বেকার যুবক-যুবতীর কাছে ‘স্কুল সার্ভিস কমিশন’ বা এসএসসি নামটি আবেগের সঙ্গে সঙ্গে একরাশ দুশ্চিন্তারও কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল গত কয়েক বছর ধরে। বিশেষ করে ২০১৬ সালের প্যানেল বাতিলের পর থেকে যে আইনি জটিলতা এবং নিয়োগের খরা চলছিল, তা প্রার্থীদের মানসিকভাবে বিধ্বস্ত করে দিয়েছিল। কিন্তু সব আঁধার পেরিয়ে এবার সম্ভবত আলোর রেখা দেখা যাচ্ছে। WBSSC গ্রুপ সি ও ডি পরীক্ষার তারিখ নিয়ে যে ধোঁয়াশা ছিল, তা এবার অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে গেল।
সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, রাজ্য সরকার এবং স্কুল শিক্ষা দপ্তর চাইছে বিধানসভা নির্বাচনের আদর্শ আচরণবিধি চালু হওয়ার আগেই এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের লিখিত পরীক্ষাটি শেষ করে ফেলতে। হাতে সময় খুবই কম, তাই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে প্রস্তুতি। এতদিন ধরে যারা হন্যে হয়ে প্রস্তুতির বইয়ে মুখ গুঁজে বসে ছিলেন, তাদের জন্য এই খবরটি নিঃসন্দেহে এক পশলা বৃষ্টির মতো। কমিশন সূত্রে খবর, তারা আর কালবিলম্ব করতে নারাজ।
ক্যালেন্ডারে লাল দাগ দিয়ে রাখুন: মার্চের শুরুতেই জোড়া পরীক্ষার ধামাকা
সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি এখন সবার মনে ঘুরপাক খাচ্ছে তা হলো, ঠিক কবে হবে পরীক্ষা? হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কুল শিক্ষা দপ্তরের অন্দরমহলের খবর বলছে, মার্চ মাসেই হতে চলেছে এই মহাযজ্ঞ। তবে একদিনে নয়, দুটি আলাদা দিনে নেওয়া হবে গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি পদের পরীক্ষা।
আগামী ১ মার্চ, রবিবার, সম্ভবত অনুষ্ঠিত হতে চলেছে গ্রুপ সি (Group C) পদের লিখিত পরীক্ষা। এর ঠিক এক সপ্তাহ পর, অর্থাৎ ৮ মার্চ, রবিবার, নেওয়া হতে পারে গ্রুপ ডি (Group D) পদের পরীক্ষা। যদিও সরকারিভাবে এখনও স্কুল সার্ভিস কমিশনের ওয়েবসাইটে কোনও বিজ্ঞপ্তি ঝোলানো হয়নি, তবে দপ্তরের ভিতরের খবর, এই দুটি তারিখকেই চূড়ান্ত ধরে নিয়ে এগোচ্ছে কমিশন। তাই আপনি যদি একজন সিরিয়াস পরীক্ষার্থী হন, তবে আর নোটিফিকেশনের অপেক্ষা না করে আজ থেকেই রিভিশন শুরু করে দিন। কারণ WBSSC গ্রুপ সি ও ডি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা হতে আর খুব বেশি দেরি নেই।
পরীক্ষার দিনক্ষণ নিয়ে কেন হলো রদবদল? জেনে নিন পিছনের আসল কারণ
প্রথমে কিন্তু কমিশনের পরিকল্পনা কিছুটা অন্যরকম ছিল। প্রাথমিক প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, ১ মার্চ এবং ১৫ মার্চ পরীক্ষা নেওয়া হোক। কমিশন চেয়েছিল দোলের আগেই ১ মার্চ গ্রুপ সি-এর পরীক্ষা মিটিয়ে ফেলতে এবং হাতে দিন পনেরো সময় রেখে ১৫ মার্চ গ্রুপ ডি-এর পরীক্ষা নিতে। এতে পরীক্ষার্থীরাও কিছুটা দম ফেলার সময় পেতেন।
কিন্তু রাজ্য সরকারের শীর্ষ মহল থেকে এই প্রস্তাবে সায় দেওয়া হয়নি। কারণটা রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক। ১৫ মার্চ তারিখটি নির্বাচনের খুব কাছাকাছি চলে যাচ্ছে। যদিও নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা হয়নি, তবুও ওই সময় রাজ্যে ভোটের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলবে। স্কুল ও কলেজগুলো তখন ভোটের কাজে বা পুলিশ ফোর্সের থাকার জন্য প্রয়োজন হতে পারে। তাই কোনওরকম ঝুঁকি না নিয়ে, রাজ্য প্রশাসন নির্দেশ দিয়েছে মার্চের প্রথম দুই রবিবারের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে। এই কারণেই ১৫ মার্চের বদলে ৮ মার্চ তারিখটি বেছে নেওয়া হয়েছে।
এক নজরে সম্ভাব্য পরীক্ষার সময়সূচী (Table)
নিচে দেওয়া তালিকাটি থেকে আপনারা পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখগুলো পরিষ্কারভাবে দেখে নিতে পারবেন:
| পরীক্ষার নাম (Post Name) | সম্ভাব্য তারিখ (Tentative Date) | বার (Day) | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| এসএসসি গ্রুপ সি (SSC Group C) | ১ মার্চ ২০২৬ | রবিবার | দোলের আগেই পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা |
| এসএসসি গ্রুপ ডি (SSC Group D) | ৮ মার্চ ২০২৬ | রবিবার | ১৫ মার্চের পরিবর্তে এগিয়ে আনা হয়েছে |
নিয়োগ প্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থা: কে এগিয়ে আর কে পিছিয়ে?
আমরা যদি বর্তমান এসএসসির নিয়োগ মানচিত্রের দিকে তাকাই, তবে দেখব গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি-এর নিয়োগ প্রক্রিয়াটি লাইনের একদম শেষে দাঁড়িয়ে আছে। ২০১৬ সালের প্যানেল বাতিলের পর নতুন করে যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, সেখানে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের কাজ অনেকটাই এগিয়ে গেছে। ইতিমধ্যেই তাদের ইন্টারভিউ এবং ডেমোনস্ট্রেশন শেষ, এবং চূড়ান্ত প্যানেল প্রকাশের অপেক্ষায়।
অন্যদিকে, নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের ভেরিফিকেশন এবং ইন্টারভিউ এখনও বাকি। আর সবার শেষে পড়ে আছে এই নন-টিচিং স্টাফ বা গ্রুপ সি ও ডি নিয়োগ। এখানে আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গেলেও লিখিত পরীক্ষার দিনক্ষণ ঘোষণা হচ্ছিল না। তাই WBSSC গ্রুপ সি ও ডি পরীক্ষার তারিখ নিয়ে পরীক্ষার্থীদের উদ্বেগ ছিল চরমে। তবে মার্চের এই সম্ভাব্য তারিখ সেই উদ্বেগে জল ঢেলে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।
পরীক্ষার্থীদের জন্য শেষ মুহূর্তের কিছু জরুরি পরামর্শ এবং করণীয়
হাতে আর মেরেকেটে এক মাসের কিছু বেশি সময়। এই সময়টা নতুন করে পড়ার চেয়ে পুরনো পড়া ঝালিয়ে নেওয়ার সময়। যেহেতু WBSSC গ্রুপ সি ও ডি পরীক্ষার তারিখ প্রায় দোরগোড়ায়, তাই এখন থেকেই মক টেস্ট দেওয়া শুরু করা উচিত। এই পরীক্ষাটি রাজ্যের অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা হতে চলেছে, কারণ শূন্যপদের তুলনায় আবেদনকারীর সংখ্যা আকাশচুম্বী।
নিচে পরীক্ষার্থীদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস দেওয়া হলো:
- মানসিক প্রস্তুতি: পরীক্ষার তারিখ এগিয়ে এসেছে ভেবে ঘাবড়ে যাবেন না। ১ মার্চ এবং ৮ মার্চ—এই দুটি তারিখ মাথায় গেঁথে নিয়ে রুটিন তৈরি করুন।
- কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স: যেহেতু ভোটের আগে পরীক্ষা, তাই সাম্প্রতিক ঘটনাবলী খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
- সময়ের সঠিক ব্যবহার: গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি—উভয় পদের জন্য যারা আবেদন করেছেন, তাদের হাতে রিভিশনের জন্য মাঝখানের এক সপ্তাহ সময়টি খুব ভাইটাল হবে।
পরীক্ষার্থীদের মনে জাগা কিছু সাধারণ প্রশ্ন ও তার উত্তর (FAQ)
এই তারিখগুলো কি একদম নিশ্চিত নাকি পরিবর্তন হতে পারে?
দেখুন, স্কুল সার্ভিস কমিশন বা রাজ্য সরকার এখনও সরকারি সিলমোহর দেয়নি। তবে সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট এবং শিক্ষা দপ্তরের সূত্র অনুযায়ী, এই তারিখগুলোই (১ ও ৮ মার্চ) প্রায় চূড়ান্ত। নির্বাচনের কারণে আর পিছিয়ে যাওয়ার সুযোগ খুব কম। তাই এই তারিখগুলোকেই ‘ডেডলাইন’ ধরে প্রস্তুতি নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
অফিসিয়াল নোটিফিকেশন কবে আসতে পারে?
সাধারণত পরীক্ষার ১৫-২০ দিন আগে বা তারও আগে নোটিফিকেশন দেওয়া হয়। যেহেতু মার্চের ১ তারিখে পরীক্ষার কথা শোনা যাচ্ছে, তাই খুব শীঘ্রই, হয়তো এই সপ্তাহের মধ্যেই বা ফেব্রুয়ারির শুরুতে এসএসসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে WBSSC গ্রুপ সি ও ডি পরীক্ষার তারিখ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হতে পারে।
একই দিনে কি দুটি পরীক্ষা হওয়ার সুযোগ ছিল?
না, কমিশন আলাদা দিনেই পরীক্ষা নিতে চেয়েছিল এবং সেটাই হচ্ছে। কারণ প্রচুর পরীক্ষার্থী উভয় পদের জন্যই আবেদন করেছেন। একই দিনে পরীক্ষা হলে অনেকের পক্ষেই দুটি পরীক্ষায় বসা সম্ভব হতো না। তাই ১ ও ৮ মার্চ আলাদা করে দিন ধার্য করা পরীক্ষার্থীদের জন্য সুবিধাজনক হয়েছে।
কেন এই নিয়োগটি রাজ্যের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ?
এই নিয়োগ শুধুমাত্র চাকরি দেওয়া নয়, এটি রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার পরিকাঠামো ঠিক রাখার জন্যও জরুরি। স্কুলগুলোতে গ্রুপ সি (ক্লার্ক) এবং গ্রুপ ডি (পিয়ন/সহায়ক) কর্মীর অভাব দীর্ঘদিনের। পঠনপাঠন ছাড়াও স্কুলের দাপ্তরিক কাজ সুষ্ঠুভাবে চালানোর জন্য এই কর্মীদের প্রয়োজন অপরিসীম। তাছাড়া, ভোটের আগে এই নিয়োগ সম্পন্ন করতে পারলে তা সরকারের ভাবমূর্তির জন্যও ইতিবাচক হবে।
পরীক্ষার্থীদের মনে রাখতে হবে, এবারের লড়াইটা বেশ কঠিন। দীর্ঘদিন পর পরীক্ষা হচ্ছে, তাই প্রতিযোগীর সংখ্যাও জমে জমে পাহাড় প্রমাণ হয়েছে। প্রতিটি নম্বরের জন্য লড়াই হবে। যারা এই WBSSC গ্রুপ সি ও ডি পরীক্ষার তারিখ শুনে আজ থেকেই কোমর বেঁধে নামবেন, সাফল্যের হাসি তারাই হাসবেন।
সবশেষে বলা যায়, মার্চের ১ এবং ৮ তারিখ আপনার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। গুজবে কান না দিয়ে, সোশ্যাল মিডিয়ায় অহেতুক সময় নষ্ট না করে, নিজের লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থাকুন। চোখ রাখুন কমিশনের ওয়েবসাইটে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো মনে রাখবেন:
- পরীক্ষা হবে রবিবার।
- গ্রুপ সি আগে, তারপর গ্রুপ ডি।
- নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই সম্ভবত পরীক্ষা হয়ে যাবে।
- ১৫ তারিখের বদলে ৮ তারিখ পরীক্ষা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
আপনার প্রস্তুতির জন্য রইল অনেক অনেক শুভকামনা। আশা করা যায়, খুব শীঘ্রই আপনার স্বপ্নের চাকরির নিয়োগপত্রটি আপনার হাতে আসবে।




