Suvendu Adhikari Assurance: মতুয়াদের নাগরিকত্ব ও সুরক্ষা নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর বড় ঘোষণা উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর মতুয়া গড়ে দাঁড়িয়ে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন বিরোধী দলনেতা। সিএএ (CAA) এবং এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে যখন চারদিকে নানা বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, ঠিক সেই সময় শুভেন্দু অধিকারীর আশ্বাস মতুয়া সম্প্রদায়ের মনে নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে যারা এ দেশে এসেছেন, তাঁদের কেশাগ্র স্পর্শ করার ক্ষমতা কারও নেই। মতুয়াবাড়ির সার্টিফিকেট কেন্দ্র গ্রহণ করছে এবং নাগরিকত্ব প্রদানের কাজ দ্রুত গতিতে এগোবে বলে তিনি গ্যারান্টি দিয়েছেন।
মতুয়াদের নাগরিকত্ব ও সুরক্ষা নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর বড় ঘোষণা
মতুয়াদের দীর্ঘদিনের দাবি এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নাগরিকত্ব একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। বুধবার ঠাকুরনগরের মাটিতে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারীর আশ্বাস যেন সেই উদ্বেগের অবসান ঘটাল। বিরোধী দলনেতা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের সরকার উদ্বাস্তুদের স্বার্থরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি দাবি করেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া বা ডিটেনশন ক্যাম্পের যে ভয় দেখানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সিএএ আইনের মাধ্যমে শরণার্থীদের সম্মানজনক জীবন দেওয়ার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা কোনোভাবেই থমকে যাবে না বলে নন্দীগ্রামের বিধায়ক পুনরায় নিজের অভয়বাণী শুনিয়েছেন।
শুভেন্দু বাবু জানান, যারা এ দেশে ধর্ম বাঁচাতে এসেছেন, তাঁদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে মতুয়াবাড়ির দেওয়া শংসাপত্রকে মান্যতা দেওয়া হচ্ছে, যা নাগরিকত্ব পাওয়ার পথকে আরও মসৃণ করবে। প্রধানমন্ত্রীর এই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। বিরোধী দলনেতার এই দৃঢ় অবস্থান মতুয়া ভক্তদের মধ্যে এক নতুন আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে।
সিএএ এবং ভোটার তালিকা নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করার বার্তা
সাম্প্রতিক সময়ে ভোটার তালিকায় নাম কাটা যাওয়া বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে মতুয়াদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বিরোধী দলনেতা বিশেষ নির্দেশিকা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে যে, যাঁদের বয়স ৮৫ বছরের বেশি বা যাঁরা শারীরিকভাবে অক্ষম, তাঁদের শুনানির জন্য বিডিও অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। শুভেন্দু অধিকারীর আশ্বাস অনুযায়ী, সরকারি আধিকারিকরাই তাঁদের বাড়িতে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করবেন। এই নাগরিক বান্ধব পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন যে, যদি কোনো কারণে স্থানীয় স্তরে নাম বাদ যায়, তবে উচ্চপদস্থ আধিকারিক বা সরাসরি মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে আবেদন করার পথ খোলা রয়েছে। বিজেপি নেতার এই নির্দেশমূলক বক্তব্য এবং সহায়তার অঙ্গীকার মতুয়া ভোটারদের উদ্বেগ প্রশমনে বড় ভূমিকা নেবে। শরণার্থীদের স্বার্থে তাঁর এই অটল প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক মহলে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
শুভেন্দু অধিকারীর দেওয়া মূল আশ্বাসসমূহ:
- মতুয়াবাড়ির সার্টিফিকেট: নাগরিকত্বের আবেদনের ক্ষেত্রে ঠাকুরবাড়ির সার্টিফিকেট গ্রহণযোগ্য হবে।
- বয়স্কদের ছাড়: ৮৫ বছরের বেশি বয়সীদের শুনানির জন্য বাড়ির বাইরে বেরোতে হবে না।
- আইনি সুরক্ষা: কোনো হিন্দু শরণার্থীকে এ দেশ থেকে বিতাড়িত করা হবে না।
- দ্রুত সিএএ: সিএএ সার্টিফিকেট প্রদানের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করার জন্য তিনি কেন্দ্রের কাছে তদ্বির করবেন।
মতুয়া ও শরণার্থী সমস্যা: এক নজরে তথ্য
বিরোধী দলনেতার বক্তব্য অনুযায়ী মতুয়াদের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সরকারি পদক্ষেপের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে দেওয়া হলো:
| বিষয় | বর্তমান অবস্থা / শুভেন্দুর আশ্বাস |
|---|---|
| নাগরিকত্ব আইন | সিএএ-র মাধ্যমে নাগরিকত্ব প্রদান শুরু হয়েছে। |
| শংসাপত্র | মতুয়াবাড়ির শংসাপত্র কেন্দ্র সরাসরি গ্রহণ করছে। |
| শুনানি প্রক্রিয়া | বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের বাড়িতে গিয়েই হবে শুনানি। |
| ভোটের অধিকার | ভোটার তালিকায় নাম বজায় রাখতে আইনি সহায়তার প্রতিশ্রুতি। |
| আবেদন সংখ্যা | প্রায় ৬০ হাজার মানুষ সিএএ-র জন্য আবেদন করেছেন। |
মতুয়া মহাসংঘের অনুগামীদের উদ্দেশ্যে তিনি ঐক্যবদ্ধ থাকার ডাক দিয়েছেন। বিরোধী দলনেতার মতে, রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে একটি গোষ্ঠী ভয় দেখাচ্ছে, কিন্তু আদতে কেন্দ্রের সুরক্ষা কবচ প্রতিটি শরণার্থীর ওপর রয়েছে। আগামী দিনে নাগরিকত্ব প্রদানের হার আরও বাড়ানো হবে এবং কোনোভাবেই শরণার্থীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হতে দেওয়া হবে না—এই মর্মে শুভেন্দু অধিকারীর আশ্বাস এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
সবশেষে বলা যায়, মতুয়াদের নাগরিকত্বের লড়াইয়ে শুভেন্দু অধিকারীর এই সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সরাসরি ময়দানে নেমে আশ্বস্ত করা বিজেপি-র ঘর গোছানোর প্রক্রিয়ায় বিশেষ মাত্রা যোগ করল। শরণার্থীদের জন্য তাঁর এই সংগ্রাম ও অঙ্গীকার আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হতে পারে।





