ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের জেরে স্কুল বন্ধ, বাতিল একাধিক ট্রেন, কোন কোন এলাকায় জারি সতর্কতা?

বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় অর্ণবকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে দেশের পূর্ব উপকূলবর্তী এলাকায়। ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য প্রভাবের কথা মাথায় রেখে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশের প্রশাসন। আবহাওয়ার পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় একাধিক জেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বেশ কয়েকটি ট্রেন বাতিল এবং কিছু ট্রেনের যাত্রাপথে পরিবর্তন করা হয়েছে।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৮ অক্টোবর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে ঘূর্ণিঝড়টির আছড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাবে উপকূলবর্তী এলাকায় ভারী বৃষ্টি এবং প্রবল ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রশাসন।

কোন কোন জেলায় বন্ধ থাকবে স্কুল ও কলেজ?

ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য প্রভাবের কথা মাথায় রেখে ওড়িশার দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক জেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গঞ্জাম, গজপতি, রায়গড়া, কোরাপুট এবং মালকানগিরি জেলায় ২৮ ও ২৯ অক্টোবর স্কুল, কলেজ এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখার ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী আবহাওয়ার পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রশাসনের তরফে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।

অন্ধ্রপ্রদেশের একাধিক জেলাতেও দুর্যোগ মোকাবিলায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রশাসন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা এবং সাধারণ মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণের মতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

তাই যাঁদের সন্তান স্কুল বা কলেজে পড়াশোনা করে, তাঁদের সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ নির্দেশ দেখে নেওয়া উচিত।

বাতিল একাধিক ট্রেন, যাত্রার আগে কী করবেন?

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে রেল পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দক্ষিণ উপকূল রেলওয়ের তরফে একাধিক ট্রেন বাতিল এবং কয়েকটি ট্রেনের যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশাখাপত্তনম, কিরান্ডুল এবং কোরাপুট রুটে চলাচলকারী কয়েকটি যাত্রীবাহী ট্রেন ও এক্সপ্রেস পরিষেবা এর ফলে প্রভাবিত হতে পারে। ভুবনেশ্বর-জগদলপুর হিরাখণ্ড এক্সপ্রেসের মতো কয়েকটি ট্রেনের ক্ষেত্রেও যাত্রাপথ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে সব ট্রেনের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। কোন ট্রেন কোন তারিখে বাতিল হয়েছে অথবা কোথায় গিয়ে যাত্রা শেষ করবে, তা নির্দিষ্ট ট্রেন নম্বর অনুযায়ী যাচাই করা জরুরি।

যাঁরা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ওড়িশা বা অন্ধ্রপ্রদেশের বিভিন্ন রুটে যাত্রা করার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের স্টেশনে যাওয়ার আগে ভারতীয় রেলের সরকারি তথ্য পরিষেবা থেকে ট্রেনের বর্তমান অবস্থা যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবিলায় কী প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন?

সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় ওড়িশা প্রশাসন একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী নিচু এলাকা এবং দুর্বল বাড়িতে বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

গর্ভবতী মহিলা, বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের নিরাপত্তার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের প্রয়োজনে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এছাড়াও ঘূর্ণিঝড়ের সময় যাতে সাধারণ মানুষের জীবনহানি কমানো যায়, সেই লক্ষ্য নিয়ে বিভিন্ন দফতরের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে। জরুরি পরিষেবা সচল রাখা এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

মৎস্যজীবী ও পর্যটকদের জন্য সতর্কতা

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। তাই মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ঝুঁকিপূর্ণ পর্যটনস্থল, পাহাড়ি এলাকা, জলপ্রপাত এবং বাঁধের আশপাশে প্রবেশের উপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। বিশেষ করে উপকূলবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষদের আবহাওয়ার সতর্কবার্তা মেনে চলা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়া উচিত।

পশ্চিমবঙ্গেও কি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে?

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ার উপরও নজর রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে উপকূলবর্তী এলাকায় বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তবে পশ্চিমবঙ্গের কোন জেলায় কতটা বৃষ্টি হবে, কোথায় সতর্কতা জারি থাকবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য কী নির্দেশ দেওয়া হবে, তা জানতে ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগের সর্বশেষ বুলেটিন দেখা প্রয়োজন। শুধুমাত্র ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথ দেখে নির্দিষ্ট কোনও জেলায় বড় ধরনের দুর্যোগ হবে বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

সাধারণ মানুষের কী কী সতর্কতা নেওয়া উচিত?

ঘূর্ণিঝড়ের সময় নিরাপদ থাকার জন্য প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপ্রয়োজনীয় কারণে বাইরে বের হওয়া এড়িয়ে চলুন। বাড়ির আশপাশে থাকা দুর্বল গাছ, বিদ্যুতের তার এবং ঝুঁকিপূর্ণ কাঠামো থেকে দূরে থাকুন।

বাড়িতে পর্যাপ্ত পানীয় জল, শুকনো খাবার, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং মোবাইল চার্জের ব্যবস্থা রাখুন। আবহাওয়া সম্পর্কে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যাচাইহীন খবর বিশ্বাস করবেন না। সরকারি সূত্র থেকে পাওয়া সতর্কবার্তার উপর নির্ভর করুন।

পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। তাই যাত্রা, স্কুল-কলেজ এবং স্থানীয় পরিষেবা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশ জেনে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে। আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং সরকারি নির্দেশের উপর নির্ভর করবে বিভিন্ন এলাকায় কী ধরনের বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে।

Leave a Comment

Created with ❤
❮ ❯