মহা শিবরাত্রি ২০২৬ কবে পড়েছে এবং কত তারিখে কিভাবে পালন করবেন: চার প্রহরের পুজো ও ব্রত কথা Maha Shivratri 2026 Date Time Tithi

২০২৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি মহা শিবরাত্রির রাতে চার প্রহরের পুজোর সঠিক নিয়ম ও মন্ত্র কী? রাশি অনুযায়ী শিবলিঙ্গে কী অর্পণ করবেন? গর্ভবতী ও অসুস্থদের জন্য ২০২৬ সালের ব্রত পালনের নিয়ম এবং সম্পূর্ণ ব্রত কথা নিয়ে পড়ুন বিস্তারিত প্রতিবেদনের শেষ পর্ব।

মহা শিবরাত্রি ২০২৬ কবে পড়েছে এবং কত তারিখে কিভাবে পালন করবেন: দেবাদিদেব মহাদেবের আরাধনার সম্পূর্ণ গাইড

Maha Shivratri 2026 মহা শিবরাত্রি ২০২৬ কবে পড়েছে : ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টালে দেখা যায়, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য বছরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং পবিত্রতম উৎসব হলো মহা শিবরাত্রি। ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে যখন অমাবস্যার অন্ধকার ঘনিয়ে আসে, ঠিক সেই সময় শিব ও শক্তির মিলনের মহালগ্ন উপস্থিত হয়। ২০২৬ সালে এই দিনটি ভক্তদের জন্য অপার করুণা ও মোক্ষ লাভের বার্তা নিয়ে আসছে। আপনি কি জানেন মহা শিবরাত্রি ২০২৬ কবে পড়েছে এবং কত তারিখে কিভাবে পালন করবেন এই মহাজাগতিক এবং আধ্যাত্মিক রাত্রিটি? পশ্চিমবঙ্গ থেকে শুরু করে সারা ভারত—কোটি কোটি ভক্ত অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ২০২৬ সালের এই বিশেষ দিনটির জন্য। আজ আমরা এই বিশাল প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের শিবরাত্রির প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয়, তিথি, নক্ষত্র, পুজোর নিয়ম এবং পৌরাণিক মাহাত্ম্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

এক নজরে

মহা শিবরাত্রি ২০২৬ কবে পড়েছে এবং কত তারিখে কিভাবে পালন করবেন: সঠিক তারিখ ও সময়

​ভক্তদের মনে সবার আগে যে প্রশ্নটি জাগে তা হলো, মহা শিবরাত্রি ২০২৬ কবে পড়েছে এবং কত তারিখে কিভাবে পালন করবেন? পঞ্জিকা এবং জ্যোতিষ গণনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি, রবিবার মহা শিবরাত্রি পালিত হবে। যদিও চতুর্দশী তিথির সূচনা আগের দিন অর্থাৎ ১৪ই ফেব্রুয়ারি শেষ রাত থেকে হতে পারে, কিন্তু উদয়াতিথি এবং নিশীথ কালের সংযোগ বিচারে ১৫ই ফেব্রুয়ারি রবিবার দিনটিকেই ২০২৬ সালের শিবরাত্রি পালনের জন্য শ্রেষ্ঠ বলে ধার্য করা হয়েছে।

​২০২৬ সালে ১৫ই ফেব্রুয়ারি তারিখটি রবিবার হওয়ায় এটি অত্যন্ত শুভ। রবিবার হলো সূর্যদেবের দিন, আর মহাদেব হলেন সেই পরম সত্তা যাঁকে সূর্যও প্রদক্ষিণ করে। ছুটির দিন হওয়ায় ২০২৬ সালে আবালবৃদ্ধবনিতা সবাই নির্ঝঞ্ঝাটভাবে মন্দিরে গিয়ে বা বাড়িতে বসে পুজো করার সুযোগ পাবেন। আপনি যদি ইন্টারনেটে খুঁজছেন মহা শিবরাত্রি ২০২৬ কবে পড়েছে এবং কত তারিখে কিভাবে পালন করবেন, তবে আপনার ডায়েরিতে ১৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখটি লাল কালিতে মার্ক করে রাখুন। কারণ, এই দিনটি কেবল উপবাসের নয়, এটি হলো আত্মশুদ্ধি এবং জাগরণের রাত।

২০২৬ সালের শিবরাত্রির শুভ মুহূর্ত ও নিশীথ কাল

মহা শিবরাত্রি ২০২৬ কবে পড়েছে এবং কত তারিখে কিভাবে পালন করবেন তা জানার পাশাপাশি শুভ মুহূর্ত জানাটা অত্যন্ত জরুরি। ২০২৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি, রবিবার সন্ধ্যা থেকে পরদিন অর্থাৎ ১৬ই ফেব্রুয়ারি ভোর পর্যন্ত চার প্রহরে পুজো অনুষ্ঠিত হবে। বিশেষ করে ‘নিশীথ কাল’ বা মধ্যরাতের সময়টি হলো শিবলিঙ্গে জল ঢালার শ্রেষ্ঠ সময়। ২০২৬ সালে এই নিশীথ কাল রাত ১১টা ৪০ মিনিট থেকে রাত ১২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে (স্থানীয় সময় অনুযায়ী সামান্য পরিবর্তন হতে পারে)।

​যারা ২০২৬ সালের এই ব্রত পালন করবেন, তাঁদের জেনে রাখা ভালো যে মহা শিবরাত্রি ২০২৬ কবে পড়েছে এবং কত তারিখে কিভাবে পালন করবেন তার নির্ঘণ্ট মেনে পুজো করলে সহস্র গুণ পুণ্য লাভ হয়। ১৫ই ফেব্রুয়ারি সকাল থেকেই ভক্তরা শিবলিঙ্গে বেলপাতা, ধুতুরা এবং আকন্দ ফুল অর্পণ করবেন। ২০২৬ সালের এই তিথিতে গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান এমন থাকবে যা সাধকদের জন্য অত্যন্ত ফলদায়ক। তাই কেবল তারিখ জানলেই হবে না, মহা শিবরাত্রি ২০২৬ কবে পড়েছে এবং কত তারিখে কিভাবে পালন করবেন তার সঠিক মুহূর্তগুলো মেনে চলাই হলো বুদ্ধিমানের কাজ।

কেন পালন করবেন মহা শিবরাত্রি ২০২৬? পৌরাণিক ও আধ্যাত্মিক মাহাত্ম্য

​অনেকেই কেবল প্রথা মেনে পুজো করেন, কিন্তু এই ব্রতের পেছনের আসল কারণটি জানেন না। আপনি যখন জানবেন মহা শিবরাত্রি ২০২৬ কবে পড়েছে এবং কত তারিখে কিভাবে পালন করবেন, তখন এর মাহাত্ম্য জানলে আপনার ভক্তি আরও বেড়ে যাবে। পুরাণ মতে, এই পবিত্র তিথিতেই দেবাদিদেব মহাদেব এবং দেবী পার্বতীর শুভ বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল। তাই ২০২৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি রবিবার দিনটি হলো শিব ও শক্তির মহা মিলনের দিন।

​এছাড়াও, সমুদ্র মন্থনের সময় যখন হলাহল বা তীব্র বিষ উঠে এসেছিল, তখন সৃষ্টিকে রক্ষা করার জন্য মহাদেব সেই বিষ পান করে নীলকণ্ঠ হয়েছিলেন। সেই ঘটনাকে স্মরণ করেও ভক্তরা সারারাত জেগে শিবের আরাধনা করেন। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়েও এই পৌরাণিক কাহিনী আমাদের ত্যাগের শিক্ষা দেয়। আপনি যদি ভাবেন মহা শিবরাত্রি ২০২৬ কবে পড়েছে এবং কত তারিখে কিভাবে পালন করবেন, তবে মনে রাখবেন—এই দিনটি হলো সেই বিষ বা নেতিবাচকতা জীবন থেকে দূর করার দিন।

​আরও একটি মত অনুযায়ী, এই দিনেই শিবলিঙ্গ রূপে মহাদেব প্রথম আবির্ভূত হয়েছিলেন। তাই ২০২৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি রাতে শিবলিঙ্গে জল ঢালা মানে সেই আদি ও অনন্ত সত্তাকে সম্মান জানানো। ভক্তরা বিশ্বাস করেন, মহা শিবরাত্রি ২০২৬ কবে পড়েছে এবং কত তারিখে কিভাবে পালন করবেন তা জেনে নিষ্ঠাভরে ব্রত করলে অবিবাহিত মেয়েদের মনের মতো বর জোটে এবং বিবাহিতদের সংসারে শান্তি বজায় থাকে।

২০২৬ সালে শিবরাত্রি পালনের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি

​ধর্মের পাশাপাশি এর একটি গভীর বিজ্ঞানসম্মত দিকও রয়েছে। আপনি কি জানেন মহা শিবরাত্রি ২০২৬ কবে পড়েছে এবং কত তারিখে কিভাবে পালন করবেন এবং কেন এই বিশেষ রাতটিকেই বেছে নেওয়া হয়েছে? বিজ্ঞানীদের মতে, এই রাতে গ্রহমণ্ডল এমন এক বিশেষ অবস্থানে থাকে যার ফলে পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে শক্তির এক প্রবল ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহ ঘটে। ২০২৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি রাতে মেরুদণ্ড সোজা করে জেগে থাকলে বা ধ্যান করলে মানুষের শরীরে প্রাকৃতিক শক্তির সঞ্চার হয়।

​তাই ২০২৬ সালে যারা আধ্যাত্মিক পথে উন্নতি করতে চান, তাদের জন্য এই রাতটি ঘুমানোর নয়, বরং জেগে থাকার। মহা শিবরাত্রি ২০২৬ কবে পড়েছে এবং কত তারিখে কিভাবে পালন করবেন—এই প্রশ্নের উত্তরে সাধকরা বলেন, এদিন উপবাস করলে শরীর ডিটক্সিফাই হয় এবং মনঃসংযোগ বৃদ্ধি পায়। ২০২৬ সালের ব্যস্ত জীবনে মানসিক চাপ কমানোর জন্য এই দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম।

বিজ্ঞাপন

মহা শিবরাত্রি ২০২৬ পালনের প্রস্তুতি: কি কি লাগবে?

​১৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ আসার আগেই আপনাকে পুজোর সমস্ত প্রস্তুতি সেরে রাখতে হবে। আপনি যখন জানছেন মহা শিবরাত্রি ২০২৬ কবে পড়েছে এবং কত তারিখে কিভাবে পালন করবেন, তখন পুজোর উপকরণের তালিকাটি তৈরি করে ফেলা দরকার। ২০২৬ সালের পুজোয় নিম্নলিখিত সামগ্রীগুলো অবশ্যই সংগ্রহে রাখবেন:

​১. শিবলিঙ্গ: মাটি, পাথর বা পারদের শিবলিঙ্গ।

২. অভিষেকের দ্রব্য: দুধ, দই, ঘি, মধু, চিনি (পঞ্চামৃত), এবং প্রচুর পরিমাণে গঙ্গা জল।

৩. ফুল ও পাতা: নিখুঁত বেলপাতা (তিনটি পাতা যুক্ত), ধুতুরা ফুল, আকন্দ ফুল, নীলকণ্ঠ ফুল এবং অপরাজিতা। মনে রাখবেন, শিব পুজোয় কেতকী বা তুলসী পাতা নিষিদ্ধ (ব্যতিক্রম বাদে)।

৪. অন্যান্য: চন্দন, যজ্ঞপৈতে, ধূপ, দীপ, কর্পূর, ভাং (যদি পাওয়া যায়) এবং নৈবেদ্য হিসেবে ফল ও মিষ্টি।

​২০২৬ সালে রবিবার বাজার বন্ধ থাকতে পারে বা ভিড় হতে পারে, তাই মহা শিবরাত্রি ২০২৬ কবে পড়েছে এবং কত তারিখে কিভাবে পালন করবেন তা মাথায় রেখে দু-দিন আগেই কেনাকাটা সেরে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। সঠিক প্রস্তুতিই আপনার পুজোকে নির্বিঘ্ন করবে।

ব্রত ও উপবাসের নিয়মাবলী: ২০২৬ সালের গাইড

​শিবরাত্রির প্রধান অঙ্গ হলো উপবাস বা ব্রত। আপনি কি জানতে চান মহা শিবরাত্রি ২০২৬ কবে পড়েছে এবং কত তারিখে কিভাবে পালন করবেন এবং উপবাসের সঠিক নিয়ম কী? ২০২৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি ভোর থেকে এই ব্রত শুরু হবে। ভক্তরা সাধারণত ‘নির্জলা’ অর্থাৎ জল না খেয়ে উপবাস করেন। তবে শরীর অসুস্থ থাকলে বা বয়স্করা ফল ও দুধ খেয়ে (ফলাহার) উপবাস করতে পারেন।

মহা শিবরাত্রি ২০২৬ কবে পড়েছে এবং কত তারিখে কিভাবে পালন করবেন—এই প্রশ্নের সাথে জড়িয়ে আছে ‘সংকল্প’ করার নিয়ম। ১৫ই ফেব্রুয়ারি সকালে স্নান সেরে হাতে চাল ও জল নিয়ে সংকল্প করতে হয় যে—”আমি আজ সারাদিন ও সারারাত মহাদেবের আরাধনায় মগ্ন থাকব এবং পরদিন সকালে পারণ করব।” ২০২৬ সালে উপবাস পালনের সময় পরনিন্দা, পরচর্চা এবং রাগ বর্জন করা উচিত। মনকে শান্ত রেখে সারাদিন “ওঁ নমঃ শিবায়” মন্ত্র জপ করাই হলো এই ব্রতের মূল উদ্দেশ্য।

​উপবাস ভঙ্গের বা পারণের সময়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালে ১৬ই ফেব্রুয়ারি, সোমবার সকালে স্নান সেরে এবং পুনরায় শিবলিঙ্গে জল ঢেলে প্রসাদ খেয়ে উপবাস ভঙ্গ করতে হবে। যারা প্রশ্ন করছেন মহা শিবরাত্রি ২০২৬ কবে পড়েছে এবং কত তারিখে কিভাবে পালন করবেন, তাঁদের মনে রাখতে হবে যে সঠিক সময়ে পারণ না করলে ব্রত অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

মহা শিবরাত্রি ২০২৬-এর সময়সূচি ও প্রাথমিক তথ্য

​এই টেবিলে ২০২৬ সালের শিবরাত্রির তারিখ, শুভ মুহূর্ত এবং পারণ বা উপবাস ভঙ্গের সময় দেওয়া হয়েছে।

বিষয়বিস্তারিত তথ্য (২০২৬)
উৎসবের নামমহা শিবরাত্রি ২০২৬ (Maha Shivratri 2026)
তারিখ১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
বাররবিবার (সূর্য বার হওয়ায় অত্যন্ত শুভ)
তিথি শুরু১৪ই ফেব্রুয়ারি, শনিবার রাত ১০টা ৫৫ মিনিট থেকে
তিথি শেষ১৬ই ফেব্রুয়ারি, সোমবার সকাল ৮টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত
নিশীথ কাল (পুজোর শ্রেষ্ঠ সময়)রাত ১১টা ৪০ মিনিট থেকে ১২টা ৩০ মিনিট (১৫ই ফেব্রুয়ারি রাত)
পারণ / উপবাস ভঙ্গের সময়১৬ই ফেব্রুয়ারি (সোমবার), সকাল ৬টা ১০ মিনিট থেকে দুপুর ৩টা ২৪ মিনিটের মধ্যে
ধর্মীয় গুরুত্বশিব ও শক্তির (পার্বতী) বিবাহ বার্ষিকী এবং লিঙ্গোদ্ভব তিথি
উপবাসের ধরণনির্জলা (জল ছাড়া) বা ফলাহার (ফল ও দুধ খেয়ে)

চার প্রহরের পুজো পদ্ধতি ও নিয়মাবলী

​এই টেবিলে মহা শিবরাত্রি ২০২৬ কবে পড়েছে এবং কত তারিখে কিভাবে পালন করবেন তার পুজো পদ্ধতি, মন্ত্র এবং অভিষেকের নিয়ম বিস্তারিতভাবে দেওয়া হয়েছে।

প্রহরের নাম ও সময় (১৫-১৬ই ফেব)অভিষেকের প্রধান দ্রব্যমন্ত্র ও উদ্দেশ্য
প্রথম প্রহর (সন্ধ্যা ৬টা – রাত ৯টা)কাঁচা দুধ (দুধ দিয়ে স্নান করান)মন্ত্র: “ওঁ হ্রীং ঈশানায় নমঃ” উদ্দেশ্য: সংসারে শান্তি ও বংশবৃদ্ধি।
দ্বিতীয় প্রহর (রাত ৯টা – রাত ১২টা)টক দই (দই দিয়ে স্নান করান)মন্ত্র: “ওঁ হ্রীং অঘোরায় নমঃ” উদ্দেশ্য: ধনসম্পদ বৃদ্ধি ও কলহ দূরীকরণ।
তৃতীয় প্রহর (রাত ১২টা – ভোর ৩টা)গাওয়া ঘি (ঘি দিয়ে স্নান করান)মন্ত্র: “ওঁ হ্রীং বামদেবায় নমঃ” উদ্দেশ্য: মোক্ষ লাভ ও পাপ খণ্ডন।
চতুর্থ প্রহর (ভোর ৩টা – সকাল ৬টা)মধু (মধু দিয়ে স্নান করান)মন্ত্র: “ওঁ হ্রীং সদ্যোজাতায় নমঃ” উদ্দেশ্য: শত্রু বিনাশ ও আনন্দ লাভ।

​এটি ছিল মহা শিবরাত্রি ২০২৬ কবে পড়েছে এবং কত তারিখে কিভাবে পালন করবেন—এই বিশাল প্রতিবেদনের প্রথম অংশ। এখানে আমরা ২০২৬ সালের তারিখ, বৈজ্ঞানিক ও পৌরাণিক গুরুত্ব এবং প্রস্তুতির নিয়ম নিয়ে আলোচনা করেছি।

​এর নিচের পর্বে (দ্বিতীয় অংশে) আমি বিস্তারিত আলোচনা করব:

  • চার প্রহরের পুজোর সম্পূর্ণ মন্ত্র ও পদ্ধতি (২০২৬ সালের সময়সূচি অনুযায়ী)।
  • রাশি অনুযায়ী ২০২৬ সালে শিব পুজোর বিশেষ টোটকা।
  • মহা মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্রের শক্তি ও জপ বিধি।
  • গর্ভবতী মহিলা ও অসুস্থদের জন্য ২০২৬ সালের বিশেষ নিয়ম।
  • শিবরাত্রির ব্রত কথার সম্পূর্ণ গল্প।

Maha Shivratri 2026 Update Today

মহা শিবরাত্রি ২০২৬ কবে পড়েছে এবং কত তারিখে কিভাবে পালন করবেন: চার প্রহরের পুজো ও ব্রত কথা (দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব)

​প্রথম পর্বে আমরা জেনেছি ২০২৬ সালের শিবরাত্রির সঠিক তারিখ, সময় এবং বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব। এবার আমরা প্রবেশ করছি এই মহাব্রতের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশে—পুজো পদ্ধতি এবং মন্ত্র উচ্চারণে। আপনি যদি ২০২৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি, রবিবার অর্থাৎ মহা শিবরাত্রির দিনটিতে দেবাদিদেব মহাদেবের কৃপা লাভ করতে চান, তবে এই দ্বিতীয় পর্বটি আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি। এখানে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব মহা শিবরাত্রি ২০২৬ কবে পড়েছে এবং কত তারিখে কিভাবে পালন করবেন সেই অনুযায়ী চার প্রহরের পুজোর নিয়ম, রাশি অনুযায়ী প্রতিকার এবং ব্রত কথা নিয়ে। ২০২৬ সালের এই রাতটি যেন আপনার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে, সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই বিশেষ আয়োজন।

২০২৬ সালের চার প্রহরের পুজোর সময়সূচি ও নিয়ম

​শিবরাত্রির মূল উপাসনা হলো চার প্রহরের পুজো। যারা প্রশ্ন করেন মহা শিবরাত্রি ২০২৬ কবে পড়েছে এবং কত তারিখে কিভাবে পালন করবেন, তাঁদের জন্য এই প্রহরের ভাগ জানা অত্যন্ত আবশ্যক। ২০২৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা থেকে শুরু করে ১৬ই ফেব্রুয়ারি ভোর পর্যন্ত এই পুজো চলবে। প্রতিটি প্রহরের আলাদা আলাদা মন্ত্র এবং অভিষেক দ্রব্য রয়েছে। ২০২৬ সালে রবিবার হওয়ার কারণে আপনি খুব সহজেই এই নিয়মগুলো মেনে চলতে পারবেন।

প্রথম প্রহর (সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত): দুধের অভিষেক

​২০২৬ সালের শিবরাত্রির প্রথম প্রহরের পুজো শুরু হবে ১৫ই ফেব্রুয়ারি সূর্যাস্তের পর। এই সময়ে মহাদেবকে ‘ঈশান’ রূপে পুজো করা হয়।

  • অভিষেক: কাঁচা দুধ দিয়ে শিবলিঙ্গে স্নান করান। দুধ হলো সাত্ত্বিক গুণের প্রতীক।
  • মন্ত্র: “ওঁ হ্রীং ঈশানায় নমঃ”।
  • নিবেদন: বেলপাতা, ধুতুরা ফুল এবং শ্বেত চন্দন। আপনি যখন ভাবছেন মহা শিবরাত্রি ২০২৬ কবে পড়েছে এবং কত তারিখে কিভাবে পালন করবেন, তখন মনে রাখবেন প্রথম প্রহরের পুজো করলে সংসারে শান্তি এবং বংশবৃদ্ধি হয়। ২০২৬ সালে সন্তান লাভের কামনায় যারা ব্রত করবেন, তাদের জন্য এই প্রহরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দ্বিতীয় প্রহর (রাত ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত): দইয়ের অভিষেক

​দ্বিতীয় প্রহরে মহাদেবকে ‘অঘোর’ রূপে আরাধনা করা হয়। ২০২৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি রাতে এই সময়টি অত্যন্ত পবিত্র।

  • অভিষেক: টক দই দিয়ে শিবলিঙ্গ স্নান করান। দই আমাদের জীবনের স্থায়িত্ব এবং সমৃদ্ধির প্রতীক।
  • মন্ত্র: “ওঁ হ্রীং অঘোরায় নমঃ”।
  • নিবেদন: আকন্দ ফুল, বেলপাতা এবং চিনি। যারা জানতে চান মহা শিবরাত্রি ২০২৬ কবে পড়েছে এবং কত তারিখে কিভাবে পালন করবেন, তাঁদের জন্য টিপস হলো—দ্বিতীয় প্রহরের পুজোয় দই অর্পণ করলে দাম্পত্য কলহ দূর হয় এবং ২০২৬ সালটি সুখে কাটে।

তৃতীয় প্রহর (রাত ১২টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত): ঘায়ের অভিষেক

​এটিই হলো ‘নিশীথ কাল’ বা শিবরাত্রির সবথেকে শক্তিশালী সময়। ২০২৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে মহাদেবকে ‘বামদেব’ রূপে পুজো করা হয়।

  • অভিষেক: গাওয়া ঘি দিয়ে শিবলিঙ্গ স্নান করান। ঘি হলো জ্ঞানের প্রতীক।
  • মন্ত্র: “ওঁ হ্রীং বামদেবায় নমঃ”।
  • নিবেদন: মধু, বেলপাতা এবং লাল ফুল (যদি পাওয়া যায়)। অনেক ভক্ত প্রশ্ন করেন মহা শিবরাত্রি ২০২৬ কবে পড়েছে এবং কত তারিখে কিভাবে পালন করবেন বিশেষ ফল লাভের জন্য? উত্তর হলো—এই তৃতীয় প্রহরে ঘি দিয়ে পুজো করলে মোক্ষ লাভ হয় এবং সমস্ত পাপ খণ্ডন হয়। ২০২৬ সালে আপনার আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য এই সময়টি শ্রেষ্ঠ।

চতুর্থ প্রহর (ভোর ৩টা থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত): মধুর অভিষেক

​শিবরাত্রির শেষ প্রহর বা ১৬ই ফেব্রুয়ারি ভোরের দিকে মহাদেবকে ‘সদ্যোজাত’ রূপে পুজো করা হয়।

  • অভিষেক: মধু দিয়ে শিবলিঙ্গ স্নান করান। মধু হলো আনন্দ ও মিষ্টতার প্রতীক।
  • মন্ত্র: “ওঁ হ্রীং সদ্যোজাতায় নমঃ”।
  • নিবেদন: আখের রস বা ডাবের জল এবং নীলকণ্ঠ ফুল। চতুর্থ প্রহরের পুজো শেষ করে ভক্তরা পারণ বা উপবাস ভঙ্গের প্রস্তুতি নেন। মহা শিবরাত্রি ২০২৬ কবে পড়েছে এবং কত তারিখে কিভাবে পালন করবেন—এই নির্দেশিকা মেনে চতুর্থ প্রহরে পুজো করলে ২০২৬ সালে আপনার শত্রুরা বিনাশ হবে এবং জীবনে জয় আসবে।

মহা মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র: ২০২৬ সালে জপ করার নিয়ম

​শিবরাত্রির রাতে “মহা মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র” জপ করার শক্তি অপরিসীম। ২০২৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি রাতে যদি কেউ অসুস্থতার হাত থেকে মুক্তি পেতে চান বা অকালমৃত্যু ভয় দূর করতে চান, তবে এই মন্ত্রটি জপ করা আবশ্যক। আপনি যখন জানবেন মহা শিবরাত্রি ২০২৬ কবে পড়েছে এবং কত তারিখে কিভাবে পালন করবেন, তখন এই মন্ত্রটি মুখস্থ করে নিন:

“ওঁ ত্র্যম্বকম যজামহে সুগন্ধিং পুষ্টিবর্ধনম্।

উর্বারুকমিব বন্ধনান্ মৃত্যোর্মুক্ষীয় মামৃতাৎ।।”

​২০২৬ সালে এই মন্ত্রটি ১০৮ বার জপ করলে শারীরিক ও মানসিক শক্তি বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে যারা বয়স্ক বা দীর্ঘদিনের রোগে ভুগছেন, তাঁদের জন্য ২০২৬ সালের শিবরাত্রি হলো আরোগ্যের রাত। মহা শিবরাত্রি ২০২৬ কবে পড়েছে এবং কত তারিখে কিভাবে পালন করবেন তা জানার পাশাপাশি রুদ্রাক্ষের মালা হাতে নিয়ে এই মন্ত্র জপ করলে মহাদেব অত্যন্ত প্রসন্ন হন।

রাশি অনুযায়ী ২০২৬ সালের শিব পুজো: বিশেষ টোটকা

​২০২৬ সালের গ্রহ নক্ষত্রের অবস্থান অনুযায়ী প্রতিটি রাশির জাতক-জাতিকারা মহাদেবকে বিশেষ কিছু দ্রব্য অর্পণ করে ভাগ্য ফেরাতে পারেন। মহা শিবরাত্রি ২০২৬ কবে পড়েছে এবং কত তারিখে কিভাবে পালন করবেন—এই প্রশ্নের সাথে সাথে আপনার রাশির টোটকাটিও জেনে নিন:

  • মেষ রাশি: ২০২৬ সালে লাল চন্দন ও বেলপাতা দিয়ে পুজো করুন।
  • বৃষ রাশি: দুধ ও সাদা ফুল দিয়ে অভিষেক করুন।
  • মিথুন রাশি: আখের রস দিয়ে স্নান করান।
  • কর্কট রাশি: কাঁচা দুধ ও শঙ্খপুষ্পী ফুল দিন।
  • সিংহ রাশি: গুড় মিশ্রিত জল ও লাল ফুল অর্পণ করুন।
  • কন্যা রাশি: বেলপাতা ও দূর্বা ঘাস দিন।
  • তুলা রাশি: সুগন্ধি আতর ও দই দিয়ে পুজো করুন।
  • বৃশ্চিক রাশি: মধু ও রক্তজবা ফুল দিন।
  • ধনু রাশি: হলুদ ফুল ও বেসনের লাড্ডু ভোগ দিন।
  • মকর রাশি: কালো তিল ও নীল অপরাজিতা ফুল দিন।
  • কুম্ভ রাশি: ডাবের জল ও শমি পাতা অর্পণ করুন।
  • মীন রাশি: কেশর মিশ্রিত দুধ ও হলুদ ফুল দিন।

​২০২৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি আপনার রাশি অনুযায়ী এই সামান্য উপাচার পালন করলে মহাদেবের আশীর্বাদ বর্ষিত হবে। যারা ইন্টারনেটে খুঁজছেন মহা শিবরাত্রি ২০২৬ কবে পড়েছে এবং কত তারিখে কিভাবে পালন করবেন, তাঁরা এই রাশিচক্রের নিয়মটি মেনে চললে দ্বিগুণ ফল পাবেন।

গর্ভবতী, অসুস্থ ও বয়স্কদের জন্য ২০২৬ সালের নিয়ম

​মহাদেব অত্যন্ত দয়ালু, তিনি ভক্তের ভক্তি দেখেন, শারীরিক কষ্ট নয়। ২০২৬ সালে যারা অসুস্থ, গর্ভবতী বা বয়স্ক, তাদের জন্য শিবরাত্রি পালনের নিয়ম কিছুটা শিথিল। আপনি যদি ভাবেন মহা শিবরাত্রি ২০২৬ কবে পড়েছে এবং কত তারিখে কিভাবে পালন করবেন শরীর খারাপ থাকা সত্ত্বেও, তবে নিচের পরামর্শগুলো দেখুন:

​১. ফলাহার: নির্জলা উপবাস না করে ফল, দুধ, সাবু বা সিন্ধা লবণ দিয়ে তৈরি খাবার খেয়ে ব্রত করুন।

২. ওষুধ: ২০২৬ সালে শিবরাত্রি রবিবার পড়লেও নিয়মিত ওষুধ খেতে ভুলবেন না। মহাদেব মনে বাস করেন, তাই শরীর সুস্থ রাখাই প্রথম ধর্ম।

৩. মানসিক পুজো: যদি মন্দিরে যাওয়ার সামর্থ্য না থাকে, তবে বাড়িতে বসেই মনে মনে “ওঁ নমঃ শিবায়” জপ করুন। ২০২৬ সালে মানস পুজোও সমান ফলদায়ক।

৪. গর্ভবতীদের সতর্কতা: গর্ভবতী মহিলারা দীর্ঘক্ষণ উপবাস বা জাগরণ করবেন না। পুষ্টিকর খাবার খেয়ে শিবের নাম নিন। মহা শিবরাত্রি ২০২৬ কবে পড়েছে এবং কত তারিখে কিভাবে পালন করবেন—এই প্রশ্নে স্বাস্থ্যের সাথে আপোষ করবেন না।

শিবরাত্রির ব্রত কথা: ২০২৬ সালে শোনার মাহাত্ম্য

​ব্রত পালনের পর ব্রত কথা বা পাঁচালি শোনা আবশ্যক। আপনি কি জানেন মহা শিবরাত্রি ২০২৬ কবে পড়েছে এবং কত তারিখে কিভাবে পালন করবেন এবং এর পেছনের সেই বিখ্যাত শিকারির গল্পটি কী?

​পুরাকালে এক ব্যাধ (শিকারি) ছিল। সারাদিন শিকার না পেয়ে সে গভীর বনে এক বেলগাছে আশ্রয় নেয়। নিচে ছিল একটি শিবলিঙ্গ, যা লতাপাতায় ঢাকা ছিল। রাতে হিংস্র পশুর ভয়ে এবং শিকারের অপেক্ষায় সে বেলপাতা ছিঁড়ে নিচে ফেলতে থাকে। তার অজান্তেই সেই বেলপাতাগুলো শিবলিঙ্গের ওপর পড়ে। সেই সাথে তার জলের পাত্র থেকে ফোঁটা ফোঁটা জলও লিঙ্গের ওপর পড়ে। সেদিন ছিল মহা শিবরাত্রি। অজান্তেই সেই শিকারি চার প্রহরের পুজো সম্পন্ন করে ফেলে।

​পরদিন সকালে সে যখন বাড়ি ফিরে খেতে বসে, তখন এক অতিথি আসে এবং সে নিজের খাবার অতিথিকে দিয়ে দেয়। এভাবে তার ব্রত ও পারণ সম্পন্ন হয়। মৃত্যুর পর যমদূতরা তাকে নিতে এলে শিবের গণরা তাকে রক্ষা করে কৈলাসে নিয়ে যান। ২০২৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি রাতে এই গল্পটি পাঠ করলে বা শুনলে ভক্তের সমস্ত পাপ মোচন হয়। যারা প্রশ্ন করেন মহা শিবরাত্রি ২০২৬ কবে পড়েছে এবং কত তারিখে কিভাবে পালন করবেন, তাঁদের অবশ্যই এই ব্রত কথাটি শুনে তবেই পুজো শেষ করা উচিত।

পারণ বা ব্রত ভঙ্গ: ২০২৬ সালের সঠিক সময় ও বিধি

​সঠিকভাবে ব্রত শুরু করার মতোই সঠিকভাবে তা ভঙ্গ করা জরুরি। মহা শিবরাত্রি ২০২৬ কবে পড়েছে এবং কত তারিখে কিভাবে পালন করবেন—এই প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ হলো পারণ। ২০২৬ সালে ১৫ই ফেব্রুয়ারি উপবাসের পর ১৬ই ফেব্রুয়ারি, সোমবার সকালে পারণ করতে হবে।

  • সময়: ১৬ই ফেব্রুয়ারি সূর্যোদয়ের পর এবং চতুর্দশী তিথি শেষ হওয়ার আগে।
  • বিধি: স্নান সেরে পুনরায় মহাদেবকে জল ও বেলপাতা দিন। এরপর ব্রাহ্মণকে কিছু দান করে বা গরুকে খাইয়ে নিজে প্রসাদ গ্রহণ করুন।
  • খাবার: পারণের সময় সাধারণত চালের অন্ন বা সাত্ত্বিক খাবার দিয়ে উপবাস ভাঙা হয়। ২০২৬ সালে সোমবার হওয়ায় নিরামিষ আহার গ্রহণ করাই শ্রেয়।

​মনে রাখবেন, মহা শিবরাত্রি ২০২৬ কবে পড়েছে এবং কত তারিখে কিভাবে পালন করবেন—এই ব্রতের পূর্ণ ফল তখনই পাওয়া যায় যখন আপনি ভক্তিভরে পারণ সম্পন্ন করেন।

উপসংহার: ২০২৬ সালে মহাদেবের আশীর্বাদ লাভ

​পরিশেষে বলা যায়, মহা শিবরাত্রি ২০২৬ কবে পড়েছে এবং কত তারিখে কিভাবে পালন করবেন—এই দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে আমরা চেষ্টা করেছি আপনার সামনে একটি পূর্ণাঙ্গ গাইড তুলে ধরার। ২০২৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি, রবিবার কেবল একটি সাধারণ দিন নয়, এটি হলো আপনার জীবনের নেতিবাচকতা দূর করে ইতিবাচক শক্তি আবাহন করার দিন।

​চার প্রহরের পুজো, মহা মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপ এবং ব্রত কথা শোনার মাধ্যমে আপনি মহাদেবের কৃপাধন্য হতে পারেন। ২০২৬ সালে মহাদেব যেন আপনার সমস্ত মনস্কামনা পূর্ণ করেন এবং আপনার পরিবারকে সুস্থ রাখেন। আপনার মনে যদি এখনও কোনো দ্বিধা থাকে যে মহা শিবরাত্রি ২০২৬ কবে পড়েছে এবং কত তারিখে কিভাবে পালন করবেন, তবে এই প্রতিবেদনটি আপনার সঙ্গীর মতো কাজ করবে।

​ভোলানাথের চরণে আপনার প্রার্থনা পৌঁছে যাক। ওঁ নমঃ শিবায়! হর হর মহাদেব!

Leave a Comment

Created with ❤