রান্নার গ্যাসের দাম (LPG Gas Price) ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই আমজনতা থেকে ব্যবসায়ী—সবার কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে বাড়ল রান্নার গ্যাসের দাম। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মাসের প্রথম দিনেই এই দাম বৃদ্ধির ফলে রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে ক্যাটারিং ব্যবসা, সর্বত্রই খরচের বোঝা বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও গার্হস্থ্য রান্নার গ্যাসের দাম এই দফায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, তবুও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে এই মূল্যবৃদ্ধি পরোক্ষভাবে সাধারণ মানুষের পকেটেই টান দিতে পারে।
রান্নার গ্যাসের দাম: ফেব্রুয়ারি মাসের নতুন তালিকা ও প্রভাব
মাসের প্রথম তারিখেই জ্বালানি তেলের সংস্থাগুলি গ্যাসের নতুন দাম ঘোষণা করে। সেই নিয়ম মেনেই আজ বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডার পিছু দাম প্রায় ৪৯ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে কলকাতা থেকে দিল্লি, সব বড় শহরেই রান্নার গ্যাসের দাম এখন আকাশছোঁয়া। ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, কাঁচামালের দাম বাড়ার সাথে সাথে জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি খাবারের দাম বাড়িয়ে দিতে বাধ্য করবে।
পণ্যমূল্য বৃদ্ধির এই বাজারে রান্নার গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়াটা বড়সড় ধাক্কা। বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের নতুন দাম আজ থেকেই কার্যকর হয়ে গিয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় একটাই, ঘরোয়া কাজে ব্যবহৃত ১৪.২ কেজির সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে নতুন করে কোনো বোঝা চাপানো হয়নি। অর্থাৎ সাধারণ মধ্যবিত্তের রান্নাঘরের বাজেটে সরাসরি কোনো পরিবর্তন এখনই আসছে না।
বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের বর্ধিত মূল্য ও বর্তমান পরিস্থিতি
বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত রান্নার গ্যাসের দাম বাড়লে তার প্রভাব পড়ে খুচরো বাজারে। হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিকদের দাবি, বারবার জ্বালানির দাম বাড়লে তাদের পক্ষে পুরনো দামে খাবার বিক্রি করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। এর আগেও কয়েক দফায় গ্যাসের দাম ওঠানামা করেছে, তবে এবার এক লাফে ৪৯ টাকা বৃদ্ধি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিভিন্ন শহরে বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের দামের চিত্র
| শহরের নাম | সিলিন্ডারের ধরণ | বর্তমান দাম (প্রায়) |
|---|---|---|
| কলকাতা | ১৯ কেজি বাণিজ্যিক | ২,০৫৩.৫০ টাকা |
| দিল্লি | ১৯ কেজি বাণিজ্যিক | ১,৮৫৯.৫০ টাকা |
| মুম্বাই | ১৯ কেজি বাণিজ্যিক | ১,৮১১.৫০ টাকা |
| চেন্নাই | ১৯ কেজি বাণিজ্যিক | ২,০৩০.৫০ টাকা |
কেন বারবার বাড়ছে জ্বালানি গ্যাসের এই দাম?
বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের হেরফের এবং ডলারের তুলনায় টাকার মূল্যের ওঠানামার ওপর ভিত্তি করে ভারতে রান্নার গ্যাসের দাম নির্ধারিত হয়। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলো প্রতি মাসের শুরুতে এই দাম পর্যালোচনা করে। এবারের মূল্যবৃদ্ধির ফলে ১৯ কেজির সিলিন্ডারের ব্যবহারকারীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়লেন। মূলত যারা বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত, তাদের মাসিক খরচের বাজেটে বড়সড় রদবদল করতে হবে।
সাধারণ মানুষের ওপর পরোক্ষ প্রভাব ও ভবিষ্যৎ
রান্নার গ্যাসের দাম সরাসরি না বাড়লেও, যখনই বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম বাড়ে, তখন সাধারণ মানুষের ওপর তার প্রভাব পড়ে ভিন্নভাবে। যেমন:
- বাইরে খাবার খাওয়ার খরচ এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যেতে পারে।
- মিষ্টির দোকান বা টিফিন সেন্টারের খাবারের দাম বাড়তে পারে।
- ক্যাটারিং সার্ভিসের বুকিং রেট বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
রান্নার গ্যাসের দাম সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
সাধারণ বাড়ির রান্নার গ্যাসের দাম কি এবার বেড়েছে?
না, সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির খবর হলো যে ঘরোয়া ব্যবহারের ১৪.২ কেজি সিলিন্ডারের রান্নার গ্যাসের দাম এই দফায় বাড়ানো হয়নি। এটি আগের দামেই বজায় রয়েছে।
কত টাকা বাড়ানো হয়েছে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম?
তথ্য অনুযায়ী, ১৯ কেজির বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের দাম সিলিন্ডার প্রতি প্রায় ৪৯ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের শুরু থেকেই এই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।
গ্যাসের নতুন দাম কি সারা দেশেই কার্যকর হবে?
হ্যাঁ, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি সারা ভারতের জন্যই এই নতুন হার ঘোষণা করেছে। তবে স্থানীয় কর বা ভ্যাট অনুযায়ী শহরভেদে এলপিজি-র চূড়ান্ত দাম সামান্য আলাদা হতে পারে।
মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ব্যবসায়িক মহলের প্রতিক্রিয়া
১. রেস্তোরাঁ মালিকদের সংগঠন জানিয়েছে, জ্বালানি খরচের এই বোঝা শেষ পর্যন্ত ক্রেতাদের ওপরেই পড়বে।
২. পাইকারি বাজারে গ্যাসের দাম বাড়লে ছোট ব্যবসায়ীরা সবথেকে বেশি সমস্যায় পড়েন।
৩. আগামী দিনে ঘরোয়া গ্যাসের দামও বাড়বে কিনা, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রবল উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।
শেষ কথা ও বাজার বিশ্লেষণ
সব মিলিয়ে বলা যায়, রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির এই খবরটি সাধারণ মানুষের জন্য খুব একটা সুখকর নয়। যদিও পারিবারিক বাজেটে সরাসরি এর প্রভাব পড়ছে না, কিন্তু পরোক্ষভাবে জীবনযাত্রার মান ও খরচ দুই-ই বাড়তে চলেছে। তেলের সংস্থাগুলো জানিয়েছে, বিশ্ব বাজারের পরিস্থিতির ওপর নজর রেখেই এই দাম বাড়ানো হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী মাসগুলোতে এই দাম কমার কোনো সম্ভাবনা তৈরি হয় কিনা।




