Laxmi Bhandar West Bengal Budget 2026 : ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করা হয়েছে যেখানে বাংলার মা-বোনদের জন্য খুশির খবর শোনালেন অর্থমন্ত্রী। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের কোটি কোটি মহিলার আর্থিক সমৃদ্ধি ঘটাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার মাসিক ভাতার পরিমাণ এক ধাক্কায় ৫০০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। চলতি মাস থেকেই এই বর্ধিত অর্থ কার্যকর হওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। রাজ্যের এই মানবিক প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলারা এখন থেকে আগের তুলনায় অনেকটা বেশি টাকা হাতে পাবেন, যা গ্রামীণ এবং শহুরে মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় স্বস্তি।
এক নজরে
Laxmi Bhandar West Bengal Budget 2026: মা-বোনদের জন্য বড় উপহার
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগেই রাজ্য সরকার সাধারণ মানুষের মন জিততে বড় ঘোষণা করেছে। অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বিধানসভায় বাজেট পেশ করার সময় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের বরাদ্দ বৃদ্ধির কথা জানান। এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের প্রায় ২ কোটি ৪২ লক্ষ মহিলা সরাসরি উপকৃত হতে চলেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প হিসেবে পরিচিত এই যোজনাটি এখন আরও শক্তিশালী রূপে আত্মপ্রকাশ করল। এবারের বাজেটে এই প্রকল্পের জন্য অতিরিক্ত ১৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের ঘরের মেয়েদের স্বনির্ভর করতে রাজ্য সরকারের এই প্রয়াস সত্যিই প্রশংসনীয়। অনেক দিন ধরেই জল্পনা চলছিল যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মাসিক অনুদান বাড়ানো হতে পারে। বাজেটে সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সরকার জানিয়ে দিয়েছে যে সাধারণ শ্রেণি এবং সংরক্ষিত শ্রেণির সকল মহিলারাই এখন থেকে ৫০০ টাকা করে অতিরিক্ত ভাতা পাবেন। এই ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি রাজ্যের মহিলা মহল।
কত টাকা করে পাবেন মহিলারা?
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের নিয়মে বেশ কিছু বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে যা এই ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই কার্যকর হতে চলেছে। যারা আগে সাধারণ ক্যাটাগরিতে ১০০০ টাকা করে পেতেন, তাদের নতুন মাসিক ভাতার পরিমাণ এখন ১৫০০ টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে, তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলারা যারা ১২০০ টাকা পেতেন, তারা এখন থেকে মাসে ১৭০০ টাকা করে হাতে পাবেন। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে মহিলাদের হাতে নগদ টাকার জোগান বাড়বে, যা বাজারের চাহিদা বৃদ্ধিতেও সাহায্য করবে।
নিচে একটি তালিকার মাধ্যমে বর্ধিত ভাতার বিষয়টি পরিষ্কার করা হলো:
ভাতা বৃদ্ধির তালিকা:
- সাধারণ বিভাগ: ১০০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৫০০ টাকা।
- তফসিলি জাতি (SC): ১২০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৭০০ টাকা।
- তফসিলি উপজাতি (ST): ১২০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৭০০ টাকা।
নতুন আবেদনকারীদের জন্যও সুখবর
রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছেন প্রায় ২.২১ কোটি মহিলা। তবে সাম্প্রতিককালে দুয়ারে সরকার এবং সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী কর্মসূচির মাধ্যমে আরও প্রায় ২০.৬২ লক্ষ নতুন আবেদন জমা পড়েছিল। বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছে যে, এই নতুন আবেদনকারীদের আবেদনপত্র যাচাই করার পর তাদেরও প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। অর্থাৎ এই নতুন ২০ লক্ষাধিক মহিলাও বর্ধিত হারে টাকা পাওয়া শুরু করবেন।
এর ফলে রাজ্যে মোট উপভোক্তার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২.৪২ কোটির কাছাকাছি। প্রশাসনের লক্ষ্য হলো পশ্চিমবঙ্গের কোনো যোগ্য মহিলাই যেন এই সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের বাইরে না থাকেন। বাংলার মায়েদের হাতে সরাসরি টাকা পৌঁছে দেওয়ার এই মডেল এখন সারা দেশে সাড়া জাগিয়েছে।
বাজেট ২০২৬: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
| বিষয়ের নাম | বর্তমান পরিস্থিতি / পরিমাণ |
|---|---|
| প্রকল্পের নাম | লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Laxmi Bhandar) |
| ঘোষণার বছর | ২০২১ (চালু হয় সেপ্টেম্বর মাসে) |
| নতুন মাসিক ভাতা (সাধারণ) | ১৫০০ টাকা |
| নতুন মাসিক ভাতা (SC/ST) | ১৭০০ টাকা |
| অতিরিক্ত বরাদ্দ | ১৫,০০০ কোটি টাকা |
| মোট উপভোক্তা | প্রায় ২.৪২ কোটি |
| কার্যকরের সময় | ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে |
অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার পথে এক বড় পদক্ষেপ
রাজ্য বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জন্য এই যে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে, তার মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রামীণ বাংলার অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা। সাধারণত মহিলারা এই টাকা নিজেদের সঞ্চয় বা ছোটখাটো সাংসারিক প্রয়োজনে খরচ করেন। ৫০০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়া মানে বছরে একজন মহিলা ৬০০০ টাকা অতিরিক্ত পাবেন। এটি প্রান্তিক পরিবারগুলোর কাছে একটি বড় পাওনা। সরকারের মতে, এই টাকা সরাসরি মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যাওয়ায় তারা নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে এই অর্থ বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদদের একাংশ। যদিও বিরোধীরা একে ভোটের রাজনীতি হিসেবে দেখছেন, তবুও সাধারণ মহিলাদের মধ্যে এই ঘোষণাকে ঘিরে উন্মাদনা তুঙ্গে। বিশেষ করে মুদ্রাস্ফীতির এই সময়ে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা অনেক পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবে।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে কিছু সাধারণ প্রশ্ন
১. এই বর্ধিত টাকা কি প্রতি মাসে পাওয়া যাবে?
হ্যাঁ, রাজ্য সরকারের বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী এই ৫০০ টাকা মাসিক ভাতার সাথে চিরস্থায়ীভাবে যুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি মাসেই আপনারা আগের থেকে ৫০০ টাকা বেশি পাবেন।
২. যারা নতুন আবেদন করেছেন তারা কি এই টাকা পাবেন?
অবশ্যই। নতুন যাদের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে বা হবে, তারা প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী বর্ধিত হারেই টাকা পাবেন।
৩. টাকা পাওয়ার জন্য কি নতুন করে ফর্ম জমা দিতে হবে?
না, যারা ইতিমধ্যে প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন তাদের কোনো নতুন ফর্ম পূরণ করার প্রয়োজন নেই। টাকা সরাসরি আগের অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে।
২০২৬ নির্বাচনের আগে বড় মাস্টারস্ট্রোক
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা বৃদ্ধি তৃণমূল সরকারের এক বড় চাল। মহিলা ভোটব্যাঙ্ককে সংহত করতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২১ সালেও এই প্রকল্প তৃণমূলের বিপুল জয়ের পেছনে মূল চালিকাশক্তি ছিল। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের আগেও ভাতা বাড়ানো হয়েছিল, যার সুফল শাসক দল হাতে নাতে পেয়েছিল। এবার ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে আবারও সেই একই পথ বেছে নিল নবান্ন।
তবে শুধুমাত্র লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নয়, বাজেটে সরকারি কর্মীদের ডিএ বৃদ্ধি এবং বেকার যুবকদের জন্য ‘বাংলার যুব সাথী’ প্রকল্পের মতো একাধিক জনমুখী ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। কারণ এই একটি প্রকল্প রাজ্যের সবথেকে বড় অংশের মানুষকে সরাসরি স্পর্শ করে।







