“Rupee falls against dollar”: ক্রমাগত নিম্নমুখী টাকার দাম! পকেটে টান পড়ার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষ বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতিতে ডলারের দাপটে ভারতীয় মুদ্রার অবস্থা ক্রমশ শোচনীয় হয়ে পড়ছে। সম্প্রতি Rupee falls against dollar বা ডলারের বিপরীতে টাকার রেকর্ড পতন বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে সাধারণ মধ্যবিত্ত—সকলের কপালেই চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার ফলে ভারতীয় মুদ্রার এই ঐতিহাসিক অবমূল্যায়ন ঘটছে। যদি এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ার পাশাপাশি দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যেও বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে।
ডলারের তুলনায় কেন এই রেকর্ড পতন? জানুন আসল কারণ
সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে যে, Rupee falls against dollar হওয়ার পেছনে একাধিক অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক কারণ দায়ী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়িয়ে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা এখন ডলারের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। এর ফলে ভারতসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাজার থেকে বিদেশি পুঁজি বেরিয়ে যাচ্ছে। যখনই বাজার থেকে বড় অঙ্কের ডলার তুলে নেওয়া হয়, তখনই স্থানীয় মুদ্রার বিনিময় হার বা এক্সচেঞ্জ রেট ভারসাম্য হারায়। আনন্দবাজারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ধারাবাহিক পতনের ফলে ভারতীয় টাকা এখন তার সর্বকালীন সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে।
আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি ও সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব
ভারতীয় মুদ্রার এই নিম্নমুখী প্রবণতা বা Rupee falls against dollar পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের হেঁশেলে। ভারত তার প্রয়োজনের সিংহভাগ অপরিশোধিত তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে। এখন ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় তেল কিনতে ভারতকে আগের চেয়ে অনেক বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। ফলে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যার চেইন রিঅ্যাকশনে শাকসবজি থেকে শুরু করে প্রতিটি পণ্যের পরিবহন খরচ বেড়ে যাবে। এছাড়া ইলেকট্রনিক্স পণ্য, ল্যাপটপ বা মোবাইলের মতো বিদেশি জিনিসের দামও মধ্যবিত্তের হাতের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।
বিদেশে শিক্ষা ও ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাড়তি খরচ
টাকার দাম কমে যাওয়া বা Rupee falls against dollar হওয়ার ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সেই সমস্ত শিক্ষার্থীরা যারা বিদেশে পড়াশোনা করছেন। বিদেশে পড়াশোনার ফি বা থাকার খরচ যেহেতু ডলারে মেটাতে হয়, তাই টাকার অবমূল্যায়নের ফলে অভিভাবকদের এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। একইভাবে, যারা বিদেশে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের বাজেটও এই মুদ্রাস্ফীতির কারণে এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গিয়েছে।
বাজারের অস্থিরতা ও বিনিয়োগকারীদের দুশ্চিন্তা
শেয়ার বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট। ক্রমাগত Rupee falls against dollar হতে থাকায় বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FII) ভারতীয় বাজার থেকে শেয়ার বিক্রি করে টাকা তুলে নিচ্ছেন। এর ফলে সেনসেক্স এবং নিফটি—উভয় সূচকই চাপের মুখে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা আরবিআই (RBI) দ্রুত কোনো পদক্ষেপ না নেয়, তবে মুদ্রার এই মান আরও তলানিতে ঠেকতে পারে। যদিও মাঝে মাঝে রিজার্ভ ব্যাংক বাজার স্থিতিশীল করতে ডলার বিক্রি করে, তবুও দীর্ঘমেয়াদী সংকটের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
এক নজরে টাকার পতন ও প্রভাবের চিত্র
নিচের টেবিলে টাকার মান হ্রাসের ফলে কোন কোন ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রভাব পড়ছে তা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| প্রাভাবিত ক্ষেত্র | প্রভাবের ধরণ | সম্ভাব্য ফলাফল |
| অপরিশোধিত তেল | আমদানি খরচ বৃদ্ধি | জ্বালানির দাম বৃদ্ধি |
| ইলেকট্রনিক্স পণ্য | উৎপাদন ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি | ল্যাপটপ, মোবাইলের দাম বৃদ্ধি |
| বৈদেশিক শিক্ষা | টিউশন ফি বৃদ্ধি | উচ্চশিক্ষা ব্যয়বহুল হওয়া |
| শেয়ার বাজার | বিদেশি পুঁজি প্রত্যাহার | সূচকের ব্যাপক পতন |
বর্তমান সংকটের সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ
- ডলারের নিরিখে টাকার মান ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে।
- আমদানিকারকদের বেশি টাকা গুনতে হওয়ায় বাড়ছে মুদ্রাস্ফীতির ভয়।
- বিদেশে যাতায়াত ও শিক্ষা কার্যক্রম অনেক বেশি খরচসাপেক্ষ হয়ে উঠছে।
- দেশীয় বাজারে লগ্নিকারীদের আস্থায় চিড় ধরছে।
পরিশেষে বলা যায়, Rupee falls against dollar বা টাকার এই লাগামহীন পতন দেশের অর্থনীতির জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। যদিও রপ্তানিকারকদের জন্য এটি কিছুটা লাভজনক হতে পারে, কিন্তু একটি আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে ভারতের জন্য এই পরিস্থিতি মোটেও সুখকর নয়। আগামী দিনে বিশ্ব বাজারের পরিস্থিতি এবং সরকারের আর্থিক নীতি নির্ধারণ করবে যে, ভারতীয় মুদ্রা আবার কবে তার হারানো শক্তি ফিরে পাবে। তবে আপাতত সাধারণ মানুষকে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির পরিস্থিতির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হচ্ছে।





