সরস্বতী পুজোয় অজান্তেই করছেন কি এই ভুলগুলি? দুর্ভাগ্য পিছু ছাড়বে না সারাজীবন!

সরস্বতী পুজোর দিন কি করা উচিত আর কি করা অনুচিত তা নিয়ে শাস্ত্রে বিশেষ নির্দেশ রয়েছে। সরস্বতী পুজোর নিষিদ্ধ কাজগুলো না মানলে জীবনে দুর্ভাগ্য আসতে পারে। আজকের প্রতিবেদনে জেনে নিন কোন ভুলগুলো এই দিনে এড়িয়ে চলবেন।

Forbidden tasks on Saraswati Puja: সরস্বতী পুজোয় অজান্তেই করছেন কি এই ভুলগুলি? দুর্ভাগ্য পিছু ছাড়বে না সারাজীবন! বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে অন্যতম পবিত্র উৎসব হলো সরস্বতী পুজো। মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে ঘরে ঘরে বাগদেবীর আরাধনা করা হয়। জ্ঞান, শিল্প এবং বিদ্যার দেবীকে সন্তুষ্ট করতে ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে শিল্পীরাও ব্রতী হন। তবে ভক্তি ভরে পুজো দিলেই হলো না, শাস্ত্রমতে সরস্বতী পুজোর দিন বিশেষ কিছু নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। সামান্য কিছু ভুলের কারণে দেবী রুষ্ট হতে পারেন এবং আপনার জীবনে নেমে আসতে পারে ঘোর অমঙ্গল। সরস্বতী পুজোর নিষিদ্ধ কাজগুলো এড়িয়ে না চললে বিদ্যার্জনে যেমন বাধা আসতে পারে, তেমনই সারা বছর দুর্ভাগ্যের সম্মুখীন হতে পারেন আপনি। তাই পুজোর আগে জেনে নিন কোন কাজগুলো এই দিনে করা শাস্ত্র বিরুদ্ধ।

সরস্বতী পুজোর নিষিদ্ধ কাজ যা আপনার ভাগ্য বদলে দিতে পারে

শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, বসন্ত পঞ্চমীর দিনটি অত্যন্ত শুভ এবং পবিত্র। এই দিনে বিদ্যার দেবীর আরাধনা করার সময় আমরা অনেকেই না বুঝে এমন কিছু কাজ করে ফেলি যা অশুভ ফল বয়ে আনে। সরস্বতী পুজোর নিষিদ্ধ কাজ গুলোর মধ্যে প্রথমেই আসে খাদ্যাভ্যাসের বিষয়টি। এই বিশেষ দিনে আমিষ আহার গ্রহণ করা শাস্ত্র মতে ঘোরতর অপরাধ বলে গণ্য হয়। যারা দেবীর আশীর্বাদ পেতে চান, তাদের এই দিনটিতে সম্পূর্ণ নিরামিষ ভোজন করা উচিত। শুধু তাই নয়, পুজো শেষ না হওয়া পর্যন্ত জল স্পর্শ না করার বা উপবাস রাখার বিধানও রয়েছে অনেকের পরিবারে।

এছাড়া বাচনিক সংযম রক্ষা করা এই দিনের অন্যতম প্রধান কাজ। দেবীর আরাধনার দিনে কাউকে কুকথা বলা বা কারোর মনে কষ্ট দেওয়া উচিত নয়। যারা এই দিনে ঝগড়া বা বিবাদ করেন, তাদের ওপর থেকে দেবীর কৃপা সরে যায় বলে মনে করা হয়। সরস্বতী পুজোর নিষিদ্ধ কাজ এর তালিকায় এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ কারণ বাণী বা কথা স্বয়ং সরস্বতীর রূপ। তাই নিজের কণ্ঠ বা বাণীকে কলুষিত করলে দেবীকে অসম্মান করা হয়।

পরিচ্ছন্নতা ও পোশাক নির্বাচনে বিশেষ সতর্কতা

বসন্ত পঞ্চমী মানেই হলদে রঙের ছোঁয়া। শাস্ত্রমতে হলুদ রঙ হলো সমৃদ্ধি এবং জ্ঞানের প্রতীক। এই দিনে কাল রঙের পোশাক এড়িয়ে চলা উচিত। সরস্বতী পুজোর নিষিদ্ধ কাজ হিসেবে কালো কাপড় পরাকে অত্যন্ত অশুভ মানা হয়। কালো রঙ নেতিবাচক শক্তির প্রতীক, যা দেবীর আরাধনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই চেষ্টা করুন বাসন্তী বা হলুদ রঙের পোশাক পরিধান করে অঞ্জলি দিতে।

পাশাপাশি শরীরের পরিচ্ছন্নতার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। শাস্ত্র বলছে, এই তিথিতে স্নান না করে কোনো কিছু স্পর্শ করা বা পুজোর জোগাড় করা উচিত নয়। এমনকি বাড়ির কোনো অংশ বা বিশেষ করে পড়াশোনার জায়গা যেন অপরিষ্কার না থাকে। সরস্বতী পুজোর নিষিদ্ধ কাজ এড়িয়ে চলতে চাইলে বাড়িঘর পরিষ্কার রাখা এবং মনকে শান্ত রাখা জরুরি। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও মনে কুটিলতা থাকলে সেখানে মা সরস্বতী অবস্থান করেন না।

পুজোর দিন এই বিষয়গুলো খেয়াল রাখুন:

কাজের ধরণকী করবেন না (নিষিদ্ধ)কী করা উচিত (শুভ)
আহারআমিষ খাবার বা পেঁয়াজ-রসুন খাওয়াফলমূল এবং সাত্ত্বিক আহার গ্রহণ
পোশাককালো বা গাঢ় অন্ধকার রঙের পোশাকহলুদ, বাসন্তী বা সাদা রঙের পোশাক
আচরণঝগড়া, বিবাদ বা মিথ্যে কথা বলাগুরুজনদের প্রণাম ও শান্ত থাকা
শিক্ষাবইপত্রের অবমাননা করাবই ও বাদ্যযন্ত্র দেবীর চরণে রাখা

বইপত্র ও বিদ্যার সরঞ্জামের অবমাননা এড়িয়ে চলুন

সরস্বতী যেহেতু বিদ্যার দেবী, তাই এই দিনে বইপত্রের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। অনেক শিক্ষার্থীই পড়ার চাপের কারণে পুজোর দিনও বই খুলে বসে পড়েন, যা সরস্বতী পুজোর নিষিদ্ধ কাজ এর অন্তর্ভুক্ত। শাস্ত্রমতে, পুজোর দিন বই-খাতা, কলম বা বাদ্যযন্ত্র দেবীর চরণে সমর্পণ করতে হয়। এই বিশেষ দিনে পড়াশোনা করা বা বই নাড়াচাড়া করা নিষিদ্ধ বলে গণ্য হয়। বিশ্বাস করা হয়, ওই একদিন বই দেবীর পায়ে থাকলে তাতে দেবীর আশীর্বাদ বর্ষিত হয়।

এছাড়া কলম বা পেন্সিল দিয়ে অনর্থক কাগজে হিজিবিজি কাটা বা কাগজ ছিঁড়ে ফেলাও অশুভ। যারা লেখালেখি করেন বা গানবাজনা করেন, তাদের উচিত নিজের সরঞ্জামের যত্ন নেওয়া। সরস্বতী পুজোর নিষিদ্ধ কাজ হিসেবে যেকোনো প্রকার বাদ্যযন্ত্র বা শিক্ষার উপকরণের অবমাননা করলে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হতে পারে মেধায় ও কেরিয়ারে। তাই অন্তত এই একটি দিন নিজের মেধার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বইপত্র থেকে দূরে থাকুন।

গাছপালা ও প্রকৃতির যত্ন নিন

বসন্ত পঞ্চমীর দিনে প্রকৃতির এক বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। এই দিনে বিনা কারণে গাছের পাতা ছেঁড়া বা গাছ কাটা অত্যন্ত অশুভ। সরস্বতী পুজোর নিষিদ্ধ কাজ গুলোর মধ্যে এটিও পড়ে কারণ বসন্তের আগমনে প্রকৃতি যখন সেজে ওঠে, তখন তাকে আঘাত করা মানেই সৃষ্টির অবমাননা। বিশেষ করে কোনো ফুল গাছ থেকে ফুল তোলার সময় সাবধান থাকতে হবে যেন গাছের ক্ষতি না হয়। দেবীর পুজোর জন্য ফুল প্রয়োজন হলে তা যত্ন সহকারে সংগ্রহ করুন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত কিছু প্রশ্ন (FAQ):

১. সরস্বতী পুজোর দিন কি চুল বা নখ কাটা যায়?

শাস্ত্র মতে, যেকোনো শুভ তিথি বা পুজোর দিনে চুল, নখ কাটা অথবা দাড়ি কামানো এড়িয়ে চলাই ভালো। সরস্বতী পুজোর নিষিদ্ধ কাজ হিসেবে এগুলোকে অমঙ্গলের প্রতীক ধরা হয়।

২. এই দিনে হলুদ পোশাক কেন পরা হয়?

হলুদ রঙ হলো বসন্তের এবং জ্ঞানের প্রতীক। মা সরস্বতীর প্রিয় রঙ হলুদ, তাই দেবীকে প্রসন্ন করতে এবং নিজের জীবনে ইতিবাচক শক্তি আনতে এই রঙের পোশাক পরা হয়।

৩. পুজোর দিন আমিষ খেলে কী হয়?

শাস্ত্রমতে পূজার দিন সাত্ত্বিক আহার করা উচিত। সরস্বতী পুজোর নিষিদ্ধ কাজ এর মধ্যে আমিষ আহার অন্যতম বড় ভুল, যা করলে আধ্যাত্মিক একাগ্রতা নষ্ট হয় এবং দেবীর আশীর্বাদ পাওয়া যায় না।

মনকে পবিত্র রাখা ও আধ্যাত্মিক নিয়ম পালন

পরিশেষে মনে রাখা দরকার, শুধু বাহ্যিক নিয়ম মানলেই মা সরস্বতী খুশি হন না। মনের ভেতরের অহংকার ও হিংসা দূর করাই হলো প্রকৃত আরাধনা। সরস্বতী পুজোর নিষিদ্ধ কাজ গুলোর তালিকায় মনের কুটিলতা বা কাউকে ছোট করার মানসিকতা ত্যাগ করা সবচেয়ে বড় বিষয়। এই দিনটিতে ধ্যান, জপ এবং স্তোত্র পাঠের মাধ্যমে নিজের অন্তর্নিহিত জ্ঞানকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করা উচিত।

বিজ্ঞাপন

সরস্বতী পুজোর দিন সকালে উঠে নিম ও হলুদ মাখানো জলে স্নান করার রীতি অনেক পরিবারে আছে। এটি শরীরকে শুদ্ধ করে। মনে রাখবেন, ভক্তিই হলো আসল। তবে শাস্ত্রের এই ছোট ছোট নিয়ম বা সরস্বতী পুজোর নিষিদ্ধ কাজগুলো মেনে চললে আপনার আধ্যাত্মিক পথ আরও মসৃণ হয়। আপনার জীবনে জ্ঞান এবং সাফল্যের আলো ছড়িয়ে পড়ুক, এই কামনাই রইল।

Leave a Comment