বাংলার যুব সাথী প্রকল্প ২০২৬: আবেদন পদ্ধতি ও খুঁটিনাটি Banglar Yuba Sathi Scheme 2026

বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য রাজ্য সরকারের বড় ঘোষণা 'বাংলার যুব সাথী প্রকল্প'। মাসে ১৫০০ টাকা করে ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা, বয়সসীমা ও আবেদন পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এই প্রতিবেদনে। ১ এপ্রিল থেকেই মিলবে সুবিধা।

Banglar Yuba Sathi Scheme 2026 বাংলার যুব সাথী প্রকল্প ২০২৬: ​রাজ্যের বাজেট ঘোষণার পরেই খুশির হাওয়া বেকার যুবক-যুবতীদের মনে। দীর্ঘদিন ধরে চাকরির অপেক্ষায় থাকা রাজ্যের অগণিত ছাত্রছাত্রীদের জন্য এবার সরাসরি মাসোহারা বা ভাতার ব্যবস্থা করল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। ২০২৬ সালের বাজেটে অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য যে ‘বাংলার যুব সাথী প্রকল্প’ ঘোষণা করেছেন, তা নিয়ে এখন তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া থেকে চায়ের দোকান। মাসে ১৫০০ টাকা করে পাওয়ার এই সুবর্ণ সুযোগ কীভাবে পাওয়া যাবে, তা জানতেই এখন সবাই উদগ্রীব।

​বাংলার যুব সাথী প্রকল্প ২০২৬: বেকারদের জন্য নতুন আশার আলো

​রাজ্য সরকার বরাবরই সাধারণ মানুষের জন্য নানাবিধ জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করে থাকে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ব্যাপক সাফল্যের পর এবার সরকারের পাখির চোখ রাজ্যের বেকার যুবসমাজ। ২০২৬ সালের বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, রাজ্যের ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী বেকার যুবক-যুবতীদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য এই বিশেষ স্কিম চালু করা হচ্ছে।

​বাংলার যুব সাথী প্রকল্প ২০২৬-এর মূল উদ্দেশ্য হলো, পড়াশোনা শেষ করে যারা এখনও চাকরির সন্ধান করছেন, তাদের হাতে কিছু হাতখরচ তুলে দেওয়া। যাতে তারা নিজেদের ছোটখাটো প্রয়োজন মেটাতে পারেন বা চাকরির পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপ করতে পারেন। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য প্রার্থীরা মাসে ১৫০০ টাকা করে সরাসরি তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাবেন।

​কারা পাবেন এই সুবিধা? যোগ্যতার মাপকাঠি

​সবাই কিন্তু এই টাকা পাবেন না। রাজ্য সরকারের এই নতুন উদ্যোগ বা স্কিম থেকে সুবিধা পেতে গেলে বেশ কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। বাজেটে এবং পরবর্তী নির্দেশিকায় যা বলা হয়েছে, সেই অনুযায়ী আবেদনকারীর যোগ্যতা নিম্নরূপ হতে হবে:

  • ​আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
  • ​বয়সসীমা হতে হবে ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।
  • ​ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে মাধ্যমিক পাশ বা সমতুল্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
  • ​আবেদনকারীকে বেকার হতে হবে, অর্থাৎ সরকারি বা বেসরকারি কোনো সংস্থায় কর্মরত থাকলে চলবে না।
  • ​যারা রাজ্য সরকারের অন্য কোনো সামাজিক সুরক্ষা যোজনা বা ভাতার সুবিধা পাচ্ছেন, তারা এই স্কিমের আওতায় আসবেন না। তবে ছাত্রছাত্রীদের স্কলারশিপ (যেমন ঐক্যশ্রী, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড ইত্যাদি) থাকলে তারা আবেদন করতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে।

​এক নজরে বাংলার যুব সাথী স্কিম

বিষয়বিবরণ
প্রকল্পের নামবাংলার যুব সাথী (Banglar Yuba Sathi)
সুবিধামাসিক ১৫০০ টাকা
বয়সসীমা২১ – ৪০ বছর
শিক্ষাগত যোগ্যতামাধ্যমিক পাশ
দপ্তরপশ্চিমবঙ্গ সরকার
আবেদনের মাধ্যমক্যাম্প / অনলাইন (ঘোষণা সাপেক্ষ)

কীভাবে আবেদন করবেন? জেনে নিন পদ্ধতি

​অনেকেই ভাবছেন কীভাবে এই টাকা পাওয়া যাবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে, খুব শীঘ্রই রাজ্যজুড়ে বিশেষ ক্যাম্প বা শিবিরের আয়োজন করা হবে। প্রথমে ঠিক ছিল ১৫ আগস্ট থেকে এই প্রকল্প চালু হবে, কিন্তু পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে ১ এপ্রিল থেকেই এই সুবিধা মিলবে। তাই ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই বিভিন্ন এলাকায় ক্যাম্প বসার কথা।

​আবেদন করার জন্য আপনাকে নির্দিষ্ট ফর্ম ফিলাপ করে জমা দিতে হবে। বাংলার যুব সাথী প্রকল্প ২০২৬-এর ফর্ম হয়তো দুয়ারে সরকার ক্যাম্প বা বিডিও অফিসে পাওয়া যাবে। ফর্মের সাথে প্রয়োজনীয় নথিপত্র যুক্ত করে জমা দিলেই আপনার আবেদন গ্রাহ্য হবে। তবে অনলাইনে আবেদনের কোনো পোর্টাল চালু হবে কি না, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।

​সাধারণ মানুষের কিছু প্রশ্ন ও উত্তর (FAQs)

প্রশ্ন: এই টাকা কতদিন পর্যন্ত পাওয়া যাবে?

​উত্তর: নিয়ম অনুযায়ী, একজন বেকার যুবক বা যুবতী সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত এই মাসিক ১৫০০ টাকা ভাতা পাবেন। তবে এর মধ্যে যদি তিনি কোনো চাকরি পেয়ে যান, তাহলে এই ভাতার সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে।

প্রশ্ন: পরিবারের কতজন এই সুবিধা পাবেন?

​উত্তর: সাধারণত এই ধরনের প্রকল্পে পরিবারের একজন বা একাধিক যোগ্য ব্যক্তি আবেদন করতে পারেন কি না, তা বিস্তারিত গাইডলাইনে বলা থাকে। তবে যেহেতু এটি ব্যক্তিগত বেকার ভাতার মতো, তাই পরিবারের একাধিক যোগ্য বেকার থাকলে তারাও আবেদনের চেষ্টা করতে পারেন, যদি না অন্য কোনো নিয়ম বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

বিজ্ঞাপন

প্রশ্ন: আমি কি পড়াশোনা চলাকালীন আবেদন করতে পারব?

​উত্তর: আপনি যদি রেগুলার কোর্সের ছাত্র হন এবং অন্য কোনো সরকারি স্কলারশিপ না পান, তবে আবেদনের সুযোগ থাকতে পারে। তবে মূল শর্ত হলো আপনাকে বেকার হতে হবে এবং ২১ বছর বয়স পূর্ণ হতে হবে।

​আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র

​আপনি যদি এই স্কিমের সুবিধা নিতে চান, তবে আগে থেকেই কিছু দরকারি কাগজ গুছিয়ে রাখুন। ক্যাম্প শুরু হলে বা অনলাইন পোর্টাল খুললে তাড়াহুড়ো করতে হবে না। নিচে দেওয়া হলো প্রয়োজনীয় নথির তালিকা:

  1. ​বয়সের প্রমাণপত্র (জন্ম শংসাপত্র বা মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড)।
  2. ​শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণপত্র (মাধ্যমিকের মার্কশিট বা সার্টিফিকেট)।
  3. ​আধার কার্ড ও ভোটার কার্ড (পরিচয় ও ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে)।
  4. ​নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের পাসবইয়ের প্রথম পাতার জেরক্স (যেখানে IFSC কোড ও অ্যাকাউন্ট নম্বর স্পষ্ট আছে)।
  5. ​পাসপোর্ট সাইজ রঙিন ছবি।
  6. ​কাস্ট সার্টিফিকেট (যদি থাকে)।
  7. ​বেকারত্বের প্রমাণ বা স্ব-ঘোষণা পত্র (যদি চায়)।

​উপসংহার

​পরিশেষে বলা যায়, রাজ্যের বেকার ছেলেমেয়েদের কাছে বাংলার যুব সাথী প্রকল্প ২০২৬ একটি বড় উপহার। মাসে ১৫০০ টাকা হয়তো খুব বড় অঙ্ক নয়, কিন্তু একজন বেকার ছাত্র বা ছাত্রীর কাছে এই টাকাটাই অনেক। চাকরির পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপ থেকে শুরু করে যাতায়াতের খরচ—অনেকটাই সুরাহা হবে এই টাকায়। তবে মনে রাখবেন, সঠিক তথ্য দিয়ে আবেদন করবেন এবং ভুয়ো কোনো তথ্য দেবেন না। খুব শীঘ্রই আপনার এলাকায় ক্যাম্প বসবে, তাই চোখ রাখুন খবরের দিকে এবং এই সুযোগ হাতছাড়া করবেন না। রাজ্য সরকারের এই প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়েছে অনেকেই।

Leave a Comment

Created with ❤