ঘূর্ণিঝড় অর্ণব বাংলার আবহাওয়ায় বড় বদল! আগামী দু’দিন কোথায় ভারী বৃষ্টি, সপ্তাহান্তে কি ফিরবে স্বস্তি?

ঘূর্ণিঝড় অর্ণব কোথায় কোথায় খেলা দেখাবে বাংলার আবহাওয়া কেমন থাকবে দেখুন।

পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় এখনই স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা নেই। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে রাজ্যের একাধিক জেলায় বৃষ্টি, বজ্রপাত এবং ঝোড়ো হাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দু’দিন দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় বৃষ্টির দাপট অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের কিছু জেলাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়ছে। তবে সপ্তাহান্তে আবহাওয়ার পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যেতে পারে। ফলে আগামী কয়েক দিন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের আবহাওয়ার দিকে নজর রাখা জরুরি।

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে বাংলায় বৃষ্টির পরিস্থিতি

বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় অর্ণব অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়ার পর দুর্বল হতে শুরু করেছে। তবে তার প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা এখনও রয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার ২৮ অক্টোবর থেকে শুক্রবার ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যের একাধিক জেলায় বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে।

বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী এবং পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়া বইতে পারে। ফলে বাইরে বেরোনোর আগে স্থানীয় আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার কোথায় কোথায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা?

বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং পশ্চিম বর্ধমানের কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

অন্যদিকে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়া বইলে রাস্তাঘাটে যাতায়াত এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে অসুবিধা হতে পারে। নিচু এলাকায় জল জমার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

শুক্রবারও কি দুর্যোগের আশঙ্কা থাকবে?

শুক্রবার ৩০ অক্টোবরেও আবহাওয়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম। দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বৃষ্টি চলতে পারে। পাশাপাশি পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ার কিছু এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে বৃষ্টির তীব্রতা ধীরে ধীরে কমতে পারে। তবে স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কতা অনুযায়ী, বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে থাকা কিংবা গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। তাই ঝড়বৃষ্টির সময় নিরাপদ স্থানে থাকার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি।

উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া কেমন থাকবে?

দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের আবহাওয়াতেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং সংলগ্ন এলাকায় বৃষ্টির দাপট বাড়তে পারে। শুক্রবার ৩০ অক্টোবর দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার জেলার কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। পাহাড়ি এলাকায় অতিবৃষ্টির কারণে কোথাও কোথাও ধসের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তাই পাহাড়ে যাতায়াতের পরিকল্পনা থাকলে আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি জেনে নেওয়া ভালো।

সপ্তাহান্তে কি আবহাওয়ার উন্নতি হবে?

সপ্তাহান্তের দিকে আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। শনিবার ৩১ অক্টোবর থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রাজ্যের কিছু এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হতে পারে।

রবিবার ১ নভেম্বর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় আবহাওয়া আরও উন্নত হতে পারে বলে বর্তমান পূর্বাভাসে ইঙ্গিত রয়েছে। তবে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টির পরিস্থিতি স্থানীয়ভাবে আলাদা হতে পারে।

অর্থাৎ, টানা বৃষ্টির পর সপ্তাহান্তে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে। তবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পরিবর্তিত হতে পারে বলে পরবর্তী আপডেটের দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।

মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কতা

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গ উপকূল এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের সমুদ্র উত্তাল থাকার আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের কাছে দমকা হাওয়া এবং প্রতিকূল সামুদ্রিক পরিস্থিতির বিষয়ে সতর্ক করেছে।

এই পরিস্থিতিতে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যাঁরা উপকূলবর্তী এলাকায় থাকেন, তাঁদেরও প্রশাসন এবং আবহাওয়া দপ্তরের নির্দেশ মেনে চলা উচিত।

সাধারণ মানুষের কী কী সতর্কতা নেওয়া উচিত?

ঝড়বৃষ্টি চলাকালীন অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে বেরোনো এড়িয়ে চলুন। বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, জলাশয়, বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং বড় গাছ থেকে দূরে থাকুন। নিচু এলাকায় জল জমলে সতর্কভাবে চলাফেরা করুন। পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টি হলে প্রশাসনের নির্দেশ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ পথে যাতায়াত করবেন না।

বিশেষ করে কৃষক, মৎস্যজীবী এবং প্রতিদিন যাঁদের কাজে বাইরে বেরোতে হয়, তাঁদের আবহাওয়ার পূর্বাভাস সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি।

শেষ কথা

ঘূর্ণিঝড় অর্ণব দুর্বল হয়ে পড়লেও তার প্রভাবে বাংলার আবহাওয়ায় অস্থিরতা এখনও বজায় রয়েছে। আগামী ২৯ ও ৩০ অক্টোবর দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের কিছু জেলাতেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। তবে শনিবার থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। তাই বৃষ্টির হাত থেকে স্বস্তি মিলবে কি না, তা জানতে আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়ার আপডেটের দিকে নজর রাখা জরুরি।

Leave a Comment

Created with ❤
❮ ❯