নিজস্ব প্রতিবেদন,Bengal Job Study.in : “অন্নপূর্ণা যোজনা” নিয়ে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এক বিরাট আপডেট সামনে এসেছে। বুধবার নবান্নে আয়োজিত একটি সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই নতুন স্কিমের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। রাজ্যের মহিলাদের আর্থিকভাবে সাবলম্বী করে তুলতেই মূলত এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। কারা এই আর্থিক সাহায্য পাবেন এবং কাদের নাম বাদ যাবে, সেই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করেছে সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বড় ঘোষণা, অন্নপূর্ণা যোজনা কারা পাবেন আর কারাই বা বাদ পড়বেন?
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, রাজ্যের আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মহিলাদের জন্যই এই সরকারি সুবিধা চালু করা হচ্ছে। তবে আগের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের মতো এতে কোনো বেনোজল বা ভুয়ো উপভোক্তা যাতে না থাকে, সেই দিকটায় কড়া নজর রাখছে প্রশাসন। শুধুমাত্র প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকরাই এই প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। যারা আগে থেকেই সরকারি চাকরি করেন বা নিয়মিত আয়কর প্রদান করেন, তারা এই নতুন প্রকল্প থেকে কোনোভাবেই টাকা পাবেন না।
কবে থেকে শুরু হচ্ছে ফর্ম ফিলাপ এবং কোথায় পাবেন এই অন্নপূর্ণা যোজনা এর আবেদন পত্র?
রাজ্যবাসীর সুবিধার্থে অন্নপূর্ণা যোজনা -এর ফর্ম ইতিমধ্যেই সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী বারবার আশ্বস্ত করেছেন যে, ফর্ম পূরণের জন্য কোনো তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই। আগামী ১লা জুন থেকে শুরু করে টানা ৯০ দিন ধরে চলবে এই আবেদন প্রক্রিয়া।
যারা অনলাইনে ফর্ম পূরণ করতে পারবেন না, তাদের চিন্তার কোনো কারণ নেই। সরকারি আধিকারিকরা সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহিলাদের ফর্ম পূরণে সাহায্য করবেন। এমনকি আগামী ১৫, ১৬ এবং ১৭ তারিখে রাজ্যজুড়ে বিশেষ জনকল্যাণ শিবির আয়োজন করা হবে, যেখান থেকে অনায়াসে এই মহিলাদের জন্য ভাতা -র ফর্ম সংগ্রহ এবং জমা করা যাবে। নবনির্বাচিত বিধায়কেরাও এই বিশাল কর্মযজ্ঞে সাধারণ মানুষকে সহায়তা করবেন।
ফর্ম পূরণের ক্ষেত্রে কি কি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লাগবে?
এই সরকারি প্রকল্পের ফর্মে বেশ কিছু বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। মূলত, রাজ্যবাসীর পরিবারের সম্পূর্ণ ডেটাবেস তৈরি করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। এই সংগৃহীত তথ্য ভবিষ্যতে অন্যান্য সরকারি ক্ষেত্রেও কাজে লাগানো হবে। তাই ফর্মটি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পূরণ করা বাঞ্ছনীয়।
লক্ষ্মীর ভান্ডার কি তবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে? জেনে নিন নতুন নিয়মে কী বলা হয়েছে
অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছে যে, অন্নপূর্ণা যোজনা চালু হলে পুরনো প্রকল্পের কী হবে? এই বিষয়ে জানানো হয়েছে যে, যতদিন না পর্যন্ত নতুন প্রকল্পের টাকা ঢোকা শুরু হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত লক্ষ্মীর ভান্ডার চালু থাকবে। তবে একবার নতুন স্কিমে নাম নথিভুক্ত হয়ে গেলে পুরনো ভাতাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। যারা ২রা জুনের মধ্যে সফলভাবে আবেদন করবেন, তারা জুন মাস থেকেই এই আর্থিক অনুদান পেতে শুরু করবেন।
রাজ্যের মহিলা ও শিশুকল্যাণ দফতরের সরাসরি তত্ত্বাবধানে অন্নপূর্ণা যোজনা পরিচালিত হবে। মুখ্যসচিব এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার তদারকি করবেন। তাই স্বচ্ছতার সাথে প্রকৃত প্রাপকদের কাছেই টাকা পৌঁছবে বলে আশাবাদী সরকার।
কারা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন? (এক নজরে)
যে সমস্ত মহিলারা এই সুবিধা পাবেন না, তাদের একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
- যে সকল নাগরিক নিয়মিত আয়কর প্রদান করেন।
- যারা সরকারি চাকরিতে কর্মরত আছেন বা বেতন পান।
- যারা প্রতি মাসে সরকার থেকে নির্দিষ্ট পেনশন পেয়ে থাকেন।
- যারা ভারতের প্রকৃত নাগরিক নন।
- আর্থিকভাবে স্বচ্ছল পরিবারের মহিলারা এই সুবিধা থেকে বাইরে থাকবেন।
সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও তথ্যের তালিকা
নতুন এই উদ্যোগের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তারিখ মনে রাখা অত্যন্ত জরুরি। নিচে একটি টেবিলের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ দিনক্ষণগুলো তুলে ধরা হলো যাতে সাধারণ মানুষের বুঝতে সুবিধা হয়। অন্নপূর্ণা যোজনা -এর ক্ষেত্রে এই তারিখগুলো আপনাদের ভীষণ কাজে লাগবে।
| গুরুত্বপূর্ণ বিষয় | তারিখ ও বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| আবেদন শুরুর তারিখ | ১লা জুন |
| আবেদন প্রক্রিয়া চলবে | আগামী ৯০ দিন পর্যন্ত |
| বিশেষ জনকল্যাণ শিবির | ১৫, ১৬ এবং ১৭ তারিখ |
| প্রথম দফার টাকা পাওয়ার শর্ত | ২রা জুনের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে |
| আবেদন পদ্ধতি | অনলাইন এবং অফলাইন উভয় মাধ্যমেই |
সুতরাং, যারা অন্নপূর্ণা যোজনা -র জন্য অপেক্ষা করছিলেন, তাদের জন্য এটি একটি দারুণ সুখবর। রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগে বহু মহিলা উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ফর্ম ফিলাপের সময় প্রয়োজনীয় নথিপত্র সাথে রাখতে ভুলবেন না এবং কোনো রকম গুজবে কান দেবেন না।










