বাংলার বাড়ির টাকা ফেরত: সততার অনন্য নজির নন্দীগ্রামে

নন্দীগ্রামের যুবক সুব্রত মণ্ডল গড়লেন এক বিরল ইতিহাস। সরকারি চাকরি পাওয়ার পর স্বেচ্ছায় ফিরিয়ে দিলেন আবাস যোজনার ৬০ হাজার টাকা। জানুন এই সততার পেছনের আসল কাহিনী ও বিস্তারিত তথ্য।

Banglar Bari Money Refund: আবাস যোজনার টাকা বা বাংলার বাড়ির টাকা ফেরত দিলেন নন্দীগ্রামের যুবক। সততার এক অনন্য নজির। চারদিকে যখন আবাস যোজনার ঘর পাওয়া নিয়ে হাজারও অভিযোগ, স্বজনপোষণ আর ‘কাটমানি’ নেওয়ার গুঞ্জনে বাতাস ভারী, ঠিক তখনই নন্দীগ্রামের মাটি থেকে উঠে এল এক সততার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সরকারি খাতায় নাম থাকা সত্ত্বেও, নিজের নৈতিকতা আর বিবেকের তাড়নায় বাংলার বাড়ির টাকা ফেরত দিয়ে এক বিরল নজির গড়লেন পূর্ব মেদিনীপুরের এক যুবক। তাঁর এই মহানুভবতা দেখে হতবাক খোদ প্রশাসনিক কর্তারাও। অভাবের দিনে যে স্বপ্নের ঘর বাঁধার জন্য আবেদন করেছিলেন, আজ সুদিন ফিরতেই সেই সরকারি অনুদান ফিরিয়ে দিয়ে তিনি প্রমাণ করলেন—সততা আজও বেঁচে আছে।

নন্দীগ্রামের যুবকের সততার এক অনন্য কাহিনী

পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম, রাজনীতির অলিগলি আর খবরের শিরোনামে থাকা এক পরিচিত নাম। কিন্তু এবার সেই নন্দীগ্রাম খবরের শিরোনামে এল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক কারণে। নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের বিরুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব ঘোলপুকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুব্রত মণ্ডল। একসময় মাটির ভাঙা ঘরে বাবা-মা, স্ত্রী আর সন্তানকে নিয়ে ছিল তাঁর সংসার। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো অবস্থা। সেই সময় মাথার উপর একটা পাকা ছাদ পাওয়ার আশায় তিনি আবেদন করেছিলেন সরকারি আবাস যোজনা বা বাংলার বাড়ি প্রকল্পে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর সরকারি নিয়মে চার-চারবার সার্ভে হওয়ার পর অবশেষে তাঁর নাম ওঠে প্রাপকদের তালিকায়। সম্প্রতি তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকেছিল প্রকল্পের প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা। কিন্তু ভাগ্যের চাকা ইতিমধ্যে ঘুরে গিয়েছে। কঠোর পরিশ্রম আর অধ্যাবসায়ের জোরে সুব্রত আজ ভারতীয় রেলের ‘গ্রুপ-ডি’ পদের একজন স্থায়ী কর্মী। সরকারি চাকরি পাওয়ার পর তাঁর সংসারে অভাব আর নেই। তাই নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করে তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, এই সরকারি টাকা তাঁর আর প্রয়োজন নেই। বরং এই টাকা এমন কারোর কাজে লাগুক, যার সত্যিই মাথার উপর ছাদ নেই।

বাংলার বাড়ির টাকা ফেরত: কেন এমন সিদ্ধান্ত?

সাধারণত দেখা যায়, সরকারি অনুদান পাওয়ার জন্য মানুষ মরিয়া হয়ে ওঠে। সেখানে হাতের মুঠোয় আসা ৬০ হাজার টাকা এবং পরবর্তী কিস্তির আরও টাকা ফিরিয়ে দেওয়া কি মুখের কথা? সুব্রতের এই সিদ্ধান্তের পিছনে কাজ করেছে এক গভীর সমাজচেতনা। তিনি মনে করেছেন, তিনি এখন সরকারি বেতন পান, যা দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে নিজের পরিবারের ভরণপোষণ ও বাড়ি তৈরি করতে পারবেন।

রেলের চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর তাঁর অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব এসেছে। সুব্রত বাবু জানিয়েছেন, “আমি এখন যা বেতন পাই, তা দিয়ে আগামী দিনে নিজের বাড়ি তৈরি করে নিতে পারব। কিন্তু সমাজে এখনও এমন অনেক মানুষ আছেন, যাদের এই টাকাটা আমার থেকেও বেশি প্রয়োজন। আমি যদি এই টাকাটা নিই, তবে হয়তো কোনও এক গরিব মানুষ তাঁর ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন। তাই আমি চাই, আমার বরাদ্দ টাকাটা ফেরত যাক এবং সরকার সেটা অন্য কোনও যোগ্য উপভোক্তাকে দিক।” এই ভাবনা থেকেই তিনি বাংলার বাড়ির টাকা ফেরত দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।

কীভাবে ফেরত দিলেন সরকারি অনুদান?

সুব্রত মণ্ডলের এই ইচ্ছা বাস্তবে রূপ দিতে এগিয়ে আসেন তাঁর বাবা সুশীল মণ্ডল। ছেলের কথা মতো তিনি সটান হাজির হন নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের বিডিও (BDO) অফিসে। সেখানে বিডিও শুভদীপ চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করে তিনি পুরো বিষয়টি জানান এবং ছেলের অ্যাকাউন্টে ঢোকা ৬০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

প্রথমে আধিকারিকরা কিছুটা অবাক হলেও, পরে পুরো বিষয়টি জেনে তাঁরা মুগ্ধ হন। বিডিও শুভদীপ চৌধুরী জানান, প্রশাসনিক জীবনে এমন ঘটনা খুব একটা দেখা যায় না। যেখানে মানুষ ভুয়ো তথ্য দিয়েও সুবিধা নিতে চায়, সেখানে নিজে থেকে এসে টাকা ফেরত দেওয়ার ঘটনা সত্যিই বিরল। প্রশাসনের তরফে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং সরকারি নিয়ম মেনে ট্রেজারিতে বা সরকারি কোষাগারে সেই টাকা জমা করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। পাশাপাশি, সুব্রতের নামে বরাদ্দ আবাস আইডি-টিও পাকাপাকিভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়, যাতে ভবিষ্যতে ওই আইডিতে আর কোনও টাকা না ঢোকে।

সততার পুরস্কার ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

সুব্রত মণ্ডলের এই কাজকে কুর্নিশ জানিয়েছে গোটা নন্দীগ্রাম। স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, সকলেই ধন্য ধন্য করছেন। বিডিও সাহেব নিজে সুব্রতের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, “সুব্রত মণ্ডলের এই কাজ আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। তিনি সমাজের কাছে এক বার্তা পৌঁছে দিলেন। আমরা ওনার এই সততাকে সম্মান জানাই।”

এই ঘটনার পর এলাকায় সুব্রতের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। তিনি প্রমাণ করেছেন, সরকারি চাকরি শুধু অর্থের সংস্থান নয়, বরং দায়িত্ববোধও শেখায়। বাংলার বাড়ির টাকা ফেরত দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, যোগ্য না হলে সরকারি সুবিধা নেওয়াটাও এক ধরণের অন্যায়। তাঁর এই পদক্ষেপ আগামী দিনে আরও অনেক মানুষকে সততার পথে চলতে অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা।

বাংলার বাড়ি প্রকল্প: এক নজরে কিছু তথ্য

সুব্রত যে প্রকল্পের টাকা ফেরত দিলেন, সেই বাংলার বাড়ি বা আবাস যোজনা সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই স্বচ্ছ ধারণা থাকা প্রয়োজন। এটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প, যার উদ্দেশ্য হলো গ্রাম ও শহরের দরিদ্র মানুষদের জন্য পাকা বাড়ি তৈরি করে দেওয়া।

বিজ্ঞাপন

নিচে একটি টেবিলের মাধ্যমে এই প্রকল্পের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হলো:

বিষয়বিবরণ
প্রকল্পের নামবাংলার বাড়ি (Banglar Bari) / আবাস যোজনা
উদ্দেশ্যগৃহহীন ও কাঁচা বাড়িতে বসবাসকারীদের পাকা বাড়ি প্রদান
মোট অনুদান১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা
কিস্তি সংখ্যাসাধারণত ৩টি কিস্তিতে টাকা দেওয়া হয়
প্রথম কিস্তি৬০ হাজার টাকা (জানলা পর্যন্ত কাজ করার জন্য)
যোগ্যতাকাঁচা বাড়ি থাকা বাধ্যতামূলক, কোনও পাকা ঘর থাকা চলবে না
স্বচ্ছতাজিও-ট্যাগিং এবং একাধিকবার সার্ভে করার পর তালিকা চূড়ান্ত হয়

এই প্রকল্পের টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়, যাতে মাঝপথে কেউ টাকা আত্মসাৎ করতে না পারে। তবুও মাঝে মাঝে নানা দুর্নীতির খবর শোনা যায়। তার মাঝেই সুব্রতের এই ঘটনা এক ঝলক টাটকা বাতাস।

এই ঘটনা থেকে আমাদের কী শেখা উচিত?

১. সততা: অভাব মিটে গেলে লোভ সংবরণ করা।

২. নাগরিক দায়িত্ব: সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করা এবং সঠিক বন্টনে সাহায্য করা।

৩. সহমর্মিতা: নিজের পাওনা ছেড়ে অন্যের প্রয়োজনে এগিয়ে আসা।

আবাস যোজনায় দুর্নীতির অভিযোগ বনাম সুব্রতের সততা

সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আবাস যোজনা নিয়ে নানাবিধ অভিযোগ সামনে এসেছে। কোথাও দোতলা বাড়ি থাকা সত্ত্বেও তালিকায় নাম, আবার কোথাও প্রকৃত গরিব মানুষ তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। ‘কাটমানি’ সংস্কৃতি নিয়েও কম জলঘোলা হয়নি। বিরোধীরা বারবার আঙুল তুলেছেন শাসকদলের দিকে। অভিযোগ উঠেছে, টাকা পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে স্থানীয় নেতারা দাবি করছেন কমিশন।

মালদা থেকে শুরু করে মুর্শিদাবাদ, বিভিন্ন জেলায় যখন স্বজনপোষণ আর দুর্নীতির অভিযোগে সরগরম পরিস্থিতি, ঠিক তখনই নন্দীগ্রামের সুব্রত সম্পূর্ণ উল্টো স্রোতে গা ভাসালেন। তিনি চাইলেই টাকাটা রেখে দিতে পারতেন। কেউ হয়তো টেরও পেত না। কিন্তু তিনি তা করেননি। তিনি বাংলার বাড়ির টাকা ফেরত দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন, সবাই অসৎ হয় না। কেউ কেউ আজও নিজের মেরুদণ্ড সোজা রেখে বাঁচতে জানে। এই ঘটনাটি প্রশাসনের কাছেও এক স্বস্তির বার্তা। এটি প্রমাণ করে যে, সঠিক সার্ভে এবং সচেতনতা থাকলে যোগ্য মানুষদের বাদে অযোগ্যরা নিজেরাই সরে দাঁড়াতে পারেন।

কিছু সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)

নিচে এই ঘটনা ও প্রকল্প সম্পর্কিত কিছু সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো:

যদি কেউ ভুল করে টাকা পায়, তবে কি তা ফেরত দেওয়া যায়?

হ্যাঁ, অবশ্যই। যদি কোনও ব্যক্তি মনে করেন তিনি এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য নন অথবা ভুলবশত তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে, তবে তিনি স্থানীয় বিডিও অফিসে যোগাযোগ করে সেই টাকা ফেরত দিতে পারেন। সুব্রত মণ্ডলের ঘটনাটি এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। প্রশাসন ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সেই টাকা জমা নেওয়ার ব্যবস্থা করে।

সরকারি চাকরি পেলে কি আবাস যোজনার সুবিধা পাওয়া যায় না?

না, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, পরিবারের কেউ যদি সরকারি চাকরিতে কর্মরত থাকেন, তবে সেই পরিবার আবাস যোজনার সুবিধা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হয় না। সুব্রত যখন আবেদন করেছিলেন তখন তিনি বেকার ছিলেন, কিন্তু টাকা পাওয়ার সময় তিনি সরকারি কর্মী। তাই নিয়ম ও নৈতিকতা—উভয় দিক থেকেই তিনি আর এই প্রকল্পের যোগ্য নন।

টাকা ফেরত না দিলে কী হতে পারত?

যদি সুব্রত টাকা ফেরত না দিতেন এবং পরবর্তীকালে অডিট বা তদন্তে ধরা পড়ত যে তিনি সরকারি কর্মী হয়েও আবাস যোজনার টাকা নিয়েছেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারত। এমনকি তাঁর চাকরি নিয়ে টানাটানি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এছাড়া, মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অপরাধে জরিমানা হওয়ারও বিধান রয়েছে।

বর্তমান সমাজ ও যুবসমাজের ভূমিকা

আজকের দিনে যখন যুবসমাজের একাংশ শর্টকাটে বড়লোক হওয়ার স্বপ্নে বিভোর, তখন সুব্রতের মতো যুবকরাই আশার আলো। তিনি দেখালেন যে, নিজের পরিশ্রমে অর্জিত অর্থের স্বাদই আলাদা। সরকারি ভাতার দিকে তাকিয়ে না থেকে নিজের যোগ্যতায় প্রতিষ্ঠিত হওয়াটাই আসল সার্থকতা।

সুব্রত শুধু টাকা ফেরত দেননি, তিনি ফেরত দিয়েছেন বিশ্বাস। তিনি বার্তা দিয়েছেন যে, সরকারি কোষাগারের টাকা জনগণের টাকা। সেই টাকার অপচয় করা বা অনধিকার চর্চা করা এক ধরণের অপরাধ। তাঁর এই কাজে অনুপ্রাণিত হয়ে যদি আরও পাঁচজন অযোগ্য ব্যক্তি নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেন, তবেই তাঁর এই ত্যাগের প্রকৃত সার্থকতা আসবে।

আপনিও কি অযোগ্য হয়ে সুবিধা নিচ্ছেন?

সুব্রতের ঘটনা আমাদের আয়নার সামনে দাঁড় করায়। আমাদের আশেপাশে এমন অনেক উদাহরণ আছে, যেখানে সচ্ছল পরিবারের মানুষও বিপিএল কার্ড বা রেশন বা আবাস যোজনার সুবিধা নিচ্ছেন। এটা কি ঠিক? সুব্রতের মতো আমাদেরও কি উচিত নয় এগিয়ে এসে নিজেদের নাম কাটিয়ে নেওয়া?

বাংলার বাড়ির টাকা ফেরত দেওয়ার এই ঘটনা আমাদের ভাবতে শেখায়। নিচে এমন কিছু ক্ষেত্রের তালিকা দেওয়া হলো যেখানে আমাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন:

  • রেশন ব্যবস্থা: প্রয়োজন না থাকলে ভর্তুকির রেশন ত্যাগ করা।
  • স্বাস্থ্য সাথী: সামর্থ্য থাকলে সরকারি হাসপাতালের বেড গরিবদের জন্য ছেড়ে দেওয়া।
  • ভাতা: বার্ধক্য বা বিধবা ভাতা পাওয়ার যোগ্য না হলে তা না নেওয়া।

উপসংহার: আগামীর দিশারী

পরিশেষে বলা যায়, নন্দীগ্রামের সুব্রত মণ্ডল আজ শুধু একটি নাম নয়, একটি আদর্শ। তাঁর এই বাংলার বাড়ির টাকা ফেরত দেওয়ার ঘটনা ইতিহাসের পাতায় ছোট ঘটনা হিসেবে লেখা থাকলেও, এর তাৎপর্য বিশাল। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, সততা কোনও জৌলুশপূর্ণ বিষয় নয়, এটি মনের অন্দরের এক শক্তি।

তাঁর এই সিদ্ধান্তে হয়তো তাঁর ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স বাড়েনি, কিন্তু বেড়েছে আত্মসম্মান। আর আত্মসম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার আনন্দই আলাদা। আমরা আশা করব, প্রশাসন সুব্রতের এই কাজকে যথাযথ সম্মান জানাবে এবং তাঁকে দেখে সমাজের আরও অনেকে সততার পথে এগিয়ে আসবে। বাংলার ঘরে ঘরে সুব্রতের মতো এমন সৎ ও বিবেকবান মানুষ তৈরি হোক, তবেই গড়ে উঠবে আমাদের স্বপ্নের সোনার বাংলা।

Leave a Comment

Created with ❤