​উচ্চমাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে বিভ্রাট: বাতিল হলো হাজার হাজার কার্ড

২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ঠিক আগেই হাজার হাজার পরীক্ষার্থীর অ্যাডমিট কার্ড বাতিল করল সংসদ। নথিপত্রের গরমিল ও প্রযুক্তিগত সমস্যার জেরে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কীভাবে মিলবে সমাধান? বিস্তারিত পড়ুন প্রতিবেদনে।

উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই এক বিশাল বিপত্তি দেখা দিয়েছে রাজ্যের হাজার হাজার পরীক্ষার্থীর জীবনে। অ্যাডমিট কার্ড সংক্রান্ত এক মারাত্মক সমস্যার কারণে বহু ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে। সংসদ সূত্রে খবর পাওয়া গেছে যে, নথিপত্রের গরমিল এবং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় এক হাজারের বেশি পরীক্ষার্থীর অ্যাডমিট কার্ড বাতিল করা হয়েছে। এই ঘটনাটি চাউর হতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পড়ুয়া এবং অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। বছরের পর বছর পরিশ্রম করার পর পরীক্ষার ঠিক দোরগোড়ায় এসে এমন দুঃসংবাদ পাওয়া শিক্ষক সমাজকেও রীতিমতো স্তম্ভিত করে দিয়েছে।

​Higher Secondary Admit Card Cancellation News:

​পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রতি বছরের মতো এবারও কড়া নজরদারিতে অ্যাডমিট কার্ড বিলি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। কিন্তু পরীক্ষার আগে যখন শেষ মুহূর্তের যাচাইকরণ প্রক্রিয়া চলছিল, তখনই উঠে আসে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। দেখা যায়, অনেক পরীক্ষার্থীর প্রদান করা নথির সাথে মূল তথ্যের কোনো মিল নেই। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে যে, একই রোল নাম্বারের অধীনে একাধিক আবেদন জমা পড়েছে। এই ধরণের অসঙ্গতি ধরা পড়ার সাথে সাথেই সংসদ কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় এবং তৎক্ষণাৎ ওই বিতর্কিত কার্ডগুলো বাতিলের নির্দেশ দেয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে হাজার হাজার পরীক্ষার্থীর মনে এখন আশঙ্কার কালো মেঘ জমেছে।

উচ্চমাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড বাতিল নিয়ে রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য

​প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর কাছে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা জীবনের অন্যতম বড় মাইলফলক। কিন্তু এবারের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার শুরুর লগ্নেই যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা আগে কখনও দেখা যায়নি। শিক্ষা সংসদের তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া এই হাজার হাজার অ্যাডমিট কার্ডের পেছনে প্রধানত কয়েকটি কারিগরি কারণ রয়েছে। অনেক পড়ুয়া যখন তাদের কার্ড হাতে পায়, তারা লক্ষ্য করে সেখানে ছবি বা নামের বানানে ভুল রয়েছে। আবার কারোর ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে যে বিষয়গুলো তারা বেছে নিয়েছিল, তার সাথে অ্যাডমিট কার্ডের বিষয়ের কোনো মিল নেই। এই ধরণের বিশৃঙ্খলা সামাল দিতে গিয়েই অনেক কার্ড বাতিল করার পথে হেঁটেছে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ।

সংসদের পক্ষ থেকে জানানো কারণ এবং প্রযুক্তিগত বিভ্রাট

​উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ জানিয়েছে যে, এবার থেকে পরীক্ষার সমস্ত প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ করতে ডিজিটাল পদ্ধতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ডিজিটাল সিস্টেমের কোনো যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে কিছু তথ্য সঠিক সময়ে আপলোড হয়নি। এর ফলেই হাজার হাজার অ্যাডমিট কার্ড বাতিল হওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। সংসদের আধিকারিকদের মতে, অনেক ছাত্রছাত্রী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের ফর্ম ফিলাপ সম্পন্ন করতে পারেনি বা ভুল তথ্য ইনপুট করেছে। এই অসঙ্গতিগুলো সংশোধন না করে অ্যাডমিট কার্ড ইস্যু করা হলে পরবর্তীতে রেজাল্ট তৈরির সময় আরও বড় সমস্যা হতে পারত। তাই নিয়ম মেনেই এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ক্ষোভ এবং সংসদ চত্বরে বিক্ষোভ

​এই খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই শয়ে শয়ে অভিভাবক এবং পড়ুয়ারা উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের আঞ্চলিক অফিসগুলোর সামনে ভিড় করতে শুরু করেন। হাজার হাজার অ্যাডমিট কার্ড বাতিল হওয়ার বিষয়টি মানতে পারছেন না অনেকেই। অভিভাবকদের অভিযোগ, স্কুলের পক্ষ থেকে সব তথ্য ঠিকঠাক জমা দেওয়া সত্ত্বেও কেন শেষ মুহূর্তে পড়ুয়াদের হেনস্থা করা হচ্ছে? অনেক পরীক্ষার্থী কান্নায় ভেঙে পড়েছে এই ভেবে যে, তাদের একটা বছর কি নষ্ট হয়ে যাবে? সংসদ চত্বরে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ মোতায়েন করার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে কিছু জায়গায়। শিক্ষাবিদদের মতে, এই ধরণের প্রশাসনিক ভুল বা যান্ত্রিক ত্রুটির দায় কোনোভাবেই পড়ুয়াদের ওপর চাপানো উচিত নয়।

সংশোধনের সুযোগ এবং শিক্ষা সংসদের বর্তমান ভূমিকা

বিজ্ঞাপন

​উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ অবশ্য এই সমস্যার সমাধান করতে হাত গুটিয়ে বসে নেই। পর্ষদ সভাপতি আশ্বাস দিয়েছেন যে, যাদের অ্যাডমিট কার্ডে সামান্য ভুল রয়েছে বা যান্ত্রিক কারণে বাতিল হয়েছে, তাদের দ্রুত সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার আগের দিন পর্যন্ত সংসদ এই বিষয়ে বিশেষ ক্যাম্প করার পরিকল্পনা করছে। সংসদ জানিয়েছে, কোনো যোগ্য ছাত্রছাত্রী যাতে পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেই বিষয়ে তারা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। তবে যাদের নথিপত্রে জালিয়াতি বা বড় কোনো গরমিল পাওয়া গেছে, তাদের ক্ষেত্রে সংসদ কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে।

স্কুল কর্তৃপক্ষের সতর্কতা এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

​এই ঘটনার পর রাজ্যের প্রতিটি স্কুল কর্তৃপক্ষকে আরও সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এমন হাজার হাজার অ্যাডমিট কার্ড বাতিল হওয়ার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তার জন্য আগে থেকেই তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। স্কুলগুলোকে বলা হয়েছে, প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর রেজিস্ট্রেশন ডাটা যেন বারবার মিলিয়ে দেখা হয়। সংসদের পোর্টালে তথ্য আপলোড করার সময় কোনোভাবেই যেন গাফিলতি না করা হয়, সেই বার্তাও দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল যুগে সব কিছু সহজ হওয়ার কথা থাকলেও, এই ধরণের বিভ্রাট চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে এখনও সিস্টেমে অনেক ফাঁকফোকর রয়ে গিয়েছে।

উচ্চমাধ্যমিকের এই অ্যাডমিট কার্ড সমস্যা নিয়ে কিছু জরুরি প্রশ্ন

​আমার অ্যাডমিট কার্ড বাতিল হলে আমি কি এই বছর পরীক্ষা দিতে পারব?

​যদি আপনার অ্যাডমিট কার্ড বাতিল হয়, তবে অবিলম্বে আপনার স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করুন। সংসদ যদি আপনার নথিপত্র সঠিক মনে করে তবেই আপনি সংশোধিত কার্ড পেয়ে পরীক্ষায় বসতে পারবেন। সংসদের বিশেষ ক্যাম্পে গিয়েও আপনি এই সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করতে পারেন।

​বাতিল হওয়ার প্রধান কারণগুলো আসলে কী কী?

​প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ভুল ছবি আপলোড করা, স্বাক্ষর না থাকা, বিষয় নির্বাচনে ভুল, এবং নথিপত্রে তথ্যের অসামঞ্জস্য। কিছু ক্ষেত্রে যান্ত্রিক গোলযোগের কারণেও হাজার হাজার অ্যাডমিট কার্ড বাতিল হওয়ার মতো ঘটনা ঘটে থাকে।

​যাদের কার্ড বাতিল হয়েছে তারা কি নতুন করে আবেদন করতে পারবে?

​এই বছরের পরীক্ষার জন্য নতুন করে আবেদন করার সময় সাধারণত শেষ হয়ে যায়। তবে সংসদ যদি মনে করে কোনো টেকনিক্যাল ত্রুটির কারণে কার্ড বাতিল হয়েছে, তবে তারা বিশেষ ব্যবস্থায় নতুন কার্ড ইস্যু করতে পারে।

​ভবিষ্যতে এমন সমস্যা এড়াতে ছাত্রছাত্রীদের কী করা উচিত?

​রেজিস্ট্রেশনের সময় প্রতিটি তথ্য অত্যন্ত যত্ন সহকারে পূরণ করা উচিত। ফর্ম ফিলাপের পর একবার প্রিন্ট আউট নিয়ে সব তথ্য মিলিয়ে দেখা জরুরি। কোনো ভুল নজরে পড়লে তখনই স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে যাতে তারা সঠিক সময়ে তা সংশোধন করতে পারে।

​উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা মানেই লাখ লাখ ছাত্রছাত্রীর স্বপ্ন আর আবেগের জায়গা। সেখানে এই ধরণের বিশৃঙ্খলা সত্যিই কাম্য নয়। সংসদ যেভাবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে, তা সফল হলে হয়তো বহু পরীক্ষার্থীর বছর বেঁচে যাবে। আগামী কয়েক দিন উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের পদক্ষেপের ওপরই নির্ভর করছে এই হাজার হাজার পড়ুয়ার ভাগ্য।

Leave a Comment

🌍
Created with ❤