লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ১০০০ টাকা নিয়ে খুশিতে আত্মহারা মহিলারা, রাস্তায় নামল মিছিল

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ১০০০ টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকতেই খুশিতে ফেটে পড়লেন বাংলার মহিলারা। হুগলীর তারকেশ্বরে আবির খেলে ও মিছিল করে আনন্দ উদযাপন করলেন কয়েকশ উপভোক্তা। জেনে নিন নতুন হারে কত টাকা করে মিলছে।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ১০০০ টাকা (Lakhir Bhandar 1000 Taka) ভোটের দামামা বাজার আগেই রাজ্যের মা-বোনেদের মুখে চওড়া হাসি ফুটিয়ে দিল রাজ্য সরকার। প্রতিশ্রুতি মতো এপ্রিল মাস থেকেই বর্ধিত হারে টাকা ঢুকতে শুরু করেছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে। এই খুশিতেই হুগলীর তারকেশ্বরে মেতে উঠলেন মহিলারা। কেউ পেলেন ১০০০ টাকা, আবার কেউ পেলেন ১২০০ টাকা। ব্যাঙ্ক থেকে মোবাইলে মেসেজ আসতেই বাঁধভাঙা উল্লাসে রাস্তায় নেমে মিছিল করলেন কয়েকশ উপভোক্তা। রাজ্য সরকারের এই ঘোষণায় গ্রাম বাংলার সাধারণ মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতা যে একধাপ এগিয়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য।

​লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের বর্ধিত টাকা নিয়ে মহিলাদের অভূতপূর্ব আনন্দ মিছিল

​হুগলী জেলার তারকেশ্বর ব্লকের পিয়াসারা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় আজ এক অন্যরকম ছবি ধরা পড়ল। গত ফেব্রুয়ারি মাসে রাজ্য বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছিল যে, এই প্রকল্পের ভাতার পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে। সেই মতো এপ্রিল মাসের শুরুতেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নতুন হারের টাকা জমা হতে শুরু করেছে। সাধারণ ক্যাটাগরির মহিলারা আগে পেতেন ৫০০ টাকা, তারা এখন পাচ্ছেন ১০০০ টাকা। অন্যদিকে তপশিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলারা ১০০০ টাকার বদলে পাচ্ছেন ১২০০ টাকা। আজ সকালে ফোনে মেসেজ দেখা মাত্রই কয়েকশ মহিলা আবির খেলে, ব্যানার নিয়ে এবং বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে এলাকায় একটি বিশাল মিছিল করেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাতেই এই উৎসবের আয়োজন বলে জানান তারা।

​সাধারণ মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ১০০০ টাকা আসতেই গ্রাম বাংলায় খুশির হাওয়া

​বাংলার মহিলাদের কাছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ১০০০ টাকা এখন কেবল একটি সরকারি অনুদান নয়, এটি তাদের আত্মসম্মানের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক দিন ধরেই জল্পনা ছিল কবে থেকে এই বাড়তি টাকা পাওয়া যাবে। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটেছে। তারকেশ্বরের ওই এলাকার মহিলারা জানালেন, এই টাকা তাদের ছোটখাটো ব্যক্তিগত প্রয়োজন মেটাতে বড় সাহায্য করবে। সংসারের টানাপোড়েনের মাঝে এই বাড়তি পাওনা তাদের হাতে কিছুটা নগদ পুঁজি এনে দিচ্ছে। মিছিলে অংশগ্রহণকারী এক মহিলা বলেন, “আমরা ভাবিনি এত তাড়াতাড়ি টাকাটা হাতে পাব। ১০০০ টাকা ঢোকার মেসেজ দেখে আর ঘরে বসে থাকতে পারলাম না।”

​সুবিধাভোগীদের প্রাপ্য টাকার হিসেব এক নজরে

​নিচে একটি টেবিলের মাধ্যমে বর্তমানে কোন বিভাগের মহিলারা কত টাকা পাচ্ছেন তা দেখানো হলো:

উপভোক্তার বিভাগআগের ভাতার পরিমাণ (টাকা)বর্তমান ভাতার পরিমাণ (টাকা)
সাধারণ জাতি (General/OBC)৫০০১০০০
তপশিলি জাতি (SC)১০০০১২০০
তপশিলি উপজাতি (ST)১০০০১২০০

১০০০ টাকার প্রকল্প ও মহিলাদের স্বনির্ভরতার নতুন দিশা

​রাজ্য সরকারের এই জনমুখী প্রকল্প সরাসরি মহিলাদের হাতে টাকা পৌঁছে দিচ্ছে। এর ফলে মহিলারা ছোটখাটো কেনাকাটা বা নিজের শখ পূরণে কারো মুখাপেক্ষী হয়ে থাকছেন না। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ১০০০ টাকা প্রকল্পে এই পরিমাণ বৃদ্ধির ফলে রাজ্যের ভাঁড়ারে চাপ বাড়লেও, সাধারণ মানুষের মধ্যে এর প্রভাব ইতিবাচক। বিশেষ করে গ্রাম্য অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এই নগদ অর্থ সাহায্য বড় ভূমিকা পালন করছে। সাধারণ ঘরের গৃহিণীরা এই বাড়তি সহায়তায় অত্যন্ত খুশি এবং তারা চাইছেন এই প্রকল্প এভাবেই যেন নিরন্তর চলতে থাকে।

​এই প্রকল্পের বিশেষ সুবিধাগুলো কী কী?

​এই প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলারা কী কী সুবিধা পাচ্ছেন তার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

  • ​সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হওয়ার সুবিধা (DBT)।
  • ​মধ্যস্বত্বভোগীদের কোনো ঝামেলা নেই।
  • ​প্রতি মাসের শুরুতেই নির্দিষ্ট সময়ে টাকা পৌঁছে যাওয়া।
  • ​কোনো নির্দিষ্ট শর্ত ছাড়াই ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী যোগ্য মহিলারা এই টাকা পাচ্ছেন।

​ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ক্রেডিট হওয়া নিয়ে উপভোক্তাদের প্রতিক্রিয়া

​তারকেশ্বরের পিয়াসারা গ্রামের মহিলারা আজ যখন ব্যাঙ্কে টাকা জমা হওয়ার মেসেজ পান, তখন তারা দ্রুত স্থানীয় একটি জায়গায় জড়ো হন। সেখান থেকেই মিছিলটি শুরু হয়। মহিলারা শঙ্খধ্বনি করেন এবং একে অপরকে মিষ্টি মুখ করান। তাদের বক্তব্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে এই বাড়তি টাকা তাদের সংসারের হাল ধরতে কিছুটা হলেও সুরাহা দেবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি হাতে নিয়ে “জয় বাংলা” স্লোগান দিতেও দেখা যায় তাদের। সরকারের এই পদক্ষেপ যে সরাসরি জনমানসে প্রভাব ফেলেছে, আজকের এই মিছিল তারই প্রমাণ।

বিজ্ঞাপন

​কেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প এতোটা জনপ্রিয়?

​এর জনপ্রিয়তার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে:

  1. ​এটি সরাসরি মহিলাদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে।
  2. ​প্রান্তিক মানুষের হাতে নগদ অর্থ পৌঁছে দেয়।
  3. ​আবেদন প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং সহজ।
  4. ​সরকারি শিবিরের মাধ্যমে খুব সহজেই নাম নথিভুক্ত করা যায়।

​প্রায়শই জিজ্ঞাস্য প্রশ্নাবলী (FAQ)

​১. সাধারণ মহিলারা কি এখন থেকে প্রতি মাসে ১০০০ টাকা পাবেন?

​হ্যাঁ, রাজ্য সরকারের নতুন ঘোষণা অনুযায়ী সাধারণ এবং ওবিসি ক্যাটাগরির মহিলারা এখন থেকে প্রতি মাসে ১০০০ টাকা করে পাবেন।

​২. এসসি এবং এসটি মহিলারা কত টাকা করে পাচ্ছেন?

​তপশিলি জাতি এবং উপজাতিভুক্ত মহিলারা এখন থেকে প্রতি মাসে ১২০০ টাকা করে পাচ্ছেন।

​৩. এপ্রিল মাসের টাকা কি সব জেলায় ঢোকা শুরু হয়েছে?

​হ্যাঁ, এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই পর্যায়ক্রমে সমস্ত জেলার উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই বর্ধিত টাকা পাঠানো শুরু হয়েছে।

​৪. টাকা না ঢুকলে কী করা উচিত?

​যদি আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা না ঢোকে, তবে স্থানীয় বিডিও অফিস বা “দুয়ারে সরকার” ক্যাম্পে যোগাযোগ করে আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও আধার সিডিং স্ট্যাটাস চেক করে নিতে পারেন।

​ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রকল্পের প্রভাব

​লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ১০০০ টাকা দেওয়ার এই যে প্রক্রিয়া শুরু হলো, তা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। প্রশাসনিক স্তরেও কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে যাতে কোনো প্রকৃত উপভোক্তা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন। তারকেশ্বরের মতো রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তেও মহিলারা একইভাবে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। মহিলাদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্পগুলো মানুষের জীবনের মানোন্নয়নে কতটা জরুরি। এই অর্থ সাহায্য বাংলার লক্ষ লক্ষ পরিবারের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।

Leave a Comment

🌍
Created with ❤