Suvendu Adhikari Khela Habe: নন্দীগ্রামে আবারও সেই চেনা উত্তেজনা, আবারও সেই ‘খেলা হবে’র হুঙ্কার। তবে এবার আর ঘাসফুল শিবির নয়, স্লোগান শোনা গেল খোদ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর গলায়। সরস্বতী পুজোর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, একুশের মতো ছাব্বিশেও নন্দীগ্রামে খেলা হবে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনার পারদ চড়তে শুরু করেছ।
‘খেলা হবে’ স্লোগানে শুভেন্দুর তোপ
একুশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ‘খেলা হবে’ স্লোগান রাজ্যজুড়ে ঝড় তুলেছিল। সেই স্লোগানের মোকাবিলা করেই শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামে মমতাকে হারিয়েছিলেন। কিন্তু এবার ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে সেই একই স্লোগান শোনা গেল শুভেন্দুর মুখে। শুক্রবার নন্দীগ্রামে একটি সরস্বতী পুজোর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, “খেলা হবে। একুশের মতো খেলা হবে। একুশে খেলা হয়েছিল নন্দীগ্রামে। আবার হবে।”
শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। তিনি সরাসরি তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, “খেলো তোমরা দেখতে থাকবে। দেখবি আর জ্বলবি, লুচির মতো ফুলবি।” একুশের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের স্মৃতি উস্কে দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, আগামী নির্বাচনেও নন্দীগ্রাম তাঁর কাছে পাখির চোখ।
নন্দীগ্রামে শুভেন্দু বনাম তৃণমূল: সংঘাতের ইতিহাস
নন্দীগ্রাম মানেই শুভেন্দু অধিকারী বনাম তৃণমূলের প্রেস্টিজ ফাইট। ২০২১ সালের নির্বাচনে এই কেন্দ্রেই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে সরাসরি লড়াই হয়েছিল। সেই লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছিলেন শুভেন্দুই। মাত্র ১৯৫৬ ভোটের ব্যবধানে তিনি মমতাকে পরাজিত করেছিলেন। এবার ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে আবারও সেই পুরনো স্মৃতি তাজা করলেন বিরোধী দলনেতা।
নন্দীগ্রামে নির্বাচন: এক নজরে
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| স্থান | নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র |
| ২০২১ সালের লড়াই | শুভেন্দু অধিকারী বনাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় |
| ব্যবধান | ১৯৫৬ ভোট (শুভেন্দু জয়ী) |
| বর্তমান স্লোগান | “একুশে খেলা হয়েছিল, আবার হবে” |
শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্যের পর অনেকেই মনে করছেন, তিনি হয়তো ফের নন্দীগ্রাম থেকেই প্রার্থী হওয়ার ইঙ্গিত দিলেন। যদিও বিজেপি বা তৃণমূল, কোনো দলই এখনও তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি।
তৃণমূলের পাল্টা কটাক্ষ
শুভেন্দু অধিকারীর মুখে নিজেদের স্লোগান শুনে চুপ করে বসে নেই তৃণমূলও। নন্দীগ্রাম তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্য শেখ সুফিয়ান কড়া ভাষায় এর জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, শুভেন্দু অধিকারী হতাশ হয়ে পড়েছেন। মানুষের কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে যাওয়ায় তিনি অস্তিত্ব সংকটে ভুগছেন। তাই বাধ্য হয়ে এখন দিদির স্লোগান ধার করছেন।
কেন আবার ‘খেলা হবে’?
শুভেন্দুর এই স্লোগান ব্যবহারের পেছনে রাজনৈতিক কৌশল দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। নিচে কিছু কারণ উল্লেখ করা হলো:
- চ্যালেঞ্জ জানানো: তৃণমূলকে তাদেরই ভাষায় জবাব দেওয়া।
- আত্মবিশ্বাস প্রদর্শন: একুশের জয়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে কর্মীদের চাঙ্গা করা।
- মনস্তাত্ত্বিক চাপ: নির্বাচনের আগে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা।
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
শুভেন্দু অধিকারী কেন ‘খেলা হবে’ বললেন?
তিনি মূলত একুশের নির্বাচনের জয়ের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ জানাতেই এই স্লোগান ব্যবহার করেছেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, আগামী নির্বাচনেও নন্দীগ্রামে বিজেপিই জিতবে।
২০২৬-এ কি শুভেন্দুই নন্দীগ্রামের প্রার্থী?
এখনও পর্যন্ত বিজেপি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। তবে শুভেন্দুর এই মন্তব্য থেকে অনেকেই ধারণা করছেন যে, তিনি হয়তো ফের নন্দীগ্রাম থেকেই লড়াই করবেন।
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া কী?
তৃণমূল নেতা শেখ সুফিয়ান দাবি করেছেন, ২০২৬ সালে নন্দীগ্রামে তৃণমূল ৩০ হাজার ভোটে জিতবে। তাঁর মতে, শুভেন্দু অধিকারী হতাশ হয়েই তৃণমূলের স্লোগান নকল করছেন।
আগামী দিনের সমীকরণ
শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্যে পরিষ্কার যে, ২০২৬-এর নির্বাচনেও নন্দীগ্রাম হবে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। একুশের নির্বাচনের মতো এবারও এখানে হাইভোল্টেজ ড্রামা দেখার অপেক্ষায় রাজ্যবাসী। শুভেন্দু যেমন বলছেন “খেলা হবে”, তেমনি মিঠুন চক্রবর্তীও আগেই জানিয়েছিলেন বিজেপি এবার মাঠে নামবে। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ঘোষণা করেছেন যে এবারের খেলা হবে ‘ফাটাফাটি’।
সব মিলিয়ে নন্দীগ্রামের মাটি ফের উত্তপ্ত। শাসক ও বিরোধীর এই বাকযুদ্ধে শেষ পর্যন্ত কারা বাজিমাত করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে শুভেন্দুর এই হুঙ্কার যে তৃণমূল শিবিরে কিছুটা হলেও অস্বস্তি তৈরি করেছে, তা বলাই বাহুল্য।




