বুকমাইশো-তে মেইল থেকে শুরু করে হুমকি ফোন! দেবের নতুন ছবির বিতর্ক ঘিরে তোলপাড় টলিপাড়া।

দেবের নতুন ছবির বিতর্ক ঘিরে তোলপাড় টলিউড। 'দেশু ৭' ছবির প্রচার রুখতে বুকমাইশো-কে মেইল এবং হুমকি ফোন পাওয়ার বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন সুপারস্টার দেব। কেন এই সংঘাত? বিস্তারিত পড়ুন প্রতিবেদনে।

Dev New Movie Controversy: বুকমাইশো-তে মেইল থেকে শুরু করে হুমকি ফোন! দেবের নতুন ছবির বিতর্ক ঘিরে তোলপাড় টলিপাড়া। টলিউড সুপারস্টার দেব এবং তাঁর আসন্ন ছবি ‘দেশু ৭’ (DeSu7) নিয়ে বিতর্ক যেন থামতেই চাইছে না। সাধারণ দর্শকদের মধ্যে যখন এই ছবি নিয়ে বিপুল উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই টলিউডের অন্দরের এক কুৎসিত রাজনীতির অভিযোগ সামনে এনেছেন অভিনেতা। দেবের দাবি, একটি বিশেষ মহল থেকে তাঁর ছবিকে আটকানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, জনপ্রিয় অনলাইন টিকিট বুকিং প্ল্যাটফর্ম ‘বুকমাইশো’-কেও এই বিষয়ে মেইল পাঠিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। দেবের নতুন ছবির বিতর্ক এখন কেবল টলিউডেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সাধারণ সিনেমা প্রেমীদের মধ্যেও আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দেবের নতুন ছবির বিতর্ক এবং পেশাদারী সংঘাতের নেপথ্যে কী?

বাংলা সিনেমার জগতে দেব এখন কেবল একজন অভিনেতা নন, তিনি একজন সফল প্রযোজকও বটে। তাঁর এই ক্রমবর্ধমান সাফল্য কি কারোর চক্ষুশূল হয়ে দাঁড়াচ্ছে? দেবের সাম্প্রতিক মন্তব্য কিন্তু সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে। দেবের নতুন ছবির বিতর্ক শুরু হয় যখন তিনি ঘোষণা করেন যে, ‘দেশু ৭’ ছবির প্রথম শো-টি একটি বিশেষ ইভেন্ট হিসেবে পালন করা হবে। এই ঘোষণা হওয়ার পরপরই দেবের কাছে উড়ো ফোন আসতে শুরু করে। তাঁকে শাসানো হয় যে, এই ধরনের শো করা বেআইনি এবং এর পরিণাম ভালো হবে না।

দেব স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, কোনো বড় প্রযোজনা সংস্থা বা ডিস্ট্রিবিউশন হাউসের নাম তিনি সরাসরি নিতে চান না, কিন্তু তিনি জানেন কারা এই কাজগুলো করছে। দেবের নতুন ছবির বিতর্ক আরও জোরালো হয় যখন জানা যায় যে, বুকমাইশো-র মতো সংস্থাকে মেইল করে বলা হয়েছে যাতে তারা দেবের এই ছবির টিকিট বিক্রিতে সহযোগিতা না করে। একজন সুপারস্টারের প্রোডাকশন নিয়ে এই ধরনের কাদা ছোড়াছুড়ি টলিউডের ভবিষ্যতের জন্য একেবারেই শুভ সংকেত নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইন্ডাস্ট্রির অন্দরেই কি দেবকে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে?

দেব এই সাক্ষাৎকারে অত্যন্ত আক্ষেপের সঙ্গে জানিয়েছেন যে, তিনি সবসময় চেষ্টা করেছেন বাংলা ইন্ডাস্ট্রিকে বড় করতে। কিন্তু বারংবার দেবের নতুন ছবির বিতর্ক তৈরি করে তাঁর কাজে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। অভিনেতা বলেন, “আমি তো কারোর ক্ষতি করছি না, আমি শুধু চাই দর্শক সিনেমা হলে ফিরে আসুক।” বুকমাইশো-তে মেইল পাঠানোর বিষয়টিকে তিনি অত্যন্ত নিম্নমানের রাজনীতি বলে অভিহিত করেছেন। টলিউডের পেশাদারী জগতে এই ধরনের ঘটনা আগে খুব একটা শোনা যায়নি।

দেবের মতে, ‘দেশু ৭’ ছবিটিকে কেন্দ্র করে যে পরিকল্পনা তিনি করেছেন, তা দর্শকদের হলের প্রতি আকর্ষণ বাড়ানোর একটি কৌশল মাত্র। কিন্তু অন্য একটি পক্ষ এটিকে ভয় হিসেবে দেখছে। দেবের নতুন ছবির বিতর্ক নিয়ে তিনি আরও যোগ করেন যে, সেন্সর বোর্ডকেও ভুল বুঝিয়ে ছবির মুক্তি আটকানোর ছক কষা হয়েছিল। তবে দেবের দাবি, তিনি সমস্ত নিয়ম মেনেই কাজ করছেন এবং কোনো প্রকার অনৈতিক চাপের কাছে তিনি হার মানবেন না।

দেব ও তাঁর টিমের ওপর প্রভাবের একটি তুলনামূলক ছক:

সংঘাতের ক্ষেত্রকী অভিযোগ উঠেছে?দেবের প্রতিক্রিয়া
বুকিং প্ল্যাটফর্মবুকমাইশো-কে মেইল পাঠিয়ে বাধা সৃষ্টিআইনি ও পেশাদারী পথে মোকাবিলার আশ্বাস
হুমকি ফোনপ্রোডাকশন হাউসের পক্ষ থেকে শাসানোমাথা নত না করার অঙ্গীকার
সেন্সর বোর্ডছাড়পত্র আটকানোর চেষ্টাসমস্ত নথিপত্র দিয়ে লড়াই করা
দর্শকদের সাড়াষড়যন্ত্র করে নেতিবাচক প্রচারদর্শকদের ভালোবাসাই শেষ কথা

বুকমাইশো মেইল বিতর্ক ও দেবের কড়া জবাব

অনলাইন টিকিট প্ল্যাটফর্ম বুকমাইশো-র কাছে মেইল যাওয়া একটি গুরুতর বিষয়। দেবের নতুন ছবির বিতর্ক এই পর্যায়ে পৌঁছাবে তা হয়তো অনেকেই ভাবেননি। দেবের প্রশ্ন, একজন স্বাধীন প্রযোজক হিসেবে তিনি যদি নিজের ছবির প্রচারের জন্য অভিনব কোনো উপায় বেছে নেন, তবে অন্য কারোর তাতে সমস্যা কোথায়? দেব জানিয়েছেন, বুকমাইশো কর্তৃপক্ষকেও বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল যে এই সিনেমাটি প্রদর্শনের জন্য উপযুক্ত অনুমতি নেই।

তবে অভিনেতা দমে যাননি। তিনি পাল্টা প্রমাণ দিয়েছেন যে তাঁর কাছে সমস্ত প্রয়োজনীয় অনুমতি রয়েছে। দেবের নতুন ছবির বিতর্ক নিয়ে টলিউডের অন্যান্য তারকারাও মুখ খুলতে শুরু করেছেন। অনেকেই মনে করছেন, ইন্ডাস্ট্রিতে একাধিপত্য কায়েম করার এই চেষ্টা বাংলা সিনেমার ক্ষতি করছে। দেব জানিয়েছেন, যে সময় বাংলা সিনেমাকে বাঁচানোর লড়াই চলছে, সেই সময় নিজেদের মধ্যে এই ধরণের ছোট মানসিকতা পোষণ করা লজ্জাজনক।

চলতি বিতর্কের কিছু প্রধান কারণ:

  • ‘দেশু ৭’ সিনেমার বিশেষ শো-র আয়োজন করা।
  • অনলাইনে অগ্রিম টিকিট বুকিং নিয়ে জটিলতা তৈরি।
  • প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে হুমকি ফোন পাওয়ার অভিযোগ।
  • সেন্সর বোর্ডে ছবি নিয়ে মিথ্যে অভিযোগ দায়ের।
  • দেবের ক্রমবর্ধমান স্বাধীন প্রযোজনা ও বাণিজ্যিক সাফল্য।

দেবের মন্তব্য ও ভক্তদের প্রশ্ন (FAQ):

১. দেবের নতুন ছবির বিতর্ক ঠিক কী নিয়ে?

দেব অভিযোগ করেছেন যে তাঁর আগামী ছবি ‘দেশু ৭’ (DeSu7) এর প্রোমোশন এবং টিকিট বুকিং রুখতে টলিউডের একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী বুকমাইশো-কে মেইল পাঠিয়ে এবং তাঁকে ফোন করে হুমকি দিচ্ছে।

২. দেব কি এই ঘটনার জন্য পুলিশের দ্বারস্থ হবেন?

সাক্ষাৎকারে দেব জানিয়েছেন যে তিনি আপাতত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন এবং পেশাদারীভাবেই এর মোকাবিলা করতে চান। তবে প্রয়োজন পড়লে তিনি আইনি পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবেন না।

৩. ‘দেশু ৭’ ছবির মুক্তি কি পিছিয়ে যাবে?

না, দেব স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে দেবের নতুন ছবির বিতর্ক সত্ত্বেও তিনি নির্ধারিত সময়েই ছবি মুক্তি দিতে চান। তিনি তাঁর ভক্তদের ওপর এবং নিজের কাজের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন।

বাংলা সিনেমার ভবিষ্যৎ এবং দেবের লড়াই

দেবের নতুন ছবির বিতর্ক আসলে টলিউডের ক্ষমতার লড়াইকে সামনে এনে দিয়েছে। দেব বরাবরই দাবি করে এসেছেন যে তিনি কোনো নির্দিষ্ট শিবিরের লোক নন, তিনি কেবল কাজ করতে চান। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, কাজ করতে গেলেই নানা প্রতিবন্ধকতা আসছে। অভিনেতা মনে করেন, দর্শকদের রায়ই চূড়ান্ত। যদি ‘দেশু ৭’ বক্স অফিসে সফল হয়, তবে সেটাই হবে এই সমস্ত ষড়যন্ত্রের যোগ্য জবাব।

দেবের নতুন ছবির বিতর্ক নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতেও ঝড় উঠেছে। হ্যাশট্যাগ দেব (Dev) এবং দেশু ৭ (DeSu7) ট্রেন্ডিংয়ে রয়েছে। ভক্তরা বলছেন, দেবের পাশে তাঁরা সবসময় আছেন। দেবের এই লড়াই শুধু তাঁর একার নয়, এটি টলিউডের সুস্থ কাজের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার লড়াই। এখন দেখার বিষয়, সমস্ত বাধা কাটিয়ে দেবের নতুন ছবির বিতর্ক পেরিয়ে ‘দেশু ৭’ দর্শকদের কতটা মন জয় করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

Leave a Comment