বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ ২০২৬: তারিখ, সময় ও সুতক কাল – জেনে নিন বিস্তারিত

২০২৬ সালের শুরুতেই মহাকাশে ঘটতে চলেছে এক অদ্ভুত ঘটনা। কবে হবে বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ? ভারত থেকে কি দেখা যাবে? জেনে নিন সুতক কাল ও এই গ্রহণের সময়সূচী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য।

First Solar Eclipse 2026: মহাকাশ প্রেমিদের জন্য নতুন বছর নিয়ে আসছে এক দারুণ সুখবর। ২০২৬ সালের শুরুতেই ঘটতে চলেছে এক মহাজাগতিক ঘটনা। নতুন বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ নিয়ে ইতিমধ্যেই মানুষের মধ্যে কৌতূহল তুঙ্গে। বিশেষ করে যারা জ্যোতিষশাস্ত্র এবং মহাকাশ বিজ্ঞানে আগ্রহী, তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ ২০২৬ দেখার জন্য। এই প্রতিবেদনে আমরা আলোচনা করব এই গ্রহণের সঠিক তারিখ, সময় এবং ভারত থেকে এর দৃশ্যমানতা নিয়ে।

​মহাকাশে অলৌকিক দৃশ্য! কবে এবং কখন হবে এই সূর্যগ্রহণ?

​নতুন বছর মানেই নতুন আশা এবং নতুন সব ঘটনা। ঠিক তেমনই মহাকাশ বিজ্ঞানের দুনিয়াতেও ২০২৬ সালটি হতে চলেছে বেশ ঘটনাবহুল। জানা গিয়েছে, ২০২৬ সালের একেবারে শুরুর দিকেই, অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি মাসেই সংঘটিত হতে চলেছে বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ ২০২৬। এটি একটি বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ বা ‘অ্যানুলার সোলার এক্লিপস’ হতে চলেছে।

​জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, এই গ্রহণটি ঘটবে ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে। যদিও এই দিনটি সাধারণ মানুষের কাছে একটি সাধারণ দিন মনে হতে পারে, কিন্তু মহাকাশ গবেষকদের কাছে এটি একটি উৎসবের মতো। এই সময়ে চাঁদ সূর্যের মাঝখানে চলে আসবে এবং সূর্যের কেন্দ্রকে ঢেকে ফেলবে, যার ফলে আকাশে তৈরি হবে এক আগুনের আংটি বা ‘রিং অফ ফায়ার’। এই অদ্ভুত সুন্দর দৃশ্য দেখার জন্য বিশ্বজুড়ে মানুষ অপেক্ষা করে আছেন।

​এই গ্রহণ কি ভারত থেকে দেখা যাবে? জানুন আসল সত্য

​সূর্যগ্রহণ নিয়ে ভারতীয়দের মনে সবসময়ই একটি আলাদা উত্তেজনা কাজ করে। তবে প্রশ্ন হলো, ১৭ই ফেব্রুয়ারির এই বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ ২০২৬ কি ভারতের আকাশ থেকে দেখা যাবে? এই প্রশ্নের উত্তর কিছুটা নিরাশ করতে পারে ভারতীয় মহাকাশ প্রেমিদের।

​প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই বিশেষ গ্রহণটি ভারত থেকে দৃশ্যমান হবে না। এটি মূলত দেখা যাবে আন্টার্কটিকা মহাদেশ এবং তার আশেপাশের অঞ্চল থেকে। এছাড়াও দক্ষিণ আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু কিছু অংশ থেকে এই গ্রহণের আংশিক রূপ দেখা যেতে পারে। যেহেতু এটি ভারত থেকে দেখা যাবে না, তাই সরাসরি খালি চোখে বা টেলিস্কোপের মাধ্যমে এই মহাজাগতিক ছায়া দেখার সুযোগ ভারতীয়দের হবে না। তবে প্রযুক্তির যুগে লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে ঘরে বসেই এই দৃশ্য উপভোগ করা সম্ভব।

​সুতক কাল কি মানতে হবে? ধর্মে কী বলছে?

​ভারতবর্ষে সূর্যগ্রহণের সঙ্গে ধর্মের গভীর যোগসূত্র রয়েছে। গ্রহণ চলাকালীন ‘সুতক কাল’ বা অশুভ সময় মানার একটি প্রথা প্রচলিত আছে। সাধারণত সূর্যগ্রহণ শুরু হওয়ার ১২ ঘণ্টা আগে থেকে সুতক কাল শুরু হয়। কিন্তু এবারের বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ ২০২৬ নিয়ে নিয়মটা একটু আলাদা।

​শাস্ত্র মতে, যে গ্রহণ যে অঞ্চল থেকে দৃশ্যমান হয় না, সেখানে তার কোনো ধর্মীয় প্রভাব বা সুতক কাল মানার প্রয়োজন নেই। যেহেতু এই গ্রহণটি ভারতে দেখা যাবে না, তাই এই দেশের মানুষের জন্য কোনো সুতক কাল বা ধর্মীয় বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না। মন্দির বন্ধ রাখা বা পূজা-পাঠ বন্ধ রাখার কোনো নিয়ম এবার খাটবে না। গর্ভবতী নারীদের জন্যও বিশেষ কোনো কড়াকড়ি থাকছে না, কারণ এই গ্রহণের ছায়া ভারতের মাটিতে পড়বে না।

​এক নজরে সূর্যগ্রহণ ২০২৬-এর বিস্তারিত সময়সূচী

​নিচে একটি টেবিলের মাধ্যমে এই গ্রহণের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো, যা আপনাদের এক নজরে পুরো বিষয়টি বুঝতে সাহায্য করবে:

তথ্যের বিষয়বিস্তারিত বিবরণ
গ্রহণের তারিখ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
গ্রহণের বারমঙ্গলবার
গ্রহণের ধরনবলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ (Annular Solar Eclipse)
ভারত থেকে দৃশ্যমানতাদৃশ্যমান নয়
সুতক কালভারতে প্রযোজ্য নয়
কোথায় দেখা যাবেআন্টার্কটিকা, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা

জ্যোতিষশাস্ত্রে এই গ্রহণের প্রভাব কেমন হতে পারে?

​যদিও ভারতে এই গ্রহণ দেখা যাবে না, তবুও জ্যোতিষশাস্ত্রে যে কোনো মহাজাগতিক ঘটনারই একটি পরোক্ষ প্রভাব থাকে। ১৭ই ফেব্রুয়ারির এই গ্রহণ কুম্ভ রাশিতে সংঘটিত হবে। ফলে, বিশ্বজুড়ে এর কিছু না কিছু প্রভাব পড়তে পারে।

​জ্যোতিষীদের মতে, এই গ্রহণের ফলে বিশ্বের রাজনীতি এবং আবহাওয়ায় কিছু পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলিতে এর প্রভাব বেশি অনুভূত হতে পারে। তবে ভারতীয়দের জন্য ভয়ের কোনো কারণ নেই। তবুও মানসিক শান্তির জন্য অনেকেই এই সময়ে ইষ্টদেবতার নাম জপ করা বা দান-ধ্যান করাকে শুভ মনে করেন। বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ ২০২৬ নিয়ে তাই অযথা আতঙ্কিত না হয়ে, একে একটি প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবেই দেখা উচিত।

​গ্রহণের সময় কী করবেন আর কী করবেন না?

​যদিও ভারতে সুতক নেই, তবুও অনেকে গ্রহণের সময় কিছু নিয়ম মেনে চলতে পছন্দ করেন। নিচে তার একটি তালিকা দেওয়া হলো:

কী করা উচিত (ঐচ্ছিক):

বিজ্ঞাপন
  • ​গ্রহণের সময় মনে মনে ঈশ্বরের নাম স্মরণ করা।
  • ​গ্রহণের পর স্নান করে শুদ্ধ হওয়া।
  • ​সাধ্যমতো গরিব দুঃখীদের দান করা।
  • ​পরিবেশ শান্ত রাখা এবং ইতিবাচক চিন্তা করা।

কী করা উচিত নয়:

  • ​গ্রহণের সময় সরাসরি সূর্যের দিকে তাকাবেন না (যদি আপনি এমন দেশে থাকেন যেখানে গ্রহণ দেখা যাচ্ছে)।
  • ​অযথা কুসংস্কারে বিশ্বাস করে আতঙ্কিত হবেন না।
  • ​গর্ভবতী নারীরা মানসিক চাপ নেবেন না, স্বাভাবিক জীবনযাপন করুন।

​বিজ্ঞানীদের চোখে এই গ্রহণের গুরুত্ব

​বিজ্ঞানীদের কাছে বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ ২০২৬ একটি গবেষণার বড় সুযোগ। বিশেষ করে আন্টার্কটিকার মতো দুর্গম এলাকায় এই গ্রহণ হওয়ায়, সেখানে বায়ুমণ্ডলের ওপর এর কী প্রভাব পড়ে, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করবেন। সূর্যের করোনা বা বাইরের স্তর এবং পৃথিবীর আয়নোস্ফিয়ারের পরিবর্তন লক্ষ্য করার জন্য এই দিনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

​সূর্যের এই লুকোচুরি খেলা মহাকাশ বিজ্ঞানে নতুন তথ্য যোগ করতে পারে। যারা মহাকাশ ভালোবাসেন, তারা নাসা (NASA) বা অন্যান্য মহাকাশ গবেষণা সংস্থার ওয়েবসাইটে গিয়ে এই ঘটনার লাইভ আপডেট দেখতে পারেন। বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি শুধুই ছায়া আর আলোর খেলা নয়, বরং ব্রহ্মাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের একটি চাবিকাঠি।

​কিছু সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQs)

​মানুষের মনে সূর্যগ্রহণ নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকে। এখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো:

​১৭ই ফেব্রুয়ারি কি ভারতে সরকারি ছুটি থাকবে?

​না, ১৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ভারতে কোনো সরকারি ছুটি থাকবে না। যেহেতু এই গ্রহণটি ভারতে দৃশ্যমান নয় এবং এটি কোনো জাতীয় উৎসব নয়, তাই স্কুল, কলেজ এবং অফিস আদালত স্বাভাবিক নিয়মেই চলবে। জনজীবন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক থাকবে।

​গর্ভবতী নারীদের কি এই গ্রহণের সময় বিশেষ সতর্কতা নিতে হবে?

​যেহেতু বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ ২০২৬ ভারত থেকে দেখা যাবে না, তাই শাস্ত্র মতে এবং বিজ্ঞান মতে ভারতীয় গর্ভবতী নারীদের জন্য কোনো বিশেষ সতর্কতার প্রয়োজন নেই। তারা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন, খাবার খেতে পারেন এবং দৈনন্দিন কাজ করতে পারেন। তবে মানসিক শান্তির জন্য কেউ চাইলে সাবধানতা অবলম্বন করতে পারেন, কিন্তু তা বাধ্যতামূলক নয়।

​২০২৬ সালে কি আরও সূর্যগ্রহণ হবে?

​হ্যাঁ, ২০২৬ সালে একাধিক গ্রহণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ১৭ই ফেব্রুয়ারির এই গ্রহণটিই হলো ২০২৬ সালের প্রথম গ্রহণ। এরপরের গ্রহণগুলি কবে হবে এবং সেগুলি ভারত থেকে দেখা যাবে কি না, তা জানতে আমাদের পরবর্তী প্রতিবেদনগুলিতে নজর রাখুন। মহাজাগতিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, এক বছরে সাধারণত একাধিক গ্রহণ হয়ে থাকে।

​পরিশেষে বলা যায়, বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ ২০২৬ ভারতবাসীর জন্য ভয়ের কোনো কারণ নয়, বরং এটি একটি কৌতূহলের বিষয়। মহাকাশের এই অনন্ত বিস্ময় আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আমরা এই বিশাল ব্রহ্মাণ্ডের কত ক্ষুদ্র এক অংশ। যদিও আমরা এবার স্বচক্ষে এই ‘রিং অফ ফায়ার’ দেখতে পাব না, তবুও ইন্টারনেটের দৌলতে এই দৃশ্য উপভোগ করতে ভুলবেন না।

আপনি কি মহাকাশের খবর রাখতে ভালোবাসেন?

Leave a Comment