উড়িষ্যা থেকে টাটানগর (জামশেদপুর) যাওয়ার বাসের সময়সূচী : ঝটপট পৌঁছনোর রুট, জানুন কোন শহর থেকে কখন ছাড়ছে বাস
ওড়িশা থেকে প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডের ইস্পাত নগরী জামশেদপুর বা টাটানগরে যাতায়াতের জন্য বাসের উপর নির্ভর করেন বহু মানুষ। বিশেষত যারা ব্যবসার কাজ বা জরুরি প্রয়োজনে ঘন ঘন যাতায়াত করেন, তাদের জন্য বাসের সময়সূচী জানাটা অত্যন্ত জরুরি। পুরীর সমুদ্র সৈকত বা বারিপাদার ঐতিহ্যবাহী স্থান থেকে টাটানগর পৌঁছনোর জন্য কোন পথে এবং কখন যাত্রা করলে সবথেকে কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছনো যায়, সেই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়েই এই প্রতিবেদন। যাত্রাপথে আরাম এবং গতির দিক থেকে কোন রুটগুলি বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয়, তা জেনে নিন বিশদে।
ওড়িশা জামশেদপুর বাস পরিষেবা: কোন শহর থেকে কত সময় লাগে?
ওড়িশার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহর থেকে জামশেদপুরের বাস পরিষেবা চালু আছে। তবে যাত্রী এবং দূরত্বের ভিত্তিতে সময় ও ভাড়ার তারতম্য দেখা যায়। ভুবনেশ্বর, বারিপাদা ও জোডার মতো প্রধান কেন্দ্রগুলি থেকে বাস ছাড়ে। এর মধ্যে, ভুবনেশ্বরের মতো দূরবর্তী শহর থেকে যাত্রা করলে কিছুটা সময় বেশি লাগা স্বাভাবিক। তবে বাস অপারেটরদের উন্নতমানের স্লিপার বা সিটার কোচের কারণে লম্বা যাত্রাও আরামদায়ক হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, বারিপাদা এবং জোডার মতো কাছাকাছি শহরগুলি থেকে জামশেদপুর পৌঁছনোর সময়কাল অনেক কম।
দীর্ঘ যাত্রার সেরা উপায়: ভুবনেশ্বর থেকে ওড়িশা জামশেদপুর বাস সময়সূচী
ওড়িশার রাজধানী ভুবনেশ্বর থেকে জামশেদপুর পৌঁছনোর জন্য বেশিরভাগ যাত্রীই রাতের বাসকে অগ্রাধিকার দেন। এর প্রধান কারণ হলো এটি একটি রাতারাতি যাত্রা, ফলে দিনের সময় নষ্ট হয় না। সাধারণত সন্ধ্যা ৭:০০ টা থেকে রাত ১০:০০ টার মধ্যে বাসগুলি ভুবনেশ্বর ছেড়ে যায় এবং পরের দিন ভোর ৫:০০ টার মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছে যায়। এই রুটে যাত্রাপথের সময়কাল প্রায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা হয়ে থাকে।
AC Seater/Sleeper কোচের চাহিদা তুঙ্গে
ভুবনেশ্বর রুটে মূলত এসি সিটার এবং স্লিপার বাসের (২+১ কনফিগারেশন) চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বিভিন্ন ট্রাভেলস কোম্পানি যেমন শঙ্কর পার্বতী ট্রাভেলস, মহালক্ষ্মী এবং আশির্বাদ বাস সার্ভিস এই পথে নিয়মিত পরিষেবা দেয়। যাত্রীর আরামের দিকটি বিবেচনা করে এই বাসগুলির ভাড়া সাধারণত ৬৫০ টাকা থেকে শুরু হয়। আপনি যদি আরামদায়ক যাত্রার খোঁজ করেন, তবে অবশ্যই এসি স্লিপার কোচ বেছে নিতে পারেন। এটি একটি দীর্ঘ ভ্রমণের জন্য দারুণ বিকল্প।
দ্রুত পৌঁছনোর মাধ্যম: বারিপাদা ও জোডা থেকে সরাসরি পরিষেবা
যাদের হাতে সময় কম এবং দ্রুত জামশেদপুর পৌঁছতে চান, তাদের জন্য বারিপাদা এবং জোডা থেকে বাসের পরিষেবা বিশেষভাবে সুবিধাজনক। এই পথ ধরে জামশেদপুর পৌঁছতে সময় লাগে অনেক কম, সাধারণত ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা।
বারিপাদা থেকে যাত্রা: মাঝরাতে ছেড়ে ভোরে পৌঁছনোর সুবিধা
বারিপাদা থেকে জামশেদপুরের উদ্দেশ্যে বাস সাধারণত মাঝরাতে (যেমন রাত ১১:৫০ বা ১১:৫৫) ছাড়ে। এর ফলে যাত্রীরা খুব ভোরে জামশেদপুর পৌঁছে দিনের কাজ শুরু করতে পারেন। এই রুটেও এসি স্লিপার বাসের (২+১) বিকল্প পাওয়া যায়। বারিপাদা থেকে ওড়িশা জামশেদপুর বাস পরিষেবা অন্যান্য রুটের তুলনায় দ্রুততর।
জোডা থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে দিনের বেলার যাত্রা
অন্যদিকে, ওড়িশার জোডা থেকে দিনের বেলাতেও বাস পরিষেবা চালু আছে। যারা অপেক্ষাকৃত কম খরচে ভ্রমণ করতে চান, তাদের জন্য জোডা রুটের নন-এসি সিটার বাসগুলি আদর্শ। এই রুটে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত বাস ছাড়ে এবং যাত্রা শেষ হয় সন্ধ্যায়। এই পরিষেবাটি বিশেষত কাছাকাছি দূরত্বের যাত্রীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। এই পথে নন-এসি বাসের ভাড়া ২৫০ টাকা থেকে শুরু হয়, যা অত্যন্ত সাশ্রয়ী। এই রুটটিও ওড়িশা জামশেদপুর বাস চলাচলের একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডর।
মনে রাখবেন: টিকিট বুকিং-এর কিছু টিপস
- অগ্রিম বুকিং: উৎসবের মরসুম বা সপ্তাহের শেষে টিকিট পাওয়া কঠিন হতে পারে, তাই অনলাইনে আগে থেকে টিকিট বুক করে রাখলে নিশ্চিত যাত্রা করা যায়।
- সময় যাচাই: বাস ছাড়ার নির্দিষ্ট সময় এবং ভাড়ার তথ্য অবশ্যই বুকিং প্ল্যাটফর্মে একবার যাচাই করে নেবেন।
- ড্রপিং পয়েন্ট: জামশেপুরে বাসের প্রধান গন্তব্যস্থল সাধারণত ‘ম্যাঙ্গো বাস স্ট্যান্ড’ (Mango Bus Stand) হয়ে থাকে।
ওড়িশা জামশেদপুর বাস: বিভিন্ন রুটের সংক্ষিপ্ত তালিকা
| প্রস্থান শহর (ওড়িশা) | যাত্রার সময়কাল (প্রায়) | বাসের প্রকারভেদ | ভ্রমণের গড় খরচ (আনুমানিক) |
| ভুবনেশ্বর | ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা | এসি সিটার/স্লিপার | ₹ ৬৫০ থেকে শুরু |
| বারিপাদা | ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা | এসি সিটার/স্লিপার | ₹ ৬৭০ থেকে শুরু |
| জোডা | ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা | নন-এসি সিটার | ₹ ২৫০ থেকে শুরু |
ভুবনেশ্বর থেকে জামশেদপুর বাসের বিস্তারিত সময়সূচী (উদাহরণ)
এই তালিকার সময়গুলি কেবল একটি উদাহরণ মাত্র। নির্দিষ্ট দিনের তথ্যের জন্য অনলাইন বুকিং প্ল্যাটফর্ম দেখুন।
Odisha to Tatanagar Bus Timetable উড়িষ্যা থেকে টাটানগর যাওয়ার বাসের সময়সূচী
| বাস অপারেটর | বাসের ধরন | ভুবনেশ্বর থেকে ছাড়ার সময় (প্রায়) | জামশেদপুরে পৌঁছনোর সময় (প্রায়) |
| Shankar Parwati Travels | এসি স্লিপার (২+১) | রাত ৯:৩০ টা | পরের দিন ভোর ৫:০০ টা |
| Mahalaxmi Bus | এসি সিটার/স্লিপার | রাত ৮:৩০ টা | পরের দিন ভোর ৫:০০ টা |
| Dolphin Tours & Travels | এসি সিটার/স্লিপার | সন্ধ্যা ৭:৩০ টা | পরের দিন ভোর ৫:০০ টা |
| Nilamadhab Travels | এসি স্লিপার (২+১) | রাত ৮:১৫ টা | পরের দিন ভোর ৫:০০ টা |
| Ashirwad Bus Service | এসি সিটার/স্লিপার | রাত ৯:০০ টা | পরের দিন ভোর ৫:০০ টা |
এই পরিষেবাগুলি আপনাকে আপনার সুবিধামত ওড়িশা জামশেদপুর বাস ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে সাহায্য করবে।
উড়িষ্যা থেকে টাটানগর যাওয়ার বাসের সময়সূচী সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য
উড়িষ্যা থেকে টাটানগর (জামশেদপুর) পৌঁছাতে সাধারণত কত সময় লাগে?
উড়িষ্যা থেকে টাটানগর যাওয়ার বাসের সময়সূচী প্রধানত নির্ভর করে আপনি কোন শহর থেকে যাত্রা করছেন তার উপর। যেমন, রাজধানী ভুবনেশ্বর থেকে যাত্রা করলে সাধারণত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা সময় লাগে। অন্যদিকে, বারিপাদা বা জোডা-এর মতো নিকটবর্তী শহরগুলি থেকে যাত্রা করলে মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টায় টাটানগর পৌঁছানো সম্ভব।
বারিপাদা থেকে টাটানগর যাওয়ার বাসের সময়সূচী কেমন এবং ভাড়া কত?
বারিপাদা থেকে টাটানগর যাওয়ার বাসের সময়সূচী সাধারণত রাতের দিকে নির্ধারিত থাকে। বেশিরভাগ বাসই রাত ১১:৫০ PM থেকে ১১:৫৫ PM এর মধ্যে ছাড়ে। এই রুটে সাধারণত এসি সিটার/স্লিপার (২+১) বাস পরিষেবা পাওয়া যায়। এই পথে ভ্রমণের গড় খরচ প্রায় ₹৬৭০ থেকে ₹৭৮৪ এর মধ্যে হয়ে থাকে। দ্রুত এবং আরামদায়ক যাত্রার জন্য এটি একটি ভালো বিকল্প।
ভুবনেশ্বর থেকে টাটানগর রুটে বাসের ভাড়া কত থেকে শুরু হয়?
ভুবনেশ্বর থেকে টাটানগরগামী বাসের টিকিট মূল্য ₹৬৫০ থেকে শুরু হয়। এই রুটে মূলত এসি স্লিপার বা সিটার বাসগুলি চলে। এই উড়িষ্যা থেকে টাটানগর যাওয়ার বাসের সময়সূচী দেখে আপনি আপনার বাজেট ও সময় অনুযায়ী যেকোনো অপারেটরের টিকিট বুক করতে পারেন।
জোডা থেকে কি দিনের বেলায় টাটানগর যাওয়ার বাস পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, উড়িষ্যার জোডা থেকে দিনের বেলায় টাটানগরগামী বাস পরিষেবা চালু আছে। যারা কম খরচে ভ্রমণ করতে চান, তাদের জন্য এই রুটে নন-এসি সিটার বাস পাওয়া যায়। জোডা থেকে যাত্রা করলে প্রায় ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার মধ্যে জামশেদপুর পৌঁছানো যায় এবং এর ভাড়া প্রায় ₹২৫০ থেকে শুরু হয়, যা অত্যন্ত সাশ্রয়ী।
টাটানগর ভ্রমণের জন্য বাস বনাম ট্রেন: কোনটি সুবিধাজনক?
অনেক যাত্রীই প্রশ্ন করেন যে টাটানগর যেতে বাস বা ট্রেনের মধ্যে কোনটি বেশি সুবিধাজনক। ট্রেন যদিও একটি আরামদায়ক বিকল্প, তবে অনেক সময় ভুবনেশ্বর, বারিপাদা বা জোডার মতো ছোট শহরগুলির স্টেশন থেকে সরাসরি জামশেদপুরগামী গণপরিবহন ব্যবস্থা খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। অন্যদিকে, বাসের সুবিধা হলো এটি শহরের প্রায় মূল কেন্দ্র বা বাসস্ট্যান্ড থেকে ছাড়ে এবং সরাসরি টাটানগরের ম্যাঙ্গো বাস স্ট্যান্ডে পৌঁছে দেয়। বিশেষ করে যখন আপনি নির্দিষ্ট গন্তব্যের কাছাকাছি পৌঁছতে চান, তখন ওড়িশা থেকে ইস্পাত নগরী পৌঁছানোর বাস ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়।
বাসের টিকিট বুকিং এবং আসন নির্বাচনের গুরুত্ব
আপনি যখন উড়িষ্যা থেকে টাটানগর যাওয়ার বাসের সময়সূচী দেখে টিকিট কাটবেন, তখন কিছু জিনিস মাথায় রাখা ভালো। রাতের যাত্রার জন্য স্লিপার বা এসি কোচগুলি বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। বাসের সামনের দিকে অর্থাৎ ড্রাইভারের কাছাকাছি আসনগুলি তুলনামূলকভাবে ঝাঁকুনি কম দেয়। তবে যদি আপনি এসি স্লিপার বাসে যাত্রা করেন, তবে উপরের বার্থ (Upper Berth) অধিক নিরাপদ ও ব্যক্তিগত স্থান নিশ্চিত করে। উৎসবের সময়ে সাধারণত টিকিটের দাম বাড়ে, তাই যাত্রা নিশ্চিত করতে কমপক্ষে এক সপ্তাহ আগে টাটানগরগামী বাসের আসন বুক করে রাখা উচিত।
যাত্রাপথে নিরাপত্তা এবং পরিষেবা সংক্রান্ত তথ্য
বর্তমানে বেশিরভাগ দূরপাল্লার বাসে যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পরিষেবা উপলব্ধ থাকে। অত্যাধুনিক বাসগুলিতে সিটের সঙ্গে চার্জিং পয়েন্ট, জলের বোতল এবং কম্বল/চাদর সরবরাহ করা হয় (বিশেষ করে এসি স্লিপার বাসে)। যদিও উড়িষ্যা থেকে টাটানগর পৌঁছানোর পরিবহন ব্যবস্থা বেশ উন্নত, তবুও যাত্রা শুরুর আগে আপনার মোবাইল ফোন এবং পাওয়ার ব্যাংক সম্পূর্ণরূপে চার্জ করে নিন। কোনো জরুরী পরিস্থিতিতে বাসের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য তাদের হেল্পলাইন নম্বর বাসের টিকিটে দেওয়া থাকে।
নিকটবর্তী শহরগুলিতে দ্রুত পৌঁছানোর সুবিধা
যদি আপনার চূড়ান্ত গন্তব্য টাটানগর না হয়ে তার কাছাকাছি কোনো স্থান হয়, তবে বাস আপনার জন্য আরও বেশি কার্যকরী হতে পারে। কারণ উড়িষ্যা থেকে টাটানগর যাওয়ার বাসের সময়সূচী প্রায়শই এমনভাবে সেট করা হয় যাতে বাসগুলি পথে ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন ছোট শহরেও বিরতি দেয়। বারিপাদা থেকে যাত্রা শুরু করলে কম সময়ে জামশেদপুরের আশেপাশে অবস্থিত শিল্পাঞ্চলগুলিতে সহজে পৌঁছে যাওয়া যায়, যা অন্য কোনো পরিবহন ব্যবস্থায় এত সহজে সম্ভব নাও হতে পারে। সামগ্রিকভাবে, এই পরিষেবা যাত্রীদের সময় ও খরচ দুটোই বাঁচায়।





