প্রতি মাসে উত্তরবঙ্গে আসব, পর্যটক হিসেবে নয়! দার্জিলিং সফরে বিরাট ঘোষণা শুভেন্দু অধিকারীর

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে বিরাট ঘোষণা শুভেন্দু অধিকারীর। প্রতি মাসে উত্তরবঙ্গ সফর, AIIMS, IIT তৈরি এবং GTA দুর্নীতির তদন্ত নিয়ে কী বললেন তিনি? জানুন বিস্তারিত।

নিজস্ব প্রতিবেদন: “প্রতি মাসে উত্তরবঙ্গে আসব, পর্যটক হিসেবে নয়”: দার্জিলিং সফরে বিরাট প্রতিশ্রুতি মুখ্যমন্ত্রীর

​রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এই প্রথমবার উত্তরবঙ্গ সফরে গেলেন শুভেন্দু অধিকারী। আর প্রথম সফরেই উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক বার্তা এবং কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করলেন তিনি। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, “আমি প্রতি মাসে উত্তরবঙ্গে আসব। এখানে পর্যটক হিসেবে নয়, কাজ করতে আসব।” মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর থেকেই পাহাড় থেকে সমতল—গোটা উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক উন্মাদনা সৃষ্টি হয়েছে। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরের খুঁটিনাটি এবং তাঁর দেওয়া মেগা প্রতিশ্রুতিগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

প্রতি মাসে উত্তরবঙ্গ সফর এবং উত্তরকন্যা সচল করার কড়া নির্দেশ

​নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রশাসনের কাজে গতি আনতে মরিয়া মুখ্যমন্ত্রী। শিলিগুড়িতে দাঁড়িয়ে তিনি জানান যে, উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের কাজ আর কোনোভাবেই থমকে থাকবে না। তিনি নিজে এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা প্রতি মাসে একবার করে উত্তরবঙ্গ সফরে আসবেন। শুধু তাই নয়, শিলিগুড়িতে অবস্থিত উত্তরকন্যা (মিনি সচিবালয়)-কে এবার পুরোপুরি সচল করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যে, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে অন্তত এক দিন সারাদিনের জন্য উত্তরকন্যায় বসবেন।

মন্ত্রীর রুটিন এবং সাধারণ মানুষের সুবিধা

​উত্তরকন্যায় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রীর কাজের একটি সুনির্দিষ্ট সময়সূচিও বেঁধে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যাতে সাধারণ মানুষের কোনো কাজে হয়রানি না হয়, তার জন্য এই নিশ্ছিদ্র রুটিন তৈরি করা হয়েছে:

  • সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা: সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনা হবে।
  • বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা: প্রশাসনিক কাজের পর্যালোচনা বা রিভিউ মিটিং (Review Meeting) করা হবে।
  • দুপুর ২টো থেকে বিকেল ৪টে: এলাকার সমস্ত বিধায়ক এবং সাংসদদের সাথে বৈঠক করে সরকারি প্রকল্পগুলোর সঠিক রূপায়ণ নিশ্চিত করা হবে।

বিজেপির ‘সংকল্প পত্র’ এবং উত্তরবঙ্গের জন্য বিরাট উপহার

​বিগত ১৭ বছর ধরে উত্তরবঙ্গের মানুষ যেভাবে বিজেপিকে দু’হাত ভরে আশীর্বাদ করেছে, তার ঋণ শোধ করার পালা এখন শুরু হলো বলে জানান শুভেন্দু অধিকারী। ২০০৯ সালে দার্জিলিং লোকসভা আসন জয়ের মাধ্যমে যে সফর শুরু হয়েছিল, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের ৫৪টি আসনের মধ্যে ৪২টিতে বিজেপির বিপুল জয় সেই আস্থারই চূড়ান্ত প্রমাণ। নির্বাচনের আগে বিজেপির ইশতেহার বা ‘সংকল্প পত্রে’ উত্তরবঙ্গের জন্য যে সমস্ত মেগা প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে জানিয়েছেন।

প্রস্তাবিত প্রকল্প / প্রতিষ্ঠানমুখ্যমন্ত্রীর বড় ঘোষণা
কারিগরি শিক্ষা (Technical)উত্তরবঙ্গে একটি অত্যাধুনিক আইআইটি (IIT) স্থাপন করা হবে।
উচ্চশিক্ষা (Management)উত্তরবঙ্গেই একটি ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট (IIM) তৈরি হবে।
স্বাস্থ্য পরিষেবামানুষের উন্নত চিকিৎসার জন্য একটি এইমস (AIIMS) নির্মাণ করা হবে।
ক্যান্সার হাসপাতালমারণ রোগের চিকিৎসার জন্য আলাদা একটি বিশেষ ক্যান্সার হাসপাতাল তৈরি হবে।

জিটিএ (GTA) দুর্নীতি নিয়ে চরম হুঁশিয়ারি

​উন্নয়নের পাশাপাশি দার্জিলিংয়ের গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (GTA)-এর দুর্নীতি নিয়েও চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, গত কয়েক বছরে জিটিএ-তে যে বিপুল পরিমাণ আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হবে এবং দোষীদের কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না। পাহাড়ের মানুষের টাকা যারা আত্মসাৎ করেছে, তাদের প্রত্যেককে কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

পরিশেষে: নতুন সরকারের অভিনব উদ্যোগ এবং পাহাড়ের মানুষের প্রত্যাশা

​মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রথম উত্তরবঙ্গ সফর প্রমাণ করে দিল যে, নতুন সরকার রাজ্যের উত্তর এবং দক্ষিণের মধ্যে কোনো বৈষম্য রাখতে রাজি নয়। একদিকে যেমন আইআইটি এবং এইমস-এর মতো জাতীয় স্তরের প্রতিষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে, “প্রতি মাসে উত্তরবঙ্গে আসব” – মুখ্যমন্ত্রীর এই একটি মাত্র কথা সাধারণ মানুষের মনে বিরাট ভরসা জাগিয়েছে। আগামী দিনে এই প্রতিশ্রুতিগুলো কীভাবে বাস্তবের মাটিতে রূপায়িত হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Created with ❤