Yuva Sathi Status Check Online: বেকার যুবক-যুবতীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন উদ্যোগ যুব সাথী প্রকল্প নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। সম্প্রতি অনলাইনে এবং দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে এই প্রকল্পের ফর্ম জমা দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে জোরকদমে। যারা ইতিমধ্যেই আবেদন করে ফেলেছেন, তাদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন যে ফর্মটি গ্রহণ করা হলো নাকি বাতিল হলো। এই বিভ্রান্তি দূর করতেই প্রশাসনের তরফ থেকে অনলাইনে যুব সাথী স্ট্যাটাস চেক করার সুবিধা চালু করা হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ কোনো হয়রানি ছাড়াই বাড়িতে বসে নিজেদের মোবাইল থেকেই জেনে নিতে পারবেন তাদের ফর্মের বর্তমান অবস্থা।
বাড়িতে বসে নিজের মোবাইল থেকে খুব সহজেই যুব সাথী স্ট্যাটাস চেক করার সম্পূর্ণ পদ্ধতি
রাজ্য সরকারের এই নতুন প্রকল্পে বহু মানুষ আবেদন করেছেন। তাই ফর্ম জমা দেওয়ার পর অনেকেই চিন্তায় থাকেন যে তাদের আবেদনটি আদৌ গৃহীত হয়েছে কিনা। এই চিন্তা দূর করতে আপনারা খুব সহজেই আপনাদের অ্যাপ্লিকেশন স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন। সরকারি পোর্টালে গিয়ে কয়েকটি সহজ ধাপ অনুসরণ করলেই আপনারা আপনাদের ফর্মের বর্তমান পরিস্থিতি জানতে পারবেন। এর জন্য কোনো সাইবার ক্যাফেতে যাওয়ার প্রয়োজন নেই বা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ানোর দরকার পড়বে না।
কোন ওয়েবসাইটে গিয়ে কিভাবে নিজের আবেদনের অবস্থা যাচাই করবেন
আপনাদের সুবিধার্থে নিচে ধাপে ধাপে স্ট্যাটাস দেখার নিয়ম আলোচনা করা হলো। এই পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করলে আপনারা খুব সহজেই আপনাদের আবেদনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারবেন:
- প্রথমে আপনাদের রাজ্যের নির্দিষ্ট সরকারি পোর্টাল (apas.wb.gov.in) ভিজিট করতে হবে।
- এরপর ওয়েবসাইটের হোমপেজ থেকে ‘বাংলার যুবসাথী’ ট্যাবে ক্লিক করতে হবে।
- সেখানে থাকা নির্দিষ্ট অপশনে গিয়ে নিজের মোবাইল নম্বর এবং স্ক্রিনে দেখানো ক্যাপচা কোডটি সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে।
- সবশেষে ওটিপি (OTP) বা গোপন পিন ভেরিফাই করলেই আপনার আবেদনপত্র যাচাইয়ের অবস্থা স্ক্রিনে ভেসে উঠবে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই নতুন প্রকল্পে অনলাইনে যুব সাথী স্ট্যাটাস চেক করার গুরুত্ব কতটা
বর্তমান ডিজিটাল যুগে যেকোনো সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। তাই ফর্ম জমা দেওয়ার পর নিয়মিত প্রকল্পের স্ট্যাটাস দেখা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এর ফলে আবেদনকারীরা জানতে পারেন তাদের ফর্মটি কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং কোনো তথ্যের ঘাটতি থাকলে তা সময়মতো সংশোধন করার সুযোগও পাওয়া যায়। এটি সরকারি কাজের গতি বুঝতেও সাহায্য করে।
ফর্মের স্ট্যাটাস জানার জন্য কোন কোন জরুরি তথ্য হাতের কাছে রাখা দরকার
অনলাইনে স্ট্যাটাস দেখার সময় কিছু প্রাথমিক জিনিস আপনাদের হাতের কাছে রাখতে হবে। মূলত আবেদন করার সময় আপনারা যে মোবাইল নম্বরটি ব্যবহার করেছিলেন, সেটি সবথেকে বেশি প্রয়োজন। কারণ ওই নম্বরেই ভেরিফিকেশনের জন্য ওটিপি আসবে। তাই ভাতার আবেদন চেক করার সময় নিজের রেজিস্টার্ড মোবাইলটি কাছে রাখা বাধ্যতামূলক।
রাজ্যের বেকারদের জন্য চালু হওয়া এই প্রকল্পের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এক নজরে
যারা এখনও আবেদন করেননি বা এই প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না, তাদের সুবিধার্থে নিচে একটি টেবিলের মাধ্যমে প্রকল্পের মূল বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো। ফর্মের স্ট্যাটাস জানা যতটা জরুরি, প্রকল্পের নিয়মকানুন সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকাও ততটাই দরকার।
| প্রকল্পের নিয়মাবলী | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| মাসিক আর্থিক সহায়তা | প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা |
| সুবিধা পাওয়ার মেয়াদ | চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত (সর্বোচ্চ ৫ বছর) |
| বয়সসীমা | ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে |
| শিক্ষাগত যোগ্যতা | ন্যূনতম মাধ্যমিক বা সমতুল্য পরীক্ষায় পাশ |
| টাকা দেওয়ার শুরুর সময় | ১ এপ্রিল, ২০২৬ থেকে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে |
আবেদনপত্রে যে মারাত্মক ভুলগুলো করলে ফর্ম বাতিল হতে পারে এবং টাকা পাবেন না
অনেকেই তাড়াহুড়ো করে ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে এমন কিছু ভুল করে ফেলেন যার ফলে তাদের আবেদন সরাসরি বাতিল হয়ে যায়। এই কারণেই অনলাইনে আবেদনের পরিস্থিতি যাচাই করা এতটা প্রয়োজন। অনেকেই ফর্মে শুধুমাত্র একটি ছবি লাগিয়ে ছেড়ে দেন, কিন্তু ছবির ওপর এবং কাগজের ওপর মিলিয়ে আড়াআড়িভাবে নিজের সই (Self-attested) করতে ভুলে যান। এই ছোট ছোট ভুলের জন্য বড় মাশুল গুনতে হতে পারে।
নিচে কিছু সাধারণ ভুলের তালিকা দেওয়া হলো যা আবেদনকারীদের এড়িয়ে চলা উচিত:
- বাড়িয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতা লেখা (যেমন মাধ্যমিক পাশ করে বিএ পাশ লিখে দেওয়া)।
- নির্ধারিত বয়সসীমার (২১ থেকে ৪০ বছর) বাইরে গিয়ে ভুল তথ্য দিয়ে ফর্ম জমা দেওয়া।
- প্রয়োজনীয় নথিপত্র সঠিকভাবে আপলোড না করা।
- সেল্ফ ডিক্লারেশন বা স্বঘোষণাপত্রে টিক চিহ্ন না দিয়ে ফাইনাল সাবমিট করে দেওয়া।
দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে ফর্ম জমা দেওয়ার পর বাড়িতে বসে আবেদনের বর্তমান অবস্থা যাচাই করে নিশ্চিন্ত হন
অফলাইনে বা সরাসরি দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে যারা ফর্ম জমা করে এসেছেন, তাদের ক্ষেত্রেও কিন্তু অনলাইনে প্রকল্পের স্ট্যাটাস দেখা সম্ভব। পোর্টালে নিজের তথ্য দিয়ে লগইন করলেই বোঝা যাবে যে ক্যাম্পের আধিকারিকরা আপনার ফর্মটি সার্ভারে আপলোড করেছেন কিনা। যদি দেখেন যে আপনার ফর্মের বর্তমান পরিস্থিতি ‘পেন্ডিং’ দেখাচ্ছে, তবে কিছুদিন অপেক্ষা করে পুনরায় চেক করতে হবে।
কারা এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন এবং কাদের আবেদন কোনোভাবেই গ্রহণ করা হবে না
আপনাদের জেনে রাখা ভালো যে এই ভাতা রাজ্যের সমস্ত বেকারদের জন্য নয়। যারা ইতিমধ্যেই কোনো সামাজিক নিরাপত্তামূলক প্রকল্পের আওতায় রয়েছেন বা অন্য কোনো স্কলারশিপ পাচ্ছেন, তারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। তাই ফর্ম জমা দিলেও, যুব সাথী স্ট্যাটাস চেক করার সময় তারা দেখতে পাবেন যে তাদের আবেদনটি বাতিল করা হয়েছে। এই বিষয়টি আবেদন করার আগেই ভালোভাবে জেনে নেওয়া উচিত।
সঠিক যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা পেন্ডিং দেখালে কী করবেন
অনেক সময় সঠিক তথ্য দিয়ে আবেদন করার পরেও সার্ভারের সমস্যার কারণে বা ভেরিফিকেশনের দেরির জন্য অ্যাপ্লিকেশনের অবস্থা পেন্ডিং দেখাতে পারে। এক্ষেত্রে ধৈর্য ধরে কিছুদিন পর পর অনলাইনে স্ট্যাটাস দেখা চালিয়ে যেতে হবে। যদি দীর্ঘ সময় ধরে একই অবস্থা থাকে, তবে স্থানীয় ব্লক অফিস বা ক্যাম্পে গিয়ে যোগাযোগ করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাস্য প্রশ্নাবলী (FAQ)
১. আমি কি মোবাইল থেকে আমার ফর্মের স্ট্যাটাস জানা বা চেক করতে পারব?
হ্যাঁ, আপনারা খুব সহজেই আপনাদের স্মার্টফোন ব্যবহার করে সরকারি ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজের মোবাইল নম্বর এবং ওটিপি দিয়ে যুব সাথী স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন। এর জন্য কোনো কম্পিউটারের বা ল্যাপটপের প্রয়োজন নেই।
২. আবেদন করার কতদিন পর প্রকল্পের স্ট্যাটাস দেখা সম্ভব?
সাধারণত ফর্ম জমা দেওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই তা অনলাইনে আপডেট হয়ে যায়। তবে ক্যাম্পের ভিড়ের ওপর নির্ভর করে এই সময়সীমা একটু কমবেশি হতে পারে। আপনারা ফর্ম জমা দেওয়ার কিছুদিন পর থেকেই অ্যাপ্লিকেশন স্ট্যাটাস চেক করতে পারেন।
৩. যদি স্ট্যাটাসে আমার ফর্ম বাতিল দেখায়, তবে আমি কী করব?
যদি যুব সাথী স্ট্যাটাস চেক করার পর দেখেন যে আপনার আবেদন বাতিল হয়েছে, তবে বুঝতে হবে আপনার দেওয়া তথ্যে বা নথিতে কোনো ভুল ছিল। সেক্ষেত্রে কী কারণে বাতিল হলো তা জেনে পুনরায় সঠিক তথ্য দিয়ে আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে।
৪. অফলাইনে জমা দেওয়া ফর্মের আবেদনপত্র যাচাইয়ের অবস্থা কি অনলাইনে দেখা যাবে?
হ্যাঁ, আপনি দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে অফলাইনে ফর্ম জমা দিলেও, আধিকারিকরা সেটি অনলাইনে আপলোড করে দেন। তাই আপনি অনলাইনে পোর্টালে গিয়ে নিজের রেজিস্টার্ড নম্বর ব্যবহার করে যুব সাথী স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন।
আগামী ১ এপ্রিল থেকে টাকা ঢোকা শুরু হওয়ার আগে নিজের আবেদনের পরিস্থিতি নিশ্চিত করুন
যেহেতু আগামী ১ এপ্রিল, ২০২৬ থেকে সরাসরি যোগ্য প্রার্থীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১৫০০ টাকা করে পাঠানো শুরু হবে, তাই তার আগেই আপনাদের উচিত যুব সাথী স্ট্যাটাস চেক করে নেওয়া। যদি অ্যাকাউন্টের তথ্যে বা আধার লিঙ্কে কোনো সমস্যা থাকে, তবে তা আগেই সংশোধন করে নিতে হবে যাতে টাকা পাওয়ার সময় কোনো বাধা না আসে।








