নিজস্ব প্রতিবেদন, Bengal Job Study.in : নতুন আইডি কার্ড ব্যবস্থা নিয়ে এবার বড়সড় আপডেট দিল ভারতীয় রেলওয়ে বোর্ড। যাত্রী পরিষেবা আরও উন্নত করতে এবং রেলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে রেলের স্থায়ী কর্মী এবং চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের চেনা আরও সহজ হবে। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় পুরনো পরিচয়পত্র বদলে এবার স্মার্ট ও ডিজিটাল ফরম্যাটে এই পরিচয়পত্র তৈরি করার কাজ শুরু করেছে দফতর। এই পরিবর্তনের ফলে রেলের বিশাল কর্মীবাহিনীর ডেটাবেস ম্যানেজমেন্ট অনেক বেশি স্বচ্ছ ও সহজতর হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রেল কর্মীদের পরিচয় যাচাইয়ে স্বচ্ছতা আনতে আসছে নতুন আইডি কার্ড ব্যবস্থা
ভারতীয় রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কর্মচারী এবং ঠিকাদারদের অধীনে থাকা কর্মীদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াকে আরও নিখুঁত করতে নতুন আইডি কার্ড ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। অনেক সময়ই স্টেশনে বা ট্রেন চলাকালীন ভুয়ো পরিচয়পত্র ব্যবহার করে রেলের কাজে বিঘ্ন ঘটানোর খবর সামনে আসে। সেই সমস্ত কারচুপি রুখতেই এই কড়া পদক্ষেপ। রেলওয়ে বোর্ড ইতিমধ্যে এই প্রস্তাবের যাবতীয় পর্যালোচনা শেষ করেছে এবং ‘সেন্টার ফর রেলওয়ে ইনফরমেশন সিস্টেম’ (CRIS)-এর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা জারি করেছে। এর ফলে রেলের সুরক্ষা বলয় আরও এক ধাপ মজবুত হবে।
আধার ও মোবাইল নম্বর লিঙ্কিং: পরিচয়পত্রে থাকছে বড় চমক
নতুন এই পরিচয়পত্র তৈরির ক্ষেত্রে রেল বোর্ডের তরফ থেকে বেশ কিছু কড়া গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে। জোনাল রেলওয়ে এবং প্রোডাকশন ইউনিটগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে দ্রুত সমস্ত কর্মচারীদের তথ্য আপডেট করা হয়। এই ডিজিটাল ডাটাবেসে কর্মচারীর নাম, পদবীর পাশাপাশি আধার নম্বর ও মোবাইল নম্বর থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নতুন আইডি কার্ড ব্যবস্থা এর ফলে কোনো কর্মী অবসর নিলে বা বদলি হলে খুব সহজেই তাঁর কার্ডটি নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হবে। এটি মূলত একটি ডিজিটাল পরিচয়পত্র হিসেবে কাজ করবে যা রেলের হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকবে।
ছবির মাপ থেকে ব্যাকগ্রাউন্ড: নির্দেশিকায় যা যা বলা হয়েছে
পরিচয়পত্রের ছবির ক্ষেত্রেও বিশেষ নিয়ম আনা হয়েছে। রেলওয়ে বোর্ড জানিয়েছে যে, নতুন আইডি কার্ডে ছবি হতে হবে ঝকঝকে এবং সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের। ছবির মধ্যে মুখের অংশ অন্তত ৭০ শতাংশ থাকতে হবে যাতে সহজেই ব্যক্তিকে চেনা যায়। কোনো রকম অস্পষ্ট বা পুরনো ছবি ব্যবহার করা যাবে না। প্রযুক্তির মাধ্যমে যাতে ফেস রিকগনিশন বা অন্য কোনো ভেরিফিকেশনে সুবিধা হয়, সেই কারণেই এমন কড়াকড়ি। এই তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ হলেই প্রিন্টিং ও কার্ড বিতরণের কাজ শুরু হবে।
রেল কর্মচারীদের জন্য নতুন নির্দেশিকার বিশেষ দিকগুলি
রেল বোর্ডের নয়া পদক্ষেপে যে বিষয়গুলোর ওপর সবথেকে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে:
- ডেটা আপডেট: প্রতিটি কর্মীর আধার ও ব্যক্তিগত তথ্য নির্ভুলভাবে পোর্টালে আপলোড করতে হবে।
- সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের ছবি: পরিচয়পত্রের ছবি হতে হবে সাম্প্রতিক এবং নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে তোলা।
- চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের শনাক্তকরণ: স্থায়ী কর্মীদের পাশাপাশি কন্টিনজেন্ট বা চুক্তিভিত্তিক কর্মীদেরও এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।
- ডিজিটাল সিকিউরিটি: কিউআর কোড বা চিপ ভিত্তিক কার্ডের মাধ্যমে জাল পরিচয়পত্র ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করা।
রেল কর্মীদের তথ্য সংগ্রহের চেকলিস্ট
নিচে দেওয়া তালিকা অনুযায়ী কর্মীদের তথ্য আপডেট করার প্রক্রিয়া চলবে:
| প্রয়োজনীয় তথ্যের বিবরণ | বর্তমান অবস্থা | গুরুত্ব |
|---|---|---|
| আধার নম্বর ও মোবাইল | বাধ্যতামূলক করা হয়েছে | উচ্চ (ভেরিফিকেশনের জন্য) |
| সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড ছবি | ৭০% ফেস কভারেজ জরুরি | উচ্চ (শনাক্তকরণের জন্য) |
| পদবী ও বিভাগ | এইচআরএমএস (HRMS) সিস্টেমে আপডেট | মাঝারি (প্রশাসনিক কাজের জন্য) |
| কার্ডের ধরন | ডিজিটাল ও স্মার্ট ফরম্যাট | উচ্চ (সুরক্ষার জন্য) |
উপসংহার: আধুনিকতার পথে আরও এক ধাপ ভারতীয় রেল
পরিষেবাকে ডিজিটাল করার লক্ষ্যে এই নতুন আইডি কার্ড ব্যবস্থা একটি মাইলফলক হতে চলেছে। এর ফলে কেবল নিরাপত্তার উন্নতি হবে তাই নয়, রেলের প্রশাসনিক কাজেও গতি আসবে। রেলওয়ে বোর্ডের এই সিদ্ধান্তে কর্মীরাও খুশি, কারণ এর ফলে তাঁদের পেশাগত পরিচয় আরও শক্তিশালী হবে। তবে জোনাল অফিসগুলোকে দ্রুত তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ করার কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে যাতে খুব শীঘ্রই এই কার্ডগুলি বণ্টন করা যায়। সঠিক সময়ে তথ্য আপডেট না করলে ভবিষ্যতে কর্মীদের বেতন বা অন্যান্য সুবিধা পেতে যাতে অসুবিধা না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।



