নিজস্ব প্রতিবেদন, Bengal Job Study.in : ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজ নিয়ে ক্রিকেট প্রেমীদের প্রত্যাশা ছিল তুঙ্গে, কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসল কিউইরা। দীর্ঘ ৩৭ বছরের খরা কাটিয়ে ভারতের মাটি থেকেই ওয়ানডে ট্রফি ছিনিয়ে নিল নিউজিল্যান্ড। টেস্ট সিরিজে দাপট দেখানোর পর এবার সীমিত ওভারের ক্রিকেটেও টিম ইন্ডিয়াকে টেক্কা দিল তারা। সিরিজের নির্ণায়ক ম্যাচে ইন্দোরে ভারতকে ৪১ রানে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ পকেটে পুরল ব্ল্যাক ক্যাপসরা। বিরাট কোহলির দুর্দান্ত শতরানও শেষ রক্ষা করতে পারল না এই ম্যাচে।
৩৭ বছর পর ইতিহাস! ভারতের মাটিতে ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজ জয় কিউইদের
ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি একটি কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের কাছে ওয়ানডে সিরিজ হারার ঘটনা সচরাচর দেখা যায় না। কিন্তু রবিবার ইন্দোরের হোলকার স্টেডিয়ামে কিউইরা যা খেলল, তাতে টিম ইন্ডিয়ার সমস্ত পরিকল্পনা ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে। ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজ এর শেষ ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ড ৩৩৭ রানের বিশাল পাহাড় খাড়া করে। এই বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত শুরুতেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। যদিও বিরাট কোহলি এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু বাকিদের ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয় ভারতকে।
মিচেল ও ফিলিপসের ব্যাটিং তাণ্ডবে লন্ডভন্ড ভারতের বোলিং লাইনআপ
নিউজিল্যান্ডের জয়ের প্রধান কারিগর ছিলেন ড্যারিল মিচেল এবং গ্লেন ফিলিপস। শুরুতে দ্রুত কিছু উইকেট হারালেও এই দুই ব্যাটারের ২১৯ রানের বিধ্বংসী পার্টনারশিপ ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ড্যারিল মিচেল ভারতের বিপক্ষে তাঁর টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ১৩৭ রানের ইনিংস খেলেন। অন্যদিকে, গ্লেন ফিলিপস করেন ১০৬ রান। ভারতীয় বোলারদের পাড়ার স্তরে নামিয়ে এনে তাঁরা যেভাবে মাঠের চারদিকে শট খেললেন, তা দেখে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল গ্যালারি। এই বিশাল রানের চাপ শেষ পর্যন্ত ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজ এর ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
বিরাটের লড়াকু শতরান বৃথা গেল ইন্দোরে
ভারতের হয়ে পাল্টা লড়াই শুরু করেছিলেন ‘রান মেশিন’ বিরাট কোহলি। তিনি নিজের কেরিয়ারের ৫৪ তম ওয়ানডে শতরান পূর্ণ করেন। এক সময় মনে হচ্ছিল কোহলি হয়তো ম্যাচ জিতিয়েই ফিরবেন। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন নীতীশ কুমার রেড্ডি এবং বল হাতে নজর কাড়া হর্ষিত রানা। হর্ষিত ব্যাট হাতেও ঝোড়ো হাফ-সেঞ্চুরি করেন। কিন্তু কোহলি আউট হতেই ভারতের জয়ের আশা শেষ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ৪৬ ওভারে ২৯৬ রানেই অলআউট হয়ে যায় টিম ইন্ডিয়া। ফলে ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজ এর ট্রফি এখন কিউইদের দখলে।
একনজরে সিরিজের নির্ণায়ক ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ কিছু পয়েন্ট
নিচে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের এই ঐতিহাসিক লড়াইয়ের মূল কারণগুলো তুলে ধরা হলো:
- বিশাল পার্টনারশিপ: মিচেল ও ফিলিপসের ২১৯ রানের জুটিই ভারতকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়।
- টপ অর্ডার ব্যর্থতা: ভারতের প্রথম সারির ব্যাটাররা মাত্র ৭১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে।
- কোহলির নিঃসঙ্গ লড়াই: বিরাট একা হাতে লড়াই করলেও অন্য প্রান্ত থেকে কাঙ্ক্ষিত সাহায্য পাননি।
- কিউইদের শক্তিশালী বোলিং: নিউজিল্যান্ডের বোলাররা নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ভারতীয় ব্যাটারদের ওপর চাপ বজায় রাখেন।
ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজ: তৃতীয় ম্যাচের স্কোরকার্ড বিশ্লেষণ
| বিভাগ | নিউজিল্যান্ড (ব্যাটসম্যান) | ভারত (বোলার/ব্যাটসম্যান) |
|---|---|---|
| সর্বোচ্চ রান | ড্যারিল মিচেল (১৩৭) | বিরাট কোহলি (১০১+) |
| বোলিং সাফল্য | ক্রিশ্চিয়ান ক্লার্ক (৩ উইকেট) | হর্ষিত রানা (৩ উইকেট) |
| দলীয় মোট | ৩৩৭/৮ (৫০ ওভার) | ২৯৬ (৪৬ ওভার) |
| ফল | ৪১ রানে জয়ী নিউজিল্যান্ড | ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হার ভারতের |
কেন ঘরের মাঠে ধরাশায়ী হলো টিম ইন্ডিয়া?
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং নিউজিল্যান্ডের পরিকল্পনার কাছেই হারতে হয়েছে ভারতকে। ভারত সফরে এসে কিউইরা যেভাবে একের পর এক জয় তুলে নিচ্ছে, তাতে ভারতীয় ক্রিকেট মহলে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজ খোয়ানোটা কেবল একটি হার নয়, বরং ভারতীয় দলের দুর্বলতাগুলোও আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। বিশেষ করে মিডল অর্ডারের ধারাবাহিকতার অভাব এবং ডেথ ওভারে বোলারদের ব্যর্থতা ভাবিয়ে তুলছে কোচ ও ম্যানেজমেন্টকে। আগামী দিনে আইসিসি ইভেন্টগুলোর আগে এই ভুলগুলো শুধরে নেওয়া জরুরি।





