Yuba Sathi Prakalpa 2026 যুবসাথী প্রকল্প ২০২৬: রাজ্যের শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য এক বিরাট সুখবর নিয়ে এল রাজ্য সরকার। এবার থেকে প্রতি মাসের নির্ধারিত ভাতার পাশাপাশি এককালীন ৬০০০ টাকা পাওয়ার এক নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই নতুন প্রকল্পের আওতায় কারা এই টাকা পাবেন এবং কীভাবে আবেদন করবেন, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহের কোনো শেষ নেই। চলুন বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক এই নতুন নিয়মের খুঁটিনাটি।
এক নজরে
শিক্ষিত বেকারদের জন্য রাজ্য সরকারের নতুন উদ্যোগ এবং যুবসাথী প্রকল্প ২০২৬-এর বিস্তারিত রূপরেখা
রাজ্য সরকারের এই নতুন উদ্যোগটি নিয়ে ইতিমধ্যেই দিকে দিকে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে যারা চাকরির সন্ধানে রয়েছেন কিন্তু এখনও সাফল্যের মুখ দেখেননি, মূলত তাদের কথা মাথায় রেখেই এই যুব সহায়তা স্কিমটি তৈরি করা হয়েছে। রাজ্যের বেকার ছেলেমেয়েদের নিজের পায়ে দাঁড়াতে এবং চাকরির প্রস্তুতি নিতে যাতে আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন না হতে হয়, সেই লক্ষ্যেই সরকার এই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই বিশেষ যুব কল্যাণ স্কিমের মাধ্যমে সরকার চেষ্টা করছে রাজ্যের তরুণ প্রজন্মকে আর্থিকভাবে একটু স্বস্তি দিতে। এই যুবসাথী প্রকল্প ২০২৬-এর অধীনে যোগ্য প্রার্থীরা এখন থেকে নিয়মিত আর্থিক সাহায্য পাবেন, যা তাদের আগামী দিনের জীবন সংগ্রামের লড়াইয়ে অনেকটাই রসদ জোগাবে বলে মনে করা হচ্ছে। যারা এতদিন ধরে চাকরির পরীক্ষার জন্য বইপত্র কেনার টাকা জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছিলেন, তাদের জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
প্রতি মাসে ১৫০০ টাকার পাশাপাশি কীভাবে এককালীন ৬০০০ টাকা পাওয়ার বিরাট সুযোগ থাকছে?
আমরা সকলেই জানি যে, রাজ্য সরকারের বেকার ভাতা প্রকল্পের আওতায় আগে থেকেই মাসে মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দেওয়া হতো। এবার সেই নিয়মে একটি বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং সুবিধা আরও বাড়ানো হয়েছে। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, যোগ্য প্রার্থীরা এখন থেকে প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে আর্থিক সাহায্য পাবেন। তবে সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে বড় চমক হলো এককালীন ৬০০০ টাকা পাওয়ার এই নতুন খবরটি।
সরকারি সূত্র এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে যে, কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে পারলেই প্রার্থীরা একসঙ্গে এই ৬০০০ টাকার সুবিধা লাভ করতে পারবেন। হয়তো গত কয়েক মাসের বকেয়া টাকা একসঙ্গে দেওয়ার ফলে এই অংকটি ৬০০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে, অথবা সরকার বিশেষ কোনো এককালীন অনুদান হিসেবে এই অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই বেকার যুবকদের আর্থিক সাহায্য পাওয়ার জন্য সরকার যে সমস্ত কড়া শর্ত বেঁধে দিয়েছে, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করাটা প্রত্যেক আবেদনকারীর জন্য বাধ্যতামূলক। এই যুবসাথী প্রকল্প ২০২৬ রাজ্যের বেকারদের মুখে যে নতুন করে হাসি ফোটাবে, তা আর আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না।
| সুবিধার ধরন | টাকার পরিমাণ | কাদের জন্য এই সুবিধাটি প্রযোজ্য |
|---|---|---|
| মাসিক ভাতা | ১৫০০ টাকা | সকল যোগ্য এবং নথিভুক্ত বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য |
| এককালীন অনুদান | ৬০০০ টাকা | নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা বিশেষ এবং যোগ্য প্রার্থীদের জন্য |
| আবেদনের মাধ্যম | সম্পূর্ণ অনলাইন | রাজ্যের সমস্ত আগ্রহী বেকার কর্মপ্রার্থীদের জন্য |
কারা কারা এই বিশেষ আর্থিক সুবিধা বা অনুদান পাওয়ার সম্পূর্ণ যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন?
যেকোনো সরকারি সুযোগ সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেই কিছু নির্দিষ্ট নিয়মকানুন থাকে, আর এই যুব উন্নয়ন প্রকল্পটিও তার একেবারেই ব্যতিক্রম নয়। কারা এই ৬০০০ টাকা একসঙ্গে পাবেন, সে বিষয়ে রাজ্য সরকার খুব সুস্পষ্ট কিছু শর্ত বেঁধে দিয়েছে। প্রথমত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের একজন স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। ভিন রাজ্যের কোনো ব্যক্তি এই রাজ্য সরকারের আর্থিক সহায়তা প্রকল্প থেকে কোনোভাবেই সুবিধা নিতে পারবেন না।
দ্বিতীয়ত, আবেদনকারীর একটি নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে এবং তাকে এমপ্লয়মেন্ট ব্যাঙ্কে বা সরকারের নির্দিষ্ট পোর্টালে নিজের নাম আগে থেকেই নথিভুক্ত করে রাখতে হবে। যাদের পরিবারের বার্ষিক আয় একটি নির্দিষ্ট সীমার নিচে, মূলত তারাই এই বেকারদের জন্য অনুদান থেকে সবথেকে বেশি লাভবান হবেন বলে জানানো হয়েছে।
নিচে যোগ্যতা অর্জনের কিছু প্রধান এবং আবশ্যিক শর্তের তালিকা দেওয়া হলো:
- প্রার্থীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং তার কাছে রাজ্যের ঠিকানার বৈধ পরিচয়পত্র থাকতে হবে।
- নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন হতে হবে (যেমন মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক পাশ)।
- আবেদনকারীকে বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে বেকার হতে হবে এবং তিনি কোনো সরকারি বা বেসরকারি স্থায়ী চাকরিতে যুক্ত থাকতে পারবেন না।
- পরিবারে অন্য কোনো সদস্য যদি এই একই অনুদান পেয়ে থাকেন, তবে তা প্রার্থীর আবেদনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
যুবসাথী প্রকল্প ২০২৬ আসলে কী এবং এর পেছনের মূল উদ্দেশ্য কী?
এটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি সম্পূর্ণ নতুন কর্মসংস্থান উদ্যোগ, যার মাধ্যমে রাজ্যের শিক্ষিত অথচ বেকার যুবক-যুবতীদের আর্থিকভাবে সাহায্য করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বেকারদের হাতখরচ এবং বিভিন্ন চাকরির প্রস্তুতির খরচ জোগানো, যাতে তারা আর্থিক অভাবে কোনোভাবেই পিছিয়ে না পড়ে এবং নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারে।
কীভাবে একজন প্রার্থী একসঙ্গে ৬০০০ টাকা পাওয়ার যোগ্য হবেন?
সরকারের বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট কিছু শর্ত এবং নিয়মকানুন পূরণ করতে পারলেই এই টাকা একসঙ্গে পাওয়া সম্ভব। যারা নিয়মিত নিয়ম মেনে পোর্টালে নিজেদের স্ট্যাটাস আপডেট রাখবেন এবং সরকারের সমস্ত মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হবেন, তারাই মূলত এই শিক্ষিত বেকারদের অনুদান হিসেবে এককালীন ৬০০০ টাকা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
এই স্কিমের জন্য কি পঞ্চায়েত বা বিডিও অফিসে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ফর্ম জমা দিতে হবে?
একেবারেই নয়। রাজ্য সরকার পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে এই স্কিমের জন্য রোদে পুড়ে আর লাইনে দাঁড়ানোর কোনো প্রয়োজন নেই। সম্পূর্ণ আবেদন প্রক্রিয়াটি এখন অনলাইনে নির্দিষ্ট সরকারি পোর্টালের মাধ্যমে করা সম্ভব, যা প্রার্থীদের হয়রানি এবং সময়ের অপচয় অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে।
এই যুব সহায়তা স্কিমে সফলভাবে আবেদন করার জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র
যেহেতু এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি এখন অনলাইনে সম্পন্ন হবে, তাই আবেদন করার সময় কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস বা নথিপত্র হাতের কাছে রাখা জরুরি। সঠিক নথিপত্র আপলোড না করলে আপনার যুবসাথী প্রকল্প ২০২৬-এর আবেদনটি সরাসরি বাতিল বলে গণ্য হতে পারে। তাই অনলাইনে বসবার আগে সব প্রয়োজনীয় কাগজ পরিষ্কারভাবে স্ক্যান করে রেডি রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
আবেদন করতে গেলে মূলত আবেদনকারীর পরিচয় এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার অকাট্য প্রমাণ চাওয়া হয়। আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, এবং বয়সের প্রমাণপত্র হিসেবে বার্থ সার্টিফিকেট বা মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড অবশ্যই আপনার সাথে রাখতে হবে। এর পাশাপাশি নিজের নামের একটি সচল ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সম্পূর্ণ ডিটেইলস দেওয়াটা বাধ্যতামূলক, কারণ রাজ্য সরকারের নতুন ভাতা কোনো নগদ অর্থে নয়, সরাসরি ওই ব্যাংক অ্যাকাউন্টেই জমা হবে।
আবেদনের সময় যে সমস্ত নথিপত্র স্ক্যান করে পোর্টালে আপলোড করতে হবে, তার একটি বিস্তারিত তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
১. প্রার্থীর নিজের বৈধ আধার কার্ড এবং ভোটার আইডি কার্ডের এপিঠ-ওপিঠ স্ক্যান কপি।
২. শেষ যে পরীক্ষায় আপনি পাশ করেছেন তার ফাইনাল মার্কশিট এবং পাসিং সার্টিফিকেট।
৩. ব্যাংকের পাসবইয়ের প্রথম পাতার স্পষ্ট ছবি, যেখানে আপনার অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং ব্যাঙ্কের IFSC কোড পরিষ্কার বোঝা যায়।
৪. পাসপোর্ট সাইজের একটি সাম্প্রতিক রঙিন ছবি এবং প্রার্থীর নিজস্ব চালু মোবাইল নম্বর ও ইমেইল আইডি।
অনলাইনে ফর্ম ফিলআপ করার সম্পূর্ণ পদ্ধতি এবং আবেদনকারীদের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা
প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে সরকারি কাজকর্মেও এখন অনেক বেশি গতি এসেছে। এখন আর কোনো ভাতা বা অনুদানের ফর্ম ফিলাপ করার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা সরকারি দপ্তরে গিয়ে অপেক্ষা করতে হয় না। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই রাজ্য সরকারের কর্মসংস্থান অনুদান স্কিমের সম্পূর্ণ ফর্ম ফিলআপ প্রক্রিয়া এখন অনলাইনে বাড়িতে বসেই নিজের স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের সাহায্যে করা সম্ভব।
এর জন্য আপনাকে প্রথমেই রাজ্য সরকারের নির্দিষ্ট অফিশিয়াল পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। ওয়েবসাইটে ঢোকার পর ‘নতুন আবেদন’ বা ‘New Registration’ অপশনে গিয়ে নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে প্রাথমিক রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন হয়ে গেলে একটি নির্দিষ্ট ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড তৈরি হবে, যা দিয়ে পুনরায় লগ ইন করে আপনাকে মূল ফর্মে ঢুকতে হবে। এরপর নিজের নাম, ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অন্যান্য সমস্ত তথ্য নির্ভুলভাবে ওই ফর্মে পূরণ করতে হবে।
কোনোভাবেই যেন বানানে বা তথ্যে বিন্দুমাত্র ভুল না থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। সবশেষে নির্দিষ্ট সাইজে স্ক্যান করা ডকুমেন্টসগুলো আপলোড করে ফর্মটি ফাইনাল সাবমিট করে দিলেই আপনার যুবসাথী প্রকল্প ২০২৬-এর সম্পূর্ণ আবেদন প্রক্রিয়াটি শেষ হবে। আবেদন জমা দেওয়ার পর পোর্টাল থেকে একটি অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ দেওয়া হবে, যা ভবিষ্যতের রেফারেন্সের জন্য অবশ্যই প্রিন্ট করে নিজের কাছে সযত্নে রেখে দেবেন।
উপসংহার এবং আগামী দিনে রাজ্য সরকারের কর্মসংস্থান উদ্যোগের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
সবশেষে এটা নির্দ্বিধায় বলাই যায় যে, রাজ্যের হাজার হাজার বেকার এবং হতাশ যুবক-যুবতীর কাছে এই যুবসাথী প্রকল্প ২০২৬ যেন মরুভূমিতে এক পশলা স্বস্তির বৃষ্টির মতো। প্রতি মাসে ১৫০০ টাকার পাশাপাশি বিশেষ শর্তসাপেক্ষে এককালীন ৬০০০ টাকা পাওয়ার এই সরকারি ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যের যুবসমাজের মধ্যে একটা খুশির আমেজ তৈরি হয়েছে।
রাজ্য সরকার যেভাবে সাধারণ মানুষের কথা ভেবে একের পর এক প্রকল্প নিয়ে আসছে, তাতে এটা স্পষ্ট যে তারা রাজ্যের বেকারত্ব দূরীকরণে বেশ সচেষ্ট এবং আন্তরিক। আগামী দিনে এই ধরনের বেকারদের জন্য অনুদান স্কিমগুলি আরও বেশি করে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে এবং রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা যাচ্ছে। যারা এখনও পর্যন্ত এই প্রকল্পের সুযোগ নেননি, তারা আর দেরি না করে সরকারের বেঁধে দেওয়া নিয়ম মেনে খুব তাড়াতাড়ি অনলাইনে নিজেদের আবেদন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করে ফেলুন।













