সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ মেটাতে পারে রাজ্য সরকার: বিধানসভা ভোটের আগেই বড় চমকের সম্ভাবনা!

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় খবর! বিধানসভা ভোটের আগেই কি মিটতে চলেছে দীর্ঘদিনের বকেয়া ডিএ-র দাবি? নবান্ন সূত্রে মিলছে বিশেষ ইঙ্গিত। জেনে নিন কবে নাগাদ মিলতে পারে বর্ধিত মহার্ঘ ভাতা এবং কত শতাংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ (West Bengal State Govt Employees Pending DA Update): রাজ্য প্রশাসনের অন্দরে কান পাতলেই এখন একটিই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে— মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ। দীর্ঘ সময় ধরে বাংলার সরকারি কর্মীরা কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘ ভাতার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। বিশেষ করে বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই এই দাবি জোরালো হচ্ছে। নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই রাজ্য সরকার কর্মীদের জন্য বড় কোনো ঘোষণা করতে পারে। এতে করে ভোটের আগে কর্মীদের ক্ষোভ প্রশমন করার একটি প্রচেষ্টা থাকবে সরকারের তরফ থেকে।

​ডিএ নিয়ে রাজ্য সরকারের নতুন পরিকল্পনা কী?

​পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দপ্তর সূত্রে জানা যাচ্ছে, আগামী বিধানসভা ভোটের দামামা বাজার আগেই সরকারি কর্মীদের পকেটে বাড়তি টাকা ঢোকানোর তোড়জোড় চলছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের তুলনায় রাজ্যের কর্মীরা অনেকটা পিছিয়ে আছেন। এই ব্যবধান কমাতেই সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ মেটানোর ব্যাপারে ইতিবাচক আলোচনা শুরু হয়েছে শীর্ষ স্তরে।

​মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই বলে এসেছেন যে, কেন্দ্রের মতো আর্থিক সংস্থান রাজ্যের নেই। তবুও সীমিত সাধ্যের মধ্যে উৎসবের মরসুম বা বিশেষ সময়ে সরকার মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধি করেছে। এবারও সেই ধারাই বজায় থাকতে পারে। তবে সূত্রের খবর, এবার শতাংশের হিসেবটা আগের তুলনায় কিছুটা বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

​কেন ভোটের আগে ডিএ ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ?

​রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। আর যেকোনো নির্বাচনে সরকারি কর্মচারীদের একটা বড় ভূমিকা থাকে। তাই তাদের অসন্তোষ নিয়ে ভোটের ময়দানে নামা শাসক দলের জন্য কিছুটা চাপের হতে পারে। রাজ্য কর্মীদের পাওনা মহার্ঘ ভাতা নিয়ে বিরোধী দলগুলোও লাগাতার প্রচার চালাচ্ছে।

​এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে রাজ্য বাজেটের আগেই ডিএ-র ঘোষণা আসতে পারে। যদি এটি কার্যকর হয়, তবে কয়েক লক্ষ কর্মরত এবং অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী সরাসরি উপকৃত হবেন। তাদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতার কিছুটা অন্তত মিটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

​কত শতাংশ ডিএ বাড়তে পারে এই দফায়?

​সবাই এখন অঙ্ক কষছেন ঠিক কত শতাংশ ডিএ বাড়তে পারে। নবান্নের একটি সূত্র বলছে, সরকার এককালীন ৩ থেকে ৪ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধি করার কথা ভাবছে। যদিও কর্মীদের দাবি আরও অনেক বেশি, তবুও এই টালমাটাল অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ৩ শতাংশ বৃদ্ধিও বড় স্বস্তি দেবে। সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত ফাইলটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে।

​পাওনা ডিএ নিয়ে মামলা আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। এই অবস্থায় আদালতের নির্দেশের আগেই যদি সরকার নিজে থেকে কিছুটা মহার্ঘ ভাতা বাড়িয়ে দেয়, তবে আইনি জটিলতাও কিছুটা কমবে। কর্মীদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার ধাপে ধাপে বকেয়া মেটানোর পথে হাঁটতে পারে।

​উৎসবের আগে কি মিলবে সুখবর?

​সাধারণত রাজ্য সরকার বড় কোনো ঘোষণা উৎসবের আবহে বা বছরের শুরুতে করে থাকে। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তাই আগামী মাসগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নবান্ন সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারা ইতিমধ্যেই তহবিলের হিসেব নিকেশ শুরু করেছেন। যাতে রাজ্য সরকারি কর্মীদের প্রাপ্য ডিএ দিতে গিয়ে অন্য প্রকল্পে টান না পড়ে।

​রাজ্য বাজেটে এই বিষয়ে বিশেষ বরাদ্দের কথা উল্লেখ থাকতে পারে। কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকার হয়তো শীঘ্রই কোনো বিজ্ঞপ্তি জারি করবে। যদি এটি বাস্তবায়িত হয়, তবে মধ্যবিত্ত সরকারি পরিবারগুলোর জন্য এটি হবে সবথেকে বড় পাওনা।

​প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

​পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারীরা বর্তমানে কত শতাংশ ডিএ পাচ্ছেন?

​রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা বর্তমানে কেন্দ্রের তুলনায় বেশ কিছুটা কম হারে ডিএ পাচ্ছেন। তবে শেষ কয়েক দফায় সরকার কয়েক শতাংশ করে মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধি করেছে। বর্তমান হার অনুযায়ী কর্মীরা তাদের বেতন পাচ্ছেন, তবে কেন্দ্রীয় হারের সাথে বিশাল ফারাক রয়ে গেছে।

​বকেয়া ডিএ কবে নাগাদ ঘোষণা হতে পারে?

​সূত্রের খবর অনুযায়ী, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ভোট ঘোষণার আগেই রাজ্য সরকার এই ঘোষণা করতে পারে। সম্ভবত আগামী রাজ্য বাজেটে বা তার ঠিক পরেই সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত বড় আপডেট আসতে পারে।

​ডিএ বৃদ্ধির ফলে কি অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা সুবিধা পাবেন?

​হ্যাঁ, রাজ্য সরকার যখনই মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ বৃদ্ধি করে, তার সুফল কর্মরত কর্মীদের পাশাপাশি পেনশনভোগী বা অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরাও পান। এতে রাজ্যের কয়েক লক্ষ পেনশনভোগীর মাসিক পেনশনের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।

বিজ্ঞাপন

​কর্মচারীদের আন্দোলনের প্রভাব ও ভবিষ্যৎ

​বকেয়া মহার্ঘ ভাতার দাবিতে যৌথ সংগ্রামী মঞ্চের আন্দোলন দীর্ঘ সময় ধরে চলছে। এই আন্দোলনের চাপেই সরকার বিভিন্ন সময় ডিএ দিতে বাধ্য হয়েছে। কর্মচারীদের দাবি ছিল, বকেয়া সমস্ত কিস্তি একবারে মিটিয়ে দিতে হবে। কিন্তু রাজ্যের বর্তমান কোষাগারের যা পরিস্থিতি, তাতে একবারে সব মেটানো সম্ভব নয় বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

​তবুও রাজ্য কর্মীদের পাওনা ভাতা নিয়ে সরকার নমনীয় মনোভাব দেখালে তা হবে বড় জয়। ভোটের আগে এই মাস্টারস্ট্রোক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার দেয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। কর্মচারীরা আশায় বুক বাঁধছেন, হয়তো এবার তাদের পাওনা গণ্ডা বুঝে পাওয়ার সময় এসেছে।

​সব মিলিয়ে, আগামী কয়েক মাস বাংলার প্রশাসনিক অলিন্দে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ-র জট কাটলে তা রাজ্যের প্রশাসনিক কাজেও গতি আনবে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার নবান্ন থেকে ঠিক কবে সেই কাঙ্ক্ষিত ঘোষণাটি আসে।

Leave a Comment