নিজস্ব প্রতিবেদন, Bengal Job Study.in : “পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর খসড়া ভোটার তালিকা” গতকাল পশ্চিম বাংলায় পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে প্রায় ৫৮ লাখের বেশি মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই তালিকা নিয়ে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক ও জনমত আলোচনার পাশাপাশি বিভিন্ন বিতর্কও চলছে। কমিশন জানিয়েছে, নাম বাদ দেওয়ার বেশিরভাগ কারণ হলো মৃত হওয়া, স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে যাওয়া, কিংবা SIR তথ্য ফর্ম জমা না দেওয়া। একই সঙ্গে লক্ষাধিক ভোটার এখনও যাচাইয়ের আওতায় থাকায় ভোটাধিকার নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর খসড়া ভোটার তালিকা–তে কী ঘটেছে?
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর খসড়া ভোটার তালিকা অনুযায়ী সদ্য প্রকাশিত খসড়া তালিকায় রাজ্যজুড়ে মোট ৫৮,২০,৮৯৯ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। নির্বাচন দফতরের বক্তব্য অনুযায়ী, এই বাদ পড়ার পেছনে রয়েছে একাধিক প্রশাসনিক ও তথ্যগত কারণ। বহু ভোটারের নাম পাওয়া গেছে যাঁরা ইতিমধ্যেই প্রয়াত, কেউ আবার দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের বাইরে বসবাস করছেন, আবার কারও নাম একাধিক কেন্দ্রে নথিভুক্ত ছিল। এই সমস্ত বিষয় একত্র করেই খসড়া তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
বাদ পড়ার প্রধান কারণগুলো
খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার পিছনে যে কারণগুলো সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে, তার মধ্যে রয়েছে মৃত ভোটারের নাম থাকা, স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত হওয়া ভোটার, দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকা ব্যক্তি এবং একাধিক জায়গায় নাম নথিভুক্ত থাকা। এই সমস্ত ক্ষেত্র মিলিয়েই কয়েক লক্ষ নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, যা রাজ্যের ভোটার তালিকার একটি বড়সড় সংশোধনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
খসড়া তালিকায় যাচাইপ্রক্রিয়া ও স্ক্যানারের আওতায় ভোটার
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। প্রায় ১ কোটি ৬৭ লক্ষের বেশি ভোটারকে এখনো যাচাই বা স্ক্যানারের আওতায় রাখা হয়েছে। এই ভোটারদের নথি, ঠিকানা বা অন্যান্য তথ্য নিয়ে সামান্য অসঙ্গতি থাকায় তাদের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। নির্বাচন দফতর জানিয়েছে, যাচাই সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।
সবচেয়ে বেশি নাম কোথা থেকে বাদ গেল?
খসড়া তালিকার জেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যান দেখলে দেখা যাচ্ছে, জনসংখ্যার দিক থেকে এগিয়ে থাকা কয়েকটি জেলাতেই সবচেয়ে বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। পাশাপাশি কলকাতা উত্তর বিধানসভা এলাকার অধীনেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ গেছে। এই তথ্য থেকেই বোঝা যাচ্ছে, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলিতে যাচাইয়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে।
ভোটারদের জন্য কী করণীয়?
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর খসড়া ভোটার তালিকায় যদি কারও নাম বাদ পড়ে থাকে বা নাম নিয়ে কোনও সমস্যা দেখা যায়, তাহলে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে। ভোটারদের উচিত নিজের নাম ভোটার তালিকায় আছে কি না তা যাচাই করা এবং প্রয়োজন হলে সংশোধনের জন্য আবেদন করা। উপযুক্ত নথি জমা দিলে পুনরায় নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর খসড়া ভোটার তালিকা: প্রধান পরিসংখ্যান
মোট বাদ পড়া ভোটার: প্রায় ৫৮ লাখের বেশি
মৃত হিসেবে চিহ্নিত ভোটার: প্রায় ২৪ লাখের বেশি
অনুপস্থিত বা স্থানান্তরিত ভোটার: প্রায় ৩২ লক্ষের বেশি
একাধিক জায়গায় নাম থাকা ভোটার: প্রায় ১ লক্ষের বেশি
যাচাইয়ের আওতায় থাকা ভোটার: প্রায় ১.৬৭ কোটি
কেন SIR প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ?
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর খসড়া ভোটার তালিকার মূল উদ্দেশ্য হলো ভোটার তালিকাকে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভুল করা। দীর্ঘদিন ধরে আপডেট না হওয়া তথ্য, ডুপ্লিকেট নাম কিংবা ভুল ঠিকানা ভবিষ্যতের নির্বাচনে সমস্যা তৈরি করতে পারে। সেই কারণেই এই বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তালিকাকে হালনাগাদ করা হচ্ছে, যাতে প্রকৃত ও যোগ্য ভোটাররাই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর খসড়া ভোটার তালিকা রাজ্যের নির্বাচনী ব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও খসড়া তালিকা নিয়ে প্রশ্ন ও উদ্বেগ রয়েছে, তবে সংশোধনের সুযোগ থাকায় চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে ভোটারদের সচেতন হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।






