ভোটার তালিকা সংশোধন ২০২৬ (Voter List Revision 2026) :’আসন্ন ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা স্বচ্ছ ও নির্ভুল করতে বড় পদক্ষেপ নিল নবান্ন। রাজ্যে বর্তমানে চলা বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার কাজ দ্রুত শেষ করতে নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিল রাজ্য সরকার। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সামলাতে প্রায় ৮০০০ সরকারি আধিকারিককে নিয়োগ করার সবুজ সঙ্কেত দেওয়া হয়েছে। মূলত ভোটার তালিকা থেকে মৃত বা দ্বৈত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং নতুন ভোটারদের নাম নথিভুক্ত করার কাজে এই আধিকারিকরা সরাসরি তদারকি করবেন। প্রশাসনের এই তৎপরতায় মনে করা হচ্ছে, আগামী নির্বাচন ঘিরে কোনো প্রকার ত্রুটি রাখতে চাইছে না রাজ্য ও কমিশন।
ভোটার তালিকা সংশোধন ২০২৬ প্রক্রিয়ায় গতি আনতে রাজ্য দিচ্ছে ৮০০০ অফিসার
পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের আগে সবথেকে চর্চিত বিষয় হলো নির্ভুল ভোটার তালিকা। আর সেই লক্ষ্যেই চলছে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, এই কাজের জন্য পর্যাপ্ত কর্মী ও আধিকারিকের প্রয়োজন। সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে রাজ্য সরকার আট হাজার অফিসারকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই আধিকারিকরা মূলত বিভিন্ন ব্লকে এবং মহকুমা স্তরে এসআইআর সংক্রান্ত শুনানি বা হিয়ারিং-এর কাজ সামলাবেন। এর ফলে সাধারণ মানুষ যারা ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা সংশোধনের জন্য আবেদন করেছেন, তাদের সমস্যাগুলো আরও দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে।
নির্ভুল নির্বাচনের লক্ষ্যে রাজ্য ও কমিশনের যৌথ তৎপরতা
ভোটার তালিকা সংশোধন ২০২৬-এর কাজ যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ হয়, তার জন্য কড়া নজরদারি চালাচ্ছে সিইও (CEO) দপ্তর। নবান্ন সূত্রের খবর, এই ৮০০০ আধিকারিক নিয়োগের ফলে গ্রাম ও শহর— উভয় এলাকাতেই ভোটার কার্ডের ভেরিফিকেশন আরও স্বচ্ছ হবে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, তালিকায় নাম থাকলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অস্তিত্ব নেই, অথবা একই নাম একাধিক জায়গায় রয়েছে। এই ধরণের ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা যৌক্তিক অসঙ্গতিগুলো দূর করতেই এই বিশাল সংখ্যক অফিসারকে কাজে লাগানো হচ্ছে। এর ফলে ২০২৬-এর লড়াইয়ের আগে এক স্বচ্ছ ডাটাবেস তৈরি করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত আধিকারিকদের দায়িত্ব
ভোটার তালিকা সংশোধনের এই কর্মযজ্ঞে সরকারি অফিসাররা যে যে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করবেন, তা নিচে দেওয়া হলো:
- প্রতিটি বুথ স্তর থেকে আসা সংশোধনীর আবেদনগুলো সরেজমিনে খতিয়ে দেখা।
- ভোটার তালিকায় থাকা মৃত বা স্থানান্তরিত ব্যক্তিদের নাম চূড়ান্তভাবে বাদ দেওয়ার আগে শুনানি করা।
- ভোটারদের দেওয়া নথিপত্রের সত্যতা যাচাই করা এবং ডিজিটাল সার্ভারে তা আপলোড করা।
- যে সমস্ত ভোটারদের নাম ‘আনম্যাপড’ হয়ে রয়েছে, তাদের পরিচয় নিশ্চিত করে তালিকায় পুনরায় জায়গা দেওয়া।
ভোটার তালিকা সংশোধন ২০২৬ ও সাধারণ মানুষের হয়রানি কমানোর উদ্যোগ
নির্বাচন কমিশনের কাছে রাজনৈতিক দলগুলো বারবার অভিযোগ করেছে যে, তালিকায় প্রচুর ভুয়ো ভোটার রয়েছে। এই অভিযোগ খতিয়ে দেখতেই এবারের এসআইআর প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্ব পাচ্ছে। সরকার যে ৮০০০ অফিসার দেওয়ার কথা জানিয়েছে, তার একটি বড় অংশ নিয়োগ করা হবে শুনানি কেন্দ্রগুলোতে। ভোটার তালিকা সংশোধন ২০২৬ ঘিরে মানুষের মনে অনেক প্রশ্ন ছিল, বিশেষ করে যাদের নথিতে ভুল রয়েছে তারা কোথায় যাবেন তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। এখন অফিসারদের সংখ্যা বাড়ায় শুনানি প্রক্রিয়া আরও বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে, ফলে সাধারণ মানুষকে আর দূরের মহকুমা অফিসে দৌড়াতে হবে না।
বর্তমানে ভোটার তালিকায় কত ধরণের কর্মী কাজ করছেন?
ভোটার তালিকা তৈরির কাজে নিযুক্ত বিভিন্ন স্তরের আধিকারিক ও কর্মীদের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
| পদের নাম | আনুমানিক সংখ্যা | প্রধান কাজ |
|---|---|---|
| বুথ লেভেল অফিসার (BLO) | ৮০,০০০+ | বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ। |
| সুপারভাইজার | ৮,০০০ প্রায় | বিএলও-দের কাজের তদারকি। |
| অতিরিক্ত আধিকারিক (SIR কাজে) | ৮,০০০ | শুনানি ও যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। |
| ইআরও/এইআরও (ERO/AERO) | ৩,০০০+ | সংশোধিত তালিকার অনুমোদন দেওয়া। |
নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফেরাতে এই পদক্ষেপ কতটা কার্যকর?
রাজ্য সরকারের এই বিশাল সংখ্যক কর্মী সাহায্য দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে ওয়াকিবহাল মহল। ভোটার তালিকা সংশোধন ২০২৬ এমন একটি পর্যায় যেখানে একটি ছোট ভুলও বড় বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক বা রোল অবজার্ভাররা যখন রাজ্যে এসে কাজ খতিয়ে দেখছেন, তখন রাজ্যের এই সহযোগিতা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। ৮০০০ অফিসারের উপস্থিতিতে ভোটারদের শুনানি প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হবে এবং কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়াই প্রকৃত ভোটাররা তাদের অধিকার ফিরে পাবেন। ১৪ই ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের যে সময়সীমা রয়েছে, এই অফিসাররা সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সহায়ক হবেন।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে আপনার কিছু জরুরি প্রশ্নের উত্তর (FAQ)
১. এই ৮০০০ অফিসার কি পুলিশের কাজে যুক্ত থাকবেন?
না, এই আধিকারিকরা মূলত প্রশাসনিক এবং ভোটার তালিকা সংশোধন ২০২৬-এর শুনানি ও নথি যাচাইকরণের কাজের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
২. সাধারণ ভোটারদের জন্য এই অফিসারদের নিয়োগ কীভাবে লাভজনক?
অফিসারের সংখ্যা বেশি হওয়ায় শুনানি বা হিয়ারিং-এর জন্য আপনাকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না এবং এলাকার কাছাকাছি কেন্দ্রেই সমস্যার সমাধান মিলবে।
৩. ভোটার তালিকা সংশোধন ২০২৬-এর চূড়ান্ত তালিকা কবে প্রকাশিত হবে?
এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১৪ই ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত এবং সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা।
৪. যদি আমার নাম ড্রাফট তালিকায় না থাকে তবে কী এই অফিসাররা সাহায্য করবেন?
হ্যাঁ, আপনি যদি প্রয়োজনীয় নথিসহ শুনানি কেন্দ্রে হাজির হন, তবে এই অফিসাররাই আপনার নথিপত্র খতিয়ে দেখে তালিকায় নাম তোলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
২০২৬-এর লড়াইয়ের ভিত তৈরি হচ্ছে এখন থেকেই
ভোটের দেরি থাকলেও প্রশাসন কোনো ফাঁক রাখতে চাইছে না। ভোটার তালিকা সংশোধন ২০২৬-কে কেন্দ্র করে রাজ্য ও কমিশনের মধ্যে এই সমন্বয় সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়াবে। তৃণমূল হোক বা বিজেপি— সব দলই চায় ভোটার তালিকা ত্রুটিমুক্ত হোক। ৮০০০ আধিকারিকের নিয়োগ কেবল একটি সংখ্যা নয়, এটি একটি বার্তা যে রাজ্য সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে বদ্ধপরিকর। প্রতিটি ব্লকে এখন কাজ চলছে যুদ্ধের তৎপরতায়। শেষ পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ার পর বাংলার ভোটার তালিকার চেহারা কতটা বদলায়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।
H1: ভোটার তালিকা সংশোধন ২০২৬: ৮০০০ অফিসার নিয়োগ করে কমিশনের কাজে পূর্ণ সাহায্য দিচ্ছে রাজ্য সরকার
English Permalink: wb-govt-8000-officers-for-voter-list-revision-2026-sir-process
তালিকা সংশোধন ২০২৬, রাজ্য সরকার ৮০০০ অফিসার, এসআইআর প্রক্রিয়া পশ্চিমবঙ্গ, ভোটার কার্ড সংশোধন, নির্বাচন কমিশন ২০২৬, পশ্চিমবঙ্গ ভোটার তালিকা আপডেট, SIR Process WB 2026.
Excerpt:


