শুভেন্দু অধিকারীর বাঁকুড়া সফর: আক্রান্ত বিজেপি কর্মীর বাড়িতে গিয়ে পুলিশকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত চরম হুঁশিয়ারি

বাঁকুড়ার ওন্দায় আক্রান্ত বিজেপি নেতার পাশে দাঁড়িয়ে পুলিশকে চূড়ান্ত সময়সীমা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ২৬ জানুয়ারির মধ্যে অপরাধীরা গ্রেপ্তার না হলে হাইকোর্টের যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়ালেন বিরোধী দলনেতা।

বাঁকুড়ার ওন্দায় আক্রান্ত বিজেপি কর্মীর বাড়িতে গিয়ে রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তুমুল ক্ষোভ উগরে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার দুপুরে আক্রান্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, আগামী ২৬ জানুয়ারির মধ্যে যদি দোষীদের গ্রেপ্তার করা না হয়, তবে তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবেন। পুলিশের বিরুদ্ধে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার অভিযোগ তুলে তিনি রীতিমতো সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন, যা নিয়ে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারীর বাঁকুড়া সফর Suvendu Adhikari Bankura Visit বাঁকুড়ার ওন্দা থানার নন্দনপুর গ্রামে বিজেপি আইটি সেলের সহ-আহ্বায়ক তাপস বারিকের বাড়িতে সম্প্রতি দুষ্কৃতী হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে সপরিবারে তাঁদের মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। শনিবার সেই বাড়িতে পৌঁছে তাপসের পরিবারের হাতে আর্থিক সাহায্য তুলে দেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক। সেখান থেকেই তিনি পুলিশকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। শুভেন্দু অধিকারীর বাঁকুড়া সফর ঘিরে ওন্দা এলাকায় ব্যাপক পুলিশি নিরাপত্তা থাকলেও বিরোধী দলনেতার মেজাজ ছিল তুঙ্গে।

শুভেন্দু অধিকারীর বাঁকুড়া সফর থেকে পুলিশকে চরম হুঁশিয়ারি ও ডেডলাইন

ওন্দার সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি ওন্দা থানার আইসি এবং বাঁকুড়া জেলার পুলিশ সুপারকে নিশানা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার পর ফরেনসিক দল পাঠাতে পুলিশ অহেতুক দেরি করেছে যাতে আসল অপরাধীদের বাঁচানো যায় এবং প্রমাণ লোপাট করা যায়। বিরোধী দলনেতা বলেন, “আমরা পুলিশকে আগামী ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দিচ্ছি। এই সময়ের মধ্যে যদি প্রকৃত অপরাধীরা ধরা না পড়ে, তবে ২৭ তারিখ আমরা আক্রান্ত তাপস বারিককে নিয়ে কলকাতায় যাব এবং সরাসরি উচ্চ আদালতের কাছে বিচার চাইব।” শুভেন্দু অধিকারীর বাঁকুড়া সফর থেকেই এই আইনি লড়াইয়ের স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে।

আক্রান্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে আর্থিক সহায়তা ও সংহতি

তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই হামলা চালিয়েছে বলে বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। শুভেন্দু এদিন তাপস বারিকের বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের আশ্বস্ত করেন যে দল সব সময় তাঁদের পাশে আছে। তিনি বলেন, বিজেপি কর্মীদের ওপর যত বেশি আক্রমণ হবে, প্রতিরোধের তেজ তত বাড়বে। এদিন তিনি ব্যক্তিগতভাবে কিছু আর্থিক সাহায্যও তুলে দেন ওই পরিবারের হাতে। শুভেন্দু অধিকারীর বাঁকুড়া সফর কেবল রাজনৈতিক প্রতিবাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা ছিল বিপন্ন কর্মীর পাশে দাঁড়ানোর এক মানবিক উদ্যোগও।

কর্মসূচির বিবরণলক্ষ্যফলাফল/সময়সীমা
ওন্দায় বিজেপি কর্মীর বাড়ি পরিদর্শনমনোবল বৃদ্ধি ও আর্থিক সাহায্যপরিবার আশ্বস্ত
পুলিশকে ডেডলাইন প্রদানদ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়
আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিপুলিশের নিষ্ক্রিয়তা দূর করাহাইকোর্টে মামলার হুমকি

প্রশাসন ও বিরোধীদের প্রতি শুভেন্দুর কড়া সমালোচনা

শুভেন্দু অধিকারী এদিন পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, পুলিশ এখন কেবল শাসক দলের নির্দেশ পালনেই ব্যস্ত। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দেওয়ার বদলে বিরোধীদের দমানোতেই পুলিশের বেশি আগ্রহ। শুভেন্দু অধিকারীর বাঁকুড়া সফর চলাকালীন তিনি মনে করিয়ে দেন যে, কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্ত হলে পুলিশের অনেক বড় কর্তার কপালে দুঃখ আছে। তিনি সরাসরি বলেন, “পুলিশ যদি ঠিকমতো কাজ না করে, তবে আমরা জানি কীভাবে কাজ করিয়ে নিতে হয়।”

তাপস বারিকের বাড়িতে কী ঘটেছিল?

অভিযোগ উঠেছে যে, গত বুধবার রাতে ওন্দার নন্দনপুর গ্রামে বিজেপি নেতা তাপস বারিকের বাড়ির দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। প্রতিবেশীদের তৎপরতায় বড় কোনো বিপদ না ঘটলেও তাপসের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কেন শুভেন্দু অধিকারী পুলিশকে সময়সীমা দিলেন?

শুভেন্দুর দাবি, পুলিশ ইচ্ছে করে মূল অভিযুক্তদের আড়াল করছে। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে দ্রুত পদক্ষেপ না করার প্রতিবাদেই তিনি ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়েছেন।

আগামী দিনে বিজেপির আন্দোলন কেমন হবে?

শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করেছেন, যদি পুলিশের আচরণে পরিবর্তন না আসে তবে আন্দোলনের পথ রাজপথ ছাড়িয়ে আদালতেও পৌঁছাবে। তিনি জঙ্গলমহলের বিজেপি কর্মীদের একজোট হয়ে লড়াই করার ডাক দিয়েছেন।

তৃণমূলের পাল্টা প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক তর্জা

শুভেন্দুর এই সফর এবং মন্তব্যকে ‘নাটক’ বলে কটাক্ষ করেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূলের দাবি, বিজেপি নিজেদের অন্তর্দ্বন্দ্বে আক্রান্ত হয়ে এখন অন্যের ওপর দায় চাপাচ্ছে। পুলিশ নিজের কাজ নিয়মমতো করছে। তবে শুভেন্দু অধিকারীর বাঁকুড়া সফর এবং ওন্দার এই ঘটনা যে আসন্ন পঞ্চায়েত বা তার পরবর্তী নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলবে, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন। বিরোধী দলনেতা বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন, পুলিশের ডায়েরিতে নাম না উঠলে তিনি নিজেই আইনি পথে নাম তুলিয়ে দেবেন।

বিজেপির আগামী দিনের পরিকল্পনা এক নজরে:

  • জেলায় জেলায় আক্রান্ত কর্মীদের বাড়ি যাওয়া।
  • পুলিশের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে কোর্টে জমা দেওয়া।
  • ২৬ জানুয়ারির পর বড়সড় কোনো কর্মসূচির পরিকল্পনা।

বিরোধী দলনেতা যেভাবে পুলিশকে হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, তাতে আগামী দিনে বাঁকুড়া তথা রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে শাসক-বিরোধী সংঘাত আরও বাড়বে বলেই মনে হচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারীর বাঁকুড়া সফর শেষ পর্যন্ত পুলিশের ওপর কতটা চাপ তৈরি করতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

বিজ্ঞাপন

Leave a Comment