SSC Upper Primary Merit List Controversy: (SSC আপার প্রাইমারি মেধাতালিকা বিতর্ক) রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগের দুর্নীতি এবং আইনি জটিলতার মাঝেই ফের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এল, যা চাকরিপ্রার্থীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বহুদিন ধরে ঝুলে থাকা আপার প্রাইমারির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যখনই একটু আলোর মুখ দেখা যাচ্ছিল, ঠিক তখনই মেধাতালিকা প্রকাশ হতেই শুরু হলো নতুন হাঙ্গামা। একটি নির্দিষ্ট প্রার্থীর নম্বর এবং র্যাঙ্ক রাতারাতি যেভাবে পরিবর্তন হলো, তা রীতিমতো অবিশ্বাস্য। বিকেলের তালিকায় যিনি ছিলেন অনেকটা পিছিয়ে, সন্ধ্যার সংশোধিত তালিকায় তিনি পৌঁছে গেলেন একেবারে শীর্ষে! এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বর্তমানে রাজ্যজুড়ে প্রবল আকার ধারণ করেছে SSC আপার প্রাইমারি মেধাতালিকা বিতর্ক। পরীক্ষার্থীদের প্রশ্ন, এটা কি নিছকই ভুল, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো বড় রহস্য?
বুম্বা দাসের মার্কশিট ঘিরে দানা বাঁধছে রহস্য, কীভাবে সম্ভব এমন অভাবনীয় পরিবর্তন?
গোটা ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বুম্বা দাস নামের একজন চাকরিপ্রার্থী। ঘটনাটি ঠিক কী ঘটেছে তা বিস্তারিত না জানলে এই বিতর্কের গভীরতা বোঝা সম্ভব নয়। আপার প্রাইমারির কাউন্সেলিং বা নিয়োগের জন্য স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) যে মেধা তালিকা প্রকাশ করেছিল, সেখানে প্রথম দফায় বুম্বা দাসের নাম দেখা যায় ৪৩ নম্বর র্যাঙ্কে। সেই সময় তাঁর প্রাপ্ত নম্বরের বিভাজন দেখলে বোঝা যায়, তিনি অভিজ্ঞতার বা এক্সপেরিয়েন্সের জন্য নম্বর পেয়েছিলেন মাত্র ০.৫ (শূন্য দশমিক পাঁচ)।
কিন্তু ঘটনার মোড় ঘুরে যায় কিছুক্ষণ পরেই। কমিশন সেই তালিকা তুলে নেয় এবং পুনরায় একটি নতুন তালিকা প্রকাশ করে। অবাক করা বিষয় হলো, সেই নতুন তালিকায় দেখা যায় বুম্বা দাসের অভিজ্ঞতার নম্বর ০.৫ থেকে বেড়ে সোজা ৫ হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ এক লপ্তে সাড়ে চার নম্বর বৃদ্ধি! এই নম্বর বাড়ার ফলেই তাঁর মোট প্রাপ্ত নম্বর বা গ্র্যান্ড টোটাল ৭৫ থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৭৯.৫-এ। এই ঘটনা সামনে আসতেই চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে এবং SSC আপার প্রাইমারি মেধাতালিকা বিতর্ক নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
মেধাতালিকায় ৪৩ থেকে সোজা প্রথম স্থানে লাফ! অসাধ্য সাধন নাকি অন্য কিছু?
সাধারণত সরকারি চাকরির পরীক্ষায় এক নম্বরের ব্যবধানে কয়েক হাজার প্রার্থীর র্যাঙ্ক এদিক ওদিক হয়ে যায়। সেখানে দাঁড়িয়ে সাড়ে চার নম্বর বেড়ে যাওয়া মানে এক বিশাল পরিবর্তন। বুম্বা দাসের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই ঘটেছে। প্রথম তালিকায় ৪৩ তম স্থানে থাকা এই প্রার্থী, নম্বর বাড়ার সুবাদে সংশোধিত তালিকায় সোজা ১ নম্বর র্যাঙ্কে চলে আসেন।
এই নাটকীয় উত্থান দেখে অন্যান্য যোগ্য প্রার্থীরা হতবাক। বিশেষ করে পিওর সায়েন্স বা বিজ্ঞানের মতো বিষয়ে যেখানে প্রতিটি দশমিক নম্বরের গুরুত্ব অপরিসীম, সেখানে এমন পরিবর্তন মেনে নেওয়া কঠিন। চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ দাবি করছেন, অভিজ্ঞতার শংসাপত্র বা সার্টিফিকেট তো আর রাতারাতি বদলে যেতে পারে না। তাহলে বিকেলে যা ০.৫ ছিল, তা সন্ধ্যায় ৫ হলো কী করে? এই প্রশ্নই এখন SSC আপার প্রাইমারি মেধাতালিকা বিতর্ক-কে আরও উস্কে দিচ্ছে।
বুম্বা দাসের নম্বরের পরিবর্তনের তালিকা
পাঠকদের বোঝার সুবিধার্থে নিচে একটি ছক দেওয়া হলো, যেখানে বুম্বা দাসের নম্বর পরিবর্তনের চিত্রটি পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হয়েছে:
| বিষয় | প্রথম তালিকা (বিকেল) | সংশোধিত তালিকা (সন্ধ্যা) | পরিবর্তন |
|---|---|---|---|
| নাম | বুম্বা দাস | বুম্বা দাস | অপরিবর্তিত |
| অভিজ্ঞতার নম্বর | ০.৫ | ৫.০ | + ৪.৫ বৃদ্ধি |
| মোট প্রাপ্ত নম্বর | ৭৫.০ | ৭৯.৫ | + ৪.৫ বৃদ্ধি |
| র্যাঙ্ক (Rank) | ৪৩ | ১ | ৪২ ধাপ উন্নতি |
অন্য পরীক্ষার্থীদের ক্ষোভ এবং আদালতের দরজায় কড়া নাড়ার হুঁশিয়ারি
স্বাভাবিকভাবেই, এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন মেধা তালিকায় থাকা অন্যান্য প্রার্থীরা। তাঁদের মতে, এভাবে যদি অস্বচ্ছ উপায়ে তালিকা পরিবর্তন করা হয়, তবে যোগ্য প্রার্থীরা চিরকালই বঞ্চিত থেকে যাবেন। এই প্রসঙ্গে অনিন্দিতা বেরা নামের এক চাকরিপ্রার্থী নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সংবাদমাধ্যমের সামনে।
অনিন্দিতা দেবীর বক্তব্য অনুযায়ী, “অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট তো আর ভোজবাজি নয় যে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বদলে যাবে। যার নম্বর ০.৫ ছিল, তার নম্বর হঠাৎ করে ৫ হয়ে যাওয়ার অর্থ হলো পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েই প্রশ্নচিহ্ন থাকা।” তিনি এবং তাঁর মতো আরও অনেক প্রার্থী এই SSC আপার প্রাইমারি মেধাতালিকা বিতর্ক নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও ভাবছেন। তাঁদের দাবি, কমিশনের উচিত ছিল বিষয়টি নিয়ে আরও সতর্ক হওয়া। এভাবে র্যাঙ্ক বদলে গেলে পেছনের সারিতে থাকা অনেক যোগ্য প্রার্থী ছিটকে যাবেন, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
প্রার্থীদের মনে জাগছে একাধিক প্রশ্ন
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে চাকরিপ্রার্থীদের মনে বেশ কিছু প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে:
- অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট কি কয়েক ঘণ্টায় আপডেট করা সম্ভব?
- প্রথম তালিকায় কি তবে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল?
- যদি ভুল হয়েই থাকে, তবে তা শুধরানোর প্রক্রিয়া কি স্বচ্ছ ছিল?
টেকনিক্যাল গ্লিচ নাকি মানবিক ভুল? এসএসসির চেয়ারম্যানের সাফাই
এত বড় বিতর্কের মাঝে স্কুল সার্ভিস কমিশন বা এসএসসির ভূমিকা কী, তা জানা অত্যন্ত জরুরি। এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন কমিশনের চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার। তাঁর কথা অনুযায়ী, প্রথম যে তালিকাটি প্রকাশ করা হয়েছিল, তাতে কিছু প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা ‘টেকনিক্যাল গ্লিচ’ ছিল।
চেয়ারম্যান দাবি করেছেন, বিষয়টি নজরে আসার পরেই তাঁরা তড়িঘড়ি সেই ভুল তালিকা ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নেন বা উইথড্র (Withdraw) করে নেন। এরপর পুনরায় সব কিছু খতিয়ে দেখে নির্ভুল তালিকা প্রকাশ করা হয়। তাঁর মতে, বুম্বা দাসের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার নম্বর যোগ করার সময় টাইপোগ্রাফিক্যাল এরর বা প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে শুরুতে ৫-এর বদলে ০.৫ হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীকালে সেটি সংশোধন করে সঠিক নম্বর, অর্থাৎ ৫ বসানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আদালতের নির্দেশ মেনেই তাঁরা কাজ করছেন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। এই SSC আপার প্রাইমারি মেধাতালিকা বিতর্ক নিয়ে কমিশনের তরফে একে নিছকই একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সাধারণ মানুষের কিছু জিজ্ঞাস্য (Q&A)
এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে কিছু নির্দিষ্ট প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। নিচে প্রশ্নোত্তর আকারে তা তুলে ধরা হলো:
প্রশ্ন: বুম্বা দাসের নম্বর বাড়ার আসল কারণ কী বলে দাবি করছে কমিশন?
কমিশনের চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদারের দাবি অনুযায়ী, এটি একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল। প্রথমে ভুলবশত অভিজ্ঞতার নম্বর ০.৫ দেখানো হয়েছিল, যা আসলে ৫ হবে। এটি সংশোধন করার ফলেই মোট নম্বর এবং র্যাঙ্ক পরিবর্তিত হয়েছে।
প্রশ্ন: এই ঘটনার পর নিয়োগ প্রক্রিয়া কি আবার আইনি জটে ফাসতে পারে?
যেহেতু অন্যান্য পরীক্ষার্থীরা এই পরিবর্তনে খুশি নন এবং তাঁরা এর স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাই মামলা হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। পরীক্ষার্থীরা যদি আদালতে যান, তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া ফের দীর্ঘায়িত হতে পারে।
বারবার তালিকা প্রত্যাহার এবং সংশোধনে কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন
এসএসসির ইতিহাসে তালিকা প্রকাশ, তারপর তা প্রত্যাহার এবং পুনরায় প্রকাশ—এই ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু প্রতিবারই এর পেছনে কোনো না কোনো ‘টেকনিক্যাল ফল্ট’ বা যান্ত্রিক ত্রুটির দোহাই দেওয়া হয়। আপার প্রাইমারির ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হলো না। তবে এবারের ঘটনাটি অনেক বেশি চোখে পড়ার মতো কারণ, এখানে র্যাঙ্ক ৪৩ থেকে ১-এ চলে এসেছে।
শিক্ষাবিদ মহলের একাংশ মনে করছেন, কমিশনের আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। হাজার হাজার বেকার যুবক-যুবতীর ভবিষ্যৎ এই তালিকার ওপর নির্ভর করছে। সেখানে সামান্য ভুলের মাশুল অনেক বড় হতে পারে। SSC আপার প্রাইমারি মেধাতালিকা বিতর্ক তৈরি হওয়ার পেছনে কমিশনের এই ‘ভুল করার প্রবণতা’ অনেকটাই দায়ী বলে মনে করছেন অনেকে।
চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগের দুটি প্রধান দিক নিচে উল্লেখ করা হলো:
- স্বচ্ছতার অভাব: কেন প্রথমবার তালিকা প্রকাশের আগে ভালো করে যাচাই করা হলো না?
- দ্রুত পরিবর্তন: এত কম সময়ের মধ্যে কীভাবে একজন প্রার্থীর তথ্য যাচাই করে এত বড় পরিবর্তন করা হলো?
আগামী দিনে কী হতে চলেছে আপার প্রাইমারি নিয়োগে?
আপার প্রাইমারির নিয়োগ নিয়ে এমনিতেই দীর্ঘ টালবাহানা চলেছে। আদালতের নির্দেশে যখন কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা, তখনই এই নতুন বিপত্তি। বুম্বা দাসের এই নম্বর বৃদ্ধির ঘটনাটি হয়তো কমিশনের কাছে একটি ‘ছোটো ভুল’ সংশোধন মাত্র, কিন্তু বঞ্চিত প্রার্থীদের কাছে এটি একটি বড় দুর্নীতির ইঙ্গিত।
SSC আপার প্রাইমারি মেধাতালিকা বিতর্ক যদি দ্রুত সমাধান না হয়, তবে ফের রাস্তায় বসে আন্দোলন এবং আদালতের চক্কর কাটতে হতে পারে হবু শিক্ষকদের। আপাতত কমিশনের সংশোধিত তালিকা অনুযায়ী নিয়োগ এগিয়ে যায়, নাকি বিক্ষুব্ধ প্রার্থীরা আইনি পথে হাঁটেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে এটা নিশ্চিত যে, এক প্রার্থীর র্যাঙ্ক বদলের এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতি এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে।
উপসংহার এবং পরবর্তী পদক্ষেপ:
এই প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণভাবে প্রদত্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। আপনি যদি চান, তবে আমি এই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের জন্য ছোট ক্যাপশন বা হ্যাশট্যাগ জেনারেট করে দিতে পারি। আপনি কি চান আমি সেটা করে দিই?




