পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ 2025: কলকাতার আকাশে রক্তাভ চাঁদে বিরল দৃশ্য

পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ 2025 রবিবার রাতের আকাশে চোখ ধাঁধানো দৃশ্য উপহার দিল। কলকাতা সহ ভারতের বহু শহরে দেখা গেল রক্তাভ চাঁদ, যাকে অনেকে Blood Moon বলেন। গ্রহণের সময়, পূর্ণিমার চাঁদ পৃথিবীর ছায়ায় ঢেকে গিয়ে লালচে আলোয় জ্বলজ্বল করে ওঠে।

নিজস্ব প্রতিবেদন, Bengal Job Study.in : পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ 2025 এর অসাধারণ দৃশ্য রবিবার রাতের আকাশে চোখে পড়ল। কলকাতার আকাশও বাদ গেল না। পূর্ণিমার চাঁদ পৃথিবীর ছায়ায় ঢেকে এক সময় রক্তাভ আকার নিল। আকাশ জুড়ে দেখা গেল সেই বিশেষ মুহূর্ত, যাকে অনেকে Blood Moon বলেও চেনেন।

পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ 2025 কবে শুরু হল?

রবিবার রাত ৯টা বেজে ৫৭ মিনিট থেকে শুরু হয় এই গ্রহণ। ধাপে ধাপে পৃথিবীর ছায়া ঢেকে দেয় চাঁদকে। রাত ১১টা বেজে ১ মিনিটে পূর্ণভাবে ঢেকে যায় চাঁদ, তখনই দেখা যায় সম্পূর্ণ পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ 2025। রাত ১২টা বেজে ২২ মিনিট নাগাদ ধীরে ধীরে কেটে যেতে থাকে গ্রহণ।

কেন রক্তাভ হয়ে যায় চাঁদ?

পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে চলে আসে। ফলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল দিয়ে সূর্যের আলো বেঁকে চাঁদে পৌঁছায়। নীল রঙের আলো ছড়িয়ে পড়ে যায়, কিন্তু লাল তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি স্পষ্ট হয়। তাই চাঁদ তখন রক্তাভ বা কমলা বর্ণের মনে হয়। এজন্যই মানুষ একে Blood Moon নামে চেনে।

কোথা থেকে দেখা গেল এই গ্রহণ?

  • ভারত
  • এশিয়ার বহু দেশ
  • অস্ট্রেলিয়া
  • ইউরোপ
  • আফ্রিকার কিছু অংশ

ভারতের আকাশে রাত ১১টা বেজে ১ মিনিট থেকে ১২টা বেজে ২৩ মিনিট পর্যন্ত পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ 2025 স্পষ্টভাবে দেখা যায়। NASA জানিয়েছে, রাত ২টা ২৫ মিনিট নাগাদ পুরো গ্রহণ শেষ হয়েছে।

গ্রহণ দেখার উপায়

বিশেষ কোনো সানগ্লাস বা ফিল্টারের দরকার হয় না। শুধু আকাশ পরিষ্কার থাকতে হবে। মোবাইল ফোন, DSLR ক্যামেরা বা বাইনোকুলার দিয়ে সহজেই রেকর্ড করা যায় এই মুহূর্ত। ছোট টেলিস্কোপ থাকলে চাঁদের পাহাড়, গহ্বর এমনকি শনির বলয় ও নেপচুনকেও দেখা সম্ভব।

চলতি বছরের বিশেষ তথ্য

গ্রহণের ধরনতারিখদৃশ্যমান এলাকা
পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ 20257 সেপ্টেম্বরভারতসহ এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া
সূর্যগ্রহণ21 সেপ্টেম্বরকিছু নির্বাচিত দেশ থেকে আংশিক দৃশ্যমান

রক্তাভ চাঁদ দেখার আনন্দ

প্রায় ৬০০ কোটি মানুষ এই পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ 2025 প্রত্যক্ষ করেছেন। কলকাতার মানুষও রাতের আকাশে ভিড় জমিয়ে এই মুহূর্ত উপভোগ করেছেন। কারও হাতে স্মার্টফোন, কারও হাতে ক্যামেরা—সবাই বন্দি করেছেন ইতিহাসের এই লালচে চাঁদকে।

Leave a Comment