মাল্টি-পালস কুইনোয়া কাটলেট (Multi-pulse Quinoa Cutl
How to make Multi-pulse and Quinoa Cutlets at home আজকালকার ব্যস্ত জীবনে বিকেলের নাস্তায় স্বাস্থ্য ও স্বাদের ব্যালেন্স রাখা বেশ কঠিন। কিন্তু ঘরোয়া উপায়ে যদি প্রোটিন এবং ফাইবারে ঠাসা কিছু বানানো যায়, তবে কেমন হয়? স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতন মানুষের জন্য মাল্টি-পালস কুইনোয়া কাটলেট হতে পারে একটি আদর্শ বিকল্প। বিভিন্ন ধরণের ডাল এবং কুইনোয়ার সংমিশ্রণে তৈরি এই কাটলেট যেমন পেট ভরিয়ে রাখে, তেমনি শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির জোগান দেয়। বাড়ির ছোট থেকে বড়— সকলের জন্যই এটি একটি অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর পদ। আসুন জেনে নিই কীভাবে খুব সহজেই বাড়িতে বানিয়ে নেবেন এই প্রোটিন প্যাকড নাস্তাটি।
এক নজরে
মাল্টি-পালস কুইনোয়া কাটলেট: সুস্বাস্থ্যের নতুন চাবিকাঠি
বিকেলের আড্ডায় ভাজাপোড়া বা ফাস্ট ফুডের বদলে মাল্টি-পালস কুইনোয়া কাটলেট বেছে নেওয়া মানেই সুস্থতার দিকে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া। কুইনোয়া হলো একটি সুপারফুড যাতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে। এর সাথে যখন মুগ, মসুর বা বিউলির মতো ডাল বা পালস যোগ করা হয়, তখন এর পুষ্টিগুণ বহুগুণ বেড়ে যায়। এই মিশ্রণে থাকা উচ্চ প্রোটিন আমাদের পেশি গঠনে সাহায্য করে এবং দীর্ঘক্ষণ খিদে অনুভব হতে দেয় না। যারা ওজন কমানোর ডায়েট করছেন, তাদের জন্য এই কাটলেটটি একটি ম্যাজিকের মতো কাজ করতে পারে।
বাড়িতে মাল্টি-পালস কুইনোয়া কাটলেট তৈরির সহজ পদ্ধতি
এই স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকসটি তৈরি করার প্রক্রিয়াটি বেশ সহজ। প্রথমে আপনাকে কুইনোয়া এবং পছন্দমতো কয়েক ধরণের ডাল আলাদাভাবে ভিজিয়ে রেখে সেদ্ধ করে নিতে হবে। মাল্টি-পালস কুইনোয়া কাটলেট বানানোর প্রধান শর্ত হলো ডাল ও কুইনোয়া যেন অতিরিক্ত সেদ্ধ হয়ে জলজলে না হয়ে যায়। এরপর একটি বড় পাত্রে সেদ্ধ কুইনোয়া ও ডালগুলোর জল ঝরিয়ে নিতে হবে। এতে কুচানো পেঁয়াজ, কাঁচালঙ্কা, ধনেপাতা, আদা কুচি এবং সামান্য গরম মশলা মিশিয়ে একটি মণ্ড তৈরি করুন। বাইন্ডিং-এর জন্য আপনি সামান্য ওটস পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। গোল গোল চ্যাপ্টা আকার দিয়ে নন-স্টিক প্যানে নামমাত্র তেলে সেঁকে নিলেই এটি পরিবেশনের জন্য তৈরি।
এই রেসিপিটি বানাতে প্রয়োজনীয় উপকরণের তালিকা
নিচে একটি টেবিলের মাধ্যমে মাল্টি-পালস কুইনোয়া কাটলেট তৈরির প্রধান উপকরণগুলো দেখানো হলো:
| উপকরণের নাম | পরিমাণ | বিশেষ কাজ |
|---|---|---|
| কুইনোয়া (সেদ্ধ) | ১ কাপ | প্রোটিন ও ফাইবারের উৎস। |
| মিশ্র ডাল (মুগ, মসুর ইত্যাদি) | ১ কাপ | ডাল হিসেবে পুষ্টি যোগায়। |
| সবজি কুচি (গাজর, বিনস) | আধ কাপ | ভিটামিনের জোগান দেয়। |
| ওটস পাউডার/বেসন | ২-৩ চামচ | কাটলেট শক্ত করতে সাহায্য করে। |
| মশলা (নুন, লঙ্কা, চাট মশলা) | স্বাদমতো | স্বাদে ভিন্নতা আনে। |
পুষ্টির ভাণ্ডার এই মাল্টি-পালস কুইনোয়া কাটলেট
কেন এই নাস্তাটি আপনার খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি? এর কারণ হলো এতে থাকা উপকরণের বৈচিত্র্য। মাল্টি-পালস কুইনোয়া কাটলেট মূলত একটি ‘লো-ক্যালরি’ অথচ ‘হাই-নিউট্রিশন’ ফুড। কুইনোয়া গ্লুটেন-মুক্ত হওয়ায় এটি সকলের জন্য নিরাপদ। যারা রক্তে শর্করার সমস্যা বা কোলেস্টেরলে ভুগছেন, তাদের জন্য ডাল ও কুইনোয়ার এই কম্বিনেশন ভীষণ উপকারী। এই কাটলেটটি ভাজার বদলে গ্রিল বা বেক করলে এর স্বাস্থ্যগুণ অটুট থাকে। এতে কোনো কৃত্রিম রং বা প্রিজারভেটিভ থাকে না বলে এটি বাচ্চাদের জন্যও ভীষণ নিরাপদ একটি টিফিন।
এই হেলদি স্ন্যাকসটির বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলো:
- এটি পুরোপুরি গ্লুটেন-মুক্ত একটি খাবার।
- প্রোটিন এবং কার্বোহাইড্রেটের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখে।
- হজম ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
- এটি তৈরি করতে খুব কম তেলের প্রয়োজন হয়।
মাল্টি-পালস কুইনোয়া কাটলেট আরও সুস্বাদু করার টিপস
আপনি যদি মাল্টি-পালস কুইনোয়া কাটলেট-এ একটু ভিন্ন স্বাদ আনতে চান, তবে এর ভেতরে সামান্য পনিরের পুর বা চিজ দিতে পারেন। স্বাদের পাশাপাশি এটি আয়রন বাড়াতেও সাহায্য করবে। এছাড়া মেথি শাক বা পালং শাক কুচি করে দিলে এর রং এবং পুষ্টি দুই-ই বাড়বে। গরম গরম এই কাটলেট পুদিনার চাটনি বা তেঁতুলের চাটনির সাথে দারুন জমে যায়। বাড়ির ছোটরা যদি ডাল খেতে না চায়, তবে তাদের এই ফর্মে ডাল ও কুইনোয়া খাওয়ালে তারা বুঝতেই পারবে না যে তারা কতটা স্বাস্থ্যকর খাবার খাচ্ছে।
মাল্টি-পালস কুইনোয়া কাটলেট নিয়ে কিছু সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)
১. কুইনোয়া না থাকলে কী ব্যবহার করা যায়?
কুইনোয়া না থাকলে আপনি সমপরিমাণ ডালিয়া বা বাজরা ব্যবহার করতে পারেন। তবে মাল্টি-পালস কুইনোয়া কাটলেট এর আসল স্বাদ ও গুণ পেতে কুইনোয়া ব্যবহার করাই শ্রেয়।
২. এই কাটলেটটি কি ফ্রিজে রাখা যায়?
হ্যাঁ, আপনি কাটলেটের আকার দিয়ে এয়ার টাইট কন্টেনারে ২ দিন পর্যন্ত কাঁচা অবস্থায় রাখতে পারেন। খাওয়ার ঠিক আগে প্যানে সেঁকে নিলেই হবে।
৩. এই রেসিপিতে কোন কোন ডাল সবথেকে ভালো হয়?
সাধারণত মুগ, মসুর এবং বিউলির ডালের মিশ্রণ এই মাল্টি-পালস কুইনোয়া কাটলেট তৈরিতে সবথেকে ভালো ফলাফল দেয়।
৪. এটি কি ডায়াবেটিস রোগীরা খেতে পারেন?
অবশ্যই! এতে থাকা ফাইবার এবং লো-গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
স্বাস্থ্য ও স্বাদের সঠিক ভারসাম্য
পরিশেষে বলা যায়, মাল্টি-পালস কুইনোয়া কাটলেট কেবল একটি মুখরোচক খাবার নয়, এটি একটি সুস্থ জীবনযাত্রার অংশ। নিয়মিত বাইরের ভাজাপোড়া বা ময়দার তৈরি বিস্কুট না খেয়ে বিকেলে এই ধরণের ঘরে তৈরি পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন। অল্প সময়ে এবং হাতের কাছের উপকরণ দিয়ে বানানো এই মাল্টি-পালস কুইনোয়া কাটলেট আপনার শরীরের শক্তির জোগান দেবে এবং ক্লান্তি দূর করবে। আজই আপনার রান্নাঘরে ট্রাই করুন এই আধুনিক ও স্বাস্থ্যকর রেসিপিটি।




