নিজস্ব প্রতিবেদন, Bengal Job Study.in : “বাংলায় ভোটার হওয়ার আবেদন” পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সি. ভি. আনন্দ বোস সম্প্রতি একটি অদ্ভুত সিদ্ধান্ত নিলেন — তিনি বাংলায় ভোটার হওয়ার আবেদন করতে চান। বাংলার সংস্কৃতি ও ভাষার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তিনি নিজেকে এই রাজ্যের দত্তক সন্তান হিসেবে দেখতে চান। মঙ্গলবার ছিল এসআইআর ফর্ম জমা দেওয়ার শেষ দিন এবং সেই সুযোগে তিনি তাঁর আবেদনপত্র জমা দিলেন।
রাজ্যপাল কেন বাংলায় ভোটার হওয়ার আবেদন করলেন?
রাজ্যপাল সি. ভি. আনন্দ বোসের আবেদনটি শুধু এক ব্যক্তির আবেদন নয়, বরং রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইঙ্গিত বহন করে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন—বাংলার ভাষা ও সংস্কৃতি তাঁর কাছে অত্যন্ত প্রিয় এবং তিনি বাংলায় ভোটার হওয়ার আবেদন করেই সেই অনুভূতি প্রকাশ করতে চান।
তিনি কী বললেন?
“এই বাংলার দত্তক সন্তান হতে চাই।”
“রবীন্দ্রনাথ যে হাওয়ায় নিঃশ্বাস নিয়েছেন, সেই বাংলায় আমি ভোটার হতে চাই।”
নেতাজি সুবোধচন্দ্রের আদর্শে মানসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে যুক্ত থাকতে চাই।
এর আগে কিছুদূর তিনি রাজ্যপাল হিসেবে বাংলার প্রতি ভালোবাসা দেখিয়েছেন, বাংলা শেখার চেষ্টা করেছেন এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।
এসআইআর ফর্ম কি? (SIR Form সংক্ষেপে)
এসআইআর অর্থ Special Intensive Revision — নির্বাচন কমিশনের একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ভোটার তালিকা আপডেট করা হয়। এতে নাগরিকরা নতুন করে নাম যুক্ত করতে পারেন, ঠিকানা পরিবর্তন করতে পারেন বা অন্য বুথে স্থানান্তর করতে পারেন।
আজ শেষে এসআইআর ফর্ম জমা দেওয়ার দিন ছিল এবং এই সুযোগেই রাজ্যপাল তাঁর আবেদনপত্র জমা দেন।
প্রধান ঘটনাগুলোর ক্রম
| সময় | ঘটনাবলি |
|---|---|
| সকাল | রাজ্যপাল রাজভবন থেকে লোকভবনে যান |
| সকাল | বিএলও ও সুপারভাইজারদের কাছে SIR ফর্ম জমা |
| দুপুর | আবেদনপত্র গ্রহণ |
| বিকাল | আবেদন সম্পর্কে সংবাদ সংস্থা রিপোর্ট প্রকাশ |
মতামত ও প্রতিক্রিয়া
বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে এই মন্তব্য নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ বলছেন এটি রাজ্যপালের সাংস্কৃতিক আবেগ, আবার কেউ বলেন এটি একটি রাজনৈতিক ব্যঙ্গ বা সামাজিক বার্তা ও হতে পারে।
তবে সরকারি সূত্রে জানা গেছে—একজন গভর্নরের অন্য রাজ্যের ভোটার হওয়ার আইনি কোনো বাধা নেই, আর কমিশনে পাঠালেই নাম সংশ্লিষ্ট ভোটার তালিকায় যুক্ত করা হয়।
সংক্ষেপে ঘটনা
- সি. ভি. আনন্দ বোস বাংলায় ভোটার হওয়ার আবেদন করলেন।
- তিনি রাজ্যকে নিজের মনোভাবের “দত্তক” বাবা/মাতার মতো মনে করেন।
- এসআইআর ফর্ম আজকের শেষ দিনে জমা দিলেন।
- কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী আবেদনটি যাচাইয়ের পর ভোটার তালিকায় নাম ঢোকানো হবে।
উপসংহার
রাজ্যপাল নিজেকে বাংলার “দত্তক সন্তান” হিসেবে ঘোষণা করে বাংলায় ভোটার হওয়ার আবেদন করেছেন — এটি শুধু একটি ব্যক্তিগত আবেদন নয়, বরং বাংলার ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর তার অনুভূতির প্রতিফলন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।





