নিজস্ব প্রতিবেদন, Bengal Job Study.in : অমর্ত্য সেন ভোটার কার্ড নোটিস বাংলার গর্ব তথা বিশ্বখ্যাত নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের ভোটার কার্ড নিয়ে বিতর্ক এখন তুঙ্গে। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তাঁর শান্তিনিকেতনের বাসভবন ‘প্রতীচী’তে একটি নোটিস পাঠানো হয়েছে, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে। ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনী বা SIR প্রক্রিয়ার অধীনে পাঠানো এই অমর্ত্য সেন ভোটার কার্ড নোটিস ঘিরেই এখন নানা প্রশ্ন উঠছে। সাধারণ মানুষের মনে কৌতূহল জেগেছে যে, দেশের এমন এক প্রথিতযশা ব্যক্তিত্বকে কেন হঠাৎ শুনানির মুখোমুখি হতে হচ্ছে? কমিশনের দাবি অনুযায়ী, তাঁর দেওয়া তথ্যে কিছু যান্ত্রিক বা যৌক্তিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে।
কেন অমর্ত্য সেন ভোটার কার্ড নোটিস পাঠানো হল?
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ভোটার তালিকা যাচাইয়ের কাজ চলাকালীন অমর্ত্য সেনের নথিতে একটি বড়সড় ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা যৌক্তিক গরমিল পাওয়া গেছে। মূলত, ভোটার কার্ডের তথ্যে তাঁর এবং তাঁর মায়ের বয়সের ব্যবধান নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। কমিশনের সার্ভারে দেখা যাচ্ছে, অমর্ত্যবাবু এবং তাঁর মায়ের বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরেরও কম। নিয়মানুযায়ী এটি একটি অস্বাভাবিক তথ্য হিসেবে গণ্য করা হয়। এই যান্ত্রিক ত্রুটি বা তথ্যের অমিল সংশোধনের জন্যই মূলত এই অমর্ত্য সেন ভোটার কার্ড নোটিস ইস্যু করা হয়েছে। যদিও তাঁর পরিবারের দাবি, অমর্ত্যবাবুর মায়ের জন্ম ১৯১৪ সালে এবং অমর্ত্যবাবুর জন্ম ১৯৩৩ সালে, ফলে ব্যবধান প্রায় ১৯ বছরের বেশি। কিন্তু কমিশনের রেকর্ডে মায়ের জন্মসাল ভুল থাকায় এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
কবে হবে এই মামলার শুনানি?
আগামী ১৬ই জানুয়ারি এই বিষয়ে একটি বিশেষ শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। বোলপুরের বিডিও অফিসের আধিকারিকরা নোবেলজয়ীর বাসভবনে গিয়ে এই শুনানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। যেহেতু অর্থনীতিবিদের বয়স ৮৫ বছরের বেশি, তাই নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে সশরীরে কোনো দপ্তরে হাজির হতে হবে না। পরিবর্তে, সংশ্লিষ্ট বুথ লেভেল অফিসার (BLO) তাঁর বাড়িতে গিয়েই যাবতীয় প্রয়োজনীয় নথিপত্র পরীক্ষা করবেন। এই অমর্ত্য সেন ভোটার কার্ড নোটিস প্রদানের মাধ্যমে কমিশন নিশ্চিত করতে চাইছে যে, ভোটার তালিকায় থাকা তথ্যগুলো যেন সম্পূর্ণ নির্ভুল এবং যুক্তিযুক্ত হয়। বর্তমানে তিনি বিদেশে থাকলেও পরিবারের পক্ষ থেকে এই নোটিস গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে প্রবল প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক তরজা চরমে উঠেছে। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বাংলার মণীষীদের অপমান করার লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিরোধী দল বিজেপির দাবি, এটি একটি রুটিন প্রক্রিয়া এবং ভোটার তালিকা নির্ভুল করার ক্ষেত্রে কাউকেই ছাড় দেওয়া হয় না। এর আগে ক্রিকেটার মহম্মদ শামী এবং অভিনেতা দেবকেও একই ধরনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তবে অমর্ত্য সেনের মতো একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তির কাছে অমর্ত্য সেন ভোটার কার্ড নোটিস যাওয়ার বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। কমিশনের দাবি, এটি কোনো ব্যক্তি বিশেষকে হেনস্থা করার জন্য নয়, বরং ডিজিটাল ডেটাবেসের ভুল সংশোধনের একটি সাধারণ পদক্ষেপ মাত্র।
ভোটার তালিকার তথ্যে গরমিল ও তার সমাধান
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে ভোটার তালিকার যে বিশেষ সংস্কার (SIR) চলছে, তাতে প্রায় ৯৫ লক্ষ ভোটারের তথ্যে ছোটখাটো ত্রুটি পাওয়া গেছে। অমর্ত্যবাবুর ক্ষেত্রেও স্পেলিং বা জন্মসালের ভুল থাকতে পারে। এই সমস্যার সমাধানের জন্য যে বিষয়গুলো মাথায় রাখা জরুরি:
- নিজের নাম ও বাবার/মায়ের নামের বানান সঠিক আছে কিনা তা পরীক্ষা করা।
- জন্ম তারিখ বা বয়স অনুযায়ী অভিভাবকের বয়সের যৌক্তিক পার্থক্য যাচাই করা।
- ভোটার তালিকায় আধার বা অন্যান্য ডিজিটাল নথির সংযুক্তি ঠিকমতো হওয়া।
- কোনো নোটিস পেলে আতঙ্কিত না হয়ে নির্দিষ্ট দিনে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়া।
অমর্ত্য সেনের ভোটার কার্ড সংক্রান্ত তথ্যের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| ব্যক্তিত্বের নাম | অধ্যাপক অমর্ত্য সেন |
| নোটিসের কারণ | মা ও ছেলের বয়সের ব্যবধান ১৫ বছরের কম হওয়া |
| শুনানির তারিখ | ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ |
| শুনানির স্থান | শান্তিনিকেতনের বাসভবন ‘প্রতীচী’ |
| সংশোধনকারী সংস্থা | নির্বাচন কমিশন (ECI) |
| বর্তমান স্থিতি | NRI হিসেবে ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত |
অমর্ত্য সেনের এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ভোটার কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথিতে তথ্যের নির্ভুলতা কতটা জরুরি। কমিশনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে, অমর্ত্য সেনের ভোটার কার্ড সংশোধনের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে তাঁর ভোটদানে কোনো বাধা সৃষ্টি না হয়। এই অমর্ত্য সেন ভোটার কার্ড নোটিস বিতর্কের অবসান ১৬ই জানুয়ারির শুনানির পরেই ঘটবে বলে আশা করা যাচ্ছে।





