আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলার রাজনীতিতে এখন সাজ সাজ রব। বিশেষ করে জঙ্গলমহলের মাটি থেকে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের প্রচারের সুর বেঁধে দিল। পুরুলিয়ার জনসভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া হুঁশিয়ারি এবং রাজ্যবাসীর জন্য বড়সড় ঘোষণা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। উন্নয়নের বার্তা থেকে শুরু করে বিরোধীদের কড়া সমালোচনা— সব মিলিয়ে পুরুলিয়ার এই সভাটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরুলিয়া সভা Abhishek Banerjee Purulia Rall পুরুলিয়ার মাটি থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক বিশাল জনসভায় যোগ দিয়ে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল স্পষ্ট করে দিলেন। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, মানুষ যদি পাশে থাকে তবে আগামী দিনে বাংলার প্রতিটি ঘরে উন্নয়নের জোয়ার বইবে। বিশেষ করে কেন্দ্রের বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াই জারি রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কীভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াবে, তার একটি রোডম্যাপ তিনি এই সভা থেকে পেশ করেছেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরুলিয়া সভা থেকে ১০ দিনের মধ্যে আবাস যোজনার বড় ঘোষণা
পুরুলিয়ার এই মেগা র্যালি থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন যে, আগামী ১০ দিনের মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার রাজ্যের আরও ২০ লক্ষ মানুষকে আবাসের ঘর দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে। তিনি কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে আক্রমণ করে বলেন যে, দিল্লির সরকার বাংলার পাওনা টাকা আটকে রেখেছে। কিন্তু তাতে সাধারণ মানুষের কাজ থেমে থাকবে না। মমতা সরকার নিজের তহবিল থেকেই এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে মাথার ওপর ছাদ দেওয়ার ব্যবস্থা করবে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরুলিয়া সভা থেকে আসা এই ঘোষণা জঙ্গলমহলের মানুষের মনে বড় আশার আলো দেখিয়েছে।
পুরুলিয়ার উন্নয়ন ও ৯-০ লক্ষ্যের সংকল্প
পুরুলিয়ার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তৃণমূল সাংসদ বলেন যে, জেলাবাসীর ভালোবাসার ঋণে তিনি আবদ্ধ। তিনি জানান, জেলার বিভিন্ন ব্লকের অভাব-অভিযোগ ও দাবিদাওয়ার সমস্ত তথ্য তার কাছে রয়েছে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে সেই সমস্ত সমস্যার সমাধান করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরুলিয়া সভা থেকে তিনি ডাক দিয়েছেন, আগামী নির্বাচনে পুরুলিয়ার সবকটি আসন অর্থাৎ ৯-০ ব্যবধানে তৃণমূলকে জয়ী করতে হবে। এই লক্ষ্যপূরণে তিনি দলীয় কর্মীদেরও বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন।
| প্রকল্পের নাম | ঘোষণার সময়সীমা | সুবিধাভোগীর সংখ্যা |
| নতুন আবাস যোজনা | ১০ দিন | ২০ লক্ষ পরিবার |
| ব্লক স্তরের সমস্যা সমাধান | ৬ মাস | সমগ্র জেলাবাসী |
| ২০২৬ বিধানসভা লক্ষ্য | – | ৯-০ আসন জয় |
দলীয় পদাধিকারীদের কড়া বার্তা এবং মানুষের কাছে আর্জি
তৃণমূলের অন্দরে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি সরাসরি বলেন যে, যদি কোনও স্থানীয় নেতা বা পদাধিকারী মানুষের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন, তবে যেন সরাসরি ‘এক ডাকে অভিষেক’ কর্মসূচিতে জানানো হয়। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কোনও ব্যক্তির আচরণের জন্য যেন সাধারণ মানুষ তৃণমূল কংগ্রেস বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে মুখ ফিরিয়ে না নেন। ২০২৬ সালে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে ভোট দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।
কেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরুলিয়া সভা তাৎপর্যপূর্ণ?
পুরুলিয়ার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তৃণমূলের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে এই সভাটি ছিল অত্যন্ত জরুরি। জঙ্গলমহলের ভোটব্যাঙ্ক ফিরে পেতে অভিষেক সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেছেন এবং নিজের ভুল স্বীকার করে নিয়ে দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে চেয়েছেন।
বিরোধীদের সম্পর্কে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কী বললেন?
বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন যে, বিজেপি নেতারা কেবল বড় বড় কথা বলেন। যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না থাকতেন, তবে বাম ও মাওবাদীদের অত্যাচারে এই অঞ্চলের মানুষের শান্তি থাকত না। আজ রাজ্যে শান্তি আছে বলেই মোদি-শাহরা সভা করতে পারছেন।
পুরুলিয়ার জন্য তৃণমূলের আগামী পরিকল্পনা কী?
আগামী ছয় মাসের মধ্যে জেলার উন্নয়নমূলক দাবিদাওয়া পূরণ এবং বিরোধীশূন্য পুরুলিয়া গড়ার ডাক দিয়েছেন তৃণমূলের এই তরুণ নেতা।
কেন্দ্রের বঞ্চনা ও জঙ্গলমহলে শান্তি ফিরিয়ে আনার দাবি
জনসভা থেকে অভিষেক বারবার মনে করিয়ে দেন যে, কেন্দ্র বাংলার প্রাপ্য টাকা না দিলেও রাজ্য সরকার পিছিয়ে আসবে না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরুলিয়া সভা থেকে তিনি বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার ও শুভেন্দু অধিকারীকে কটাক্ষ করে বলেন যে, তারা এখানে এসে কেবল জ্ঞান দিচ্ছেন, কিন্তু মানুষের প্রয়োজনে তাদের দেখা পাওয়া যায় না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্ত করলেই জঙ্গলমহলের শান্তি ও উন্নয়ন বজায় থাকবে বলে তিনি দাবি করেন।
নিচে তৃণমূলের আগামী কর্মসূচি ও লক্ষ্যের একটি তালিকা দেওয়া হলো:
- আগামী ১০ দিনের মধ্যে ২০ লক্ষ ঘরের কাজ শুরু করা।
- পুরুলিয়ার ৯টি আসনেই জয়ের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়া।
- ব্লক ভিত্তিক জনসমস্যা দ্রুত নিরসন করা।
- ‘এক ডাকে অভিষেক’ এর মাধ্যমে স্বচ্ছতা বজায় রাখা।
তৃণমূলের প্রচার কৌশলের প্রধান দিকগুলো হলো:
- সরাসরি জন সংযোগ বৃদ্ধি।
- বিজেপির কেন্দ্রীয় বঞ্চনাকে প্রচারের হাতিয়ার করা।
- উন্নয়নমূলক প্রকল্পের দ্রুত রূপায়ন।
পরিশেষে বলা যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরুলিয়া সভা আগামী ২০২৬ নির্বাচনের আগে তৃণমূলের জন্য একটি বড় শক্তিবৃদ্ধি হিসেবে কাজ করবে। মানুষের আস্থা ফেরাতে এবং উন্নয়নের বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে এই ধরনের কর্মসূচি আরও বাড়ানো হবে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।




