রোজগার মেলায় ৫১ হাজার যুবশক্তির হাতে নিয়োগপত্র, অভিভাবকদের ত্যাগের কথা স্মরণ প্রধানমন্ত্রীর

২০তম রোজগার মেলায় ৫১ হাজারেরও বেশি তরুণ-তরুণীর হাতে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তরুণদের পরিশ্রম ও অভিভাবকদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে দিলেন বিশেষ বার্তা।

রোজগার মেলায় ৫১ হাজার তরুণ-তরুণীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্মরণ করলেন অভিভাবকদের ত্যাগের কথা

​শনিবার ২০তম ‘রোজগার মেলা’-র (Rozgar Mela) মঞ্চ থেকে দেশের ৫১ হাজারেরও বেশি তরুণ-তরুণীর হাতে কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নতুন নিযুক্ত কর্মীদের দেশের উন্নয়ন এবং আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি, এই সাফল্যের পেছনে তরুণদের কঠোর পরিশ্রম এবং তাঁদের অভিভাবকদের অপরিসীম ত্যাগের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেন তিনি।

​’রোজগার মেলা’-র মূল হাইলাইটস এবং প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

​দেশের ৪৫টি ভিন্ন স্থানে আয়োজিত এই মেলায় একযোগে নিয়োগপত্র বিতরণ করা হয়। নবনিযুক্ত কর্মীরা রাজস্ব, আর্থিক পরিষেবা, রেল, স্বরাষ্ট্র, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ এবং প্রতিরক্ষা সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় মন্ত্রক এবং দপ্তরে যোগ দেবেন।

  • নাগরিক-কেন্দ্রিক পরিষেবা: প্রধানমন্ত্রী কর্মীদের ‘সিটিজেন ফার্স্ট’ (Citizen First) বা নাগরিক-প্রথম নীতি গ্রহণ করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারীদের সততা এবং কর্মদক্ষতাই দেশের সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের আসল ছবি তুলে ধরে।
  • অভিভাবকদের ত্যাগের স্বীকৃতি: প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, আজকের এই নিয়োগপত্র শুধু তরুণদের পরিশ্রমের ফল নয়, বরং এটি তাঁদের বাবা-মা এবং পরিবারের দীর্ঘদিনের ত্যাগের চূড়ান্ত স্বীকৃতি।
  • ২০৪৭ সালের ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্য: ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার যে লক্ষ্যমাত্রা বা ‘বিকশিত ভারত’ (Viksit Bharat) গড়ার সংকল্প নেওয়া হয়েছে, তা পূরণে এই তরুণ প্রজন্ম একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।
  • কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বৃদ্ধি: স্কিল ইন্ডিয়া, প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনা এবং পিএম-সেতু (PM-SETU) কর্মসূচির মতো একাধিক উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের যুবসমাজকে বর্তমান শিল্পের চাহিদার সঙ্গে মানানসই করে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

​নতুন নিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সার্বিক চিত্র

​সরকারের তথ্য অনুযায়ী, রোজগার মেলার এই সাম্প্রতিকতম পর্বের পর এখনও পর্যন্ত মোট প্রায় ১২.৭৫ লক্ষ তরুণ-তরুণীকে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়েছে। 

বিষয়বিবরণ
রোজগার মেলার সংস্করণ২০তম রোজগার মেলা (২০২৬ সাল)
নতুন নিয়োগের সংখ্যা৫১ হাজারেরও বেশি (51,000+)
নিয়োগকারী বিভাগরেল, প্রতিরক্ষা, স্বরাষ্ট্র, স্বাস্থ্য ও আর্থিক পরিষেবা মন্ত্রক।
কর্মসংস্থান প্রকল্পপ্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনা (প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ)।
মোট নিয়োগ (এখনও পর্যন্ত)প্রায় ১২.৭৫ লক্ষ (রোজগার মেলার মাধ্যমে)।

কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের ভবিষ্যৎ রূপরেখা

​প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেন যে, প্রথমবার চাকরিতে যোগ দেওয়া তরুণদের জন্য ‘প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনা’-র অধীনে ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত উৎসাহভাতা (Incentive) প্রদান করা হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের প্রায় ২ কোটি যুবশক্তি উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ছোট শহর বা টায়ার-২ এবং টায়ার-৩ শহরগুলোতে যেভাবে স্টার্ট-আপ (Startup) কালচার গড়ে উঠছে, তা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে একটি বড় বিপ্লব আনছে।

​রোজগার মেলা এবং কর্মসংস্থান সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)

​২০তম রোজগার মেলায় কতজন তরুণ-তরুণীকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে?

​শনিবারের ২০তম রোজগার মেলায় ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে দেশের ৫১ হাজারেরও বেশি তরুণ-তরুণীকে কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়েছে।

​নতুন নিযুক্ত কর্মীরা কোন কোন দপ্তরে যোগ দেবেন?

​নবনিযুক্তরা মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের রেল, স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ এবং রাজস্ব ও আর্থিক পরিষেবা দপ্তরে যোগ দেবেন।

​প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে অভিভাবকদের সম্পর্কে কী বলেছেন?

​প্রধানমন্ত্রী তরুণদের এই সাফল্যকে তাঁদের দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম এবং তার সাথে অভিভাবকদের অপরিসীম ত্যাগের প্রতি চূড়ান্ত সম্মান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

​’প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনা’-র সুবিধা কী?

​এই নতুন স্কিমের অধীনে প্রথমবারের জন্য কাজে যোগ দেওয়া তরুণদের সরকার ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা বা ইনসেনটিভ প্রদান করবে, যা দেশের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে।

​সরকারি চাকরির এই বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রমাণ করে যে, সরকার কর্মসংস্থানকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ‘রোজগার মেলা’ শুধুমাত্র বেকারত্ব দূর করার হাতিয়ার নয়, বরং ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে দেশের নবীন প্রজন্মকে মূল স্রোতে শামিল করার একটি সুপরিকল্পিত মিশন। তরুণদের কর্মদক্ষতা এবং সততার ওপর ভিত্তি করেই আগামী দিনের আত্মনির্ভর ভারত গড়ে উঠবে বলে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন। 

বিজ্ঞাপন

Leave a Comment

Created with ❤