এনআরএস হাসপাতালে রাতের ডিউটিতে থাকা নার্সের রহস্যমৃত্যু, শৌচালয় থেকে উদ্ধার দেহ! তীব্র চাঞ্চল্য

কলকাতার এনআরএস হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিভাগের এইচডিইউ-এর শৌচালয় থেকে উদ্ধার হলো রাতের ডিউটিতে থাকা এক নার্সের নিথর দেহ। ফেন্টানিল ওভারডোজ না অন্য কিছু? তদন্তে এন্টালি থানার পুলিশ।

এনআরএস হাসপাতালে রাতের ডিউটিতে থাকা নার্সের রহস্যমৃত্যু, শৌচালয় থেকে উদ্ধার দেহ!

​কলকাতার সরকারি হাসপাতালে ফের এক চাঞ্চল্যকর ও রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা। নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের (NRS Hospital) স্ত্রীরোগ বিভাগের হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট (HDU)-এর শৌচালয় থেকে এক কর্তব্যরত নার্সের সংজ্ঞাহীন দেহ উদ্ধারের ঘটনায় গোটা হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং রোগীর পরিজনদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

​ঘটনার সূত্রপাত ও রাতের ডিউটির বিবরণ

​হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত নার্সের নাম রূপালী। তিনি আদতে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বাসিন্দা ছিলেন এবং সম্প্রতি বদলি হয়ে কলকাতার এই প্রথম সারির সরকারি হাসপাতালে কাজে যোগ দিয়েছিলেন।

​বুধবার রাতে এনআরএস হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিভাগের এইচডিইউ-তে তাঁর ডিউটি ছিল। নিয়মমাফিক রাত ৮টা নাগাদ তিনি তাঁর রাতের শিফটের কাজে যোগ দেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রাত ১০টা ২০ মিনিট নাগাদ রূপালী নার্সিং স্টেশন থেকে বেরিয়ে শৌচালয়ের দিকে যান। যাওয়ার সময় তিনি নিজের সঙ্গে ফেন্টানিল (Fentanyl)-এর তিনটি ভায়াল বা অ্যাম্পুল নিয়ে গিয়েছিলেন বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। ফেন্টানিল মূলত অ্যানাস্থেশিয়া বা তীব্র ব্যথা উপশমের জন্য ব্যবহৃত একটি অত্যন্ত কড়া ওষুধ।

​শৌচালয়ে যাওয়ার পর বেশ কিছুটা সময়, অন্তত ১০টা ২৭ মিনিট পর্যন্ত তিনি বাইরে না আসায় সহকর্মীদের মনে সন্দেহ জাগে। তাঁরা ডাকাডাকি শুরু করেন। ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় শেষে শৌচালয়ের দরজা খুলে ওই নার্সকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

​মৃত্যুর কারণ ঘিরে ধোঁয়াশা: আত্মহত্যা নাকি অন্য কিছু?

​এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই একাধিক জল্পনা এবং রহস্য ঘনীভূত হয়েছে।

  • ওষুধের ওভারডোজ বা আত্মহত্যা: প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, অ্যানাস্থেশিয়া-সংক্রান্ত ওষুধের (ফেন্টানিল) অতিরিক্ত ডোজ ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে প্রয়োগ করার ফলেই তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। এটি আত্মহত্যার ঘটনা কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
  • খুনের সম্ভাবনা: এটি কেবলই আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গভীর ষড়যন্ত্র বা খুনের ঘটনা লুকিয়ে আছে, সেই প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে। শৌচালয়ে ফেন্টানিলের ভায়াল কীভাবে নিয়ে যাওয়া হলো এবং তিনি নিজেই সেটি নিয়েছিলেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।

​ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ কোনো সুইসাইড নোট বা চিরকুট উদ্ধার করতে পারেনি। এছাড়া, মৃতদেহের শরীরে প্রাথমিকভাবে কোনো আঘাতের চিহ্নও পাওয়া যায়নি।

​পুলিশের তদন্ত এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ

​এই রহস্যমৃত্যুর খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এন্টালি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দারা।

  • ময়নাতদন্ত: মৃতদেহটি উদ্ধার করে ইতিমধ্যেই ময়নাতদন্তের (Post-mortem) জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ, অর্থাৎ ঠিক কোন ওষুধের প্রভাবে এবং কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা জলের মতো স্পষ্ট হবে।
  • জিজ্ঞাসাবাদ: মৃত্যুর সময় ওই ইউনিটে রূপালীর সঙ্গে যে চারজন নার্স ডিউটিতে ছিলেন, তাঁদের প্রত্যেককে এন্টালি থানায় একসঙ্গে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
  • সিসিটিভি ও অন্যান্য প্রমাণ: পুলিশ হাসপাতাল চত্বর এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে। ওই নার্স কাজে যোগ দেওয়ার পর কার কার সঙ্গে কথা বলেছিলেন বা তাঁর মানসিক অবস্থা কেমন ছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে।

​সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন

​এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাটি রাজ্যের প্রথম সারির একটি সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কর্মীদের কাজের পরিবেশ নিয়ে আবারও বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। রাতে ডিউটি চলাকালীন একজন নার্স কীভাবে এত কড়া অ্যানাস্থেশিয়ার ওষুধ নিজের সঙ্গে নিয়ে শৌচালয়ে গেলেন এবং এত বড় একটি ঘটনা ঘটে গেল, তা নিয়ে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ নজরদারি ব্যবস্থার দিকেও আঙুল উঠছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য ভবনও এই ঘটনার ওপর কড়া নজর রাখছে।

আয়ুষ্মান ভারত কার্ড কীভাবে বানাবেন? অনলাইন ও অফলাইন

আয়ুষ্মান ভারত কার্ড কীভাবে বানাবেন? অনলাইন ও অফলাইন দুই পদ্ধতিতেই আবেদনের সম্পূর্ণ গাইড How to make Ayushman Bharat card? Online and offline

বিজ্ঞাপন

Leave a Comment

Created with ❤