ডিজিটাল জনগণনায় সেল্ফ-এনিউমারেশন: ৯ ধাপে ফর্ম পূরণের নিয়ম ও বিস্তারিত তথ্য

দেশজুড়ে শুরু হতে চলেছে ডিজিটাল জনগণনা। সেল্ফ-এনিউমারেশন বা স্ব-গণনা পদ্ধতিতে কীভাবে ৯টি সহজ ধাপে নিজেই নিজের তথ্য পোর্টালে আপলোড করবেন? জানুন বিস্তারিত নিয়ম।

ডিজিটাল জনগণনা: স্ব-গণনা বা সেল্ফ-এনিউমারেশন পদ্ধতিতে ৯ ধাপে ফর্ম পূরণের নিয়ম

​দীর্ঘ অপেক্ষার পর দেশজুড়ে ডিজিটাল জনগণনা বা সেন্সাস (Census) শুরু হতে চলেছে। এবারের জনগণনার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো ‘সেল্ফ-এনিউমারেশন’ (Self-Enumeration) বা স্ব-গণনা পদ্ধতি। অর্থাৎ, এবার নাগরিকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা গণনাকারীর জন্য বাড়িতে অপেক্ষা করতে হবে না; স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের সাহায্যে নিজেরাই নিজেদের তথ্য নির্দিষ্ট সরকারি পোর্টালে আপলোড করতে পারবেন।

​বাড়ি বাড়ি জনগণনা কবে শুরু হবে, কারা এই কাজ করবেন, কতদিন ধরে চলবে এবং কীভাবে ৯টি ধাপে আপনি নিজেই এই সেল্ফ-এনিউমারেশন ফর্ম পূরণ করতে পারবেন, তা বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।

​কবে শুরু হবে জনগণনা এবং কারা করবেন এই কাজ?

​করোনা মহামারীর কারণে জনগণনার কাজ বেশ কয়েক বছর পিছিয়ে যাওয়ার পর, এবার তা নতুন উদ্যমে শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

  • গণনাকারী বা এনিউমারেটর (Enumerator): সাধারণত সরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যান্য কর্মচারীদের এই কাজে নিযুক্ত করা হয়। এবার কাগজের ফর্মের বদলে তাঁদের হাতে থাকবে স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট।
  • সময়কাল: জনগণনার কাজ মূলত দুটি ধাপে সম্পন্ন হয়—প্রথমত, বাড়ি তালিকাভুক্তকরণ (House Listing) এবং দ্বিতীয়ত, জনসংখ্যা গণনা (Population Enumeration)। এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি পর্যায়ক্রমে কয়েক মাস ধরে চলবে।

​সেল্ফ-এনিউমারেশন বা স্ব-গণনা পদ্ধতি কী?

​সেল্ফ-এনিউমারেশন হলো এমন একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যেখানে নাগরিকরা নিজেরাই সেন্সাস পোর্টালে লগইন করে নিজেদের এবং পরিবারের যাবতীয় তথ্য সরাসরি সরকারি ডেটাবেসে নথিভুক্ত করতে পারবেন। কর্মব্যস্ত মানুষদের জন্য এই পদ্ধতি অত্যন্ত সুবিধাজনক এবং এর ফলে তথ্যে ভুল থাকার সম্ভাবনাও অনেকটা কমে যায়।

​৯টি সহজ ধাপে কীভাবে পূরণ করবেন সেল্ফ-এনিউমারেশন ফর্ম?

​যাঁরা নিজে থেকে এই ফর্ম পূরণ করতে চান, তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট পোর্টাল এবং গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়েছে। নিচের ৯টি ধাপ অনুসরণ করে ফর্মটি পূরণ করা যাবে:

​১. পোর্টালে প্রবেশ: প্রথমে ভারত সরকারের নির্দিষ্ট সেন্সাস পোর্টালে বা সেল্ফ-এনিউমারেশন অ্যাপে প্রবেশ করুন।

২. রেজিস্ট্রেশন বা লগইন: নিজের সচল মোবাইল নম্বর দিয়ে পোর্টালে লগইন করুন। এরপর মোবাইল নম্বরে আসা ওটিপি (OTP) দিয়ে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করুন।

৩. আবাসিক তথ্য প্রদান: আপনার বাড়ির ঠিকানা, পিন কোড এবং জেলার নাম ড্রপডাউন মেনু থেকে সঠিকভাবে নির্বাচন করুন।

৪. পরিবারের প্রধানের তথ্য: পরিবারের প্রধান (Head of the Family)-এর নাম, বয়স, পেশা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার বিস্তারিত তথ্য ফিলাপ করুন।

বিজ্ঞাপন

৫. সদস্যদের যুক্ত করা: এরপর ‘Add Member’ অপশনে ক্লিক করে পরিবারের বাকি সদস্যদের নাম, বয়স, এবং পরিবারের প্রধানের সাথে তাঁদের সম্পর্ক নির্দিষ্ট স্থানে উল্লেখ করুন।

৬. জনতাত্ত্বিক তথ্য (Demographics): প্রতিটি সদস্যের মাতৃভাষা, ধর্ম, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পেশা সংক্রান্ত কলামগুলো নির্ভুলভাবে পূরণ করুন।

৭. অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা: বাড়িটি নিজস্ব নাকি ভাড়ার এবং বাড়িতে কী কী যানবহন বা বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম (যেমন: টিভি, ফ্রিজ, গাড়ি ইত্যাদি) আছে, সেই সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিন।

৮. রিভিউ বা যাচাইকরণ: সমস্ত তথ্য পূরণ করার পর ‘Review’ অপশনে গিয়ে পুরো ফর্মটি একবার ভালো করে মিলিয়ে নিন।

৯. ফাইনাল সাবমিট এবং QR কোড সংগ্রহ: সব ঠিক থাকলে ‘Submit’ বাটনে ক্লিক করুন। ফর্ম জমা পড়ার পর স্ক্রিনে একটি রেফারেন্স নম্বর (Reference Number) এবং একটি QR কোড জেনারেট হবে। এটির স্ক্রিনশট নিয়ে বা প্রিন্ট করে যত্ন সহকারে রেখে দিন।

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: যখন সরকারি গণনাকারী আপনার বাড়িতে ভেরিফিকেশনের জন্য আসবেন, তখন এই QR কোডটি দেখালেই আপনার কাজ শেষ হয়ে যাবে, নতুন করে কোনো তথ্য দিতে হবে না।)

​সেল্ফ-এনিউমারেশন ফর্ম সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)

​সেল্ফ-এনিউমারেশন পদ্ধতি কি সবার জন্য বাধ্যতামূলক?

​না, এই পদ্ধতি বাধ্যতামূলক নয়। এটি সাধারণ মানুষের সময় বাঁচানোর জন্য একটি বিকল্প উপায় মাত্র। আপনি চাইলে নিজে ফর্ম পূরণ করতে পারেন, অন্যথায় সরকারি গণনাকারী বাড়িতে এসে তথ্য সংগ্রহ করে নিয়ে যাবেন।

​অনলাইনে ফর্ম পূরণ করার পর কি গণনাকারী আর বাড়িতে আসবেন না?

​অনলাইনে ফর্ম পূরণ করলেও এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত গণনাকারী একবার আপনার বাড়িতে আসবেন। তবে তখন আর দীর্ঘ প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে না; শুধুমাত্র জেনারেট হওয়া QR কোড বা রেফারেন্স নম্বরটি দেখালেই তিনি সেটি স্ক্যান করে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করবেন।

​এই ফর্ম পূরণের জন্য কী কী নথিপত্র হাতের কাছে রাখা প্রয়োজন?

​ফর্ম পূরণের সময় পরিবারের সদস্যদের আধার কার্ড, ভোটার আইডি, জন্মতারিখের প্রমাণ এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র হাতের কাছে রাখা ভালো, যাতে সঠিক বানান ও তথ্য দেওয়া যায়।

​ফর্ম জমা দেওয়ার পর কি তথ্যের কোনো পরিবর্তন বা সংশোধন করা যাবে?

​ফাইনাল সাবমিট করার আগে পর্যন্ত তথ্যে সংশোধন করা যায়। তবে একবার ফর্ম সাবমিট হয়ে যাওয়ার পর কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে, গণনাকারী যখন বাড়িতে আসবেন তখন তাঁকে জানিয়ে তা সংশোধন করা যেতে পারে।

​উপসংহার

​ডিজিটাল ইন্ডিয়া গড়ার লক্ষ্যে এবারের জনগণনায় সেল্ফ-এনিউমারেশন পদ্ধতি এক বিশাল ভূমিকা পালন করতে চলেছে। এই ৯টি ধাপ সঠিকভাবে অনুসরণ করলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আপনি আপনার এবং আপনার পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জাতীয় স্তরে নথিভুক্ত করতে পারবেন।

Leave a Comment

Created with ❤