নিজস্ব প্রতিবেদন, Bengal Job Study.in : ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম ২০২৬ বর্তমান সময়ে একটি বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে সরকার লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও ডিজিটাল এবং স্বচ্ছ করে তুলেছে যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই এটি সংগ্রহ করতে পারেন। এখন আর দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ঝামেলা নেই, বাড়িতে বসেই আপনি প্রাথমিক ধাপগুলো সম্পন্ন করতে পারবেন। তবে এই আবেদন প্রক্রিয়ায় কিছু টেকনিক্যাল পরিবর্তন এসেছে যা আপনার জানা থাকলে কাজটা আরও সহজ হয়ে যাবে। আজকের প্রতিবেদনে আমরা এই নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।
ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম ২০২৬ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য
২০২৬ সালে ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরির জন্য আপনাকে প্রথমেই অনলাইনের মাধ্যমে লার্নার লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে। এটি হলো আপনার মূল লাইসেন্স পাওয়ার প্রথম ধাপ। সরকারি পোর্টালে গিয়ে সঠিক তথ্য দিয়ে ফরম পূরণ করা এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র আপলোড করা এখন অনেক বেশি সহজতর। লার্নার লাইসেন্স পাওয়ার পর একটি নির্দিষ্ট সময় অতিক্রান্ত হলে আপনি স্থায়ী চালকের পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম ২০২৬ মেনে চললে আপনি কোনো দালালের সাহায্য ছাড়াই নিজের কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।
আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্রের তালিকা
একটি সঠিক আবেদন জমা দেওয়ার জন্য আপনার কাছে কিছু বৈধ নথিপত্র থাকা আবশ্যক। নথিগুলো স্ক্যান করে সঠিক সাইজে আপলোড করতে হয়। ডিজিটাল ইন্ডিয়া উদ্যোগের ফলে এখন অনেক ক্ষেত্রে আধার কার্ডের মাধ্যমেই অধিকাংশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হয়ে যায়। তবে সাধারণ ভাবে যে কাগজগুলো আপনার লাগবে তা নিচে দেওয়া হলো:
- বয়সের প্রমাণপত্র (বার্থ সার্টিফিকেট বা মাধ্যমিকের এডমিট কার্ড)।
- ঠিকানার প্রমাণপত্র (আধার কার্ড, ভোটার কার্ড বা ইলেকট্রিক বিল)।
- পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।
- মেডিকেল সার্টিফিকেট (নির্দিষ্ট বয়সের উপরে বা কমার্শিয়াল লাইসেন্সের ক্ষেত্রে)।
- শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র (ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণী পাস)।
অনলাইনে লার্নার লাইসেন্স পাওয়ার আধুনিক উপায়
ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম ২০২৬ অনুযায়ী, লার্নার লাইসেন্সের পরীক্ষা এখন অনেক রাজ্যে ঘরে বসেই অনলাইন প্রক্টর্ড মোডে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে আপনাকে বারবার আরটিও (RTO) অফিসে দৌড়াতে হবে না। অনলাইনে আবেদনের পর একটি স্লট বুক করতে হয় এবং সেই নির্দিষ্ট সময়ে আপনাকে ট্রাফিক নিয়মাবলীর উপর একটি ছোট কম্পিউটরাইজড পরীক্ষা দিতে হবে। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই আপনার মোবাইলে লার্নার লাইসেন্স ডাউনলোডের লিঙ্ক চলে আসবে। মনে রাখবেন, লার্নার কার্ড পাওয়ার পর সেটি নির্দিষ্ট কয়েক মাস পর্যন্ত বৈধ থাকে।
লার্নার থেকে স্থায়ী লাইসেন্স পাওয়ার ধাপসমূহ
অনেকেই মনে করেন লার্নার পেলেই কাজ শেষ, কিন্তু আসলে স্থায়ী লাইসেন্সের জন্য আপনাকে পুনরায় আবেদন করতে হবে। লার্নার লাইসেন্স ইস্যু হওয়ার ৩০ দিন পর থেকে ১৮০ দিনের মধ্যে আপনাকে স্থায়ী লাইসেন্সের জন্য আবেদন জানাতে হবে। এই পর্যায়ে আপনাকে সরাসরি আরটিও অফিসে গিয়ে গাড়ির ট্রায়াল দিতে হবে। আপনি যদি সফলভাবে গাড়ি চালিয়ে দেখাতে পারেন, তবেই আপনার স্থায়ী ড্রাইভিং পারমিট অনুমোদিত হবে। এই ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম ২০২৬ প্রক্রিয়াটি এখন সম্পূর্ণ সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে সম্পন্ন করা হয়।
২০২৬ সালের লাইসেন্স ফি এবং খরচ সংক্রান্ত তথ্য
সরকার ২০২৬ সালে লাইসেন্সের ফি কাঠামোতে কিছুটা পরিবর্তন এনেছে। লার্নার লাইসেন্স, ড্রাইভিং টেস্ট এবং স্মার্ট কার্ড ডেলিভারির জন্য আলাদা আলাদা ফি অনলাইনেই জমা দিতে হয়। নিচে একটি টেবিলের মাধ্যমে সম্ভাব্য খরচের ধারণা দেওয়া হলো:
| সেবার ধরন | সম্ভাব্য ফি (টাকা) |
|---|---|
| লার্নার লাইসেন্স আবেদন | ২০০ – ৪০০ |
| ড্রাইভিং টেস্ট ফি | ৩০০ – ৫০০ |
| স্থায়ী স্মার্ট কার্ড লাইসেন্স | ৬০০ – ১০০০ |
| ঠিকানা পরিবর্তন বা নবায়ন | ৪০০ – ৬০০ |
ড্রাইভিং টেস্টে পাস করার কিছু কার্যকরী টিপস
অনেকেই ড্রাইভিং টেস্টের সময় ঘাবড়ে যান, যার ফলে ছোটখাটো ভুল হয়ে যায়। ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম ২০২৬ অনুযায়ী এখন ট্রায়াল প্রক্রিয়াটি বেশ কড়া। টেস্ট দেওয়ার সময় নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখুন:
- গাড়ির সিট বেল্ট বা হেলমেট অবশ্যই ব্যবহার করবেন।
- ট্রাফিক সিগন্যাল এবং হাতের ইশারাগুলো ভালো করে রপ্ত করুন।
- গাড়ি চালানোর সময় আত্মবিশ্বাস বজায় রাখুন এবং আয়নার সঠিক ব্যবহার করুন।
- রিভার্স গিয়ার এবং ‘H’ ট্র্যাকে গাড়ি চালানোর প্র্যাকটিস আগে থেকেই করে রাখুন।
স্মার্ট কার্ড লাইসেন্স ডেলিভারি এবং ট্র্যাক করার পদ্ধতি
আপনার আবেদন অনুমোদিত হয়ে গেলে স্পিড পোস্টের মাধ্যমে আপনার বাড়িতে স্থায়ী স্মার্ট কার্ডটি পাঠিয়ে দেওয়া হবে। আবেদনের বর্তমান অবস্থা বা স্ট্যাটাস চেক করার জন্য আপনি সারথি (Sarathi) পোর্টাল ব্যবহার করতে পারেন। সেখানে আপনার অ্যাপ্লিকেশন নম্বর এবং জন্ম তারিখ দিলেই বুঝতে পারবেন আপনার লাইসেন্সটি প্রিন্ট হয়েছে কি না বা সেটি কতদূর পৌঁছেছে। সঠিক ভাবে চালকের লাইসেন্স পাওয়ার নিয়মগুলো জানলে এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছ মনে হবে।
পরিশেষে বলা যায়, ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম ২০২৬ মেনে চললে আপনি যেমন আইনি ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকবেন, তেমনই রাস্তায় নিরাপদে গাড়ি চালানোর বৈধ অধিকার পাবেন। ডিজিটাল পোর্টালে নিজের তথ্য সাবধানে ইনপুট করুন যাতে পরবর্তীকালে কোনো সংশোধনের প্রয়োজন না হয়।
আমি কি আপনাকে আপনার এলাকার নিকটস্থ আরটিও (RTO) অফিসের ঠিকানা বা অনলাইন পোর্টালের সরাসরি লিঙ্ক খুঁজে দিতে সাহায্য করতে পারি?





