নিজস্ব প্রতিবেদন, Bengal Job Study.in : “বাড়িতে মুরগি পালানোর পদ্ধতি” গ্রামের পাশাপাশি এখন শহরের প্রান্তিক এলাকাতেও ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বাড়িতে মুরগি পালনের ব্যবসা। অল্প জায়গা, কম খরচ আর নিয়মিত আয়ের সুযোগ থাকায় অনেকেই এই দিকে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে যাঁরা ছোট পরিসরে নতুন কোনও ব্যবসা শুরু করতে চান, তাঁদের কাছে এটি একটি কার্যকর বিজনেস আইডিয়া। সঠিক পরিকল্পনা থাকলে বাড়িতেই মুরগি পালন করে ভালো লাভ করা সম্ভব।
বাড়িতে মুরগি পালানোর পদ্ধতি কীভাবে শুরু করবেন
বাড়িতে মুরগি পালানোর পদ্ধতি শুরু করার আগে প্রথমেই বুঝে নিতে হবে, এটি শুধু শখের বিষয় নয়—এটি একটি ছোট ব্যবসাও। তাই শুরু থেকেই কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি।
প্রথম ধাপে ঠিক করতে হবে, আপনি দেশি মুরগি না ব্রয়লার মুরগি পালবেন। বাড়ির উঠোন বা ছাদে সাধারণত দেশি মুরগিই বেশি উপযোগী। কারণ এগুলি তুলনামূলকভাবে কম রোগে আক্রান্ত হয় এবং যত্নও কম লাগে। বাড়িতে মুরগি পালানোর পদ্ধতি ঠিকভাবে অনুসরণ করলে অল্প সংখ্যক মুরগি দিয়েই শুরু করা যায়।
মুরগির থাকার জায়গা কেমন হওয়া দরকার
বাড়িতে মুরগি পালানোর পদ্ধতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল মুরগির থাকার জায়গা। মুরগির ঘর অবশ্যই শুকনো, বাতাস চলাচলযোগ্য এবং রোদ-বৃষ্টি থেকে সুরক্ষিত হতে হবে।
একটি ছোট টিন বা বাঁশের তৈরি ঘরও শুরুতে যথেষ্ট। খেয়াল রাখতে হবে, রাতে শিয়াল বা অন্য কোনও প্রাণী যেন ঢুকতে না পারে। ঘরের মেঝে নিয়মিত পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি, কারণ নোংরা পরিবেশে রোগ দ্রুত ছড়ায়।
মুরগির খাবার ও যত্ন নেওয়ার সঠিক উপায়
বাড়িতে মুরগি পালানোর পদ্ধতি সফল করতে খাবারের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেশি মুরগির ক্ষেত্রে ভাতের মাড়, ভাঙা চাল, গম, ভুট্টা ও সবজি দেওয়া যেতে পারে। এর সঙ্গে বাজারে পাওয়া রেডিমেড ফিড দিলে মুরগির বৃদ্ধি ভালো হয়।
পরিষ্কার পানির ব্যবস্থা সারাদিন রাখতে হবে। পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত একদিন মুরগির ঘর পরিষ্কার করা দরকার। যত্ন ঠিকঠাক হলে মুরগি দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে এবং ডিম দেওয়াও বাড়ে।
রোগ থেকে বাঁচাতে যা করবেন
- সময়মতো টিকা দেওয়া
- অসুস্থ মুরগিকে আলাদা রাখা
- ভেজা বা পচা খাবার না দেওয়া
বাড়িতে মুরগি পালানোর ব্যবসায় কতটা লাভ হয়
বাড়িতে মুরগি পালানোর পদ্ধতি মেনে চললে এই ব্যবসা থেকে ধীরে ধীরে ভালো লাভ পাওয়া যায়। শুরুতে খরচ কম হওয়ায় ঝুঁকিও কম থাকে।
ধরা যাক, আপনি যদি ১০টি দেশি মুরগি দিয়ে শুরু করেন, তাহলে কয়েক মাসের মধ্যেই ডিম বিক্রি থেকে নিয়মিত আয় শুরু হবে। পরে সেই ডিম থেকেই বাচ্চা ফুটিয়ে সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব। এভাবেই বাড়িতে মুরগি পালনের ব্যবসা ধীরে ধীরে বড় আকার নিতে পারে।
আনুমানিক খরচ ও লাভের হিসাব
| বিষয় | আনুমানিক খরচ (₹) |
|---|---|
| ১০টি দেশি মুরগি | 2000 – 2500 |
| ঘর তৈরির খরচ | 1500 – 2000 |
| খাবার (মাসিক) | 800 – 1000 |
| অন্যান্য খরচ | 500 |
| মোট খরচ | 4800 – 6000 |
| সম্ভাব্য আয় | পরিমাণ |
|---|---|
| মাসিক ডিম বিক্রি | 1500 – 2000 |
| মুরগি বিক্রি (৩–৪ মাস পর) | 3000+ |
বাড়িতে মুরগি পালনের সুবিধাগুলি এক নজরে
- অল্প পুঁজিতে ব্যবসা শুরু করা যায়
- বাড়িতেই করা সম্ভব
- পরিবারের সদস্যরাও কাজে যুক্ত হতে পারেন
- নিয়মিত ডিম ও মাংস পাওয়া যায়
- গ্রাম ও শহর—দুই জায়গাতেই চাহিদা রয়েছে
বাড়িতে মুরগি পালানোর পদ্ধতি যদি সঠিকভাবে অনুসরণ করা যায়, তাহলে এটি শুধুমাত্র একটি অতিরিক্ত আয়ের উৎস নয়, বরং একটি স্থায়ী ছোট ব্যবসায় পরিণত হতে পারে। অল্প পরিসরে শুরু করে ধীরে ধীরে বড় করার সুযোগ থাকায় এই বিজনেস আইডিয়াটি বর্তমানে অনেকের কাছেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
বাড়িতে মুরগি পালানোর পদ্ধতি কি নতুনদের জন্য সহজ?
বাড়িতে মুরগি পালানোর পদ্ধতি নতুনদের জন্য তুলনামূলকভাবে সহজ, কারণ এতে খুব বেশি পুঁজি বা বড় জায়গার প্রয়োজন হয় না। অল্প সংখ্যক দেশি মুরগি দিয়ে শুরু করলে ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা তৈরি হয় এবং ঝুঁকিও কম থাকে।
বাড়িতে মুরগি পালনে কতটা জায়গা দরকার হয়?
বাড়িতে মুরগি পালনের জন্য খুব বড় জায়গার দরকার হয় না। একটি ছোট উঠোন, ছাদ বা বাড়ির পাশের ফাঁকা জায়গাতেই কয়েকটি মুরগি সহজে পালন করা যায়, যদি পরিষ্কার ও বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকে।
দেশি মুরগি না ব্রয়লার—কোনটি বাড়ির জন্য ভালো?
বাড়ির পরিবেশে সাধারণত দেশি মুরগি বেশি উপযোগী। এগুলি তুলনামূলকভাবে কম রোগে আক্রান্ত হয় এবং যত্নও কম লাগে। তাই বাড়িতে মুরগি পালানোর পদ্ধতি অনুসরণ করতে চাইলে দেশি মুরগি দিয়ে শুরু করাই নিরাপদ।
বাড়িতে মুরগি পালনের জন্য কী ধরনের খাবার দিতে হয়?
বাড়িতে মুরগি পালনের ক্ষেত্রে ভাঙা চাল, গম, ভুট্টা, ভাতের মাড় ও সবজি ব্যবহার করা যায়। এর সঙ্গে পরিমিত পরিমাণে বাজারের তৈরি ফিড দিলে মুরগির স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং ডিম দেওয়ার ক্ষমতাও বাড়ে।
বাড়িতে মুরগি পালনের ব্যবসায় লাভ পেতে কত সময় লাগে?
বাড়িতে মুরগি পালানোর পদ্ধতি ঠিকভাবে অনুসরণ করলে সাধারণত কয়েক মাসের মধ্যেই ডিম বিক্রি থেকে আয় শুরু হয়। পরে মুরগির সংখ্যা বাড়ালে এবং বিক্রির সুযোগ তৈরি হলে লাভের পরিমাণও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়।
মুরগির রোগ থেকে বাঁচাতে কী কী বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি?
মুরগিকে রোগমুক্ত রাখতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি। অসুস্থ মুরগিকে আলাদা রাখা, পরিষ্কার পানি দেওয়া এবং সময়মতো টিকা দেওয়া হলে বাড়িতে মুরগি পালনের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
বাড়িতে মুরগি পালন কি নিয়মিত সময় দিতে হয়?
বাড়িতে মুরগি পালন করতে প্রতিদিন অল্প সময় দিলেই যথেষ্ট। খাবার দেওয়া, পানি বদলানো এবং ঘর পরিষ্কার রাখার মতো কাজগুলো নিয়মিত করলে বাড়িতে মুরগি পালানোর পদ্ধতি সহজেই মেনে চলা যায়।





