নিজস্ব প্রতিবেদন, Bengal Job Study.in : WBSSC দাগি প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ ২০১৬ সালের West Bengal School Service Commission (WBSSC)–র শিক্ষক নিয়োগ-কেলেঙ্কারির মামলায়, চূড়ান্ত “দাগি” (অযোগ্য) প্রার্থীদের তালিকা অবশেষে প্রকাশ হয়েছে। এতে ১৮০৬ জনের নাম রোল নম্বর, বিষয়, বাবা/মাতার নাম ও জন্ম তারিখসহ দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশ মেনে এই পদক্ষেপ নিয়েছে কমিশন।
WBSSC–র ২০১৬ নিয়োগ কেলেঙ্কারি: দাগি তালিকার প্রেক্ষাপট
২০১৬ সালে নবম–দশম ও একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণির সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য যে বাছাই প্রক্রিয়া ছিল, পরে তা দুর্নীতি ও ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্নে পড়েছিল। ২০২৫ সালের মধ্যে Supreme Court of India (SC) সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন, যাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া “দাগি বা তদভাবে ঘুষ, ওএমআর জালিয়াতি বা অন্য অনিয়ম” এর সঙ্গে যুক্ত, তাদের তালিকা তৈরি করে প্রকাশ করতে হবে।
ব্যাপারটি ছিল — ২০১৬-র প্যানেলে প্রাপ্ত প্রায় ২৫,৭৫৩ জন শিক্ষক/শিক্ষাকর্মীর নিয়োগ বাতিল হয়েছিল। এরপর দাগি প্রার্থীদের চিহ্নিত করে তালিকা প্রকাশ করার কথা ছিল।
১৮০৬ জনের দাগি তালিকা — এখন অফিসিয়ালি প্রকাশ
তালিকা প্রকাশের ফলে স্পষ্ট হয়ে গেল — ২০১৬-র নিয়োগের দাগি প্রার্থীদের মধ্যে মোট ১৮০৬ জন আজ প্রতারণার দায়ী হিসেবে চিহ্নিত। WBSSC–র এই তালিকায় শুধু রোল নম্বর নয়, প্রার্থীর নাম, বিষয়, বাবা/মাতার নাম, জন্ম তারিখ — সব তথ্য দেওয়া রয়েছে।
WBSSC–র তরফে জানানো হয়েছে, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া (ফ্রেশ রিক্রুটমেন্ট)–তে এই ১৮০৬ জন মাশুল প্রার্থীদের অ্যাডমিট কার্ড দেওয়া হবে না। অর্থাৎ, তারা আর শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাবেন না।
শিক্ষামন্ত্রী এই তালিকা প্রকাশের আগে বলেছিলেন, “দাগি প্রার্থীদের নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বিরত রাখা হবে”।
কেন এই তালিকা — এবং কী হবে আরেক ধাপে
- SC–র নির্দেশ: ২০১৬–র প্যানেল পুরোপুরি দাগি ছিল, তাই নতুন নিয়োগে অংশ নেওয়ার আগে দাগি প্রার্থীদের চিহ্নিত করতে হবে।
- WBSSC–র প্রতিশ্রুতি: নতুন নিয়োগ সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও ন্যায্য হবে। যারা দাগি তালিকায় পড়েছেন, তাঁরা আর আবেদন বা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন না।
বর্তমানে প্রভাব — নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ
- দাগি ১৮০৬ জন ব্যতীত অন্য সকল যোগ্য — নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে পারবেন।
- নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া গঠন এবং পরীক্ষার তারিখ, শূন্যপদ সংখ্যা ইত্যাদিতে WBSSC–র দিকে নজর রয়েছে।
- আবেদনকারী এবং সাক্ষরকারী প্রার্থীদের জন্য এখন বাড়তি মনিটরিং ও যাচাই-বাছাই চালু হবে।
তথ্য এক নজরে — একটি টেবিল
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| দাগি প্রার্থীর মোট সংখ্যা | ১৮০৬ জন |
| তালিকাভুক্ত তথ্য | নাম, রোল নম্বর, বিষয়, বাবা/মাতার নাম, জন্ম তারিখ |
| প্রযোজ্য নিয়োগ সেশন | ২০১৬ সালের নবম–দশম ও একাদশ–দ্বাদশ শিক্ষক নিয়োগ |
| স্থির নির্দেশ | দাগি প্রার্থীরা নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে না |
| প্রকাশের তারিখ | ২৭ নভেম্বর ২০২৫ |
কেন এই বিষয় গুরুত্বপূর্ণ — সাধারণ মানুষ ও প্রার্থীদের জন্য প্রভাব
- স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় বড় ধাপ।
- যারা বছরের পর বছর চাকরির প্রতীক্ষায় ছিলেন, তাদের জন্য ন্যায্য সুযোগ।
- ভবিষ্যতে ভুল নিয়োগ বা সঙ্গে-ঙ্গেই চাকরি দেয়ার দুর্নীতি প্রতিরোধ — শিক্ষাক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং জনগণের বিশ্বাস বজায় রাখার জন্য।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
WBSSC দাগি প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা কী?
WBSSC দাগি প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা হলো ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে জড়িত ১৮০৬ জনের একটি অফিসিয়াল তালিকা, যেখানে রোল নম্বর, নাম, বিষয় এবং জন্মতারিখসহ পরিচয় তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
এই দাগি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলে কী হবে?
WBSSC দাগি প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকায় যাদের নাম রয়েছে, তাঁরা নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন না এবং তাঁদের অ্যাডমিট কার্ডও প্রদান করা হবে না।
কোন নিয়োগের জন্য এই দাগি তালিকা করা হয়েছে?
এই তালিকা শুধুমাত্র ২০১৬ সালের নবম–দশম এবং একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণির সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।
WBSSC দাগি প্রার্থীদের তালিকায় মোট কতজন রয়েছে?
এই চূড়ান্ত তালিকায় মোট ১৮০৬ জন দাগি প্রার্থীকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
যাদের নাম এই তালিকায় নেই, তারা কি নতুন চাকরিতে আবেদন করতে পারবেন?
হ্যাঁ, তালিকার বাইরে থাকা প্রার্থীরা নতুন শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিকভাবে আবেদন করতে পারবেন এবং সংশ্লিষ্ট পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।
এই তালিকা প্রকাশের উদ্দেশ্য কী?
মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং WBSSC দাগি প্রার্থীদের নতুন নিয়োগ থেকে বাদ দিয়ে যোগ্য প্রার্থীদের ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করা।
দাগি তালিকা কোথায় দেখা যাবে?
WBSSC দাগি প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা সরাসরি কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে সব প্রার্থীর তথ্য একসঙ্গে দেখা যায়।






