স্বপ্নের ইন্টারভিউ
কলমে: উজ্জ্বল দে | পরিবেশনায়: BengalJobStudy.in
সুব্রত গ্রামের এক সাধারণ শিক্ষিত, বেকার যুবক। সারাদিন পুরনো খবরের কাগজের চাকরির পাতা ঘাঁটা আর সরকারি চাকরির প্রস্তুতি— এই নিয়েই তার দিন কাটে। বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে মা পারুল দেবী অনেক কষ্টে সংসার টানছেন। একদিন সকালে উঠোনে বসে সুব্রত যখন মনোযোগ দিয়ে পড়ছে, ঠিক তখনই পিয়ন এসে একটা চিঠি দিয়ে যায়। চিঠিটা খুলেই সুব্রতের চোখ আনন্দে বড় বড় হয়ে ওঠে। সে চিৎকার করে ওঠে, “মা! ও মা! বড় কোম্পানিটা থেকে ইন্টারভিউয়ের ডাক এসেছে! আগামী সোমবার শহরে যেতে হবে।”
ছেলের কথা শুনে পারুল দেবীর চোখে জল চলে আসে, ভগবান তাহলে মুখ তুলে চেয়েছেন! কিন্তু পরক্ষণেই সুব্রতের মুখের হাসিটা মিলিয়ে যায়। শহরে যাওয়া-আসা, থাকা-খাওয়া মিলিয়ে কম করে হলেও হাজার দুয়েক টাকা লাগবে। তাদের অভাবের সংসারে কানাকড়িও নেই। পারুল দেবী কথা দেন তিনি মাসির কাছ থেকে ধার করে আনবেন। কিন্তু পরদিন বিকেলে যখন জানা যায় মাসিও টাকা জোগাড় করতে পারেনি, তখন সুব্রতের মাথার ওপর যেন আকাশ ভেঙে পড়ে।
হতাশ মনে গ্রামের মোড়ে মধুসূদন কাকার চায়ের দোকানে গিয়ে বসে সুব্রত। মধুসূদন কাকা তাকে নিজের ছেলের মতোই ভালোবাসেন। সুব্রতের ম্লান মুখ দেখে তিনি কারণ জানতে চাইলে, সুব্রত দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে, “সোমবার শহরে ইন্টারভিউ কাকা, কিন্তু ভাড়ার টাকাটা জোগাড় করতে পারলাম না। কাল চিঠিটা ফেরত পাঠিয়ে দেব। এটাই হয়তো আমার কপাল!” মধুসূদন কাকা অবাক হন, এত বড় সুযোগ কেউ টাকার অভাবে ছাড়ে? তিনি সুব্রতের কাঁধে হাত রেখে বলেন, “তুই বাড়ি যা। কপালকে এত তাড়াতাড়ি দোষ দিস না।”
রবিবার সকাল। কাল ইন্টারভিউ, কিন্তু যাওয়ার কোনো উপায় নেই ভেবে সুব্রত উঠোনে মন খারাপ করে বসে আছে। এমন সময় মধুসূদন কাকা আরও কয়েকজন গ্রামবাসীকে নিয়ে সুব্রতদের বাড়িতে ঢোকেন। তিনি একটা কাপড়ের পুঁটলি সুব্রতের হাতে তুলে দেন। সুব্রত অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে, “কাকা, এসব কী?” মধুসূদন কাকা হাসিমুখে বলেন, “এটা তোর শহরের যাওয়ার টিকিট আর খরচের টাকা। তুই গ্রামের ছেলে, তোর চাকরি হলে পুরো গ্রামের নাম উজ্জ্বল হবে। আমরা সবাই মিলে চাঁদা তুলে এই টাকাটা জোগাড় করেছি।” সুব্রত এই টাকা নিতে অস্বীকার করলে কাকা তাকে ধমক দিয়ে বলেন, “ধার হিসেবে নে। চাকরি পেলে প্রথম মাসের মাইনে দিয়ে সবার টাকা মিটিয়ে দিস। এখন যা, গিয়ে ব্যাগ গোছা!” আবেগে কেঁদে ফেলে সুব্রত মধুসূদন কাকার পা ছুঁয়ে প্রণাম করে।
কয়েক মাস কেটে গেছে। সুব্রত ইন্টারভিউতে সফল হয়ে চাকরিটা পেয়েছে। একদিন সকালে পরিপাটি জামাকাপড় পরে মিষ্টির বাক্স হাতে সে মধুসূদন কাকার দোকানে হাজির হয়। প্রথম মাসের মাইনে পেয়ে সে কাকা আর গ্রামবাসীদের ধারের টাকাটা মেটাতে এসেছে। মধুসূদন কাকা হাসিমুখে মিষ্টির বাক্সটা নেন, কিন্তু টাকার খামটা সুব্রতের পকেটেই ঢুকিয়ে দেন। অবাক সুব্রতের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, “এই টাকাটা তোর কাছেই রাখ বাবা। গ্রামের অন্য কোনো বেকার ছেলের যখন এমন ইন্টারভিউয়ের ডাক আসবে, তখন তুই এই টাকাটা দিয়ে তার পাশে দাঁড়াস।” সুব্রত শ্রদ্ধায় মাথা নোয়ায়। মানুষের ভালোবাসার ঋণ যে টাকা দিয়ে শোধ করা যায় না, সে কথা সুব্রত সেদিন খুব ভালো করেই বুঝেছি
চরিত্রের ভিত্তিতে: স্বপ্নের ইন্টারভিউ
কলমে: উজ্জ্বল দে | পরিবেশনায়: BengalJobStudy.in
লগলাইন (Logline): বহু অপেক্ষার পর একটি বড় কোম্পানিতে ইন্টারভিউয়ের ডাক পায় গ্রামের এক বেকার যুবক। কিন্তু শহরে যাওয়ার ভাড়ার টাকা জোগাড় করতে না পেরে সে যখন হাল ছেড়ে দেয়, তখন এক অভাবনীয় ঘটনা ঘটে।
চরিত্র:
১. সুব্রত (২৪): গ্রামের শিক্ষিত, বেকার যুবক। চাকরির খোঁজে দিনরাত পড়াশোনা করে, কিন্তু হতাশ।
২. পারুল দেবী (৫০): সুব্রতের মা। ছেলের কষ্ট বোঝেন, কিন্তু অভাবের সংসারে নিরুপায়।
৩. মধুসূদন কাকা (৫৫): গ্রামের চায়ের দোকানদার। সুব্রতকে নিজের ছেলের মতো ভালোবাসেন।
দৃশ্য ১: সকাল। সুব্রতের বাড়ির উঠোন।
(সুব্রত একটা পুরনো ইটের ওপর বসে মনোযোগ দিয়ে খবরের কাগজের চাকরির পাতা পড়ছে। পারুল দেবী উঠোন ঝাড়ু দিচ্ছেন। এমন সময় পিয়ন এসে একটা চিঠি দিয়ে যায়।)
সুব্রত: (চিঠিটা খুলে চোখ বড় বড় করে) মা! ও মা!
পারুল দেবী: (ছুটে এসে) কী রে? কী হলো? অমন চিল্লাচ্ছিস কেন?
সুব্রত: মা, সেই যে বড় কোম্পানিটায় পরীক্ষা দিয়েছিলাম, ওরা ইন্টারভিউয়ের জন্য ডেকেছে! আগামী সোমবার শহরে যেতে হবে।
পারুল দেবী: (আঁচলে চোখ মুছে) ভগবান মুখ তুলে চেয়েছে বাবা। তুই খুব মন দিয়ে পড়।
(সুব্রতের মুখের হাসিটা হঠাৎ মিলিয়ে যায়। সে চিঠির দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে।)
সুব্রত: কিন্তু মা, শহরে যাওয়া-আসা, থাকা-খাওয়া… কম করে তো হাজার দুয়েক টাকা লাগবে। আমাদের হাতে তো কানাকড়িও নেই।
পারুল দেবী: (মাথা নিচু করে) আমি আজই তোর মাসির কাছে গিয়ে দেখি, যদি কিছু ধার পাওয়া যায়।
দৃশ্য ২: পরদিন বিকেল। গ্রামের মোড়ে মধুসূদন কাকার চায়ের দোকান।
(দোকানে তেমন ভিড় নেই। সুব্রত এক কোণে বসে আনমনে চায়ের কাপ নাড়ছে। মাসিও টাকা দিতে পারেনি, সেই চিন্তায় সে মগ্ন। মধুসূদন কাকা তার দিকে এগিয়ে আসেন।)
মধুসূদন কাকা: কিরে সুব্রত, আজ চা-টা কি তেতো হয়েছে? অমন মুখ ভার করে বসে আছিস কেন? চাকরি-বাকরির কোনো খবর পেলি?
সুব্রত: (ম্লান হেসে) খবর তো পেয়েছিলাম কাকা। সোমবার শহরে ইন্টারভিউ। কিন্তু যাওয়া আর হলো না। ভাড়ার টাকাটা জোগাড় করতে পারলাম না। কাল চিঠিটা ফেরত পাঠিয়ে দেব ভাবছি।
মধুসূদন কাকা: (অবাক হয়ে) বলিস কী! এত বড় সুযোগ, আর তুই টাকার অভাবে ছেড়ে দিবি?
সুব্রত: কী করব কাকা? এটাই হয়তো আমার কপাল!
(মধুসূদন কাকা কিছু একটা ভাবেন। তারপর সুব্রতের কাঁধে হাত রাখেন।)
মধুসূদন কাকা: তুই বাড়ি যা। কপালকে এত তাড়াতাড়ি দোষ দিস না।
দৃশ্য ৩: রবিবার সকাল। সুব্রতের বাড়ি।
(সুব্রত মন খারাপ করে উঠোনে বসে আছে। কাল ইন্টারভিউ, কিন্তু তার যাওয়ার কোনো উপায় নেই। এমন সময় মধুসূদন কাকা আরও কয়েকজন গ্রামবাসীকে নিয়ে উঠোনে ঢোকেন।)
মধুসূদন কাকা: সুব্রত, ঘরে আছিস?
(সুব্রত অবাক হয়ে উঠে দাঁড়ায়। পারুল দেবীও বেরিয়ে আসেন। মধুসূদন কাকা একটা কাপড়ের পুঁটলি সুব্রতের হাতে তুলে দেন।)
সুব্রত: কাকা, এসব কী?
মধুসূদন কাকা: এটা তোর শহরের যাওয়ার টিকিট আর খরচের টাকা। কাল তুই বলেছিলি না, এটা তোর কপাল? গ্রামের ছেলে তুই, তোর চাকরি হলে পুরো গ্রামের নাম উজ্জ্বল হবে। আমরা চাঁদা তুলে এই টাকাটা জোগাড় করেছি।
সুব্রত: (চোখে জল নিয়ে) কাকা, আমি এই টাকা কী করে নেব?
মধুসূদন কাকা: ধার হিসেবে নে। চাকরি পেলে প্রথম মাসের মাইনে দিয়ে সবার টাকা মিটিয়ে দিস। এখন যা, গিয়ে ব্যাগ গোছা!
(সুব্রত কেঁদে ফেলে এবং মধুসূদন কাকার পা ছুঁয়ে প্রণাম করে।)
দৃশ্য ৪: কয়েক মাস পর। চায়ের দোকান।
(মধুসূদন কাকা রেডিও শুনছেন। এমন সময় সুব্রত মিষ্টির বাক্স হাতে দোকানে ঢোকে। তার পরনে পরিপাটি জামা।)
সুব্রত: কাকা, মিষ্টি মুখ করো। আমি আজ প্রথম মাসের মাইনে পেয়েছি। এই নাও তোমার আর সবার ধারের টাকা।
(মধুসূদন কাকা হাসিমুখে মিষ্টির বাক্সটা নেন, কিন্তু টাকার খামটা সুব্রতের পকেটে ঢুকিয়ে দেন।)
মধুসূদন কাকা: এই টাকাটা তোর কাছেই রাখ। গ্রামের অন্য কোনো বেকার ছেলের যখন এমন ইন্টারভিউয়ের ডাক আসবে, তখন তুই এই টাকাটা দিয়ে তার পাশে দাঁড়াস।
(সুব্রত শ্রদ্ধায় মাথা নোয়ায়। ব্যাকগ্রাউন্ডে একটি অনুপ্রেরণামূলক মিউজিক বাজে।)
(সমাপ্ত)
ডিসক্লেমার (Disclaimer):
এই গল্পটি সম্পূর্ণ মৌলিক। আপনারা চাইলে নির্দ্বিধায় এই গল্প অবলম্বনে যেকোনো শর্ট ফিল্ম, মঞ্চ নাটক বা ইউটিউব ভিডিও তৈরি করতে পারেন। তবে শর্ত থাকে যে, ভিডিওর ডেসক্রিপশনে বা নাটকের ক্রেডিটে অবশ্যই মূল লেখক হিসেবে ‘উজ্জ্বল দে’ এবং আমাদের ওয়েবসাইট ‘BengalJobStudy.in’-এর নাম ও লিংক স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। যথাযথ ক্রেডিট ছাড়া এই গল্পের যেকোনো মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যবহার আইনত দণ্ডনীয়।






