পুরোনো সাইকেল (The Old Bicycle)
Story by: Ujjal Dey | BengalJobStudy.in
প্রথমে মেন গল্প থাকবে এবং তারপর এসেই গল্প নিয়ে নাটক কিংবা ইউটিউবে শর্ট ফিল্ম কিভাবে বানাবেন তার ডেকোরেশন চরিত্র সুন্দর আকারে সাজানো থাকবে। এবার চলুন মূল গল্প শুরু করি।
মূল গল্প : পুরোনো সাইকেল
রাজু আর অপুর সংসার বলতে টিনের চালের একটা ছোট বাড়ি আর একরাশ অভাব। বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে সংসারের পুরো দায়িত্ব বড় ভাই রাজুর কাঁধে। নিজে মেধাবী ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও পড়াশোনায় ইতি টেনে ছোটখাটো একটা চাকরি আর কয়েকটা টিউশনি করে সে সংসার টানে। তার একটাই স্বপ্ন— ছোট ভাই অপু যেন পড়াশোনাটা চালিয়ে যেতে পারে।
অপুও দাদাকে নিরাশ করেনি। সদ্য উচ্চমাধ্যমিক পাস করা অপু একদিন বিকেলে মন খারাপ করে বসে ছিল। রাজু ঘামে ভিজে কাজ থেকে ফিরে ভাইয়ের ওই মুখ দেখে চিন্তায় পড়ে যায়। অপু ইতস্তত করে একটা চিঠি দাদার হাতে তুলে দেয়। জয়েন্ট এন্ট্রান্সের রেজাল্ট— অপু সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে সুযোগ পেয়েছে!
খবরটা শুনে রাজুর চোখ আনন্দে চিকচিক করে ওঠে, “মা বেঁচে থাকলে আজ কতই না খুশি হতো!” কিন্তু অপুর চোখেমুখে তখনও চিন্তার ছাপ। ভর্তির ফিস আর হোস্টেল খরচ মিলিয়ে আগামী সোমবারের মধ্যে প্রায় পনেরো হাজার টাকা জমা দিতে হবে। যেখানে মাসের শেষে পনেরোশো টাকাও বাঁচে না, সেখানে এত টাকা কোথা থেকে আসবে? রাজু ভাইয়ের কাঁধে হাত রেখে অভয় দেয়, “তুই ওসব নিয়ে ভাবিস না। তোর দাদা বেঁচে থাকতে তোর পড়াশোনা আটকাবে না। তুই শুধু ব্যাগ গোছাতে শুরু কর।”
সেদিন রাতে বারান্দায় বেরিয়ে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা তার বহু পুরোনো ‘হিরো’ সাইকেলটার দিকে তাকায় রাজু। সাইকেলটা তার রোজকার সঙ্গী। রোদ-বৃষ্টিতে অফিস যাওয়া থেকে শুরু করে এ-বাড়ি ও-বাড়ি টিউশনি করানো— সবকিছুর একমাত্র ভরসা এই দুই চাকা।
পরদিন দুপুরে শহরের এক পুরোনো সাইকেল মেরামতের দোকানে গিয়ে হাজির হয় রাজু। দীর্ঘদিনের পরিচিত রহিম চাচা সাইকেলটা দেখে অবাক হয়ে যান, “রাজু, এই সাইকেল তো তোর ডান হাত! এটা বেচে দিলে তুই যাবি কী করে?” রাজু চোখ নামিয়ে বলে, “খুব দরকার চাচা। ভাইটার কলেজে ভর্তি।” অনেক দরাদরি করে রহিম চাচা আড়াই হাজার টাকা দিতে রাজি হন। কারণ সাইকেলের বডিতে জং ধরেছে, টায়ারও ক্ষয়ে গেছে। রাজু সাইকেলটার সিটে শেষবারের মতো হাত বুলিয়ে টাকাগুলো পকেটে নিয়ে বেরিয়ে আসে।
সেদিন রাতে রাজু অপুর হাতে ভর্তির পুরো টাকাটা তুলে দেয়। এত টাকা দেখে অপু অবাক হয়ে যায়। রাজু একটু হেসে মিথ্যা বলে, “অফিসের বসকে বলেছিলাম। উনি অ্যাডভান্স স্যালারি আর পুজোর বোনাসটা আগেই দিয়ে দিলেন। বললেন, ভাইয়ের পড়াশোনা বলে কথা!” দাদাকে জড়িয়ে ধরে আবেগাপ্লুত অপু কথা দেয়, একদিন সে দাদার সব কষ্ট দূর করে দেবে।
পরদিন সকালে অপু কলেজে ভর্তির জন্য রওনা দিচ্ছে। সে দাদাকে বলে, “চলো দাদা, তোমাকে সাইকেলে করে বাস স্ট্যান্ডে নামিয়ে দিয়ে আসি।” রাজু ম্লান হেসে উত্তর দেয়, “না রে, তুই যা। আমার আজ একটু অন্য রুটে কাজ আছে। আমি হেঁটেই যাব।”
অপু হাসিমুখে বেরিয়ে যায়। রাজু বাড়ির গেট বন্ধ করে। কাঁধে অফিসের ভারী ব্যাগটা নিয়ে সে অভ্যাসবশত সাইকেল রাখার ফাঁকা জায়গাটায় একবার তাকায়। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে পায়ে হেঁটে অফিসের লম্বা রাস্তার দিকে এগোতে থাকে।
চরিত্র অনুসারে গল্প : পুরোনো সাইকেল
Story by: Ujjal Dey | BengalJobStudy.in
লগলাইন (Logline): ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ পাওয়া ছোট ভাইয়ের ভর্তির টাকা জোগাড় করতে বড় ভাই তার সবচেয়ে প্রিয় এবং প্রয়োজনীয় জিনিসটি গোপনে বিক্রি করে দেয়।
চরিত্র:
১. রাজু (২৫): বড় ভাই। মেধাবী ছাত্র ছিল, কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরতে পড়াশোনা ছেড়ে ছোটখাটো চাকরি আর টিউশনি করে। শান্ত, দায়িত্ববান।
২. অপু (১৮): ছোট ভাই। সদ্য উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছে। মেধাবী, কিন্তু সংসারের অভাব নিয়ে সর্বদা চিন্তিত।
দৃশ্য ১: সন্ধ্যা। রাজুদের টিনের চালের বাড়ি।
(ঘরের এক কোণে পুরোনো একটা টেবিল ফ্যান শব্দ করে ঘুরছে। অপু টেবিলে বসে কিছু একটা ভাবছে। বাইরে সাইকেলের বেল আর পরিচিত ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ। রাজু ঘরে ঢোকে। ঘামে ভেজা শার্ট, ক্লান্ত চেহারা।)
রাজু: (শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে) কিরে অপু, মুখটা অমন অন্ধকার করে বসে আছিস কেন? রেজাল্ট তো ভালোই হলো।
অপু: (একটা চিঠি এগিয়ে দিয়ে) দাদা, জয়েন্ট এন্ট্রান্সের কাউন্সেলিং লেটার এসেছে। গভর্মেন্ট কলেজেই চান্স পেয়েছি। কিন্তু…
রাজু: (চিঠিটা হাতে নিয়ে, চোখেমুখে উজ্জ্বল হাসি) আরেব্বাস! এ তো দারুণ খবর! মা বেঁচে থাকলে আজ কি খুশিই না হতো! তা ‘কিন্তু’ করছিস কেন?
অপু: ভর্তির ফিস আর হোস্টেল খরচ মিলিয়ে প্রায় পনেরো হাজার টাকা লাগবে, দাদা। আগামী সোমবারের মধ্যে। আমাদের ভাঁড়ারে তো পনেরোশো টাকাও নেই।
(রাজুর হাসিটা মলিন হয়ে যায়। সে চিঠির দিকে তাকিয়ে থাকে, তারপর অপুর কাঁধে হাত রাখে।)
রাজু: তুই ওসব নিয়ে ভাবিস না। আমি আছি তো। তোর দাদা বেঁচে থাকতে তোর পড়াশোনা আটকাবে না। তুই ব্যাগ গোছাতে শুরু কর।
(রাজু বারান্দায় বেরিয়ে আসে। অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা তার বহু পুরোনো ‘হিরো’ সাইকেলটার দিকে তাকায়। সাইকেলটা তার রোজকার সঙ্গী—অফিস যাওয়া, টিউশনি করানো, সব এই সাইকেলেই।)
দৃশ্য ২: পরদিন দুপুর। শহরের এক পুরোনো সাইকেল মেরামতের দোকান।
(রাজু তার সাইকেলটা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দোকানের মালিক রহিম চাচা সাইকেলটা নেড়েচেড়ে দেখছে।)
রহিম চাচা: রাজু, এই সাইকেল তো তোর ডান হাত। এটা বেচে দিবি? তোর অফিস যাবি কী করে?
রাজু: (চোখ নামিয়ে) দরকার পড়েছে চাচা। খুব জরুরি দরকার। কত দেবেন বলুন?
রহিম চাচা: টায়ারগুলো একদম গেছে। বডিও জং ধরা। খুব বেশি হলে দু’হাজার দিতে পারি।
রাজু: (অনুনয়ের সুরে) চাচা, আর একটু দেখুন না। আমার ভাইটার কলেজে ভর্তি… অন্তত তিন হাজার যদি দিতেন।
(রহিম চাচা রাজুর মুখের দিকে তাকায়। তারপর দীর্ঘশ্বাস ফেলে।)
রহিম চাচা: আচ্ছা, আড়াই হাজার দেব। তার বেশি এক পয়সাও আমার পক্ষে সম্ভব না।
(রাজু সাইকেলটার সিটে শেষবারের মতো হাত বুলিয়ে মাথা নাড়ে।)
দৃশ্য ৩: রাত। রাজুদের বাড়ি।
(অপু মেঝেতে বসে বই গোছাচ্ছে। রাজু ঘরে ঢোকে। তার হাতে কিছু টাকা।)
রাজু: (টাকাগুলো অপুর হাতে দিয়ে) এই নে, তোর ভর্তির টাকা।
অপু: (অবাক হয়ে) এত টাকা! কোথায় পেলে দাদা?
রাজু: (একটু তোতলিয়ে) আরে, অফিসের বসকে বলেছিলাম। উনি অ্যাডভান্স স্যালারি আর পুজোর বোনাসটা আগেই দিয়ে দিলেন। বললেন, ভাইয়ের পড়াশোনা বলে কথা!
(অপু আবেগে দাদাকে জড়িয়ে ধরে।)
অপু: আমি কথা দিচ্ছি দাদা, একদিন তোমার সব কষ্ট দূর করে দেব।
দৃশ্য ৪: পরদিন সকাল।
(অপু কলেজে ভর্তির জন্য রওনা দিচ্ছে। সে তৈরি। রাজুও অফিসের জন্য বেরোচ্ছে।)
অপু: দাদা, চলো তোমাকে সাইকেলে করে বাস স্ট্যান্ডে নামিয়ে দিই।
রাজু: (ম্লান হেসে) না রে, তুই যা। আমার আজ একটু অন্য রুটে কাজ আছে। আমি হেঁটেই যাব।
(অপু চলে যায়। রাজু বাড়ির গেট বন্ধ করে। তার কাঁধে অফিসের ব্যাগ। সে অভ্যাসবশত সাইকেল রাখার জায়গাটায় তাকায়। জায়গাটা ফাঁকা। রাজু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে পায়ে হেঁটে অফিসের রাস্তার দিকে এগোতে থাকে। ক্যামেরা তার হেঁটে যাওয়ার দৃশ্যে ফোকাস করে, ব্যাকগ্রাউন্ডে একটা করুণ মিউজিক বাজে।)
(সমাপ্ত)
ডিসক্লেমার (Disclaimer):
“এই গল্পটি সম্পূর্ণ মৌলিক। আপনারা চাইলে নির্দ্বিধায় এই গল্প অবলম্বনে যেকোনো শর্ট ফিল্ম, মঞ্চ নাটক বা ইউটিউব ভিডিও তৈরি করতে পারেন। তবে শর্ত থাকে যে, ভিডিওর ডেসক্রিপশনে বা নাটকের ক্রেডিটে অবশ্যই মূল লেখক হিসেবে ‘Ujjwal Dey’ এবং আমাদের ওয়েবসাইট ‘BengalJobStudy.in’-এর নাম ও লিংক স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। যথাযথ ক্রেডিট ছাড়া এই গল্পের যেকোনো মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যবহার আইনত দণ্ডনীয়।”








