নিয়োগ দুর্নীতিতে বড় ধামাকা! ২,১০৩ জন ‘দাগি’ প্রার্থীর নাম প্রকাশ করল SSC; দেখে নিন এসএসসি অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকা

আদালতের কড়া নির্দেশে ওএমআর শিট জালিয়াতি ও নম্বর কারচুপিতে অভিযুক্ত ২,১০৩ জন চাকরিপ্রার্থীর বিস্তারিত ডেটাবেস প্রকাশ করল স্কুল সার্ভিস কমিশন। নবম-দশম থেকে গ্রুপ-ডি, কারা রয়েছেন এই তালিকায়? জানুন বিস্তারিত।

নিজস্ব প্রতিবেদন, Bengal Job Study.in : এসএসসি অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকা পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের এক চাঞ্চল্যকর মোড় এল। দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে সিবিআই-এর দেওয়া ‘ওএমআর শিট মিসম্যাচ’ তথ্যের ভিত্তিতে কয়েক হাজার প্রার্থীর একটি বিশদ তালিকা প্রকাশ করল কমিশন। কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ পালনে বাধ্য হয়েই বুধবার সন্ধ্যায় এই জোড়া তালিকা আপলোড করা হয়েছে কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে। যেখানে নবম-দশম থেকে শুরু করে একাদশ-দ্বাদশ এবং গ্রুপ সি ও ডি—সব স্তরের তথাকথিত দাগি প্রার্থীদের নাম ও পরিচয় স্পষ্ট করা হয়েছে।

এসএসসি অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকা নিয়ে বড় পদক্ষেপ কমিশনের

​স্কুল সার্ভিস কমিশন বা এসএসসি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বুধবার প্রকাশিত এই তালিকায় মোট ২,১০৩ জন প্রার্থীর নাম রয়েছে। ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড়সড় দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছিল, তার প্রেক্ষিতেই এই তালিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মূলত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই ওএমআর শিট খতিয়ে দেখার পর যে অসঙ্গতি খুঁজে পেয়েছিল, সেই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই এই পদক্ষেপ।

​সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, এই এসএসসি অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের সময় কমিশন প্রার্থীদের নাম, রোল নম্বর, এমনকি তাদের জন্মতারিখ ও অভিভাবকদের নামও জনসমক্ষে এনেছে। কমিশনের দাবি, স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই আদালতের নির্দেশ মেনে এই বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এতে করে কারা অসাধু উপায়ে চাকরির চেষ্টা করেছিলেন বা কাদের ওএমআর শিটে কারচুপি করা হয়েছিল, তা সাধারণ মানুষের কাছে পরিষ্কার হয়ে গেল।

কারা রয়েছেন এই দাগি ও অসাধু চাকরিপ্রার্থীদের তালিকায়?

​প্রকাশিত এই তালিকায় মূলত দুই ধরনের প্রার্থীদের রাখা হয়েছে। প্রথমত, সেই সব শিক্ষক পদপ্রার্থী যাঁদের নাম সিবিআই-এর তদন্তে ওএমআর কারচুপির তালিকায় ছিল, কিন্তু ২০১৬ সালের নিয়োগে তারা শেষ পর্যন্ত সুপারিশপত্র পাননি। দ্বিতীয়ত, তালিকায় রয়েছেন অযোগ্য শিক্ষাকর্মীরা (Group C & D)। কমিশন জানিয়েছে, ২৫০ জন শিক্ষক পদপ্রার্থীর পাশাপাশি ১,৮৫৩ জন শিক্ষাকর্মীর নাম এই তালিকায় রয়েছে।

​এই এসএসসি অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকা পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, ক্লার্ক বা গ্রুপ ডি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও ব্যাপক অনিয়ম হয়েছিল। অনেক ক্ষেত্রেই যোগ্যদের বঞ্চিত করে প্যানেলের বাইরে থেকে নিয়োগ করার অভিযোগ রয়েছে। আদালত বারবার নির্দেশ দিয়েছিল যাতে এই অসাধু উপায় অবলম্বনকারীদের পরিচয় লুকিয়ে না রাখা হয়। সেই নির্দেশের প্রতি সম্মান জানিয়েই এখন এই তথ্যগুলো প্রকাশ করা হয়েছে।

নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ওএমআর জালিয়াতির প্রভাব

​রাজ্যে বর্তমানে শিক্ষক নিয়োগের নতুন তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এই অবস্থায় পুরনো দুর্নীতির ছায়া যাতে নতুন নিয়োগে না পড়ে, সেই বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক বিচারব্যবস্থা। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল যে, অযোগ্য বা দাগি প্রার্থীরা যদি আবারও নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে ফেলেন, তবে তা হবে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তাই নতুন নিয়োগের আবেদন প্রক্রিয়া শুরুর আগেই এই এসএসসি অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকা সামনে আনা হয়েছে যাতে তাদের শনাক্ত করা যায়।

​এর ফলে, এই তালিকায় নাম থাকা কোনও ব্যক্তিই আর ভবিষ্যতে শিক্ষক নিয়োগ বা সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বসতে পারবেন না। জালিয়াতি বা নম্বর বাড়িয়ে নেওয়ার মতো অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে রয়েছে, তাদের চিরতরে এই প্রক্রিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, আদালতের নিয়ম মেনে এখন থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে।

একনজরে প্রকাশিত তালিকার পরিসংখ্যান

​নিচে একটি টেবিলের মাধ্যমে অযোগ্য প্রার্থীদের বিন্যাস দেওয়া হলো যা আপনাকে বিষয়টি বুঝতে সাহায্য করবে:

পদের নামপ্রার্থীর সংখ্যাক্যাটাগরি
শিক্ষক পদপ্রার্থী (Secondary/Higher Secondary)২৫০ জনওএমআর মিসম্যাচ
অযোগ্য শিক্ষাকর্মী (Group C & D)১,৮৫৩ জনপ্যানেল বহির্ভূত/কারচুপি
মোট অযোগ্য প্রার্থী২,১০৩ জনসর্বমোট

এই তালিকার মাধ্যমে কী কী তথ্য জানা যাচ্ছে?

​প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে অযোগ্যদের সম্পর্কে যে বিষয়গুলো সামনে এসেছে:

  • ​প্রার্থীর নিজস্ব নাম ও রোল নম্বর।
  • ​বাবার নাম বা অভিভাবকের পরিচয়।
  • ​প্রার্থীর সঠিক জন্মতারিখ।
  • ​কোন বিষয়ের শিক্ষক বা কোন পদের জন্য আবেদন করেছিলেন।

উপসংহার

​রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরাতে এই এসএসসি অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাধারণ চাকরিপ্রার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, সবার নজর এখন পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। যারা যোগ্য হয়েও বঞ্চিত হয়েছিলেন, তারা আশা করছেন এই তালিকা প্রকাশের পর হয়তো তাঁদের ন্যায়ের পথ কিছুটা হলেও সহজ হবে। কমিশন আরও জানিয়েছে যে, ভবিষ্যতেও যদি আদালতের পক্ষ থেকে আরও নাম প্রকাশের নির্দেশ আসে, তবে তারা তা করতে পিছুপা হবে না।

বিজ্ঞাপন

Leave a Comment

Created with ❤